Sanchari Bhattacharya

Horror Fantasy Thriller


3.4  

Sanchari Bhattacharya

Horror Fantasy Thriller


ধানসিঁড়ির ঘাট

ধানসিঁড়ির ঘাট

14 mins 379 14 mins 379


||প্রথম পর্ব||


" সন্তোষ তোমাকে একবার দেউলটি যেতে হবে, যদিও জায়গাটা স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো নয়,কারণ তোমায় প্রত্যন্ত গ্রামে যেতে হবে, তবুও তোমার সেখানে যাওয়াটা খুব জরুরী, বহু মানুষ বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে, একমাত্র তুমিই পারো তাদেরকে এই সমস্যা থেকে উদ্ধার করতে"|


 সন্তোষ রাজি হয়ে যায়|এখন দেউলটি যাবার পালা| সদ্য ডাক্তারী পাশ করেছে সে| তাই সিনিয়র এর কথা অমান্য করার সাধ্যি তার নেই|


" আচ্ছা বেশ স্যার, আমি দেউলটি যাব"|


 কলকাতা থেকে ট্রেন ধরে দেউলটি পৌঁছতে হবে|যদিও রাস্তাটা খুব বেশী নয়,তবুও তার জন্য সমস্ত রকমের প্রস্তুতি নিয়ে নিয়েছে সন্তোষ, কখন কোনটা দরকার পড়ে? 


 ট্রেন ছেড়ে দিল|দেউলটি পৌঁছতে পৌঁছতে সন্ধ্যে হয়ে যাবে|তারপর কিছুটা পায়ে হাঁটা পথ|এরপর নদীপথে ওপারে যেতে হবে|এমনটাই সন্তোষ কে জানানো হয়েছে| দেউলটি পৌঁছতে পৌঁছতে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেল|এমনিতে জায়গাটা শহরের মতই কিন্তু কলকাতা শহরের মতো এতটা আধুনিক নয়|


 পায়ে হেঁটে এতটা রাস্তা যাওয়া সন্তোষের পক্ষে সম্ভব হলো না, তাই সে ঠিক করল একটা রিক্সা অথবা ভ্যান নিয়ে নেবে, ভ্যান পাওয়া না যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত বেশ কিছুটা দূর হেঁটে গিয়ে একটি রিক্সা স্ট্যান্ড দেখতে পেল| সন্ধ্যে হয়ে যাওয়ায় রিক্সা দেখতে পাওয়া গেল না, হঠাৎ পিছনের দিক থেকে একজন হাঁক দিল সন্তোষকে, 


" দাদা আপনি কি কাউকে খুঁজছেন? এখানে কি নতুন এসেছেন? কারুর বাড়িতে যাবেন?"


" হ্যাঁ, আসলে আমি পেশায় একজন ডাক্তার, এদিকে এসেছি চিকিৎসার জন্য, ঠিকানাটা আমার ঠিক জানা নেই, তবে এটুকু জানি যে নদী পেরিয়ে ওপারে যেতে হবে, "|


" ও আচ্ছা আচ্ছা বুঝতে পেরেছি|নদীর ঘাটে নিয়ে যেতে হবে আপনাকে|আসুন আমার রিক্সায় উঠে পড়ুন|আসলে এই অঞ্চলটাতে রাত্তিরের দিকে রিক্সা ভ্যান কিছুই পাওয়া যায় না| যে যার নিজের বাড়িতে চলে যায় সন্ধ্যে সাতটার পরেই| আমিও আমার বাড়ির দিকেই ফিরছিলাম|হঠাৎ আপনার সাথে দেখা হয়ে গেল|আমার বাড়ি ওই পথেই, চলুন যাবার পথে আমি আপনাকে নদীর ঘাটে নামিয়ে দিয়ে যাব, উঠে পড়ুন"|


 সন্তোষ উঠে পড়ল, রিক্সা চলতে লাগলো|

 সারাদিন ট্রেনে আসতে আসতে বেশ ভালই ধকল সহ্য করতে হয়েছে সন্তোষকে|এবারে কোন রকমে নদীপথে ওপারে পৌঁছে বিশ্রাম নিতে হবে| শরীর না হলে আর দিচ্ছে না|


 এমন সময় রিক্সাচালক টি তাকে জিজ্ঞাসা করল " আচ্ছা দাদা, ওপারে কি আপনি সেই দুস্থ লোকেদের চিকিৎসা করবার জন্য এসেছেন, যারা অনেকেই মড়ক লেগে মারা যাচ্ছে? কিসের থেকে মড়কটা লেগেছে সেই রোগের কারণটাই এখনো কেউ ধরতে পারেনি| আপনি একটু সাবধানে থাকবেন, বড্ড বিপদসঙ্কুল জায়গা"|


" না না সেসব ঠিক আছে, আমি আমার সাথে সমস্ত রকমের ওষুধপত্র নিয়ে এসেছি|তুমি এত ভেবনা|তেমন কোনো বিপদ হবার সম্ভাবনা নেই"|


 তখন রিক্সাওয়ালা রিক্সাটি থামিয়ে হঠাৎ করে সন্তোষের দিকে তাকালো, " ভয়ের কারণ শুধু একটাই যে তা নয়"!


" তার মানে তুমি কি বলতে চাইছো? একাধিক বিপদের সম্ভাবনা রয়েছে বুঝি?"


" আসলে ব্যাপারটা হল এই যে, আমাদের এই অঞ্চলে হঠাৎ এক পিশাচের উপদ্রব শুরু হয়েছে|সবাই বলে নাকি সন্ধ্যার পরে সে এই গ্রামের আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়ায়|যাকেই হাতের কাছে পায়, তাকেই শেষ করে ফেলে|এই কারণে সন্ধ্যের পর গ্রামের রাস্তায় কাউকে দেখতে পাওয়া যায় না| আমার আজকে একটু বেশি দেরি হয়ে গেছে তাই তাড়াতাড়ি পা চালিয়ে বাড়ির দিকে যাচ্ছি| কিন্তু আপনাকে এরকম অসহায় অবস্থায় ফেলে যেতে মন চায়নি তাই নদীর ঘাট অবদি আপনাকে পৌঁছে দিয়ে গেলাম"|


" তোমরা আধুনিক যুগের মানুষ হয়ে, এখনো এসব কথায় বিশ্বাস করো কি করে? আমি একজন ডাক্তার, আমি বৈজ্ঞানিক যুক্তিতে বিশ্বাস করি, আমার কাছে এসব বিষয়ের কোন অস্তিত্ব নেই| এগুলো শুধুই মানুষের মনের বিকার এবং কুসংস্কারের দ্বারা তৈরি করা ভয় মাত্র| তুমি কি কোনদিন পিশাচকে নিজের চোখে দেখেছো"? 


" সে কথা আমি কল্পনাতেও আনি না, কারণ তাকে একবার কেউ দেখে ফেললে, সে আর তাকে ছাড়ে না"|


 নদীর ঘাটে পৌঁছে গেল তারা| ঘাটে কোন নৌকাও নেই| এমন অবস্থায় ওপারে যাওয়ার কাজ আরো কঠিন হয়ে গেল |


 রিকশাওয়ালা টি বলল, "দেখেছেন বাবু, এই ঘাটে ও কেউ নেই|সব জায়গা কেমন ফাঁকা হয়ে গেছে|এখনো সময় আছে আমি আপনাকে বলছি আপনি বাড়ি ফিরে যান|আপনার ওদিকে না যাওয়াই ভালো"|


" সেসব এখন আর ভেবে কাজ নেই| যা কপালে আছে হবে|আমাকে নিজের চাকরি বাঁচাতে হবে|আমি কলকাতা ফিরে গেলে আমার চাকরি নিয়ে টানাটানি হবে"|


"ঐ যে একজন আসছে নৌকা নিয়ে| মনে হয় এদিকেই আসছে|"


" ও মাঝি, দাঁড়াও দাঁড়াও, আমার একটু দরকার আছে, আমাকে ওপারে নিয়ে যাবে?"


 মাঝি টি থমকে দাঁড়ালো নৌকাটি নিয়ে|

 

" না বাবু, আমি এই ঘাটে নৌকা বেঁধে এবার বাড়ি যাবো|অনেক রাত হয়ে গেছে, আর তাছাড়া ঐদিকে অনেক ভয়ের কারণ আছে| এরপর ওই পথে আর কেউ যায় না|আপনি বরং অন্য কাউকে খুঁজে নিন |সেটাই ভালো হবে|"


" আমি তোমাকে অনেক টাকা দেব, আমাকে একটিবার ওপারে নিয়ে চলো"|


" টাকার মোহ নেই বাবু, প্রাণের মোহটা বেশী| আপনাকে আমি নিয়ে গেলে হয়তো আর বেঁচে ফিরতে পারবো না"|


" এরকম বলার কারণ কি? বললাম তো আমি তোমাকে অনেক টাকা দেব| তাছাড়া আমিতো রইলামই তোমার সাথে| তাহলে তোমার ভয়ের কি?"


" আপনি শহুরে মানুষ, আপনার হয়তো এসব বিষয়ের উপর বিশ্বাস নেই|কিন্তু আমরা গ্রাম বাংলার মানুষ, আমরা আজও এসব বিষয়ে যথেষ্ট বিশ্বাস রাখি| না না, মাফ করবেন, আমি এত রাতে আপনাকে ঐপারে কিছুতেই নিয়ে যেতে পারবো না|আপনি বরং অন্য কোনো উপায় খুঁজে নিন"|



 সন্তোষ, চাকরি যাওয়ার ভয় পেয়ে কাঁদতে শুরু করল| সন্তোষের ওই বিমর্ষ মুখখানি দেখে মাঝির হঠাৎ দয়া জন্মালো| সে হঠাৎ বলে উঠল, " আচ্ছা আসুন বাবু, কিন্তু এটুকু জেনে রাখুন কোন বড়সড় বিপদ হলে কিন্তু আমাকে দোষ দিতে পারবেন না|আমি এক প্রকার নিজের প্রাণের মায়া ত্যাগ করেই আপনাকে নিয়ে যাচ্ছি"|


 মাঝির কাছ থেকে এই কথাগুলো শুনে, সন্তোষের মনে একটু বল এল, সন্তোষ ঠিক করল, আজকে যাইই ঘটে যাক না কেন, ওপারে তাকে পৌঁছতেই হবে| সে মাঝিকে জোর গলায় বলল, " তোমার কোনো চিন্তা নেই মাঝি ভাই|আমি তোমার সঙ্গে আছি|কোন বিপদ হলে একসাথে দুজন মোকাবিলা করব"|


 ওর কথাটা শুনে যদিও মাঝি অবাক হলো, তবুও বলল, " একা একা যাবার থেকে কাউকে সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়া অনেক ভালো| এতে হয়ত বিপদের আশঙ্কা অনেকটাই কমবে, কারণ শুনেছি সে নাকি একা মানুষ পেলে তার উপরেই অত্যাচার চালায়|আমাদের দুজনকে দেখলে হয়তো এগোতে পারবে না"|


 মাঝির কথাগুলি সন্তোষের কাছে এক প্রকার অবান্তর ও অযৌক্তিক বলে মনে হচ্ছিল|তবুও সে কিছু না বলে একটু হাসল|




||দ্বিতীয় পর্ব||


 সন্ধ্যে পেরিয়ে রাত হয়ে গেছে|হারান মাঝি যত তাড়াতাড়ি পারে নৌকাটা কে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে| এমন সময় হঠাৎ মেঘ গর্জে উঠল আকাশে| নদীতে জোয়ার থাকায় নৌকা চালাতে খুবই কষ্ট হচ্ছিল|তাই হারান বলল, 


" দেখেছেন তো বাবু, কেন আপনাকে বারণ করছিলাম এ পথে আসতে, এ সবই হল ঐ পিশাচের কাজ, সে সব করতে পারে"|


" তুমি শুধু শুধু ভয় পাচ্ছ হারান| প্রাকৃতিক দুর্যোগের থেকেই এমনটা হচ্ছে| তুমি সাবধানে নৌকাটা চালাও"|


 কিছুক্ষণের মধ্যেই, ঝড়ের সাথে শুরু হল প্রবল বৃষ্টি|এত জোরে বৃষ্টি পড়ছে খালি চোখে কিছুই দেখা যাচ্ছে না| অন্ধকারের মধ্যে দূরে কি রয়েছে তাও ঠাহর করা যাচ্ছে না| এমন অবস্থায় দাঁড় বেয়ে নৌকা বয়ে নিয়ে যাওয়া মৃত্যুসম | জলে জোয়ার থাকায়, নৌকাটি দুলতে শুরু করল| একটুও অমনোযোগিতা দেখালেই প্রায় জলে ডুবে মরতে হবে| হারান মাঝির মাথায় হাত পড়ল|সন্তোষ দেখল হারান শুধু ঠাকুরের নাম জপ করছে আর কোনো রকমে দাঁড়টা বয়ে নিয়ে চলেছে|


 হঠাৎ একটা ঘাটে এসে নৌকা গেল আটকে|জলের তোড়ে হাজার চেষ্টা করেও নৌকাকে সামনের দিকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হলো না| হারান মাঝি ক্লান্ত হয়ে পড়ল|তবুও কোন উপায় বার করতে পারলো না| বৃষ্টির বেগ টা সেই সময় একটু কমেছে |ঝড়ের দাপটটাও প্রায় অনেকটাই কেটেছে|এখন খালি চোখে চারিদিকটা বেশ পরিষ্কার দেখতে পাওয়া যাচ্ছে| সন্তোষ ঘাটে নেমে নৌকাটিকে হাত দিয়ে ঠেলে জলের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করল| কিন্তু শেষ পর্যন্ত পেরে উঠল না| অন্যদিকে হারান মাঝি ভয়ে কাঁপছে|সন্তোষ সেটা দেখে বড্ড অবাক হলো|


" ও হারান মাঝি, কি হয়েছে বলত, তুমি এমনভাবে ভয় কাঁপছো কেন? তোমার চিন্তা কি? আমরা তো একটা ঘাটে এসে ভিড়েছি| এসো নৌকাটাকে এখানে বেঁধে আমরা বরং একটু ঐদিকে যাই|কাউকে জিজ্ঞাসা করি এখান থেকে মুকুন্দনগর যেতে কতক্ষণ সময় লাগবে? যদি আশেপাশে রাতে থাকার কোন ব্যবস্থা হয়ে যায় তাহলে তুমি আর আমি এখানেই রাতটা কোনো রকমে কাটিয়ে দেব| তারপর সকাল হলে আমরা আবার নৌকা নিয়ে বেরিয়ে পড়বো মুকুন্দনগর এর উদ্দেশ্যে|এত রাতে আর নৌকা চড়ে না যাওয়াই ভালো, কি বলো হারান মাঝি? "


 সন্তোষ লক্ষ্য করল হারান ঠক ঠক করে কাঁপছে|কোনরকমে ঘাটে উঠে সে সন্তোষ কে উদ্দেশ্য করে বলল, " দাদাবাবু সর্বনাশ হয়ে গেছে|আমরা ভয়ঙ্কর বিপদের মধ্যে পড়েছি| আপনি হয়তো জানেন না এই জায়গাটির নাম ধানসিঁড়ির ঘাট|আর এর পাশেই রয়েছে ধানসিঁড়ির সেই কুখ্যাত শ্মশান| পিশাচের আঁতুড়ঘর| সবাই বলে এখানেই নাকি সে থাকে| আমরা এখানে কোন বাসস্থান পাওয়া তো দূরের কথা খাওয়ার জল টাও হয়তো পাবো না| তাড়াতাড়ি চলুন আমাদের এখান থেকে পালাতেই হবে"|


" কোথায় পালাবো? এত রাতে, বললেই হলো নাকি? "


" পালাতে তো আমাদের হবেই বাবু| না হলে কেউ প্রাণে বাঁচবো না| ঐ যে, ঐ যে কারুর পায়ের আওয়াজ শুনতে পাচ্ছেন আপনি? আপনি থাকলে এখানে থাকুন বাবা, আমি চললাম আর এখানে এক মুহূর্ত নয়, ভূততততত "- এই কথাটি বলেই হারান রুদ্ধশ্বাসে দৌড় লাগালো|সন্তোষ অনেকবার তাকে পিছন থেকে ডাকার চেষ্টা করলো, কিন্তু হারানের কোন কথা কানেই গেল না| সে দৌড়ে এক নিমেষে অন্ধকারের মধ্যে গায়েব হয়ে গেল"|


 সন্তোষ পড়ল মহাবিপাকে| এই অচেনা জায়গায় এখন সে একা| কোন বিপদ হলে বাঁচাবার কেউ নেই| তবুও বুকে সাহস এনে সে শ্মশান ঘাটের দিকে চলতে থাকলো| সন্তোষের মনে হল, শ্মশানে ডোমরা অন্তত থাকবে| তাদের কুটিয়াতেই কোনরকমে রাতটা কাটিয়ে দিতে হবে তাকে |




||তৃতীয় পর্ব||


 কিছুদুর যেতেই, সন্তোষ বড্ড অবাক হল|

 চারিদিকে কোথাও শ্মশানের লেশমাত্র নেই| বন জঙ্গলে ভরা একটি জায়গা| আরো কিছুটা এগোতে একটি কুটির চোখে পড়ল| এই ঘন জঙ্গলের মধ্যে, যেখানে কোন মানুষই বলতে গেলে থাকে না, সেখানে এরকম একটা কুটির কোথা থেকে আসলো? সন্তোষের ভয়টা হঠাৎ বেড়ে গেল| তবুও কুটিরের সামনে গিয়ে দাঁড়াল সে|ভাবলো একবার কুটিরের দরজাটায় ধাক্কা দেবে| যদি ভিতরে কেউ থাকে! কুটিরের কাছে যেতেই সন্তোষের বুকটা কেমন ছ্যাঁত করে উঠলো| তবুও কোনোরকমে বুকে বল নিয়ে সে দরজায় ঠকঠক করতে যাবে এমন সময় লক্ষ্য করল ঘরের ভেতর থেকে এমনিতেই কেউ একজন বেরিয়ে এলো|


" আপনি কে? আপনাকে তো কোনদিন এই গ্রামে দেখিনি? "


 লোকটির পরনে ধুতি আর ঢলঢলে একটি ফতুয়া|যদিও সেগুলি সবই ময়লা| নিজের প্রতি বিন্দুমাত্র যত্নশীল নয় লোকটি তা দেখেই বোঝা যায়| লোকটি একদৃষ্টে সন্তোষের দিকে তাকিয়ে আছে| সন্তোষের সেই বিষয়টা চোখে পড়লেও কোনরকমে সাহস সঞ্চয় করে সে বলল, 


" হ্যাঁ, আপনি ঠিকই ধরেছেন আমি এই গ্রামে নতুন এসেছি| আসলে পেশায় আমি একজন ডাক্তার|মুকুন্দনগর এ যাবার উদ্দেশ্যে নদী পথে পাড়ি দিয়েছিলাম, কিন্তু হঠাৎ ঝড় বৃষ্টির জন্য নৌকাটিকে রাস্তায় থামিয়ে দিতে হলো| এত রাতের অন্ধকারে মাঝি আর মুকুন্দনগর যেতে সাহস করলো না|ধানসিঁড়ির ঘাটে এসে নৌকাটি গেল আটকে| তাই অগত্যা নৌকাটিকে ঘাটে বেঁধে আমি এদিক ওদিক একটু ঘুরছিলাম আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে| কিছুটা দূর আসতেই আপনার কুটিরটি নজরে পড়ল| তাই ভাবলাম একবার এদিকটায় এসে একটু খোঁজ করে দেখি"|


" আপনার সাথে সেই মাঝিটি কোথায়?"

" না মানে আসলে"!

" আসলে কি? আমাকে বিশ্বাস করে বলতে পারেন" |

" আসলে মাঝি বলছিল, এদিকটা নাকি ধানসিঁড়ির শ্মশানঘাট, আরো একটা অবান্তর কথা বলছিল সে"!

" আর কি বলছিল সে?"

" না থাক ছাড়ুন না, এমন কিছু নয়"!

" পিশাচের কথা বলছিলো কি? "

" আপনি কি করে জানলেন? "

" আমি জানিনা, আসলে আন্দাজ করে বলছি আপনাকে|সকলের মনের মধ্যেই একটা ভয় রয়েছে তো|গ্রামের মধ্যে নাকি পিশাচ বেরোয় রাতের অন্ধকারে| সেই ভয়তেই রাত নামার পরে আর কেউ রাস্তায় বেরোতে চায় না| এই দেখুন না আমিও কুটিরের দরজা বন্ধ করেই বসে আছি| আপনার পায়ের আওয়াজ পেয়ে হঠাৎ দরজাটা খুলে দেখলাম"|

" কেন আপনার ভয় করল না? আমার বদলে যদি পিশাচ আসতো? "

" আসলে গ্রামের সকলে বলে, পিশাচ নাকি নিঃশব্দে আসে| তার পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় না| আপনি যখন আসছিলেন তখন আপনার পায়ের আওয়াজ আসছিল| তাই সেই ভয়টা মনের মধ্যে আসেনি| যাক বাইরেই দাঁড়িয়ে থাকবেন নাকি ভিতরেও আসবেন?"

" হ্যাঁ হ্যাঁ, চলুন ভিতরে গিয়ে বসি, আমিও খুব ক্লান্ত হয়ে পড়েছি|সেই ট্রেন থেকে নামার পর হেঁটেই চলেছি|তারপর কোন রকমে একটা রিক্সা করে নদীর ঘাটে পৌঁছে একটি নৌকা পাই|নৌকার মাঝি কে অনেক কষ্টে রাজি করিয়ে যাও বা মুকুন্দনগর যাওয়ার ব্যবস্থা করেছিলাম তাও সফল হলো না|পথের মধ্যে প্রবল ঝড় বৃষ্টিতে অর্ধেক পথ এসেই মাঝি গেলো পালিয়ে, আর আমি পড়ে রইলাম একা"|

" বুঝলাম, কিন্তু আপনার ভয়ের কোন কারণ নেই, আপনি এখন আমার কুটিরে রয়েছেন, এই কুটির সুরক্ষিত"|

" আপনি কি কিছু খাবেন?"

" না না আপনাকে ব্যস্ত হতে হবে না, আমি সঙ্গে করে খাবার নিয়ে এসেছি, একটু বিশ্রাম নিয়ে আমি খেয়ে নেব"|

" আচ্ছা বেশ বেশ"|


" আচ্ছা আপনি কি এখানে একাই থাকেন? এরকম একটা নির্জন জায়গায়? আপনার ভয় করে না? পিশাচের আতঙ্কে তো গোটা গ্রামই প্রায় আতঙ্কিত দেখলাম, আপনার প্রাণের ভয় নেই?"


" প্রাণের ভয় নেই বললে ভুল হবে, কিন্তু রাতের পরে আমি আর কুটিরের বাইরে তেমন বেরোই না|সেই কারণে পিশাচের দ্বারা আক্রান্ত হবার সম্ভাবনাও একটু কম"|


" আচ্ছা আপনার ঘরের মধ্যে তো তেমন কিছুই নেই, একটা খাট, একটা টেবিল আর চেয়ার, খাবার-দাবারের ও কোন ব্যবস্থা নেই|রান্নাবান্না করবার ও কোন জায়গা দেখতে পাচ্ছি না| তাহলে আপনি এখানে থাকেন কিভাবে?"


" আসলে আমি দিন আনি দিন খাই| যখন পকেট এ যেমন পয়সা থাকে তেমনভাবেই খাওয়া-দাওয়া করতে হয়| বাজার দোকান সেই বুঝেই করি| কখনো কখনো আধপেটা খেয়েই থাকতে হয়|আবার কখনো বা খাবারই জোটে না"|


 লোকটার কথাগুলো শুনে সন্তোষের খুব খারাপ লাগলো| সন্তোষ ভাবল লোকটির কত কষ্ট? এরকম একটা নির্জন জায়গায় একা একা থাকে সে|অথচ খাওয়া-দাওয়াও ঠিক মতো করতে পারে না|



" আচ্ছা এই পিশাচের ব্যাপারটা কি বলুন তো? সবাই দেখলাম ভয়েতে একেবারে তটস্থ হয়েছিল"|


" আপনি শুনবেন তার কথা?"

 সন্তোষ লক্ষ্য করল, লোকটির চোখে মুখে এক অদ্ভুত আনন্দ, যেন সে নিজের পরিচিত কারুর কথা শুনেছে|

 " হ্যাঁ আমার শুনতে কোন আপত্তি নেই, আমার একটু জানতে ইচ্ছাও করছে বৈকি!"

 " বেশ তবে শুনুন"|


           


||চতুর্থ পর্ব||


 অনেকদিন আগে এই গ্রামে কিরীটি চরণ নামে এক তান্ত্রিক থাকতেন| তিনি তন্ত্র সাধনায় বেশ পারদর্শী ও ছিলেন| ভূত-প্রেতের আড্ডা স্থল ছিল তার বাসভূমি| ওখানে বসেই তিনি তার তন্ত্রসাধনার কাজ করতেন| এমনটা শোনা যায়, তিনি সকলকে তন্ত্রবিদ্যার জ্ঞান শেখাতেন না| খুব কম সংখ্যক মানুষই তার সান্নিধ্যে এসে তন্ত্র সাধনার সম্পূর্ণ জ্ঞান অর্জন করতে পারত| দিলীপ নামে একটি ছেলে ঠিক করল সে এই কিরীটি চরণের কাছ থেকে তন্ত্র-সাধনা শিখবে| সে তন্ত্র সাধনা শেখার জন্য প্রায়ই কিরীটিচরণের কাছে যেতে লাগল|কিন্তু কিরীটি চরণ তাকে তন্ত্র বিদ্যা শেখাতে রাজি হলেন না| দিলীপ ছেলেটি ছিল খুব জেদী|সে একবার কোনকিছু শিখবে এমন মনস্থির করে ফেললে সে সেটি শিখেই ছাড়তো| আর তন্ত্র সাধনা শিখতে পারাটাই ছিল তার জীবনের মূল উদ্দেশ্য|


 একদিন যখন কিরীটি চরণ মরার উপর বসে শব সাধনা করছিলেন, সেই সময় দিলীপ লুকিয়ে সেই ব্যাপারটি দেখতে থাকে| হঠাৎ দিলীপ দেখতে পায় কিরীটি চরণ এক পিশাচকে আহ্বান করে শব দেহের মধ্যে প্রবেশ করালেন তারপর মৃতদেহটি হঠাৎ তার সামনে উঠে দাঁড়ালো|এরপর কিরীটি চরণ তাকে নির্দেশ দিলেন কিছু কাজ করবার জন্য| দেহটি চলে গেলে কিরীটি চরণ আবার চোখ বন্ধ করে ধ্যান এ বসলেন| কিছুক্ষণ পরে দিলীপ লক্ষ্য করলো মৃতদেহটি আবার ফিরে এসে সস্থানে শুয়ে পড়ল| সমগ্র বিষয়টাই মন্ত্র বলের দ্বারা করলেন কিরীটি চরণ| কিন্তু তিনি কি মন্ত্র উচ্চারণ করলেন সেটি শোনা দিলীপের পক্ষে আর সম্ভব হলো না| 

 

দিলীপের পায়ের শব্দ শুনতে পেয়ে কিরীটি চরণের ধ্যান ভঙ্গ হয়ে গেল|কিরীটি চরণের অনুমতি ব্যতীত তার যজ্ঞস্থলে সকলের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল| সেখানে দিলীপ এরকমভাবে লুকিয়ে লুকিয়ে তার তন্ত্র বিদ্যা দেখছে এটি দেখে কিরীটি চরণ প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে গেলেন| সেদিন তিনি দিলীপ কে অভিশাপ দিতে পারতেন, কিন্তু ক্ষমা করে দিলেন| দিলীপ প্রাণ বাঁচিয়ে কোনরকমে ফিরে গেল| কিরীটি চরণের দিলীপ কে ছেড়ে দেবার পেছনে একটি বিরাট কারণ ছিল| কিরীটি চরণ জানতেন, দিলীপ পিশাচ কে দেহের মধ্যে প্রবেশ করানোর মন্ত্র জানলেও, পিশাচ কে দেহ থেকে মুক্ত করার মন্ত্র টি জানতে পারেনি| এটি অধরাই থেকে গেছে| ফলে দিলীপের শিক্ষা সম্পূর্ণ হয়নি, তাই সে কোনদিনই তন্ত্র বিদ্যা শিখে উঠতে পারবে না|


 দিলীপ হার মানল না|সে যতটুকু শিখেছে সেই দিয়েই সে মহান তান্ত্রিক হয়ে উঠতে পারে এমনটাই ছিল তার ধারণা| একদিন সে তন্ত্র সাধনা করবে মনে করে ধান সিঁড়ির শ্মশানঘাটে উপস্থিত হল| ধানসিড়িঁর শ্মশান ঘাটে বসে সাধনায় মন দিলো দিলীপ| সে পিশাচকে ডাকার মন্ত্র পড়তে শুরু করল| একনাগাড়ে মন্ত্রটি এক হাজার বার পাঠ করবার পরে সে পিশাচের দেখা পেলো|পিশাচকে চোখের সামনে দেখে প্রচন্ড ভয় পেয়ে গেলো | পিশাচের ভয়ঙ্কর চেহারার দিকে তাকিয়ে তার বুক শুকিয়ে গেলো |কিন্তু তবুও সে পিশাচকে আদেশ দিলো তার জন্য মরদেহ তুলে আনতে |পিশাচের আগমনের পরে তাকে দিয়ে নিজের কোন কাজ সিদ্ধ করাতে হয়|এরপর আবার তাকে মন্ত্র বলে মুক্তি দিতে হয় |পিশাচ মরদেহ সংগ্রহ করে আনল |


দিলীপের আনন্দের সীমা রইলো না|সে ভাবলো তার তন্ত্র সাধনা সম্পূর্ণ হয়েছে |এবার পিশাচ তার কাছে অনুমতি চাইলো|কিন্তু পিশাচকে মুক্ত করার মন্ত্রটি পড়বার সময় অর্ধেক পড়ে বাকিটা ভুলে গেলো দিলীপ|আর ঠিক সেই সময় সর্বনাশ ঘটে গেলো |পিশাচকে ডাকার পরে তাকে যদি কোন তান্ত্রিক মুক্ত করতে না পারে তাহলে পিশাচ সেই তান্ত্রিকের শরীরে প্রবেশ করে যায় আর তাকে মেরে তার দেহ ধারণ করে নেয় |দিলীপের সাথেও ঠিক তাই হয়েছিলো| পিশাচ কে সে মুক্ত করতে পারেনি আর পিশাচ তার শরীরে প্রবেশ করে তাকে সেই মুহূর্তে মেরে ফেলে ও তার দেহ ধারণ করে |পিশাচকে কোন না কোন দেহ আশ্রয় করেই বাঁচতে হয়|তাই দিলীপের দেহে সে প্রবেশ করে যায় |তারপর থেকে দিলীপের আত্মাই পিশাচ হয়ে ঘুরে বেড়ায় এই গ্রামে|এমনটাই সকলে বলে |



          



 ||পঞ্চম পর্ব||


 লোকটির কথা শেষ হওয়া মাত্রই সন্তোষের হঠাৎ করে প্রচন্ড কাশি শুরু হল| সেই কাশি কিছুতেই থামতে চায়না এমন|


লোকটি বলল, "আপনার জলের প্রয়োজন,দাঁড়ান আমি জল নিয়ে আসছি আপনার জন্য"|


লোকটি জল আনতে গিয়ে দেখলো কলসীতে একফোঁটা জলও আর অবশিষ্ট নেই|তখন সে সন্তোষকে বলল, 

"দাদা, আপনি একটু বসুন, আমি এই যাব আর আসব| বেশীক্ষন লাগবে না| সামনেই একটা পাতকুয়ো আছে|সেখানে খাবার জল থাকে| আমি কুয়ো থেকে জল তুলে নিয়ে আসি আপনার জন্য|অপেক্ষা করুন আপনি আমার জন্য |আর আমি না ফেরা পর্যন্ত বাইরে বেরোবেন না কেমন?"


লোকটির কথায় ঘাড় নাড়ল সন্তোষ|

লোকটি ঘরের বাইরে গেলো জল আনতে|

বেশ কিছুটা সময় কেটে গেলো|লোকটির কোন খোঁজ খবর নেই|এমনসময় কেমন একটা অদ্ভূত শব্দ কানে এলো সন্তোষের|মনে হলো যেন একটা কিছু এগিয়ে আসছে কুটীরের দিকেই কিন্তু পায়ের কোন শব্দ শোনা যাচ্ছে না |অথচ কারুর উপস্থিতি স্পষ্ট টের পাওয়া যাচ্ছে|


চাঁদের আলোয় যেটুকু চোখে পড়ল সন্তোষের, তাতে সে দেখলো, প্রকান্ড লম্বা দুটি পায়ে কেউ এগিয়ে আসছে কুটীরের দিকে|তার হাত, মুখ কিছুই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না| শুধু পা গুলো দেখা যাচ্ছে|তারপর কুটীরের দরজা খোলার শব্দ |ভয়েতে সন্তোষের গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠলো|সে দেখলো কুটিরে প্রবেশ করলো সেই অজ্ঞাত পরিচয় লোকটি |সন্তোষ অবাক হয়ে গেলো, এতক্ষন সে যাকে দেখছিলো, এই ব্যাক্তি কি সেইই? 


লোকটা বলল, "আপনি ভয় পেলেন নাকি, কিছু দেখেছেন বুঝি"? 


সন্তোষ ভয়েতে কোন উত্তর দিতে পারল না, সে বলল "না না তেমন কিছু না, আমাকে একটু জল দিন"|


লোকটা একটা পাত্র নিয়ে এসে জল খেতে দিলো তাকে|জলটা খাবার সময় জলের মধ্যে সন্তোষ লক্ষ্য করলো কারুর প্রতিচ্ছবি|ভয়ঙ্কর দেখতে একটা মুখ|লম্বা হয়ে উঠে গেছে|একেবারে আকাশ স্পর্শ করেছে এমন|অথচ সামনে লোকটাই দাঁড়িয়ে রয়েছে তার| দুটো লোকের উপস্থিতি সম্ভব নয়|তাহলে কি এই লোকটাই সেই পিশাচ? ভয়েতে সন্তোষের হাত পা ঠান্ডা হয়ে গেলো |


কোনরকমে জলটা খেয়ে পাত্রটা লোকটার হাতে দেবার সময় তার পায়ের দিকে সন্তোষের চোখ পড়ল |সন্তোষ দেখলো, লোকটার পায়ের পাতাগুলো উল্টো|এবার আর তার বুঝতে কোন অসুবিধা রইলো না যে এইই সেই পিশাচ|সেই জন্যই সে এত কিছু জানে|কিন্তু এখন এখান থেকে পালাতে না পারলে যে মৃত্যু অবধারিত|


          


 ||ষষ্ঠ পর্ব||


লোকটিকে আর কিছু না বলে নিজের সরঞ্জাম গুলো সঙ্গে নিয়ে দৌড়তে শুরু করল সন্তোষ|স্পষ্ট শুনতে পেলো কেউ এগিয়ে আসছে তার দিকে| পিছনে পড়েছে সে| অট্টহাসির শব্দ|কিছুটা দূরে আসার পরেই সন্তোষের চোখে পড়ল কিছু একটা জ্বলছে দাউদাউ করে |আরো কাছে আসতেই সে দেখলো, সে একটা শ্মশানের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে আর চারিদিকে শব দাহ করা হচ্ছে |সেই কুটীরটিও আর চোখে পড়ছে না |চারিদিক ফাঁকা আর ভয়ঙ্কর সমস্ত আওয়াজ আসছে |কে যেন লম্বা লম্বা পা ফেলে এগিয়ে আসছে তার দিকে |কোনদিকে আর না তাকিয়ে রুদ্ধশ্বাসে দৌড়তে শুরু করলো সে| দৌড়তে দৌড়তে সন্তোষের মনে পড়ল হারান মাঝির কথা|হারান মাঝি যা বলেছিলো তাহলে সবই সত্যি? এই সেই ধানসিঁড়ির শ্মশান ঘাট আর এইই সেই পিশাচ|যার নাগাল থেকে কোনরকমে প্রাণ বাঁচিয়ে বেরিয়ে আসতে পেরেছে সে |


অন্ধকারের মধ্যে দিয়ে দৌড়তে দৌড়তে এসে হঠাৎ একটা জায়গায় পা আটকে হুমড়ি খেয়ে পড়ে যায় সন্তোষ| মাথায় খুব জোরে চোট লাগে তার| তারপর আর কিছু মনে নেই|অচেতন হয়ে পড়ে সে |


          


||সপ্তম পর্ব||


সকালে জ্ঞান ফিরলে সে দেখে কিছু গ্রামবাসী তাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে |নদীর ঘাটের কাদামাটি সারা গায়ে লেগে তার| উঠে দাঁড়ানোর ক্ষমতা পর্যন্ত নেই|

সবাই মিলে ওকে ধরে ধরে নিয়ে যায় একটা বাড়িতে| সেখানে একটা বিছানায় শুয়ে দেয় ওরা সন্তোষকে |


সন্তোষের মুখ থেকে কোন কথা বেরোয়না|ওরা সন্তোষের কাছে ওর পরিচয় জানতে চাইলে সে জানায়, 


"আমার নাম দিলীপ, আমি গাঁয়ের ঐ প্রান্তে থাকি, পেশায় একজন তান্ত্রিক"|


কথাটি বলা শেষ করেই অদ্ভূতভাবে লোকগুলোর দিকে তাকিয়ে হাসতে থাকে সে |




Rate this content
Log in