লিভ-ইন নাকি ধর্ষণ?
লিভ-ইন নাকি ধর্ষণ?
উম্ম আহঃ... আহঃ উম্ম.."
" আহ্ঃ ছাড়ো না একটু ঘুমাতে দাও।" বিরক্ত হয়ে বলে অর্চি।
রতিন গার্লফ্রেন্ডকে এবার ছেড়ে দিয়ে উঠে বসে রাগত স্বরে বলে " তোমার সবকিছুতেই ন্যাকামি, অফিসের পরে এসে একটু রিলাক্স করি সেটাও করতে দেবেনা।"
অর্চির মাসিক হয়েছে, সারাদিন ধরে তলপেটে অসহ্য ব্যথা। তাই আজকে Work from home নিয়েছে। বিষয়টা যে রতিনের অজানা তা নয়। দুইজনেই এক অফিসে চাকরি করে, প্রায় বছর তিন ধরে দুইজন দুইজনকে চেনে। আর প্রায় একবছর হতে চললো মাত্র মাসখানেক বাকি রয়েছে হতে একবছর ওরা একসাথে রয়েছে। প্রথম প্রথম ওর শরীর সামান্য খারাপ হলে উৎকন্ঠিত হয়ে উঠতো রতিন। আর মাসের এই দিনগুলোতে কত কি হাতে করে আনতো, সেক দিতো। কিন্তু মাস দুই থেকে লক্ষ্য করেছে রতিনের পরিবর্তন। ইদানীং তেমন সময় দেওয়া তো দূর ঘরের কাজে সামান্য সাহায্য করে না। খালি রাতের বেলায় খোঁজ পরে অর্চির। এমনও হয়েছে অর্চি ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে আর রতিন তখনও ফোনে ব্যস্ত, মাঝে মাঝে অবশ্য কাজ আছে বলে ডাইনিং এ বসে থাকে। হঠাৎ ঘুমন্ত অর্চি অনুভব করে তার শরীরে একটা হাত ঘুরে বেড়াচ্ছে কিংবা ওর শরীরের উপর আরেকটা ভারী শরীর। ঘুম ভেঙে যায় অর্চির, ততক্ষণে রণিত নিজের আর ওর সব পোশাক খুলে ফেলে ওর কাম মেটাতে শুরু করেছে। প্রথম প্রথম বিষয়টা এনজয় করতো অর্চি, কারণ তখন রণজয় ওর কেয়ার নিতো। এখন তো তাকিয়েই দেখেনা।
রণজয় উঠে ঘরের বাইরে বেড়িয়ে যায়।
অর্চি শুয়ে কাঁদতে থাকে। অর্চির মায়ের বলা কথাগুলো মনে পড়তে থাকে, মা বলেছিল "বাঁধনহীন দায়িত্বহীন সম্পর্ক কখনোই পরিপূর্ণতা পায়না,আর যদি তোরা দুইজন দুইজনকে ভালোইবাসিস, একসাথে কাটাতে চাস জীবন, তবে কেন বিয়ে করতে রাজী হচ্ছিস না?"
অর্চি বলেছিল "মা বলিনি তো আমরা বিয়ে করবো না, শুধু বলেছি একসাথে কিছুদিন কাটিয়ে দেখতে চাই। "
" দেখমা একসাথে কাটাতে চাস ভালো, তবে জানিস যে সম্পর্ক থেকে সহজে বেড়িয়ে আসা যায় যখন ইচ্ছে, তখন সেই সম্পর্কে থাকে কেবলমাত্র পালাই পালাই ভাবনা৷ অর্থাৎ দুইজন দুইজনকে যতটা পারো ব্যবহার করে নাও। অবশ্য সবটাই হবে ভালোবাসার মোড়কে অবচেতন মনে আর তুই নারী, কোমলতা আমাদের ধর্ম, তাই আমরা সহজে কিছু ভাঙ্গতে পারিনা। আর পুরুষদের রক্তই বোহেমিয়ান, তাই ওদের বাঁধতে হয় শক্ত দড়িতে। তুই একবছর ধরে ধীরে ধীরে সংসারে ঢুবে গিয়ে নিজের সংসার ভেবে ফেললি মনে মনে। কিন্তু অপরজন বেড়িয়ে আসতে চাইলে কিসের দোঁহাই দিয়ে আঁটকাবি বল?"
" উফফ মা তুমি বেশি ভাবছো, তোমার এই মধ্যবিত্ত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেড়িয়ে আসো। আর ও কেন আমারও হাতে বেড়িয়ে আসবার অপশন রইলো, বিয়ে হয়ে গেলে কি সম্ভব? "
ছোট্ট একটা নিঃশ্বাস ছেড়ে বলেছিল "মধ্যবিত্তরাই সমাজকে মানুষকে সবচেয়ে ভালো বোঝে, তবে তোকে বাঁধা দেবোনা, যা ভালো বুঝিস কর। তবে কি জানিস তুই ওকে কর আর যাকেই কর একদিনা একদিন কাউকে বিয়ে করবিই, তোর জীবনের একটা বছর যেন বারবার তোর সামনে বাঁধা না সৃষ্টি করে, আমি এতোটুকুই চাই।"
অর্চি আর সেসব নিয়ে তর্ক করেনি বেড়িয়ে এসেছিল। তারপর এই একটা বছর বাড়ি গেলেও ওর মা এই বিষয় নিয়ে কিছু বলেনি। অর্চি নিজে থেকেই জানাতো এটা দেখাতে যে ও কত ভালো আছে। তিনি কেবলমাত্র হেসে চুপ করে থাকতেন।না ওই হাসিতে ব্যঙ্গ ছিল, না ছিল রাগের প্রকাশ। মনে হতো শিশু জেদ করে কোন কিছু করার পরে বড়রা ভুল জেনেও শৈশবের দুষ্টুমি ভেবে হাসে, এঠিক তেমন।
অর্চির মনে হয় ও হারতে পারে না, ও ঠিক করে দেবে সবকিছু। এই ভেবে উঠে গিয়ে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে রতিনকে। রতিন তখন সিগারেট খেতে খেতে ফোনের দিকে তাকিয়ে হাসছিল। অর্চি ওমন করে ওকে জড়িয়ে ধরতে ও চমকে উঠে। ও এটা আশা করেনি। অর্চি বলে "চলো শোবে চলো।"
রতিন বলে "করতে দেবে তো।"
কথাটা শুনে অর্চির চোখে জল চলে আসে। তবুও নিজেকে সামলে সম্মতি জানায়।
রতিন অর্চি ঠোঁটে ঠোঁট রেখে চুমু খেয়ে বলে "That's like my girl"
তারপর অর্চিকে নিয়ে ঘরে ঢোকে, বিছানায় যত্নে শুইয়ে দেয়। তারপর চলে উন্মোত্ততা। কতটা রক্তে ভেজে বাইরেটা সেটা অর্চি না জানলেও, মনটা কেমন রক্তাক্ত হতে থাকে।
রতিন ওর কাম মিটিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। অর্চির সারারাত কাটে বিনিদ্রতায়, বালিশ ভেজে চোখের জলে।
তারপরের ইতিহাসটা এক্কেবারে ছোট্ট, অনেক চেষ্টা করেও ওদের সম্পর্কটা টেকাতে পারে না অর্চি। মাত্র একবছর তিনমাসের মাথায় রতিন বেড়িয়ে যায় ফ্ল্যাট ছেড়ে, মাত্র মাস ছয়েক আগে ওদের অফিসে জয়েন করা নিকিতা ওর লিভইন পার্টনার। এক্কেবারে ভেঙে পড়েছে অর্চি, মরে যেতে ইচ্ছে করছে ওর।ও ওর জমানো ছুটি নিয়ে মায়ের কাছে ছুটে এসেছে, ওর আর রতিনের সম্পর্কের কথা সবাই জানতো। ভেঙে যাবার পরেও সবাই জানে।তাই ছুটি পেতে অসুবিধা হয়নি। অবশ্য Work from Home করতে হতে পারে বলে জানিয়েছে অফিস থেকে। অর্চি রাজি হয়ে পুণে থেকে সোজা টিকিট কেটে ফ্লাইটে এসে নেমেছে এয়ারপোর্টে। অবশ্য আগে থেকেই নিকিতাকে নিয়ে কানাঘুষা শুনেছিল। কিন্তু বিশ্বাস হয়নি ওর।জিজ্ঞেস করলেই রতিন বলতো "তোমার এই স্বভাবটাই আমার পছন্দ হয়না, কারো সাথে কথা বলা মানেই সম্পর্কে জড়ানো নয়। আমরা দুইজন একই প্রজেক্টে কাজ করছি, তাই কথা বলতে হচ্ছে। কাজের সময় কি দিন রাত খেয়াল থাকে? "
মন না মানলেও বিশ্বাস করেছিল অর্চি, আর না করেও উপায় কি? কিসের ভিত্তিতে অধিকার ফলাবে ও? মায়ের কথাগুলো খুব মনে পড়েছিল বিশেষ করে সেইদিন যেদিন নিকিতার জন্মদিন ছিল,সেদিন অনেক রাতে মদ্যপ অবস্থায় ফিরেছিল রতিন। আর সহ্য হয়নি অর্চির চিৎকার করে বলেছিল "কোথায় ছিলে তুমি?"
রতিন সাথে সাথে ব্যঙ্গের সাথে রাগের গলায় বলে উঠে " সে যেখানেই থাকি তোমাকে কৈফিয়ত দেবো নাকি? তুমি এমন করছো যেন তুমি আমার বিবাহিতা স্ত্রী, দেখো আমি স্বাধীন মানুষ, কারো কথা শুনে চলার বান্দা আমি নই।" বলতে বলতে গায়ের কোর্টটা খুলে অর্চির দিকে ছুঁড়ে দিয়ে, শোফার কোনমতে শুয়ে পড়ে জুতো পোশাক না খুলেই। প্রথমটাই অর্চি হকচকিয়ে গেলেও, নিজেকে কিছুটা সামলে নিতেই হাতে ধরা কোর্টটার দিকে চোখ পড়ে। কোর্টে একটা চেনা গন্ধ, নাকের কাছে ধরতেই চিনতে পারে এই পারফিউমটা নিকিতা ব্যবহার করে। ও ভালো করে কোর্টটা দেখতে থাকে, মেয়েদের চুল আর মেকাপে স্পষ্ট দাগটাও দৃষ্টি এড়ায়না। সেদিন নিকিতার জন্মদিন ও জানত, কারণ অফিসেই ছোট্ট করে কেক কাটা হয়েছিল। রতিন আর অর্চি একসাথে বাড়িও ফিরে এসেছিল অফিস থেকে। কিন্তু ঘন্টাখানেক পরে ব্লেজার পরে সাজতে দেখে অর্চি জিজ্ঞেস করেছিল কোথায় যাচ্ছে সে। রতিন প্রথমে বিরক্তি চোখে তাকালেও পরে বেড়িয়ে যাওয়ার সময় জানিয়ে যায় ওর এক বন্ধুর বাড়ি ব্যাচেলর পার্টি রয়েছে বন্ধুর প্রমোশনের। কিন্তু কোর্টটাই সত্যিটা প্রমাণ করে দেয়।
অর্চির সারারাত বিশ্বাস ভাঙ্গার যন্ত্রণায় কেটে যায়। পরের দিন সকালে জিজ্ঞেস করতেই ক্ষেপে উঠে রতিন। " সকাল সকাল কি শুরু করলে, এইজন্যই বাড়িতে থাকতে চাইনা।কি শুনতে চাইছো গিয়েছিলাম কিনা নিকিতার কাছে? হ্যাঁ গিয়েছিলাম, কাল নিকিতার জন্মদিন ছিল তাই ও ডেকেছিল ডিনারে গিয়েছিলাম। এতে কি মহাভারত অশুদ্ধ হলো? আর বলেনি তোমায়, তো? সব কথা কি তোমায় বলে যেতে হবে? আর বলবোই বা কেন? তোমার অকারণ সন্দেহ সহ্য করতে? "
"যত্তসব" বলে যেমন ভাবে ছিল তেমন করেই ফ্ল্যাট ছেড়ে বেড়িয়ে যায় রতিন।
অর্চির সেদিন বুকফাটা আর্তনাদ গলা চিঁড়ে বেরিয়ে আসতে থাকে। ওর অফিস যেতে দেরি হয়ে যায়। দেখে রতিন আগেই পৌঁছে গিয়েছে, শুনতে পায় নিকিতার সাথে নাকি অফিস এসেছে আজ রতিন। অর্চির কোনো কাজেই মন বসতে চায়না, বসের কাছেও কথা শুনতে হয়। একবারও রতিন কথা বলা তো দূর,ওর দিকে ফিরেও তাকায় না। অবসন্ন মনে ফ্ল্যাটে ফিরে আসে।রতিন তখনও ফেরেনি।অর্চি না খেয়েই কোনমতে পরিস্কার হয়ে পোশাক বদলে শুয়ে পড়েছিল অর্চি। ক্লান্ত ও অবসন্ন মন দেহ কখন যে ঘুমের কোলে ঢেলে দিয়েছিল তা ও জানে না। সেই চেনা অথচ অস্বস্তি অনুভবে ঘুম ভেঙে যায় অর্চির। রতিন সেই প্রাচীন খেলায় মেতে উঠেছে। অর্চি ঘেন্নায় লজ্জায় ঠেলে সরিয়ে দেয় রতিনকে। এতোটাই জোর ছিল তাতে রতিন খাট থেকে পড়ে যায়। বুনো মোষের মতো ঝাপিয়ে পড়ে রতিন, খুবলে খেতে চায় যেন অর্চির শরীরখানাকে। তারমধ্যে না আছে মায়া না আছে মমতা। কেবল যেন নিংড়ে নেবার চেষ্টা।
অর্চি এবারে টেবিলে পাশে থাকা ফুলদানিটাই বসিয়ে দেয় রতিনের মাথায়। যেটা এই ঘরের রঙের সাথে মিলিয়ে কিনেছিল ও। রতিন বেসামাল হতেই পাশের ঘরের গিয়ে দরজা লাগিয়ে দেয়। রতিন দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে ফুঁসতে থাকে। বারবার দরজায় ধাক্কা দেয়।তারপর হঠাৎ দরজা ধাক্কাধাক্কির আওয়াজ বন্ধ হয়ে যায়। অর্চি এবার নিজের শরীরের দিকে তাকায়। নিজেকে কেমন যেন অপবিত্র মনে হতে থাকে। এমন অনুভব আগে হয়নি, আগে যতবারই মিলন করেছে সেটাতে ভালোবাসা ছিল বলে ওর বিশ্বাস ছিল। তাই ওর অনিচ্ছার সত্ত্বেও বাঁধা দেয়নি কখনো। আজ কেবলমাত্র পোশাক শরীরে নেই দেখে নগ্ন নয়।নিজের আমির কাছে ও নগ্ন হয়ে গিয়েছে। শরীর বাইরে কেবলমাত্র ক্ষত-বিক্ষত নয়, মনটা যে এক্কেবারে ফালাফালা। বুঝতে পেরেছে ভালোবাসা নয় ওর শরীর ছিল ওর সম্পর্কের ভিত্তি। মরমে মরে যেতে থাকে ও। কিন্তু কখন যে ঘুমিয়ে পড়ে তা জানেনা,এই ঘটনার পরের দিন যখন ঘুম ভেঙে বাইরে এসে দেখে ওদের বেডরুমের দরজা খোলা।কোনো মতে একটা হাউস কোর্ট জড়িয়ে । ঘরে যেতেই চোখে পড়ে কাবার্ট খোলা। সেখানে একটা জিনিস নেই রতিনের।বাইরে এসে এদিক ওদিক দেখে বুঝতে পারে সারা ফ্ল্যাট ফাঁকা।
কি মনে হতে মোবাইলটা হাতে নেয়, দেখে একটা ছোট্ট মেসেজ "তোর মতো সাইকোর সাথে আমার পক্ষে থাকা সম্ভব না, আমি তাই ছেড়ে দিচ্ছি। অন্য কেউ হলে তোকে জেল খাটিয়ে ছাড়তো। আমি নিকিতার ফ্ল্যাটে যাচ্ছি,ওর সাথেই থাকব। আমার পেছন পেছন আমাকে বিরক্ত করতে না আসিস। আর পারলে মাথার ডাক্তার দেখাস, সাইকো।"
লেখাটা পড়ে জ্বলতে থাকে সারা শরীর। সেদিন ও অফিসে যায়না। ফোন বন্ধ করে মরার মতো শুয়ে থাকে সারাদিন। সন্ধ্যার সময় শ্রীর গলা শোনা যায়। শ্রী ওর কলিগের চেয়েও বেশি বন্ধু। লিভিং এ আসার আগে ওরা দুইজন এক পিজিতে এক ঘরে থাকতো। লিভিং করার আগে বারণ করেছিল দেখে সামান্য কথা কাটাকাটি হয়। অবশ্য সেই নিয়ে শ্রী কখনোই অর্চিকে ভুল বোঝেনি।বরং বারবার সাহায্য করেছে বিভিন্নভাবে। এমনকি নিকিতার বিষয় প্রথম সাবধান করেছিল। আজ হঠাৎ ওর গলা পেয়ে ছুটে গিয়ে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকে। অর্চির এমন অবস্থা দেখে চমকে উঠে শ্রী। ও ওষুধ লাগিয়ে দেয়।
" কি অবস্থা হয়েছে তোর, কে করলো এমন অবস্থা তোর? "
অর্চি আবার ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে।
শ্রী চোখের জল মুছিয়ে দিয়ে বলে "কাঁদিসনা। আমার সাথে পুলিশ স্টেশন চল।"
অর্চি মাথা দুলিয়ে না বলে।
শ্রী এবারে ক্ষেপে উঠে বলে "কেন? কেন যাবি না, ওই পশুটার আসল রূপ সামনে এনে শাস্তি দেবার প্রয়োজন আছে। "
অর্চি সর্বহারার মতো উদাস দৃষ্টিতে সিলিং এর দিকে চেয়ে থাকে। কি বলবে ও পুলিশ স্টেশনে গিয়ে? বরং ওর চরিত্রের দিকে আঙ্গুল তুলবে। এতোদিন একসাথে থেকেছে, এখন কি ধর্ষণের মামলা করা হাস্যকর। আর বধূ নির্যাতন মামলা করাও যাবেনা। কারণ ও মনের দিক থেকে রতিনকে স্বামী মনে করলেও, সামাজিক কিংবা আইনের চোখে ওদের সম্পর্কের কোনো বৈধতা নেই।
শ্রী এবারে রাগ করে বলে "তুই ওকে বাঁচা আইনের হাত থেকে, আর ও তোর নামে কুৎসা করে বেড়াচ্ছে। তুই নাকি সাইকো, এতোটাই মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে যে ওর মাথা ফাঁটিয়ে দিয়েছিস। তারপর সবার সামনে বললো বাধ্য হয়ে নাকি রাতের আঁধারে ও ঘর ছেড়ে চুপিচুপি বেড়িয়ে এসেছে। তারপর সবার সামনে ফ্ল্যাটের চাবিটা দেখিয়ে বললো কেউ চাবিটা তোর কাছে পৌঁছে দেবে কিনা। কারণ ওর নাকি আসার সাহস নেই।আমার এতোটা কষ্ট হলো ওর হাত থেকে চাবিটা ছিনিয়ে নিয়ে বলে এসেছি, ' অর্চি কেমন তা তুমি বাকিদের বোঝাতে পারো রতিন, আমি তোমার আগে থেকে ওকে চিনি। ওর সাথে তোমার চেয়ে বেশিদিন থেকেছি। হ্যাঁ তবে মেয়েটার একটাই দোষ মেয়েটা বড্ড বোকা। নইলে তোমার আসল রূপ বুঝতে এতোটা সময় লাগিয়ে দিলো ' আমার ওকে কেবলমাত্র ঘৃণা হয়।"
অর্চি শ্রীয়ের দিকে তাকিয়ে বললো "শ্রী আমি বাড়ি যেতে চাই, মায়ের কাছে যেতে চাই, তুই ব্যবস্থা করে দিবি বন্ধু।"
অর্চির মুখে অনেক দিন পরে বন্ধু শুনে চোখে জল চলে এলো। মাথা দুলিয়ে সম্মতি জানালো। তারপর অফিসে ম্যানেজ থেকে শুরু করে টিকিট কাটা সবই শ্রী করে দিয়েছে। ও চোখ ছাড়া করেনি একটিবারের জন্য অর্চিকে। নইলে হয়তো আত্মহত্যা করে ফেলতো। অর্চিকে বাড়ি পৌঁছাতে আসতে চেয়েছিল, অর্চি বারণ করেছে এবং কথা দিয়ে এসেছে ও কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নেবে না।
অর্চি এখন মায়ের কোলে শুয়ে রয়েছে। মনে হচ্ছে
ওর মনের সব যন্ত্রণা, সব দুঃখ কষ্ট কোথায় যেন মিলিয়ে যাচ্ছে। শ্রী ওর মাকে ফোনে কিছুটা আভাষ দিয়ে রেখেছে তা অর্চি এখন শুনতে পেলো, অবশ্য শ্রীয়ের সুনাম করতে গিয়ে বলে ফেলেছেন তিনি।কিন্তু অর্চি বাড়িতে পৌঁছাতে সেই আগের মতোই মায়ের কাছে আহ্বান পেয়েছে। না ছিল মায়ের চোখে মুখে কোনো প্রশ্ন, না ব্যঙ্গ, না তাচ্ছিল্য।শুধু ছিল বেদনা, ওর বেদনার জন্য বেদনা। অর্চি চোখ বুজে সন্তানের জন্য মায়ের যে অফুরান নিখাঁদ ভালোবাসা, সেটার পরশটুকু অনুভব করে। আজ বুঝতে পারে এই মধ্যবিত্ত মা-টাই ঠিক, বাকি সব ভুল .....
~ সমাপ্ত ~
