বিতর্কিত
বিতর্কিত
বিতর্কিত বাঙালী বিতর্কিত বাংলা
( একটি বিতর্কিত পর্যালোচনা )
কলমে - কৃষ্ণ ব্যানার্জী
[ এটি একটি বিতর্কিত আলোচনা মাত্র তাই আমিযে সম্পূর্ণ ঠিক সেটাও নয় , এর বিপক্ষে আপনাদের মতামত থাকতে পারে । যদি থাকে তবে অবশ্বই পর্যালোচনা করবেন । কোনো সম্প্রদায়ের মানুষকে ছোটো করতে এই প্রবন্ধ লিখছিনা , একটি প্রশ্নের সঠিক সমাধান পেতে এটি লেখা । আশাকরছি আমার পাঠকদের নিকট এর সঠিক জবাব রয়েছে । ]
1820 সালের 26 সে সেপ্টেম্বর মেদিনীপুরের বীরসিংহ গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন বাংলা তথা বাঙালীর গর্ব । নামটা লিখলামনা সকলেই জানেন হয়তো । যাইহোক দেখতে দেখতে 203 বছর অতিক্রান্ত হয়ে গিয়েছে তার আগমনের । এই পর্যালোচনাতে এই মহান ব্যাক্তির একটি বিশেষ ভূমিকা থাকার কারনে অনেকে টেনে আনতেই হলো । যাইহোক আমরা সকলেই জানি ইনি হলেন সেই ব্যাক্তি জার হাতধারে আমরা বর্ণপরিচয়ের সাথে আমরা তথা বর্তমান ব্যাঙ্গালিরা ওনার হাত ধরেই পরিচিত হই । আবার প্রশ্নটা হলো প্রথমে বর্ণ তারপড় শব্দ , তারপড় আসবে বাক্য । আবার প্রশ্নাটা হলো তাহলে বাংলার বর্তমান বয়স কত ? নাকি বাংলার প্রচালন কি আগেথেকেই ছিলো ? যদি থেকে থাকে তাহলে বর্ণ , শব্দ, বাক্য ছাড়া একটা ভাষা কিভাবে থাকতে পারে । যদি তর্কের খাতিরে ধরে নেই বাংলার অস্তিত্ত বার্নপরিচয়ের সূচনা পর্ব থেকেই শুরু হয়েছে , তাহলে বাংলার ভাষার বার্তমান বয়স একশো দশয়ের আশেপাশে হওয়া উচিৎ। আবার প্রশ্ন হলো সেটাই যদি হয় তাহলে আসলে বাঙালী করা ? উত্তর আসে যারা এই বাংলা ভাষাকে গ্রহণ করেছিলেন তাড়াই হলেন বাঙালী , আর্থাৎ পৃথিবীতে বাঙালীর আগমন একশো দশ বছরের আশেপাশে হবে ।
আবার বিতর্কের বিষয় হচ্ছে এর আগে এই বাঙালী গুলো কোন ভাষায় কথা বলতেন ? তাহলেকি পৃথিবীর বুকে নতুন এক প্রজন্মের আবির্ভাব ঘটেছিলো সেই বিতর্কিত সম্প্রদায়ের । যদি আপনাদের কাছে এর কোনো যুক্তি থেকে থাকে জানাবেন তাতে আমি বাধিত হবো । এবার আসাজাক কাজের কথাতে যদি বর্ণ , শব্দ ছাড়া ভাষার কোনো আস্তিত্ব নাই থাকে তাহলে আজকের বাঙালিরা সেই সময় কোন ভাষাতে কথা বলতেন ? আমার কাছে একটাই উত্তর এসেছিল সংস্কৃত । আর যারা এই ভাষাতে কথা বলতেন তাড়া হলো সনাতন । আর্থাৎ এখানথেকে এটাতো প্রমাণিত হয়েই গেলো পাকৃত বাঙালী বলে পৃথিবীতে কোনো জাতীর আস্তিত্ব যুগ যুগ ধরে ছিলোনা । এবার আসবো বিকৃত বাংলার বিষয়ে । তার আগে একটা মজার গল্প বলি আমরা তখন নবম শ্রেণীতে পাঠারত আপনাদের অনেকের হয়তো মনে আছে । নবম এবং দশম শ্রেণীতে গণিতের একটি অংশ ছিলো জায়োমেট্রি , সত্যি বলতে আর বাংলাটা আমার সঠিক জানানেই পরিমাপ শাস্ত্র এরকম কিছু একটা হবে হয়তো , যাইহোক এতে একটি অংশ ছিলো উপপাদ্দ আমার বিষয়টা প্রচন্ড শক্ত লাগতো , কিছুতেই বুঝে উঠতে পারতামনা কিকরে সেটাকে মনে রাখা জাই , যেটা বোঝাতেই সমস্বা সেটা মনে রাখা কি সম্ভব কিন্তু একটা প্রশ্নে 6 নম্বর ছাড়লে চলবেনা , তাই ছবি গুলোকে মাথাতে বসিয়ে নিয়ে একটা গোপন ভাষার আবিষ্কার করে ফেললাম উদাহরান সরূপ অ # / ,আ # // ই # /' ঈ # /" এই ভাবে সংকেত বানিয়ে কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর বোর্ডে লিখে নিয়ে পরীক্ষার হলে চলে কেলাম । প্রশ্ন পাত্রে মিলেও গেলো সকালের সামনে বসে বিনা বন্ধনে লিখেও ফেললাম । কেউ কিছু বুঝতেই পারলোনা । এই ঘটনাটা বললাম এই কারণে যদি ঐ সংকেত গুলোতে একটু ঘুরিয়ে একটা শব্দ গঠন করা যেতো তাহলে হয়তো নুতন একটা ভাষার জন্ম হতো ।
এবার আসাজাক যাক বিকৃত বাংলার বিষয়ে । এই 290 বছরের একটি ভাষা এতবার বিকৃত হয়েছে যে আমাদের স্বাধীন দেশে , স্বাধীনতার পর থেকে সাংবিধানেরো এত বিকৃতি ঘটেনি । প্রথমে বাংলা ছিলো সুদ্ধ বাংলা যেখানে হয়তো প্রতিবেশী ভাষার কোনো মিশ্রন ছিলোনা বাংলাতে , হয়তো বল্লাম এই কারনে যে সেই সময় আমি ছিলাম না । তার পড় হলো সাধু ভাষা , একটু জটিল কিন্তু শ্রুতি মধুর । মাইকেল মধুশুধান দত্তের লেখাতে তার পূর্ণ প্রকাশ মেলে । অনেকের কাছেই বিষয়টা অনেকটাই ভারী হয়ে ওঠার ফলে ধীরে ধীরে চালিত ভাষার প্রবর্তন ঘাটল । বলাহলে কথাপকথনের জন্য এই চালিত ভাষার প্রবর্তন । ধীরে ধীরে সেটা লেখনীতে জায়গা করে নিলো । এবার আরো সহজ করতে মিশ্র ভাষাতে রূপান্তড়িৎ হলো বাংলা । বাংলার সাথে ইংরেজি , হিন্দি , আরবি সব মিলিয়ে গঠন হলো খিচুড়ি ভাষার । যত দিন যাচ্ছে ততোই পরিবর্তন ঘাতেই চলেছে । মাতা থেকে মা এবার মা থেকে মম । পিতাশ্রী থেকে পিতা , পিতা থেকে বাবা এখন বাবা হয়ে গিয়েছে বাপি , পাপা । পিতামহো হয়েছেন ঠাকুরদা , ঠাকুরদা রূপান্তরিত হয়ে হয়েছেন দাদা । আরাম কেদারা আজ আর কেউ বলেনা আমরা বলি ইজি চেয়ার । যারা এই ভাষার ধারাক - বাহক তাড়াই বিকৃত এতে আর ভাষার দোষ কোথায় । আমার মনে হয়েছে এইভাবে যদি বাংলা ভাষার বিকৃতি ঘাটতে থাকে তবে কিছু কালের মধ্যে বাংলা এবং বাঙালী বিকৃত হয়ে পুনরায় নুতন এক সম্প্রদায়ের জন্ম লগ্ন গঠন করবে ।
জানিনা সেই নুতন প্রজাতির নাম কি হবে , তবে এটুকু জানি পৃথিবীর আদি জাতী সনাতন আর আদি ভাষা সংস্কৃত আগেও যেমনটা ছিলো আগামীতেও তেমনটাই থাকবে কারণ ধর্মচারণ আমরা যতই বাংলাতে করিনা কানো মন্ত্র উচ্চরণের সময় আমাদের সংস্কৃত বলতেই হবে যতই তাকে আমরা বাংলা হরোপে লিখে নেয়না কানো । এখন বিষয়টা হলো বাংলা এবং বাঙালীকে বাঁচাতে পারে একমাত্র বাঙালী । যদি এই নবীন ভাষাটিকে টিকিয়ে রাখতে হয় তাহলে আমাদের পুনারায় বাংলাতেই ফিরে আসা উচিৎ । সমালোচনা সমাধান নয় পাশে থেকে শুধরে দেয়াটাই সমাধান । যেসকাল গুরুজন সঠিক বাংলা জানেন তেনাদের নিকট আমার আকান্ত অনুরোধ , আমরা যারা বিকৃতি বাংলার নাগপাশে অবধ্য অনুগ্রহ পূর্বক আমাদের পাশে থেকে সঠিক বাংলার পথ নিদর্শন পূর্বক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে এই নবীন ভাষাটিকে পুনরায় দীর্ঘ জীবন গঠনের জন্য অঙ্গীকার বদ্ধ হয়ে বাংলা ও বাঙালীর পাশে এসে দাঁড়ান ।
দেখুন কোনো বাঙালীকে ছোটো কারবার জন্য এটা আমি লিখছিনা , কারণ আমি নিজেও একজন বাঙালী কিন্তু এই কথাটা মাথা উঁচু করে বলতে পারিনা । আমাদের মুল ভাষা সংস্কৃত যেটার সাথে মাত্র দুই বছর আমাদের সাক্ষাৎ হয় তারপর আমরা সেটা থেকে সম্পূর্ণ ছিন্ন হয়ে পড়ি । ফলে যেই মুহূর্তে কোনো কঠিন শব্দের লেখা আমাদের মাথার উপরদিয়ে বেরিয়ে জায় । আজ আমার মনেহচ্ছে বাংলা এবং বাঙালী খুবই মর্মান্তিক অবস্থার মধ্যাদিয়ে চলছে , যে কোনো মুহূর্তে আমরা চুরমার হয়ে যেতে পারি , আমাদের আস্তিত্ব সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে । কাল হয়তো আমরা নিজেদের না বাঙালী বলতে পারবো না বলতে পারবো আমরা সন্তান । ভাবতে পারছেন আমাদের পরিচয়টা ঠিক কি হবেন ।
আমি বিদ্যাসাগর মহাশয় কে কুর্নিশ জানাই জিনি আমাদের এমন একটি মধুর ভাষা উপহার দিয়েছিলেন কিন্তু আজ আমরা যেই মধুর ভাষাকে ভাঙতে ভাঙতে এমন পর্যায়ে উপনিত করেফেলেছি যেখানে বাংলাভাষা এখন ভেন্ডিলেশনে সময় গুনছে , তার প্রাণ পাখিটি আটকে রয়েছে কন্ঠের কাছে তবুও এখনো সময় রয়েছে অসুননা আমরা সকলে মিলে চেষ্টা করি এই ভাষাটিকে এবার জীবন ফিরিয়ে দেই । ভেন্ডিলেশন থেকে টেনে বারকরে নিয়ে আসি ।
[ এটা আমার আজ মনে হচ্ছে , কাল হয়তো আপনারও মনে হবে কিন্তু মনে হওয়াটা বেশি দেরি হয়ে গেলে আমরাই হয়তো হারিয়ে যাবো পৃথিবীর মানচিত্র থেকে । বাঙালী হয়তো বিলুপ্ত হয়ে যাবে পৃথিবীর বিলুপ্ত প্রাই প্রাণীদের মতো ]
সমাপ্ত
( অপরাধ নেবেন না এটা আমার অন্তরের বেদনা থেকে বলতে বাধ্য হলাম । )
( আমার একটি লেখাতে প্রচুর সমালোচনা হয়েছে কিছু অসঙ্গত কথা লেখার জন্য কিন্তু আজ আমরা ঠিক ঐ জায়গাটাতেই আসে পৌঁছেছি । আমরাই আমাদের আস্তিত্ব নষ্ট করে ফেলছি , অভাবে ছাড়া বোঝাবার কোনো উপায় আমি খুঁজে পাচ্ছিলাম না তাই লিখতে হয়েছে । আমিও নিজেকে , আমার মা বোনদের ভালোবাসি আর দিনের পর দিন তাদের শেষ হয়ে যেতে দেখে থেমে থাকতে পারিণী প্রিয় বন্ধুরা । হয়তো একটু বেশি আবেক ঘনো হয়ে পড়েছিলাম তাই মার্জনা পার্থনা করে নিচ্ছি । ফালতু গল্পটা আপনার আমার ঘরের মা , ভাই , বোনদের সাথে ঘটে চালা বাস্তব ঘটনা , অনেক বেদনাতে এমন লেখা লেখনীতে আসে বন্ধুরা , সবকিছু দেখেও আমরা চুপচাপ । কেনো সুভাষ বসের বাঙালিরা কি মারা গিয়েছে । মারা গিয়েছে বিনয় , বাদল , দিনেসের উত্তর শুরীরা । একটু ভাবুন বন্ধুরা নইলে একদিন হারিয়ে যাবো আমরাই । )
