The Stamp Paper Scam, Real Story by Jayant Tinaikar, on Telgi's takedown & unveiling the scam of ₹30,000 Cr. READ NOW
The Stamp Paper Scam, Real Story by Jayant Tinaikar, on Telgi's takedown & unveiling the scam of ₹30,000 Cr. READ NOW

Priyanka Chatterjee

Classics

2  

Priyanka Chatterjee

Classics

কলঙ্কিনী বধূ

কলঙ্কিনী বধূ

4 mins
773


#কলঙ্কিনী

(ঐতিহাসিক চরিত্রের রূপক মাত্র , তবে এ আমার কল্পগাথা, তাই ঐতিহাসিক তথ্যের সাথে মিল না খোঁজাই ভাল।)

#প্রিয়তম, 

কি নামে ডাকি তোমায়? আমি এখন বসে থাকি নদীর ধারে। বড় নীল এই জল। চেয়ে বসেই থাকি। মনে হয় বিষ। বিষের রঙ যে নীল, সে বিষে আমার শরীর মন প্রাণ সব নীল, তুমি কি তা জান সখা? তোমার স্পর্শ অনুভব করি আমি। কিন্তু কোথায় তুমি প্রিয়তম? সখীর স্পর্শে চমক ভাঙে, সে বলে 

---বাড়ি যাবি না?

তার মুখেও খুঁজে চলি, শুধু, করুণা, নাকি ঘৃণা? ঘৃণাই আছে আমার জন্য শুধু। লজ্জা কি লজ্জা! আমার ভিতর বাহির পুড়ে যায় । কি অসহ্য জ্বালা সখা, প্রিয়তম, তুমি বোঝ না?

  " একলি যাওব তুঝ অভিসারে,

  তুহুঁ মম প্রিয়তম কি ফল বিচারে-

  ভয় বাধা সব অভয় মুরতি ধরি

    পন্থ দেখায়ব মোর।"

না সখা কেউ দেখায়না পথ আমায়, সভয়ে সকলে মুখ ফিরিয়ে নেয়, পথ যে বড় অন্ধকার। তুমি কি করে বুঝবে? হায়, আমিও পাগলিনী! তুমি যে এখন রাজাধিরাজ! সকলে বলেছে আমায়, তুমি চলে গেছ, আমি শুনি, মন শোনেনি, হৃদয় মানে না।  

যখন তুমি ছিলে মনে আছে, কত রঙ্গ করতে। আমি ভয়ে কাঁপতুম, এই বুঝি কেউ দেখে ফেলে। আমি তখন সদ্য বিবাহিতা কিশোরী। স্বামী থাকে না। কখন যে ছলায় কলায় তুমি আমার মন হরণ করলে আমি বুঝতে পারিনি প্রিয়। তোমার মোহন বাঁশির সুরে, পাগল হয়েছি আমি, তাও যাই নি । দরজা বন্ধ করে থেকেছি,কান চেপে ধরেছি দুহাত দিয়ে,তোমার আর্তি যাতে প্রবেশ না করে। তোমার পাগল করা ডাক উপেক্ষা করার সাধ্য কি আমার মত সাধারণ নারীর? মনোহরণ করেছ তুমি প্রিয়।

 বলতে পার প্রিয়, আমায় কেন সকলে কুলটা বলে? ভালোবাসা কি অপরাধ? তাই যদি হয়, অন্যের বিবাহিতা স্ত্রীকে ভালোবাসার অপরাধে তুমিও যে সমান অপরাধী। কই তোমায় কেউ কিছু বলে না? কেন? তুমি পুরুষ বলে? নাকি আজ তোমার অগাধ সম্পত্তি ও প্রতিপত্তির জন্য সকলে তোমার দিকে আঙুল তুলতে ভয় পায়। তুমি যে পুরুষোত্তম! এসকল প্রশ্নের উত্তর তুমি দাও তাহলে। প্রাণনাথ সকলে আমায় ঘৃণা করে, ঠিক শুনেছ ঘৃণা। তোমায় ভালবেসে যে কলঙ্কের বোঝা তুলেছি মাথায়। আর তুমি, হায় হায় তুমি আজ সম্মানিত ব্যক্তি বিশেষ, কলঙ্ক তোমায় স্পর্শ করতেও ভয় পায়, তুমি যে সমাজের মাথা, আর আমি সামান্যা নারী।

জানো যেদিন আমার স্বামী জানতে পেরেছিলেন, কি অকথ্য অত্যাচার করেছিলেন তিনি। রাগে ঘৃণায় আরক্ত বদনে ঘরে এসেই ধরেছিলেন আমার চুলের মুঠি। সর্বাঙ্গে অসহ্য যন্ত্রণা ছিল। তাও পারিনি ছাড়তে তোমায়। প্রত্যেকদিনের এই অত্যাচার ছিল সহচর, তোমার পরশ ভুলিয়ে দিত সে সব কষ্ট। তুমিতো অন্তর্যামী, সব জানতে। সত্যি বল সখা , আমি কি তোমায় প্রলুব্ধ করেছি? বারবার আমার দরজায় এসেছ তুমি , আমি দরজা বন্ধ করে কানে হাত চাপা দিয়ে থাকতাম, তুমি ডেকেই যেতে। কেন সখা?আমার মত এক সামান্য নারীর হৃদয় নিয়ে খেলে , সখা তুমি কি পেলে?

আজো মাঠে রাখাল বাঁশি বাজালে আমি ছুটে যাই প্রিয়, মিথ্যা ভ্রমে, যদি তুমি আসো! রাখালরাজা, তুমি যে খেলার ছলে ভাঙলে আমার মন, সে মন আমি আজো খুঁজে বেড়াই? আজো গোধুলির সময় মাঠের দিকে তাকিয়ে থাকি নির্ণিমেষ নয়ণে, সূর্যের রক্তরাগে গোরুগুলোর ক্ষুরের ধুলোয় মিলে মিশে সেই ক্ষনে যে মোহের সৃষ্টি হয় মনে হয় যদি দেখা পাই তোমার। না পাইনি রাখালরাজা তোমার দেখা।

শাশুড়িমা এর গঞ্জনা, স্বামীর ঘৃণা, সবার আড়চোখে তাকানো, ফিসফিস সমালোচনা, প্রকাশ্যে অপমান, সব সহ্য করেছি। আমি আজ কলঙ্কিনী, কুলটা। পাগলের প্রলাপ ভাবছ তাই না? মনে আছে সখা যেদিন তুমি সর্বসমক্ষে আমায় আবির মাখিয়েছিলে, লজ্জায় লাল হয়ে ঘরে দোর দিয়েছিলুম। সকলে বলেছিল 

---ওতো আমাদের ঘরের ছেলে, লজ্জা কিসের?

বসন্ত পূর্ণিমায় যখন চুপিচুপি ঘর থেকে বেরিয়ে একসাথে দুলেছি, কখন দুই দেহ মিশে গেছিল বুঝিনি। সে কি লজ্জা, মা গো! যৌবনের ডালি নিবেদন করেছিলাম তোমার পায়ে, জাত কুল সব ভুলে। সর্বাঙ্গে তোমার স্পর্শ অনুভব করেছি, ভেসে গেছি এক অন্য জগতে।  তোমার অঙ্গের বিশেষ চিহ্ন সকল আমার যে ভীষণ চেনা। কত আদর করেছি। আমার শরীরে তোমার আদরের চিহ্নসকলকে সযত্নে হাত বুলিয়েছি।

"রূপ লাগি আখি ঝুরে গুনে মন ভোর 

প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর।।"

তোমার মনে পড়ে সেসকল গোপন অভিসারের কথা?

হয়ত পড়ে না। 

আজো যখন প্রত্যেক নীরব গভীর রাত্রিতে আমার স্বামী তার দৈহিক বাসনা কামনা পূরণ করে ,তার ঘৃণা মিশ্রিত আক্রোশের সাথে, তা যে কী কদর্য ,অসহনীয় তা তুমি জান না। আমি প্রাণপনে চেষ্টা করি চুপ করে থাকতে। শরীরি আদর যে এত যন্ত্রণাদায়ক সখা বুঝিনি। উনি যখন সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে সঙ্গমে লিপ্ত থাকেন আমি নির্বিকার চিত্তে তাকিয়ে থাকি ঐ মসীলিপ্ত অন্ধকারের দিকে, তোমার প্রেমময় মুখখানাই ভেসে ওঠে। সে সময় সখা তুমি হয়ত তোমার স্ত্রী এর বাহুডোরে আবদ্ধ হয়ে নিদ্রামগ্ন । ভুলে গেছ তুমি আমায় সখা, আমি ভুলিনি, জীবন মরন, যৌবন সব সঁপেছি তোমার পায়েই। 

আজ আমি নীল যমুনার তীরে বসে আবাহন করেছি মরণকে। মরণ যেন তোমার রূপে এসে শ্যাম, গ্রহণ করে আমায়। মনে আছে সখা প্রথমদিনে তোমায় বলেছিলেম

" তুহুঁ নেহি বিসরবি,তুহুঁ নেহি ছোড়বি

রাধা হৃদয়তু কবহুঁ না তোড়বি,

হিয় হিয় রাখবি, অনুদিন অনুক্ষন

অতুলন তোঁহার লেহ।"

    প্রেমের বিষ পান করেছি আমি। সর্বাঙ্গ বিষের জ্বালায় নীল হয়ে গেছে সখা। ভালো থেকো সখা। আমি কলঙ্কের বোঝা মাথায় নিয়ে এ পৃথিবী হতে বিদায় নিলুম। ভাসিয়ে দিলুম এ পত্রখানি যমুনার জলে। প্রিয় আমার, পত্রখানি হয়ত পাবে না তুমি, কলঙ্কিনী রাধাকে পারোতো ঠাঁই দিও তোমার মনের এককোণায়, নীরব নিশিথে ফেলো একফোঁটা চোখের জল নাহয় আমার জন্য।

 বিদায় শ্যাম।

                       ইতি 

                       কলঙ্কিনী রাধিকা।


Rate this content
Log in

Similar bengali story from Classics