STORYMIRROR

Krishna Banerjee

Classics Inspirational

4  

Krishna Banerjee

Classics Inspirational

দালাল

দালাল

6 mins
305

দালাল

                  ( প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য )

                  কলমে - কৃষ্ণ ব্যানার্জি

                           কলকাতার একটি নামিদামি হোটেলে হঠাৎ করে পুলিশ রেট হয় , সেখান থেকে কিছু কাপেলকে অর্ধনগ্ন অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ । তাদেরকে নিয়ে আসা হয় থানায় । যে অফিসার তাদের ধরেছেন তিনি এই থানায় নতুন , এখনো এক সপ্তা হয়নি তিনি এখানে জয়েন্ট করেছেন । খবরটা কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই পৌঁছে যায় প্রিতমের কাছে । প্রীতম তার বুলেট টা নিয়ে ঝড়ের বেগে উপস্থিত হয় ওই থানায় । ওই থানার অনেক অফিসার , কনস্টেবল প্রীতম কে চেনে । প্রিতমের থানার ভেতরে ঢোকা দেখে বোঝা যায় এখানে তার একটা দাম বীর্য আছে। প্রীতম থানায় ঢুকে একটি কনস্টেবল কে জিজ্ঞাসা করে আমার মেয়েগুলো কোথায় আছে আর কোন অফিসার এরেস্ট করেছেন ওদের ? কনস্টেবল প্রিতমকে বলে নতুন অফিসার দারুন করা । প্প্রীতম বলে করা হয়ে কি হবে? একটা মেয়ের পেটে ভাত দিতে পারবে ? কোথায় তিনি ? কনস্টেবল অফিসারের রুমটা দেখিয়ে দেয় , প্রীতম কোন কথা না বাড়িয়ে অফিসারের রুমের দিকে যায় , দরজা নক করতে ভিতর থেকে আওয়াজ আসে ভেতরে আসুন । প্রীতম ভেতরে প্রবেশ করে অফিসার কে বলে বসতে পারি স্যার ? অফিসার বলেন হ্যাঁ বসুন , এবার বলুন আপনার কি প্রয়োজন আছে ? বলছিলাম স্যার আমার মেয়েগুলোকে আপনি ধরে নিয়ে এসেছেন প্লিজ ওদের ছেড়ে দিন । অফিসার প্রশ্ন করেন আপনি ? প্রীতম বলে আমি একজন দালাল । অফিসার বলে এই কথাটা বলতে আপনার একটু লজ্জা করল না । প্রীতম হাসিতে ভেঙে পড়ে , কয়েক মুহূর্ত পর নিজেকে সামাল নিয়ে বলে কিসের লজ্জা স্যার । আমি তো দালালি করি আপনাদের মতন মহান ব্যক্তিদের জন্য । অফিসার উত্তেজিত হয়ে বলে ফালতু বকবেন না । প্রীতম আবার হেসে বলে নতুন তো একটু সময় লাগবে। অফিসার বলে আপনি কি বলতে চাচ্ছেন বলুন তো ? প্রীতম বলে আমি দালালি করে ৫০ টা পরিবারের মুখে খাবার তুলে দেই , আর আপনাদের মত কিছু অফিসার আছে যারা সেখান থেকেও ভাগ বসায় । দেখুন না আমি তো সততার সাথে আপনার সামনে এসে বললাম আমি দালাল , আর আপনাদের সকল অফিসাররা বিষয়টা সততার সাথে বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে তারা এই দালালির পয়সা খায় না । অফিসার আবার উত্তেজিত হয়ে বলল you status । বলেপ্রীতম বল ইংরেজিটা আমিও জানি স্যার , পড়াশোনায় আমার যোগ্যতা খুব একটা কম নয় , আপনাদের সমাজের কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তির জন্য আজ আমাকে দালাল হতে হয়েছে তবে আমি খুশি । অফিসার বলেন আপনার সাহস তো মন্দ নয় বেআইনি কাজ করছেন আবার বলছেন খুশি । প্রীতম বলে হ্যাঁ বলছি, রাখুন তো মশাই আপনার আইন । আইন যদি ঠিক থাকতো তাহলে আজকে আপনার চেয়ারে আমি থাকতাম । ঘরের করাপশন টা আগে দেখুন স্যার , তারপর নয় বাইরেরটা দেখবেন । অফিসার বলেন তোমার সাহস তো মন্দ নয় । প্রীতম বলে এতে সাহসের কি আছে স্যার আমিনা চুরি করেছি না ডাকাতি আমার জন্য ৫০ টা পরিবার বেঁচে আছে। সেইখান থেকে শুনছি আপনি খালি একটা কথাই বলে যাচ্ছেন আপনার জন্য ৫০ টা পরিবার বেঁচে আছে।আপনি ভগবান নাকি মশাই নাকি নিজেকে ভগবান ভাবেন । আপনাদের কাছে আমি কি সেটা আপনারা জানেন কিন্তু ওই ৫০টা ফ্যামিলির কাছে আমি ভগবানই । অফিসার বলেন তোমায় দেখে তো ভদ্র শিক্ষিত মনে হচ্ছে , প্রীতম আবার হাসে কোন শিক্ষার কথা বলছেন বলুন তো আপনি ? প্রীতম আবার হাসে কোন শিক্ষার কথা বলছেনআপনি,ওই কাগজের মধ্যে যে সার্টিফিকেট সরকার থেকে দেয় । ওগুলো সব ভ্যালু লেস , ফালতু ফালতু জীবনের এতগুলো সময় নষ্ট করেছি পাশাপাশি খরচ করেছি বাবার কষ্ট করে উপার্জন করা টাকা । সারাদিন মাঠে পরিশ্রম করে বাবা যে টাকা গুলো উপার্জন করেছেন সেই টাকা দিয়ে ভূতের বাবার শ্রাদ্ধ করেছি আমি । পড়াশুনারকোন মূল্য আছে এই রাজ্যে । পুলিশে চাকরি পাওয়ার জন্য দিনের পর দিন মাঠে গিয়ে ঘাম ঝরিয়েছি , পরীক্ষা দিয়ে পাসও করেছি তারপর —-----! তারপর কি হয়েছে জানেন । এপয়েন্টমেন্ট লেটার পাওয়ার জন্য ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে । হা হা হা আপনারাই আবার সততার কথা বলেন । আপনি আমায় একটা কথা বলুন তো………. আমি আপনাকে কথা দিচ্ছি আজকের পরে এই মেয়েগুলো এই কাজ আর করবে না । আপনি কি কথা দিতে পারবেন এদের পরিবারের মুখে দুবেলা দুমুঠো অন্ন তুলে দেওয়ার । এটাও আপনি জানেন না এরা আপনাদের মত উচ্চ সম্প্রদায়ের বিলাসের শিকার হয় , অবশ্য তার বিনিময়ে ভালো একটা টাকা পায় , সেই টাকা দিয়ে এদের সংসার চলে চলে এদের ছেলে মেয়ের পড়াশুনো । যদিও আজকের দিনে দাঁড়িয়ে আমার কাছে এই পড়াশোনাটা ভ্যালু লেস , গ্রাজুয়েশন তারপর মাস্টার ডিগ্রি সবকিছু করে অবশেষে বেছে নিয়েছি দালালি । কেন জানিনা আমার মনে হয়েছে এই দালালি করেই আমি সমাজের অনেক মঙ্গল করতে পারব । এবার অফিসার একটু হেসে বলেন দালালি করে সমাজের মঙ্গল —---! অবাক করলেন মশাই । আপনাদের তো অবাক লাগবেই , কারণ আপনাদের হয়তো অভাব নেই । অর্থের অভাবে যে অসহায় মেয়েগুলোর বাবারা যার তার হাতে তুলে দেন তার মেয়েদের , এবার আপনি বলুন তো কোন বাবাটা চায় তার মেয়ে কোন খারাপ পরিবারের যাক কিন্তু উপায় কি বলুন ভালো পরিবারে মেয়েকে দিতে গেলে ভালো টাকাও তো দিতে হবে পন হিসেবে , যাদের সংসারে দুবেলা ভাতই জোটে না তারা আবার পন দেবে কোত্থেকে ? তাই কন্যাদের হাত থেকে মুক্তি পেতে ঝুলিয়ে দেন যার তার গলায় । একটা দুটো করে সন্তানের জন্মদিয়ে মাতাল বাপ পড়ে থেকে রাস্তার ধারে , আর চাকরি করার মত বিদ্যা এদের পেটে নেই । মাপ হয়ে তো আর বাচ্চাকে অভুক্ত রাখতে পারেনা তাই অগত্যা কিছুতো একটা করতে হবে । আমার একটা অনুরোধ আছে ওদের ছেড়ে দিন । অফিসার বলেন এভাবে তো ছাড়া যাবে না , ওরা অন্যায় ওরা অন্যায় করেছে, শাস্তি ওদের পেতেই হবে । প্রীতম বলে শাস্তি দিতে হলে আমাকে দিন দালালি তো আমি করেছি , ওরা যদি ফার্স্ট ট্রেনে বাড়িতে ফিরতে না পারে আজ সারাদিন ওদের সন্তান রা অভুক্ত থাকবে , দেখুন স্যার আমি দায়িত্ব নিয়ে ওদের কয়দিন চালাতে পারব ? একদিন , দুদিন ,এক সপ্তা এর চাইতে বেশি নয় । আপনি যদি সত্যি সত্যি সমাজের মঙ্গল চান তাহলে এদের না ধরে সেই লোকগুলোকে ধরুন যারা সমাজের দিনের পর দিন Corption চালিয়ে যাচ্ছে । আমিতো নিজেকে সেলেন্ডার করছি স্যার কিন্তু একটা কথা মনে রাখবেন কাল থেকে এদের ঘরে আর উনুন ধরবে না , আর তার জন্য দায়ী থাকবে ন আপনি । একটা কথা আপনাকে বলে রাখি স্যার , এদেরকে ভোগ করতে সমাজের নিম্ন শ্রেণীর মানুষরা আসে না , যারা আসেন তারা যথেষ্ট বিত্তশালী এবং সমাজে যথেষ্ট প্রতিষ্ঠিত । যদি এই ব্যবসাটা অবৈধ হয় তাহলে সবার আগে সেই মানুষগুলোকে ধরুন । পারবেন না স্যার ওদের চুলটুকু ছুঁতে পারবেন না , আর যদি ছুঁয়েও ফেলেন দুদিনের মধ্যে আপনারর ট্রান্সফার হয়ে যাবে । এই আপনার সামনে আমি বুক চিতিয়ে বলছি আমি দালালি করি আমি একজন দালাল । কেন বলতে পারছি জানেন , আমি দালালি করছি বলেই এই পরিবারগুলো আজও খেয়ে পড়ে বেঁচে আছি কটা মানুষ খবর নাই এদের , যে লোকটা সারারাত এদের সাথে কাটায় পরদিন সকাল বেলায় পথে দেখতে পেলেও চিনতে পারে না । রাত গেয়ি বাদ গেয়ি । শাস্তি যদি দিতে হয় সেই লোক গুলোকে দিন যাদের জন্য আজকে এই ব্যবসা রম রোমিয়ে চলছে , আর আমি তো আপনার সামনেই বসে আছি চাইলেই আমায় এরেস্ট করতে পারেন তবে একটা কথা আমায় আপনাকে দিতে হবে , যতদিন না আমি জেল খেটে ফিরছি ততদিন ওদের পরিবারের দায়িত্ব আপনার । বলুন নিতে পারবে ওদের দায়িত্ব । অফিসের মাথা নিচু করে জানান না সত্যিই আমি পারবো না ।প্রীতম বলে এটা আপনার একার কাজ নয় স্যার , এটা করার জন্য সমগ্র সিস্টেমটাকে চেঞ্জ করতে হব , আর সেটাও আপনার একার পক্ষে সম্ভব নয় । দয়া করে ওদের ছেড়ে দিন । অফিসার ওদের ছেড়ে দিতে বলে , প্রীতম বলে ধন্যবাদ স্যার , তবে আপনাকে একটা কথা দিয়ে যাচ্ছি যদি আপনি কোনদিন এই সিস্টেম চেঞ্জ করে দিতে পারেন আমিও সেদিন থেকে দালালি করা ছেড়ে দেবো । প্রতাপ চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ায় , অফিসার কে হাত জোড় করে বলে ধন্যবাদ স্যার , আমি একটা পরিবর্তনের অপেক্ষায় থাকবো , অফিসার বলেন আপনাকে আমি কথা দিতে পারলাম না তবে চেষ্টা করব এই সিস্টেমের পরিবর্তন ঘটাবার ।

                             সমাপ্ত


Rate this content
Log in

Similar bengali story from Classics