Debdutta Banerjee

Thriller


3  

Debdutta Banerjee

Thriller


হিউয়েন-সাং এর বাতিদান-১

হিউয়েন-সাং এর বাতিদান-১

8 mins 17K 8 mins 17K

পূজার সংখ্যার লেখাটা শেষ করে দিঠি উঠে এসে বারান্দায় দাঁড়াল । জুনের শেষ, তবু আকাশে তেমন মেঘ নেই। মাঝে মধ্যে ছিটেফোঁটা বৃষ্টি হচ্ছে তবে গরম কমছে না। তিনটে নাম করা পত্রিকায় ওর গল্প যাবে এবার। এছাড়া নতুন দুটো ছোট পত্রিকা লেখা চাইছে। সময় পেলে দেবে বলেছে ও।

আজ আবাসনের পূজা-কমিটির তরফ থেকে বাদলদা একটা লেখা চেয়েছেন আবার। নিচের পার্কের পাশের লনে খুঁটি পূজার তোড়জোড় চলছে। আগামী কাল রথযাত্রা, খুঁটি পূজা দিয়ে শারদোৎসবের সূচনা হবে। অয়নের আজ আবার ফিরতে দেরি হবে।

বাচ্চা গুলো পার্কে হুটোপুটি করছে, বেশ লাগছিল দেখতে। হঠাৎ কলিং বেলের আওয়াজে ড্রইংরুমের দিকে এগিয়ে যায় দিঠি। 'আইহোলে' চোখ রেখে দেখে নিচের ফ্ল্যাটের বরুয়া বৌদি। একটু অবাক হয়েই দরজা খুলে দেয় দিঠি। বরুয়াদা সিই.এস.সি তে কাজ করেন। বৌদি একটা বাচ্চাদের স্কুলে পড়ান। ওনারা আসামের লোক। কথায় একটা হাল্কা টান আছে। খুব একটা প্রয়োজন ছাড়া কারো সাথে মেশেন না। তবে এমনি খুব ভাল।দিঠি একটু হেসে ওনাকে ভেতরে আসতে বলল। সোফায় বসেই উনি অয়নের খোঁজ করলেন। আসতে রাত হবে শুনে একটু চিন্তিত মনে হল। দিঠি দুটো গ্লাসে আম'পানা বানিয়ে এনে দেয়। বৌদিকে ভীষণ অন্যমনস্ক লাগছিল। দিঠি এক দু কথার পর বলে,-" আপনি কিছু একটা সমস্যায় পড়েছেন বুঝতে পারছি, চাইলে আমায় খুলে বলতে পারেন।"

কিন্তু বরুয়া বৌদি একমনে ওয়াল হ‍্যাংগিংটার দিকে তাকিয়ে থাকেন। ওটা কয়েক মাস আগে গ্যাংটক থেকে কিনেছিল দিঠি, একটা মনাস্ট্রির ছবি।

সরবতটা শেষ করেই উঠে পড়েন উনি। দিঠি বলে যে অয়ন ফিরলে ও ফোন করবে। বৌদি বেরিয়ে যেতেই দিঠি ভাবতে বসে ওনার কি এমন দরকার থাকতে পারে!

আবার কলিং-বেলের আওয়াজে চমকে ওঠে দিঠি। ঘড়িতে রাত আটটা, অয়ন ফিরল বোধহয়? দিঠি দরজা খুলে দেয়। বিধ্বস্ত চেহারায় অয়ন ঘরে ফেরে। দিঠির এগিয়ে দেওয়া জলটুকু খেয়ে এসি'টা ফুল করে দেয়। একটু পরে জামাকাপড় ছেড়ে ফ্রেশ হয়ে বসতেই ফোনটা বেজে ওঠে। আননোন নম্বর। অয়ন ফোনটা নিয়ে বেডরুমে চলে যায়। টুকরো টুকরো কথা শুনে দিঠি বোঝে এটা ঐ বরুয়াদের বাড়ির কেউ ফোন করেছে। ফোনটা কাটার পর দিঠি বলে যে সন্ধ্যায় বরুয়া বৌদি এসেছিলেন অয়নের খোঁজে। কিছুক্ষণের মধ্যে বরুয়া দা, বৌদি দু জনেই চলে আসেন। দিঠি এবার স্প্রাইটের বোতল খোলে।

অয়ন ওনাদের চিন্তিত মুখের দিকে তাকিয়ে বলে,-" আমাকে খুলে বলতে পারেন যে কোনো সমস্যা, এতবার করে যখন আসছেন নিশ্চই গুরুতর দরকার।"ওরা দু-জন মুখ চাওয়াচাওয়ি করে৷বরুয়া-দা বলেন,-" আসলে কদিন ধরে একটা প্রবলেমে ফেঁসে গেছি ভাই। কি করবো বুঝতে পারছি না। তাই আপনার কাছে এলাম। আপনাদের চেনা পরিচিতি প্রচুর। কি করা উচিত যদি ......" এ টুকু বলেই উনি স্ত্রীর দিকে তাকালেন।বৌদি বললেন,-" আসলে পৈতৃক সূত্রে আমি কিছু সম্পত্তির অধিকারিণী হয়েছে একমাস হল। তারপর থেকেই কিছু বিরক্তিকর ফোন আসা শুরু হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত আমার এক কাকাকে নিয়ে।" এটুকু বলে উনি আবার ঐ 'ওয়ালহ‍্যাংগিং'টায় মন দিলেন। অয়ন বুঝতে পারছিল ওনারা একটা দোলাচলে রয়েছেন। ও একটা স্প্রাইটের গ্লাস তুলে নিয়ে বলল,-"আপনি বলুন। আমি শুনছি।" দিঠি ওনাদের হাতে গ্লাস তুলে দিয়ে ছোট কৌচটায় বসল।হাতে ফোন।

-"আমরা বুদ্ধের উপাসক জানো নিশ্চই। আমার জন্ম অরুণাচলে বোমডিলায়। আমার এক কাকা তাওয়াং এ থেকে তিব্বতি ভাষার উপর গবেষণা করতেন। বিয়ে করেন নি। ছুটিছাটায় বাড়ি আসতেন। আমায় খুব ভালবাসতেন। এরপর হঠাৎ কাকা বহুদিন তিব্বতে চলে যান। লামাদের সাথে মিশে হিমালয়ের দুর্গম স্থানে যে সব বৌদ্ধ মঠ আছে সেসব ঘুরে বেড়াতেন উনি। আমি বিয়ের পর কলকাতা চলে আসি। শ্বশুর বাড়ি অবশ্য তেজপুর। বহুদিন কাকার সাথে কোনো যোগাযোগ ছিলনা। পাঁচবছর আগে বাবা,মা একটা দুর্ঘটনায় মারা যেতে কাকার খোঁজ পাই। কাকা সে সময় বোমডিলার সম্পত্তি আমার অনুমতি নিয়ে বিক্রি করে কলকাতায় একটা ফ্ল্যাট কেনে। আমিই চেয়েছিলাম কাকা এখানে থাকুক। কিন্তু কাকা ঘুরেই বেড়াতেন। সিংহল থেকে লাদাখ, তিব্বত থেকে চীন কোথায় যাননি তিনি। ছমাস আগে কলকাতায় এসে ফ্ল্যাটে বসবাস শুরু করেন। তার দু মাসের মাথায় আমাকে একদিন ডেকে বলেছিলেন যদি ওনার কিছু হয়ে যায় একটা জিনিস আমায় তাওয়াং মনাষ্ট্রিতে প্রধান লামা চিপার হাতে পৌঁছে দিতে হবে। একটা জুতোর বাক্সর মত কালো চ্যাপ্টা বাক্স দেখান আমাকে এবং বলেন, শত প্রলোভনেও ওটা বিক্রি করতে না। তাহলে পাপের ছোঁওয়া লাগবে সংসারে। ওনার পক্ষে নাকি তাওয়াং যাওয়া সম্ভব না। শত্রু রয়েছে চারিদিকে। বাক্সটা পেপার দিয়ে মুড়ে আমায় দিয়ে দেন তিনি। এবং বলেন লকারে রাখতে যতদিন ফেরত দিতে না পারি। আমি বাক্সটা এনে আলমারিতে রেখেছিলাম। এরপর কাকা আবার কোথাও চলে যান। মোবাইল ব্যবহার করতেন না, তাই খোঁজ পেতাম না। একমাস আগে উনি ফোনে জানতে চান কাজটা করেছি কিনা। আমি তো ভুলেই গেছিলাম। বললাম একটু সময় লাগবে। পূজার ছুটিতে যাবো।তার তিন দিন পর খবর এলো কাকা কলকাতার এক হাসপাতালে ভর্তি। একটা গাড়ির নিচে পড়েছিল কোনোভাবে। হাসপাতালে যেতেই কাকা ওটা কোথায় আছে জানতে চাইলেন। মিথ্যা বললাম যে লকারে রাখা আছে। কাকা শান্তিতে চোখ বুঝলেন। বললেন ওনার সব সম্পত্তির মালিক আমি কিন্তু এই বাক্স তাওয়াং মনাষ্ট্রির সম্পত্তি। ওখানে যে প্রধান লামা রয়েছেন তার হাতে ঐ বাক্স তুলে দিলেই আমার দায়িত্ব শেষ। সেদিন রাতেই কাকা মারা যান। আর অদ্ভুতভাবে পরদিন কাকার ফ্ল্যাটে চুরি হয়। কি কি চুরি গেছে জানিনা। আমরা তো সব সময় যেতাম না। তবে কাকা ডাইরি লিখতেন জানতাম। হসপিটালেও ওনার সাথে একটা ডাইরি ছিল। পুরানো ডাইরি গুলো আমি পাই নি। টাকা পয়সা সব ব্যাঙ্কে ছিল। বাড়িতে কিছুই তেমন ছিল না চুরি যাওয়ার মতো। পাশের ফ্ল্যাটের লোক ঘরে টর্চের আলো দেখে নিচে সিকিউরিটিকে ফোন করেছিল মাঝ রাতে। সিকিউরিটি এসে দেখে ঘর বন্ধ, কিন্তু কোলাপসিপলের তালা ভাঙ্গা। আমাদের পর দিন খবর দিতেই গিয়ে দেখি সারা ফ্ল্যাট লন্ডভন্ড। বুঝতে পারি কেউ ঐ বাক্সের খোঁজ করছিল। ভেবেছিলাম কাকার শোক কাজ মিটে গেলেই রেখে আসবো ওটা। কি আছে জানতাম না। এর মধ‍্যেই একটা ফোন আসে। এক ভদ্রলোক মিঃ গুপ্তা কাকার রেফারেন্স দিয়ে একটা জিনিস কিনতে চায়। কাকার কাছে নাকি একটা বহু পুরানো পুঁথি ও বাতিদান ছিল। আমি এ ব্যাপারে কিছু জানিনা বলেছি। এর পরের দিন আবার একটা ফোন আসে। আমাকে ঐ বাক্সটার জন্য তিন লক্ষ টাকা দেবে বলে প্রস্তাব দেয় এক চাইনিজ ভদ্রমহিলা, নাম সু-তাং-লাই। ওতে নাকি কি সব পুঁথি আর বাতিদান রয়েছে। আমি বলেছি কিছু বিক্রি করবোনা।কিন্তু কৌতূহল হচ্ছিল খুব। বাক্সটা খুলে দেখি একটা বহু প্রাচীন তিব্বতি ভাষায় লেখা পুঁথি ও একটা বহু সুদৃশ্য রত্নখচিত সোনার বাতিদান রয়েছে। আর একটা তিব্বতি ভাষায় লেখা চিঠি। আমি সব গুছিয়ে তুলে রাখি।ইতি মধ্যে ঐ চাইনিজ মহিলা আরও তিনবার ফোন করেছিলেন। দশ লক্ষ টাকা দেবেন বলেছেন। শেষ বার একটু থ্রেট করেছেন।"

এতক্ষণ এক ভাবে কথা বলে বৌদি হাঁফিয়ে গেছিল। স্প্রাইটের গ্লাসে চুমুক দিয়ে বরুয়াদার দিকে তাকায়।বরুয়া দা বলেন,-" আমি পরশু তাওয়াং যাবো ভেবে গৌহাটির টিকিট কেটেছি। কিন্তু কাল থেকে আমাদের কাছে এক অদ্ভুত ফোন আসছে। নাম বলেনি। ঐ পুঁথি আর বাতিদান না দিলে আমাদের একমাত্র ছেলেকে তুলে নেবে বলেছে।পুলিশে গেলে আরও ক্ষতি করে দেবে বলেছে। ওর কাকার মৃত্যু নাকি স্বাভাবিক ছিলনা, একথাও বলেছে। আমরা পাত্তা দিইনি।আজ সকালে আমাদের ছেলে দীপকে আঁকার ক্লাসে ছেড়ে বাজারে গেছি, ও একাও যায় আঁকার ক্লাসে।আমাদের আবাসনের বাইরেই, ঐ বাজারের দিকে যেতে ডানদিকের গলির শেষ বাড়ি। বাজার করে ফিরছিলাম, আবার ফোন। আমায় বলল যদি বাক্সটা না দিই দীপ আর বাড়ি ফিরবে না। আমি তাড়াতাড়ি আঁকার মিসের বাড়ি গিয়ে শুনি ছেলে আসে নি। অথচ আমি গলির মুখে বাইকে করে নামিয়ে দিয়ে বাজার গেছিলাম। ছুটতে ছুটতে বাড়ি এসে দেখি ছেলে বাড়িতে। বলছে গেটের কাছে একটা আঙ্কেল ওকে বলেছে আজ মিস ছুটি দিয়েছে। সেই লোকটা ওকে বাড়িও পৌঁছে দিয়েছে গাড়িতে করে।এমন সময় আবার ফোন। বলল যে-'এবার তো ছেলে বাড়ি ফিরেছে, জিনিসটা না দিলে আর ফিরবে না।'ইতিমধ্যে আজ আর এক টিবেটিয়ান ভদ্রলোক মিঃ খুংসু লামা দুপুরে সোজা বাড়ি এসে হাজির। বলে জিনিসটা একবার দেখবেন।ঐ পুঁথি নাকি হিউয়েন সাং এর সময়কার। ঐ বাতিদান প্রাগজ্যোতিষপুরের মহারাজ হিউয়েন সাংকে উপহার দিয়েছিলেন। পুঁথিটাতে হিউয়েন সাং এর 'পূর্ব-ভারত' ভ্রমণের ঘটনা লিপিবদ্ধ রয়েছে। এগুলো হিমালয়ের কোনো বহু পুরানো মঠে অবহেলায় পড়েছিল। সেই মঠের প্রধান এগুলো সংরক্ষণ করে তাওয়াং মনাষ্ট্রিতে পাঠাতে চেয়েছিলেন। ওর কাকা প্রভাত লিংপা ঐ মঠে ছিলেন বেশ কিছুদিন। তাই ওনার হাতে এগুলো দিয়েছিলেন ঐ মঠের প্রধান লামা। আমরা যদি চাই উনি জিনিস গুলো তাওয়াং পৌঁছে দিতে পারেন। প্রচুর অসৎ লোক ওগুলোর খোঁজে ঘুরছে। কাকাকেও ওরাই মেরেছে। তাই উনি ওগুলোর খোঁজ করছেন। আমি বলি জিনিস গুলো বাড়িতে নেই, লকারে রয়েছে। উনি দুদিন পর আসবেন বলেছেন।''

-"এখন জিনিসগুলো আর আপনাদের ছেলে দীপ কোথায়?" দিঠি জানতে চায়।

-" দীপকে বিকেলে আমার দাদার বাড়ি দমদমে পাঠিয়ে দিয়েছি। দাদার ছেলে আর ও এক স্কুল। এক ক্লাস। কদিন ওখানেই রাখবো। আর জিনিসটা এই যে....." বলে উনি একটা প্লাস্টিকের ব্যাগ থেকে একটা জুতোর বাক্সর মতো চ্যাপ্টা বাক্স বের করে খুললেন। একটা বহু প্রাচীন ক্ষয়ে যাওয়া হাতে লেখা পুঁথি, আর বেশ সুন্দর চুনী, পান্না, আরও কত রকম রত্ন খচিত বাতিদান। একটা চার ইঞ্চি স্ট্যান্ডের উপর বাতিদানটা বসানো । এর মধ্যে প্রদীপ বা মোম দিয়ে জ্বালাতে হবে। বহু পুরানো এ্যান্টিক জিনিস হলেও জৌলুস একটুও কমেনি।অয়ন হাতে নিয়ে ভাল করে লক্ষ্য করে বলল,-"এটার আর্থিক মূল্য কত আমরা জানিনা, সত্যি হিউয়েন সাং এর কিনা তাও জানি না।তবে ঐতিহাসিক মূল্য যে অনেক তা জানি। এখন কি করবেন ভাবছেন?"

-"আমাদের একটা অনুরোধ ছিল, আমরা দু জন এটা নিয়ে তাওয়াং যেতে সাহস পাচ্ছিনা। আপনি যদি মুল‍্যবান সময় নষ্ট করে একটু আমাদের সঙ্গে যান খুব ভাল হয়। সকালের ফ্লাইটে গৌহাটি। পবন-হংসের হেলিকপ্টারে দেড় ঘণ্টায় তাওয়াং। আপনি চাইলে পরদিন ফিরে আসবেন। আমরা বমডিলা আর তেজপুর ঘুরে দু চারদিন পরে ফিরবো।"

অয়ন ঘুরতে যেতে বরাবর ভালবাসে। জার্নালিষ্ট হওয়ার সুবাদে ওর প্রচুর ঘোরাও হয়। তাওয়াং গেছিল ২০১১ সালে, ওখানকার মুখ‍্যমন্ত্রী হেলিকপ্টার ভেঙ্গে পড়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন সে সময় খবরের সন্ধানে। তখনো দিঠির সাথে বিয়েটা হয় নি আর কাজের ফাঁকে ঘোরাও হয় নি সেবার। মুখ‍্যমন্ত্রীর মৃত‍্যুতে সারা পাহাড়ে ছিল শোকের ছোঁয়া।অফিসে যদি কি কারণে যাচ্ছে বলে অফিস থেকেই সব ব‍্যবস্থা হয়ে যাবে। এত বড় একটা খবর গোপনীয়তা বজায় রেখে করতে পারাই তো বিরাট ব্যাপার। কদিন আগেই তাওয়াং মনাষ্ট্রি থেকে ৯০০ বছরের পুরানো তেরতন "পেমা লিংপা"মূর্তি চুরি গেছিল। অবশ্য দিল্লি পুলিশের তৎপরতায় ডি.সি.পি (ক্রাইম) মধুর বর্মার জন্য সে মূর্তি সমেত ধরা পড়ে প্রধান লামা চিপার প্রাক্তন জামাই ও প্রেমিকা। তাওয়াং মনাষ্ট্রিকে নিয়ে এ মুহূর্তে খবর করলে তা হট কেক। তাই অয়ন একটু চিন্তা করে নিয়ে বলে,-" আমি একটু অফিসে কথা বলেই জানাচ্ছি।" ফোনটা নিয়ে উঠে যায় ভেতর ঘরে। দিঠি পুঁথিটা দেখছিল। ধরতে ভয় লাগে, ঝুরঝুরে প্রায়, কোনো গাছের ছাল মনে হয়। লেখা গুলো সেই সিকিমে যে 'হোলী ফ্ল্যাগ' দেখেছিল সারা পাহাড় জুড়ে সে রকম অনেকটা। বাতিদানটা সত্যি খুব সুন্দর।

একটু পরেই হাসি মুখে অয়ন এ ঘরে এসে বলে,-"সব ব‍্যবস্থা পাকা। আমরা দুজনেই যাচ্ছি।"

-"তাহলে এখনি আপনাদের টিকিট ........"

বরুয়া-দা কথা শেষ করার আগেই অয়ন বলে,-"আমাদের সব খরচ অফিসের । শুধু ফিরে এসে ঘটনাটা নিয়ে আমি একটা স্টোরি করবো, আপনাদের ফটো আর নাম থাকবে তাতে। আপনাদের থেকে এটুকু সহযোগিতা পাব নিশ্চই।"

-'' আপনারা দুজন যাবেন এতো ভাল কথা, কিন্তু ম‍্যাডামের খরচাটা তাহলে আমরা দিই।" বরুয়া-দা আবার বলে ওঠেন।(চলবে)


Rate this content
Log in