Sanghamitra Roychowdhury

Abstract


3  

Sanghamitra Roychowdhury

Abstract


গোপন কথাটি রবে না গোপনে

গোপন কথাটি রবে না গোপনে

13 mins 353 13 mins 353

শ্রাবণের মাঝামাঝি, বৃষ্টির দেখা নেই। রোদে ঝলসানো দুপুরের আকাশের দিকে চোখ রাখলো শ্রীলেখা। ও গাড়ীর ব্যাকসিটে ঘাড় এলিয়ে বসে, এসির ঠাণ্ডায়, তাও যেন রোদটা ঢুকে আসতে চাইছে জানালার কাঁচ ভেদ করে ওর মাখনরঙা উজ্জ্বল ত্বক পোড়াতে। ক্লায়েন্ট মিটিং সেরে লাঞ্চ শেষে শ্রীলেখা অফিসে ফিরছে। বড্ড অন্যমনস্ক আর ক্লান্ত, অবসন্ন যেন আজ। ড্রাইভারের চোখ এড়ায় নি, পার্কিং লটে ঢোকার আগে তাই ডেকে দিলো, "ম্যাডাম...."। ড্রাইভার সুজন গাড়ীর দরজা খুলে ধরলো, শ্রীলেখা নিজের হ্যাণ্ডব্যাগটা নিয়ে সোজা এগিয়ে গেলো লিফটের দিকে।

এগারোতলায় শ্রীলেখার অফিসের কেবিনের ভেতর থেকে দেওয়াল জোড়া জানালার স্মোকগ্লাসের বাইরের কোলকাতার কাঠফাটা দুপুর যেন খানিকটা ছায়া ছায়া। চুপচাপ থাকতে ইচ্ছে করছে খুব।শ্রীলেখা আজ আর কোনো অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেবে না ওর সেক্রেটারি মেয়েটিকে বলে দিয়েছে। কতকিছু যে চলছে শ্রীলেখার মনের আড়পাড় তা কেবল শ্রীলেখাই জানে। ও নিজে থেকে কাউকে সেসব না জানালে অন্য কারুর পক্ষেই তা জানা সম্ভব নয়। সেসব কত কথা!


শ্রীলেখা আজ আর সেকেণ্ড হাফে কোনো কাজেই মন বসাতে পারলো না। ভেতরটা ভারী আনচান করছে, শ্রীলেখা বেরিয়ে পড়লো অফিস থেকে, আজ একটু তাড়াতাড়ি বাড়ীতে ঢুকতে চাইছে। ওর শরীর মন দুইই আজ বড়ো বিশ্রাম চাইছে। গাড়ীর ব্যাকসিটে হেলান দিয়ে মাথা রেখে কানে ইয়ারফোন গুঁজে নিলো। পুরনো হিন্দি মেলোডিজ শুনতে শুনতে চোখ বুজলো শ্রীলেখা। ঘ্যাঁচ করে দাঁড়িয়ে পড়েছে গাড়ীটা। শ্রীলেখার চিন্তার ঘুড়ির সূতোয় হঠাৎ টান, চোখ গেলো বাইরের রাস্তায়। সন্ধ্যা ঘন হয়েছে, নিয়নের আলোয় রাস্তাঘাট দোকানপাট বিল্ডিং সব ঝলমল করছে। অফিস ফেরত ভিড় থমকে বাইপাসের ওপর। সামনে পেছনে নানান মাপের, নানান রঙের, নানান মেকের গাড়ীর থিকথিকে ভিড়। ট্র্যাফিক জ্যাম...... আবার হারিয়ে গেলো শ্রীলেখা মন-মস্তিষ্ক জুড়ে চলতে থাকা স্মৃতিদের মার্চ পাস্টে।


******


ফেয়ারওয়েলের পর মনটা ভার ছিলো। প্রিয় প্রেসিডেন্সির কম্পাউন্ড, ক্যান্টিন, মোটা মোটা বড়ো বড়ো লম্বা লম্বা থামওয়ালা পোর্টিকো, ডিরোজিও বিল্ডিং..... আর সেই অডিটোরিয়াম..... কত স্মৃতি, কত মূহুর্তরা বন্দী, চার প্রেসিডেন্সিয়ানের মনপ্রাণ জুড়ে। নস্টালজিয়ায় মুড়ে নিজেদেরকে, শ্রীলেখারা দিলখুশা কেবিনে খেয়ে দেয়ে, বেশ অনেকক্ষণ আড্ডা দিয়ে বেরোলো যখন, আকাশের মুখ তখন ভার। ঝরঝর বর্ষণের অপেক্ষা। বেশ ঠাণ্ডা একটা আমেজ। ওরা চারজন.... মানে শ্রীলেখা, জয়ন্তী, দীপ্তেশ আর অনামিকা হাঁটতে শুরু করলো। অনামিকা উত্তর কোলকাতা ছাড়িয়ে প্রায় শহরতলীতে থাকে। ও আর দেরী করতে চাইলো না, বাস পাল্টে যেতে হয় ওর বাড়ীতে, তাই কলেজ স্ট্রিট জাংশন থেকে অনামিকা শ্যামবাজারমুখী বাসে উঠে পড়লো হাত নেড়ে। জয়ন্তী পেয়িং গেস্ট থাকে, বিবেকানন্দ রোডের দিকে, সন্ধ্যের আগেই ঢুকে পড়তে হবে ঘরে, জয়ন্তীর ল্যাণ্ডলেডির কড়া ফরমান জারি করা আছে।


পড়ে রইলো দীপ্তেশ আর শ্রীলেখা। দীপ্তেশ কাছেই আমহার্স্ট স্ট্রীটের একটা মেসে থাকে। জয়ন্তী আর দীপ্তেশ দু'জনেই লালমাটির দেশের। কোলকাতায় ওদের পড়তেই আসা। শ্রীলেখাই একমাত্র এই কোলকাতা শহরের মেয়ে। শ্রীলেখার বাড়ী চারু মার্কেটে.... একেবারে দক্ষিণ কোলকাতায়, এক অভিজাত পাড়ায়। বাড়ীতে কেবলমাত্র মা আছে, অত্যাধুনিক মনস্ক.... অন্ততঃ শ্রীলেখার জবানিতে। শ্রীলেখার আহ্বানে মন্ত্রমুগ্ধের মতোই দীপ্তেশ উত্তর কোলকাতা থেকে উজিয়ে দক্ষিণমুখী হোলো, শুধু আরো কিছুক্ষণ শ্রীলেখার সঙ্গ পাওয়ার লোভে। সন্ধ্যা নামছে কোলকাতার বুকে, আর তার সঙ্গেই কোলকাতার বুকে নেমেছে অঝোর বৃষ্টি।


ট্যাক্সি ছুটছে শ্রীলেখা আর দীপ্তেশকে নিয়ে তখন থিয়েটার রোড ধরে। অফিস ফেরত জ্যামে আটকে শহর কোলকাতা। বছরের প্রথম বর্ষণ শ্লথ করেছে শহরের গতি। ওয়াইপার দুটো ট্যাক্সির উইণ্ডস্ক্রিন থেকে অক্লান্ত সরিয়ে চলেছে বৃষ্টির ধারা। ট্যাক্সির পেছনের সিটে তখন সদ্য একুশ পেরোনো দুই তরুণ তরুণী, আর তাদের উত্তপ্ত উপস্থিতি। ট্যাক্সিচালক যেন ভিনগ্রহী তখন। ট্যাক্সি গড়াচ্ছে, ধীরে ধীরে শ্রীলেখার বাড়ীর দূরত্ব কমছে, আর ট্যাক্সির পেছনের দুই আরোহীর হয়তো বাড়ছে বিচ্ছেদ বেদনা। পৌঁছে গেছে ওরা। নেমে পড়লো ওরা ভাড়া মিটিয়ে। ট্যাক্সি থেকে বড়ো রাস্তার ওপরে ওরা যেখানে নামলো তার বাঁদিকের চওড়া গলিতে তিন নম্বর বিল্ডিঙের তিনতলায় শ্রীলেখাদের ফ্ল্যাট। ওইটুকু পথ পেরোতে গিয়েই দু'জনেই কাকভেজা।


শ্রীলেখার বাড়ীতে দীপ্তেশকে ঢুকতেই হোলো, ভেজা জামাকাপড় চেঞ্জ করার জন্য আন্তরিক ডাকলো শ্রীলেখার মা। বৃষ্টি তখনও ধরে নি, অপেক্ষা করার আহ্বান ছিলো শ্রীলেখার চোখেও। বসে পড়লো দীপ্তেশ, সোফার ওপরে বাবু হয়ে, তখন ওর পরণে শ্রীলেখার বাবার পায়জামা পাঞ্জাবী, প্রায় একদশক পরে বেরিয়েছে ওয়ার্ডরোব থেকে ওগুলো। বাবা চলে যাবার পরে শ্রীলেখার মা যত্ন করে বাবার সব জামাকাপড় কাচিয়ে গুছিয়ে রেখে দিয়েছে এতো বছর ধরে। কখনো দরকার পড়ে নি এগুলো বার করার। হঠাৎ প্রয়োজনে কাজে লেগে গেলো। খুব জমে উঠেছে আড্ডা। বাইরে তখনও অঝোরে বৃষ্টি।


শ্রীলেখার মা রাতটা থেকে যেতে বললো দীপ্তেশকে। মেসে তো তার জন্য কেউ অপেক্ষায় খাবার বেড়ে বসে নেই, সুতরাং শ্রীলেখাদের বাড়ীতে দীপ্তেশের একটা রাত থেকে যাওয়ায় তেমন কোনো অসুবিধা নেই। গরম গরম খিচুড়ি, ডিমের অমলেট, আলু চিপস্ আর ইলিশ মাছ ভাজা দিয়ে নৈশ আহার সমাধা হোলো। তারপর আড্ডায়, গল্পে, গানে রাত প্রায় শেষ। শ্রীলেখা খুব খুশী মায়ের আন্তরিকতায়, এতো সহজভাবে দীপ্তেশকে মানিয়ে নেওয়ায়। শ্রীলেখা ভেবেছিলো দীপ্তেশ মফস্বল শহরের নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। শ্রীলেখার মা হয়তো এই সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সম্মতি শ্রীলেখাকে নাও দিতে পারে। শ্রীলেখার মা শ্রীলেখার আশঙ্কা ভুল প্রমাণিত করে দিলো।


এরপর থেকে দীপ্তেশ প্রায়ই আসতে লাগলো, চারু মার্কেটে শ্রীলেখাদের ফ্ল্যাটে, কারণে অকারণে। মা মেয়ের নিরিবিলি সংসার, শ্রীলেখা ভারী খুশী হয় দীপ্তেশ এলে। আর শ্রীলেখার খুশীতেই ওর মায়ের খুশী। কয়েকমাসের মধ্যেই দীপ্তেশ যেন শ্রীলেখাদের পরিবারেরই একজন হয়ে উঠেছে। নাম কা ওয়াস্তে দীপ্তেশের নামটা এখনও মেসের রেজিস্টারে বোর্ডার হিসেবে লেখা আছে। খাওয়াদাওয়া দীপ্তেশ বেশীরভাগ দিনই শ্রীলেখাদের বাড়ীতেই করে। রাতেও থেকে যায় কখনোসখনো। চলছে এভাবেই।


ইতিমধ্যেই ওদের রেজাল্ট আউট হয়েছে, শ্রীলেখা মাস্টার্সে ভর্তি হয়েছে ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটিতেই আর দীপ্তেশ একটা ট্যাক্স কনসালটেন্সি ফার্মে জয়েন করেছে। কিছুদিন কাজ করে কোম্পানি সেক্রেটারিশিপ কোর্স করার ইচ্ছে। শ্রীলেখার সাথে সম্পর্কটা আরো জমাট হয়েছে দীপ্তেশের। কিছুদিন পরেই দীপ্তেশ জয়েন করলো শ্রীলেখার মায়ের অফিসে, শ্রীলেখার মায়ের কথামতোই জব সাইট থেকে অ্যাড নোটিফিকেশন দেখে দীপ্তেশ অ্যাপ্লাই করেছিলো। সিনিয়র মোস্ট এক্সিকিউটিভ শ্রীলেখার মায়ের পারস্যুয়েশনে দীপ্তেশ বিনা বাধায় শ্রীলেখার মায়ের কোম্পানিতে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেয়ে যায়।


এর মধ্যেই শ্রীলেখা আর ওর মা একদিনের জন্য দীপ্তেশদের সাঁইথিয়ার বাড়ী থেকে ঘুরে এসেছে। খুব খুশী শ্রীলেখা। বিয়ে করে নিতে চায় মাস্টার্স শেষ হলেই। তবে দীপ্তেশ একটু সময় চাইলো, আরেকটু গুছিয়ে নিতে চাইলো কেরিয়ার। বিয়ে তো আর পালিয়ে যাচ্ছে না। মেস ছেড়ে দীপ্তেশ কিছুদিন হোলো কোম্পানির ফ্ল্যাটে শিফট করেছে। বেশ ভালো ফ্ল্যাট, নিউ গড়িয়াতে, কোম্পানির গাড়ীতেই আসা যাওয়া করে। মসৃণ চলছে সব কিছু। মাস্টার্স শেষে ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটিতেই শ্রীলেখা এমবিএ করছে। প্রায় শেষ পর্যায়ে, চাকরিও পেয়ে যাবে খুব শিগগিরই। ভালোই হোলো, দু'জনেরই কেরিয়ার গুছিয়ে নেওয়াই ভালো, বিয়ের পরে হয়তো সব সম্ভব হবে না। শ্রীলেখা ভাবলো, "ঠিকই আছে!"


ব্যস্ত জীবনে কাজের চাপ। শ্রীলেখার নতুন চাকরি, স্বভাবতই চাপ সামলাতে হিমসিম, একটু থিতু না হয়ে বিয়ে করা যাবে না। আর দীপ্তেশ তো একটু দেরীতেই বিয়ের পক্ষপাতী। শ্রীলেখাও এবার ডুবেছে কাজের ভিড়ে। অফিস, প্রেজেন্টেশন, ট্যুর, টার্গেট, প্রোমোশন, মিটিং, পার্টি এসবের চাপে বাড়ীতে যেটুকু সময় থাকে শ্রীলেখা, সেই সময়টাও ল্যাপটপে মুখ গুঁজেই থাকে। ক'দিন ধরে শ্রীলেখার মা কিছু বলতে চেষ্টা করছে মেয়েকে, কিন্তু মেয়ের ব্যস্ততার কারণে বলেই উঠতে পারছে না। যখনই মা কিছু বলবে বলে আমতা আমতা করে, তখনই শ্রীলেখা মা'কে থামিয়ে দেয়, "পরে, পরে মা, এখন একদম সময় নেই," বলে।


সেদিন ব্রেকফাস্ট টেবিলে মরিয়া হয়ে সবেমাত্র শ্রীলেখার মা উচ্চারণ করেছে, "বিয়ে....", আর টোস্টে কামড় বসিয়ে শ্রীলেখাও মায়ের দিকে তাকিয়েছে জিজ্ঞাসু দৃষ্টি মেলে, অমনি কর্কশ শব্দে বাজতে শুরু করেছে শ্রীলেখার মোবাইল ফোন। শ্রীলেখা হাতের টোস্ট প্লেটে নামিয়ে রেখে ফোন হাতে নিয়ে বললো, "প্লিজ, আর কিছুদিন ওয়েট করো মা, এই মূহুর্তে আমার একদম সময় নেই গো!" বলতে বলতেই উঠে গিয়ে ফোন রিসিভ করলো শ্রীলেখা। টুকরোটাকরা কথায় শ্রীলেখার মা বুঝলো শ্রীলেখাকে অফিস ট্যুরে যেতে হবে, এবং হয়তো দু'একদিনের মধ্যেই। শ্রীলেখা অফিসে বেরিয়ে যেতেই, শ্রীলেখার মাও তৈরী হয়ে বেরোলো, দরজা লক করার সময় দীপ্তেশের ফোন, শ্রীলেখা তার খানিকক্ষণ আগেই তো বেরিয়েছে।


শ্রীলেখার মা আজকাল তাড়াতাড়িই অফিস থেকে ফেরে, বয়স বাড়ছে তো, শরীরটা ভালো যাচ্ছে না। মেয়ের সাথে জরুরী আলোচনাও করতে পারছে না। এর মধ্যেই আবার শ্রীলেখাকে ছ'মাসের একটা ট্রেনিংয়ের জন্য কোম্পানি সিঙ্গাপুর পাঠাচ্ছে। মা বেশ ক্লান্ত, চোখমুখ শুকনো, মা'কে যে একবার ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবে তারও সময় বার করতে পারলো না শ্রীলেখা। পেন্ডিং কাজকর্ম গুছোতে না গুছোতেই ওর সিঙ্গাপুরে যাবার দিন এসে গেলো। আজকাল কাজের চাপে দীপ্তেশের সঙ্গেও দেখা হয় কম, দু'জনেই চূড়ান্ত ব্যস্ত। শ্রীলেখা নিশ্চিন্তে মায়ের দেখাশোনার দায়িত্ব দীপ্তেশের ওপরে ছেড়ে দিয়েই সিঙ্গাপুরে রওনা হোলো। এয়ারপোর্ট লাউঞ্জে ঢোকার সময় দীপ্তেশের হাতে চাপ দিয়ে শ্রীলেখা বললো, "এবার ফিরেই বিয়ে করাটা ফার্স্ট প্রায়োরিটি, বুঝলি?" ম্লান হাসলো দীপ্তেশ, শ্রীলেখার বিদায়লগ্নে।


ছ'মাস পেরিয়েছে....


এক শ্রাবণ সন্ধ্যায় শ্রীলেখা কোলকাতার মাটিতে ল্যাণ্ড করলো। নির্ধারিত সময়ের ঠিক আটচল্লিশ ঘন্টা আগে, সিঙ্গাপুরে কাজ মেটার পরে আর একদিনও বাড়তি থাকতে ইচ্ছে হয় নি। ফেরার আগের দু'দিন কিছু প্রোগ্রাম ছিলো ওখানে ঘোরা বেড়ানোর। টিকিটও সেভাবেই ছিলো, কিন্তু বাড়তি দামে টিকিট কেটে শ্রীলেখা ফিরছে। কারণ ট্রেনিং শেষে মায়ের সাথে কথা বলার সময় শ্রীলেখার মায়ের গলা শুনে মনে হয়েছে, মায়ের শরীর একদম ভালো নেই। শ্রীলেখা অর্গানাইজারদের এবং অফিসে বিস্তারিত জানিয়ে ফিরতি ফ্লাইটে চেপে বসেছে। খুব চিন্তা হচ্ছিলো মায়ের জন্য, সেই কোন ছোট্টবেলায় বাবাকে হারিয়েছে, তারপর থেকে মা'ই তো শ্রীলেখার সব। এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়ে ট্যাক্সি নিয়ে তড়িঘড়ি পৌঁছলো চারু মার্কেটে নিজেদের ফ্ল্যাটে। ওপরে উঠে দেখে দরজা লক করা। কোথায় গেছে? ও, শনিবার তো, ডাক্তারের কাছে হয়তো! ফোন করলো শ্রীলেখা মা'কে, ফোন সুইচড অফ।


স্বগতোক্তি করলো, শ্রীলেখা, "কী যে করে না!"

দীপ্তেশকেও কন্ট্যাক্ট করতে পারলো না শ্রীলেখা, বারবার নট রিচেবল্ আসছে। শ্রীলেখা শুনেছিলো কোলকাতা বৃষ্টির অভাবে শুকনো দড়কচা হয়ে আছে। কোথাও মেঘ আছে কী? দূরের ঐ কোণটাই বোধহয় ঈশাণকোণ, মেঘ জমেছে খানিকটা। বাকী আকাশ ঝকঝকে স্বচ্ছ পরিষ্কার। আজ আকাশের দিকে তাকিয়ে শ্রীলেখা দেখতে চাইলো তারাদের মাঝে কোথাও লুকিয়ে আছে কিনা বাবা। ফ্ল্যাটের নীচে দাঁড়িয়ে যখন কেয়ারটেকারের সাথে কথা বলছিলো শ্রীলেখা, মায়ের অপেক্ষায়, ঠিক তখন তিনতলায় শ্রীলেখাদের একদম মুখোমুখি ফ্ল্যাটের অঞ্জলিকাকিমা এসে একপাশে ডাকলো। জানতো শ্রীলেখার ফেরার কথা, খেয়াল রেখেছিলো হয়তো, শ্রীলেখাকে দেখেই বোধহয় ওপর থেকে নেমে এসেছে কোনো কথা বলতে।


কাকিমার কথা শুনে শ্রীলেখার পায়ের তলার মাটি দুলে উঠলো, বিধ্বংসী ভূমিকম্পের মতোই। ‍ ততক্ষণে আকাশেও ঘন মেঘ, তারারা ঢাকা পড়েছে। একফোঁটা দু'ফোঁটা করে শুরু হয়েছে বৃষ্টি।দীর্ঘ অপেক্ষার পর কোলকাতা পাচ্ছে শ্রাবণের প্রথম বৃষ্টি। তাকে যেন কোনো মতেই অবহেলা করা যায় না। অসহ্য শ্রাবণ, শুরু নাকি শেষ? সেই বৃষ্টির বুক চিরে যাওয়া ট্যাক্সির ভিতরে যে অবিরাম বৃষ্টি চলছে, সে বৃষ্টিকে যদিও অবহেলা করাই যায়। সে তো চিরকালেরই অবদমিত অনুভূতির অবহেলিত দুর্বার নিঃশেষ শ্রাবণধারা হয়ে ওঠা।


"দাঁড়ান, দাঁড়ান ভাই!" আর্ত গলায় বললো শ্রীলেখা। "এখানে? ম্যাডাম ছোট মুখে বড় কথা বলছি কিন্তু আপনার শরীরটা খারাপ মনে হচ্ছে আর এখনও বাইরে এতো বৃষ্টি..." অল্পবয়সী ট্যাক্সি ড্রাইভারের গলায় স্পষ্ট উদ্বেগ। তাও দাঁড়িয়ে পড়েছে নির্দিষ্ট জায়গায়। ট্যাক্সি থেকে নেমে ভাড়াটা মেটানোর জন্য হাত বাড়িয়ে টাকাটি এগিয়ে দেয় শ্রীলেখা। তারপর ফেরৎ না নিয়েই এগিয়ে যায় শ্রীলেখা ফুটপাতের দিকে। ট্যাক্সিওয়ালা হতভম্ব। শ্রীলেখা কোনোদিকে না তাকিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে ট্রলিব্যাগটা টানতে টানতে। কেমন মানুষ, দু'শো টাকার ভাড়ায় দু'হাজার টাকার নোট দিয়ে গেলো?



একে রাত, তায় বৃষ্টি, নো পার্কিং-এ হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়া ট্যাক্সি, পিছন থেকে অন্য গাড়ির হর্ণের অবিরাম আওয়াজে ট্যাক্সি নিয়ে এগোতেই হোলো ট্যাক্সিওয়ালাকে, অন্ততঃ দৌড়ে গিয়ে বাকী টাকাটা আর ফেরৎ দেওয়ার সুযোগটুকুও হয়ে উঠলো না। বাকী টাকাটার হয়তো আর কোনো প্রয়োজনও ছিল না ঐ অদ্ভুত যাত্রী মেয়েটির। তার গায়ের দামী পারফিউমের গন্ধ তখনও ছড়িয়ে ট্যাক্সির সর্বত্র। রীতিমতো ধোপদুরস্ত কোটপ্যান্ট পরা মেয়েটি বয়সে হয়তো তার মতোই হবে, ভাবলো ট্যাক্সি ড্রাইভার ছেলেটি। ততক্ষণে অঝোর বৃষ্টিরেখার অন্তরালে এক ঝাপসা অবয়ব নিয়ে মিলিয়ে যাচ্ছে মেয়েটি। নিজের অজান্তেই একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো ছেলেটির অসহায় বুক ছিঁড়ে। খুব কষ্ট হোলো, মনে মনে ভাবলো, নিজের বোন বা দিদি বা চেনা পরিচিত পাড়ার মেয়ে কিম্বা বন্ধু হলে কী ও ঠিক এভাবেই এই তুমুল বৃষ্টি মাথায় ঐ যাত্রী মেয়েটির মতো মাঝরাস্তায় নামিয়ে দিতে পারতো?



ফুটপাত ছেড়ে সেদিন যখন আউট্রাম ঘাটের দিকে শ্রীলেখা বাঁক নিচ্ছে তখনই পেছনে একটা ডাক, "ম্যাডাম....!" সেইদিন ঐ একটা ডাকই শ্রীলেখাকে জীবনে ফেরালো আবার। নয়তো পরদিন হয়তো শ্রীলেখা খবরের কাগজের কোণে একটা ছোট্ট খবর হয়ে যেতো, তার ব্যাগ থেকে পাওয়া পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট ইত্যাদির দৌলতে। হতাশাগ্রস্ত কর্পোরেট তরুণ প্রজন্মের আত্মহননকারীদের তালিকায় নতুন আরেকটি নাম সংযোজিত হোতো, "শ্রীলেখা সেন.... এমকম, এমবিএ, প্রখ্যাত এমএনসির সিনিয়র এক্সিকিউটিভ।"


তবে সেইদিন থেকে শ্রীলেখাকে আগলে রাখার এক নতুন সম্পর্কের সূচনা হোলো। সাতকুলে কেউ না থাকা তরুণ ট্যাক্সি ড্রাইভার সুজন ভদ্র..... অনাত্মীয় এবং অপরিচিত, ট্যাক্সিতে কিছু সময়ের জন্য সওয়ারি হওয়া এক মহিলা যাত্রী মাত্র, শ্রীলেখা সেনকে নিশ্চিত আত্মহত্যার মুখ থেকে ফেরালো নেহাতই মানবিকতার তাগিদে। নতুন সম্পর্ক সেই থেকে, ম্যাডামের আর বিশ্বস্ত ব্যক্তিগত ড্রাইভার সুজন ভাইয়ের, রক্তের সম্পর্কের অধিক। শ্রীলেখা সুজনের বিয়ে দিয়েছে, সুজনের বৌ অমিতাই শ্রীলেখার বাড়ীঘর সংসার সামলায়। ওরা দু'জনে না থাকলে শ্রীলেখা আবার একদম একা হয়ে যাবে। জানা নেই তার আর পরের কথা। আপাতত সুজন অমিতা চারহাতে আগলে রাখে তাদের ম্যাডামকে।


******


গাড়ী চলতে শুরু করেছে, ধীরগতিতে, সামনে পেছনে গাড়ীর রঙীন মেলা একইরকম, তবে চলমান। শ্রীলেখা ভাবলো, "সত্যিই তো, কিচ্ছু থেমে থাকে না, নিজের গতিতে সবকিছু চলে, কেবলই সামনের দিকে। পৃথিবীতে কোনোকিছুই নিত্য নয়, না বস্তু, না সম্পর্ক, না সময়। চাইলেই যেমন পেছনে ফেরা যায় না, তেমনই ফিরতে পারলেও সে ফেরাটা কি সুখকর হয় সবসময়?" জানে না শ্রীলেখা। ফোনটা গাড়ীর সিটে পড়ে ছিলো, হাতে তুলে নিয়ে ডায়াল করলো শ্রীলেখা, "হ্যালো, সুনির্মল... আই অ্যাম শ্রীলেখা হিয়ার....."! কথা চলছে, লুকিং গ্লাসে সুজন একবার দেখে নিলো পেছনের সিটে বসে ফোনে কথাবলা ম্যাডামের মুখে আলোছায়ার খেলা। মনে মনে ভাবলো সুজন, "আর চিন্তা নেই, ম্যাডাম এবার এগোতে পারবে জীবনে....!"


******


দিন তিনেক আগে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ শ্রীলেখা সেনের সাথে পারচেজ ম্যানেজার সুনির্মল ব্রহ্মর ম্যারেজ রেজিস্ট্রেশন হয়েছে। আজ তার জন্য রিসেপশন, উইকেন্ডে। ম্যারেজ রেজিস্ট্রারের সামনে সাক্ষী হিসেবে সই করা থেকে শুরু করে, আজকের রিসেপশনের সমস্ত আয়োজন শ্রীলেখা সেনের সুজন ভাই আর অমিতা করেছে। সুনির্মল একা মানুষ, তাই এমনকি সুনির্মলের দায়-দায়িত্বও সুজন ভাইকেই সামলাতে হয়েছে। এই মূহুর্তে জোরদার পার্টি চলছে। সব হাসিখুশি। নিমন্ত্রিত অভ্যাগতে ব্যাঙ্কোয়েট হল গমগম করছে। অতিথি আপ্যায়নে ব্যস্ত নবদম্পতি। হঠাৎই শ্রীলেখা একটু টাল খেয়ে গেলো, সামনেই এক আমন্ত্রিত অতিথি দম্পতিকে দেখে। শ্রীলেখা কেঁপে উঠলো ভেতরে ভেতরে।


এদেরকে কে ডেকেছে? কেন এরা এখানে?

ততক্ষণে সুনির্মল এগিয়ে এসেছে হাসিমুখে, আপ্যায়ন করে শ্রীলেখার দিকে নিয়ে আসছে। শ্রীলেখা একটা চেয়ারের ব্যাকরেস্ট ধরে স্ট্যাচুর মতো দাঁড়িয়ে আছে। ওর কান দিয়ে যেন গরম ধোঁয়া বেরোচ্ছে। সুনির্মল এগিয়ে এসে শ্রীলেখাকে বললো, "শ্রী, ক্ষমা করে দাও, যতই হোক, তোমার জন্মদাত্রী মা তো। মানুষের নিজের ভুলের জন্য যদি যথেষ্ট অনুতাপ থাকে, তবে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া মনুষ্যত্বের পরিচয়।" সুনির্মলের অর্ধেক কথাই শ্রীলেখার কানে ঢোকে নি। ক্ষমা মন থেকে করতে পারবে কিনা তাও জানে না। তবু এতোদিন পরে মা'কে দেখে প্রথমেই শ্রীলেখার মনে হোলো মায়ের শরীরটা যেন বড্ডই ভেঙে গেছে।



আর শুধু এইটুকু শ্রীলেখা মনেপ্রাণে অনুধাবন করেছে যে দীপ্তেশ কোনোমতেই শ্রীলেখার উপযুক্ত ছিলো না। শুধু শ্রীলেখা কেন কারুরই উপযুক্ত ছিলো না। যে ছেলে প্রেমিকার মায়ের সাথে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়তে পারে, সে কখনোই কারুর স্বামী হওয়ার বা একান্ত বিশ্বাসভাজন হওয়ার অধিকার অর্জন করতে পারে না। আর মা? কী করে পারলো? তবে শ্রীলেখার মা মেয়ের প্রেমিক দীপ্তেশের সাথে জড়িয়ে পড়ে আটচল্লিশ বছর বয়সে গর্ভবতী হয়ে সে ছেলেকে দায় এড়িয়ে পালিয়ে যেতে দেয় নি। রীতিমতো সংসার করছে, বাধ্য করেছে বিয়ে করতে, সে সময় শ্রীলেখা সিঙ্গাপুরে ট্রেনিঙে।


অঞ্জলিকাকিমার কাছে শ্রীলেখার মা লজ্জার মাথা খেয়ে সব খুলে বলে গিয়েছিলো, ফ্ল্যাটের চাবিটা রেখে। সব শুনেছিলো শ্রীলেখা সিঙ্গাপুর থেকে ফেরার দিনই, সন্ধ্যেবেলায়, অঞ্জলিকাকিমার মুখ থেকে। আর ঠিক সেদিনই শ্রীলেখাকে নিশ্চিত আত্মহত্যার হাত থেকে বাঁচিয়েছে সুজন ভদ্র, ট্যাক্সি ড্রাইভার।


তারপর গঙ্গা দিয়ে অনেক জল বয়ে গেছে। বিয়ের সিদ্ধান্তের আগেই শ্রীলেখা ওর মায়ের এই বিসদৃশ ঘটনার কথা সুনির্মলকে জানিয়ে দিয়েছিলো। যাই বলুক সুনির্মল, দীপ্তেশের কাজে শ্রীলেখা বড়োজোর ক্রুদ্ধ-ক্ষুব্ধ হতে পারে, তার থেকে বেশী কিছু নয়। কিন্তু মা? শ্রীলেখার মা এটা কী করলো? কক্ষণো মা'কে ক্ষমা করতে পারবে না শ্রীলেখা। বাবার স্মৃতি আঁকড়ে পড়ে থাকতে হবে আমৃত্যু, তেমন কথা তো শ্রীলেখা বলে নি কখনো! তাই বলে মেয়ের প্রেমিক? নিজের হাঁটুর বয়সী ছেলের সাথে শারীরিক সম্পর্ক? কখন ঘটালো এরা এসব, শ্রীলেখার পিঠপিছে? এদের এই কাণ্ডতে শ্রীলেখা মানুষের ওপর থেকে, সম্পর্কের ওপর থেকে সমস্ত আস্থা-বিশ্বাস হারিয়ে ফেললো। কিন্তু এতো কথা, নিজের অনুভূতির কথা, নিজের ঘৃণার কথা, এতোকিছু বিশদে ব্যাখ্যা শ্রীলেখা করতে পারেনি সুনির্মলের কাছে। কোথাও একটা সঙ্কোচ প্রবলভাবে আটকেছিলো শ্রীলেখাকে।


বাকী ঘটনার আগাপাশতলা সুনির্মল কিছুটা আন্দাজ করেছিলো সুজনের সাথে কথাবার্তা বলে, আর কিছুটা বুঝেছিলো শ্রীলেখার সাথে গল্পের ফাঁকে ফোঁকরে। সুনির্মলের মতে আগাগোড়াই যা হয়েছে ভালোই হয়েছে। আর তাই নিজের দায়িত্বে শ্রীলেখার মা ও দীপ্তেশকে তাদের ছ'বছরের বাচ্চাসমেত নিজেদের বিয়ের রিসেপশনে নিমন্ত্রণ জানিয়ে এসেছে। আর সুজনকে দায়িত্ব দিয়েছে কড়া নজর রাখতে, যে শ্রীলেখার মায়ের ব্যাপারটা যেন কর্পোরেট দুনিয়ার রসালো মুখরোচক খবরে পরিণত না হয়। সুজন খুব দায়িত্বশীল সব ব্যাপারে, সুতরাং চিন্তার কোনো কারণ নেই। এই খবর চার কান পেরিয়ে আর পাঁচ কানে পৌঁছতে পারবে না।


দীপ্তেশ ভিড় এবং শ্রীলেখার দৃষ্টি দুইই বাঁচিয়ে একধারে দাঁড়িয়ে ফোন নাড়াচাড়া করছে।

হকচকিয়ে চমকে তাকালো দীপ্তেশ। সুনির্মল একেবারে ওর কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করে বললো, "আপনি একেবারে ঠিক কাজ করেছেন মশাই, নাহলে আমার মতো অধম এক ভেতো বাঙালী কর্পোরেট চাকুরেকে সারাজীবন আইবুড়ো কার্তিক হয়ে থেকে যেতো হোতো। ভাগ্যিস আপনি শাশুড়ি মায়ের সাথে গাঁটছড়া বাঁধলেন, তাইতো আমি শ্রীলেখাকে পেলাম। সেই যেদিন শ্রীলেখা জয়েন করলো, সেদিন থেকেই তো আমি একেবারে ক্লিন বোল্ড হয়ে বসে রয়েছি। আপনি আমার বিরাট উপকার করেছেন মশাই। তা আপনাকে কী বলে ডাকা যায় বলুন তো?" সুরসিক সুনির্মলের এই শ্লেষ হজম করেই দীপ্তেশ ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইলো।


শ্রীলেখার মা দীপ্তেশ আর ছ'বছরের ছেলেকে নিয়ে ফিরে যাচ্ছে। বেশী সময় থেকে শ্রীলেখার মা আর শ্রীলেখার অস্বস্তি বাড়াতে চায় নি। শ্রীলেখার হাতে তুলে দিয়ে গেলো নিজের গয়নার বাক্সটা। ওরা কালই অস্ট্রেলিয়া চলে যাচ্ছে, বরাবরের জন্য। একবার তাই নিজমুখে শ্রীলেখার কাছে শ্রীলেখার মা ক্ষমা চেয়ে জানিয়ে গেলো, "এটাই খুব ভালো হয়েছে, বারবার আমি জানাতে চেয়েছি তোমাকে সিঙ্গাপুর যাবার আগে যে দীপ্তেশ তোমার উপযুক্ত কখনোই ছিলো না, কিন্তু বলা হয়ে ওঠে নি। সত্য কখনো গোপন করতে নেই, সত্য কখনোই গোপন করা যায়ও না।"


পিছন ফিরে আর একবারও তাকায় নি শ্রীলেখার মা। শ্রীলেখা ভাবছে তখন বাবার পরে প্রথম কোনো পুরুষ দীপ্তেশ, খুব নির্ভর করেছিলো দীপ্তেশের ওপরে। বিশ্বাসের মর্যাদা রাখতে পারে নি ও। আর তারপরে দু'জন পুরুষ এসেছে শ্রীলেখার জীবনে..... ভাই সুজন আর স্বামী সুনির্মল, জেনেছে শ্রীলেখা বিশ্বাস, ভরসা কথাগুলিকে নতুন আঙ্গিকে। ওরাই শ্রীলেখার প্রাণবায়ু এখন।


Rate this content
Log in