বিকৃত স্বাধীনতা
বিকৃত স্বাধীনতা
বিকৃত স্বাধীনতা
( কোনো দেশকে অপমান কারবার উদ্দেশ্যে এই নিবন্ধ টি লেখা হয়নি শুধুমাত্র একটা বস্তব পারিস্হিতি তুলে ধারার চেষ্টা করা হয়েছে মাত্র । প্রবানদের কোনো চরিত্রের সাথে যদি কাহারো মিল থাকে তাহলে সেটা সম্পূর্ণ কাকতালীয় । অপরাধ মার্জনা করবেন । )
( প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য )
কালামে - কৃষ্ণ ব্যানার্জী
আগামীকাল কোনো এক দেশের স্বাধীনতা দিবস । সকাল হতেনা হতেই পতাকা উত্তালান অনুষ্ঠান পালিত হবে । দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাজ সাজ রব । আমান অবস্থাতে সেই দেশের একটি রাজ্যে স্বাধীনতা পালান করতে ইচ্ছুক হয়ে পড়ে কিছু বেকার নিচুতলার রাজনৈতিক কর্মীদের ।সন্ধ্যা তখন সাতটা পাড়ার গলির ভিতরে বেসেছে উত্তেজিত পানিয়ের আসর । ঠান্ডা পানিয়ের বোতলে উত্তেজিত পানিও মিশিয়ে আসারটা প্রাই জামেই উঠেছে । হঠাৎ তাদের মধ্যে একজনের মনে হয় আগামী কাল তারাও স্বাধীনতা পালন করবে । আরেকজন বলে কিন্তু এর জন্য প্রস্তুতি চাই অনেক লাফড়া আছে । পতাকা আনতে হবে , দড়ি আনতে হবে আঠা লাগবে একটা বড়ো পতাকা লাগবে ,একটা পতাকা তোলার জন্য ধজা লাগবে । আর একজন বলে নারে বাল একটা ধজা হলে হবেনা দুটো লাগবে । অপরজন বলে দুটোকানো ? সে বলে কানো আমাদের দলের ঝান্ডাটা লাগাতে হবেনা । এর একজন গলা ভিজিয়া বলে ঠিক বলেছিস । এর একজন একটুকরো চিপস মুখে ভোরে সব ঠিক আছে গুরু কিন্তু মাল্লু কোথায় ? সেইতো বাড়া এত কিছু ভেবে ফেললাম কিন্তু আসল জিনিসটা ….একটি ছেলেকে বলে এই দাদাকে একটা ফোন করদেখি । ছেলেটা ফোন লাগায় এবং বলে গুরু রিং হচ্ছে মাইরি । দাদা ফোন ধরতে সে অপর ছেলেটিকে ফোনটাদিয়ে বলে গুরু দাদা কথা বলো । ছেলেটি ফোনটা নিয়ে বলে দাদা কালকে আমরা পতাকা উত্তলন করতে চাই ধামাকা পোগ্রাম হবে , কিছু টাকা লাগবে মাইরি । দাদা বলে কত টাকা । সে বলে হাজার দেশেক হলেই চলবে তোমাকে কিন্তু থাকতে হবে । দাদা বলে এতো টাকা কি হবে । ছেলেটি বলে ……… দাদা খালি পতাকা তুললে হবে দলের গান বাজাতে হবে তার জন্য মাইক লাগবে । তারপর স্বাধীনতা দিবস বলে কথা একটু মাস্তি হবেনা । এই দুপুরে একটু চিকেন ভাত , সন্ধ্যাতে একটু টাকাটক পার্টি সাথে চ্যাট লাগবে । আমরা ভাবছিলাম রোজতো দেশি হয় কাল একটু দামি মানে বিদেশি আনতে হবে , সামনে ভোট ছেলে পিলে গুলোকে একটু ……….. বুঝতেইতো পারছেন । অপর দিকদিয়ে উত্তর আসে ঠিক আছে ঠিক আছে তোরা একটা কাজ কর বাজারে চলেযা আমি সোনার দোকানের মন্টু কে বলে দিচ্ছি টাকাটা নিয়ে নে কেমন …… এর একটা কথা আমি কিন্তু যেতে পারবোনা অনেক জায়গাতে যেতে হবে তোরা ওটা ম্যানেজ করে নিবি । ছেলেটি বলে কিন্তু দাদা পতাকাটা কে তুলবে ? আরে তোদের ওখানে আমাদের একটা প্রমোটার আছেনা কিজানো নাম ওটার ? আরে তুমিকি শৈফুল দার কথা বলছো । দাদা বলে হা ওকে দিয়ে তুলিয়ে নিবি । কিন্তু দাদা ওতো পড়াশুনাই জানেনা । আরে পতাকা তুলবে তারসাথে প্যারাসুনার কি আছে । না মানে কিসব বলতে হয়না । বলবে জা পারবে তাই বলবে , তোরা ভুলে যাসনা ও ভোটের সময় মোটা টাকা চাঁদা দেয় এর সেই টাকা দিয়েই তোদের সরা বছরের গেলাকটা চলে । আর যারা ওখানে থাকবে তারাইবা কি জানে কোনো চাপ হবেনা বরঞ্চ এই সন্মান পেলে আরও বেশি চাঁদা পাবি । ছেলেটি বলে ওকে দাদা তুমি যেমনটা বলবে । দাদা বলে এখুনি গিয়ে টাকাটা তুলে নে হাতে সময় কোথায় রাতে অনেক কাজ করতে হবে । ছেলেটি বলে হা দাদা যাচ্ছি তাহলে রাখি । ঠিক আছে রাখ তবে একটা কথা কোনো লাফড়া জানো না হয় । ওসব নিয়ে তুমি চিন্তা করোনা দাদা আমরা সব সামলে নেবো ।ফোন রেখে দেয় ।
টাকার ব্যাবস্থা হয়ে গেলো এখন চল আবার রাতে খাবি কাজ করতে করতে । সকালে মিলে বাজারের সোনার দোকানে হাজির হয় । দলের পান্ডা এগিয়ে গিয়ে বলে মন্টু দা কে আছেন ? একটা ছোট খাটো মাপের মানুষ আসে বলে আমি । ছেলেটি বলে দাদা কিছু বলেছেন । বলেছেন কিন্তু এতগুলো টাকা এখুনি কিকরে দেবো ভাই । ছেলেটি বলে সেটা আমি কিকরে বলবো দেবেন আপনি সেটা আপনি জানেন । লোকটি বলে একটু কম করলে হয় না । ছেলেটি বলে না , এটাই বাজেট কম হলে কিকরে হবে আপনি বিশ হাজারের মাল দশ হাজারে দিতে পারবেন । লোকটি বলে না মানে । ছেলেটি বলে ওসব মানেটানে জানিনা দাদাকে ফোন লাগিয়ে দিচ্ছি জা বলবার দাদাকেই বলেদিন । লোকটি থামিয়ে বলে আরে এখানে আবার দাদা কানো , আমি দিছিতো । টাকাটা ওদের হাতে তুলে দিতেই ওরা সেটা গুনে নিয়ে লোকটাকে জানায় থ্যাংকস কোনো সমস্যা হলে বলবেন আমরা আছি কেমন , এই বলে ছেলেটি চলে জায়। লোকটি বলে দিনারপর দিন এভাবে ব্যাবসা করা জায় নাকি , আজ এই দাদার লোক কাল ঐ দাদার লোক লাভের বদলে সবটাই ঘাটাতে চলছে ।
পরেরদিন সকালে পাড়ার মুখে পতাকাতে ছাড়াছড়ি কিন্তু সব কোটাই উল্টো । মাইকে দেশ প্রেমের নয় দলের গান বাজতে সোনা যাচ্ছে । কারো কাছথেকে জেনে জাতীয় পতাকাটা ঠিক ঠাক লাগিয়ে ফেলেছে । কিছুক্ষনের মধ্যে একটা পেল্লাই গাড়িতে চোরে প্রমোটার আসে উপস্থিত হলেন । পতাকা তলা হবে , দুটো পতাকা পাসাপাসি রাখা কিন্তু তারা বুঝে উঠতে পারছেনা কোনটা আগে তুলবে । এমন সময় একটা ছোট্ট মেয়ে আসে বলে কাকু কাগজের পতাকা গুলো উল্টো লাগানো হয়েছে । দলের নেতা বলে কি বলিসরে উল্টো মানে । মেয়েটি বলে নিচের দিকটা উপরের দিকে যাবে । ছেলেটি বলে দেখ তোকে একটা চকলেট দিচ্ছি তুই চুপ করে থাক কেমন এতগুলো চেন এখন বদলানো সম্ভব নয় । প্রমোটার বিরক্ত হয়ে বলে কিরে ভাই আর কতক্ষন লাগবে । আইতো দাদা হয়ে গিয়েছে শুধু দাদাকে একটা ফোন করে জেনে নেই কোনটা আগে তোলা হবে ? প্রমোটার বলে তাড়াতাড়ি জান । ছেলেটি কয়েকবার চেষ্টা করে দাদা ফোন ধরে না , প্রমোটার বলে কিরে কি হলো । ছেলেটা বলে আরে দাদাকেজে ফোনেই পাচ্ছিনা তুমি যেটা খুশি সেটাকেই আগে তুলে ফলো , আরে দুটোইতো আমাদের পতাকা । অবশেষে পতাকা তলা হয় প্রথমে দলের পতাকা তারপর দেশের পতাকা , লাগাতার বেজে চলেছে দলের আন্দলন মুখী গান । পতাকা তোলার পর ব্যাক্তিতা রাখেন প্রমোটার । তিনি খুব সংক্ষেপেই সবটা সারেন । জানান আজকের দিনেই আমরা স্বাধীনতা পেয়েছিলাম তাই আজ আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্তে । সকলের কাছে তাই আমার একটাই অনুরোধ আজকের দিনে আমরা কেউ ছোটো নই কেউ আলাদা নই । কেউ ধোনি নই , কেউ গরিব নই আমরা সকলে রাজার মতো আজকের দিনটাকে পালোন করব । তারপর দলের পান্ডাকে ডেকে বলে গাড়ির ভিতরে চকলেট আছে সব বাচ্ছাদের দিয়ে দাও কেউ জানো বাদ না জায় আর এই হাজার তিনেক টাকা রাখো ছুটিয়ে ফুর্তি করবে কেমন আজ আমি দারুন খুশি বুঝলে , তোমরা ছিলে বলে আজ আমি পতাকা তুলেছি কিছু দরকার হলে কোনো শঙ্কজ না করে আমাকে বলবে কেমন । ছেলেটি বলে ওকে দাদা । প্রমোটার বলে আর একটা কথা সামনের ভোটে আমার টিকিটটা পাকা হয়ে গিয়েছে মনদিয়ে খাটতে হবে , আমি যদি জিতে যাই জানবে তোমার ভাবিষ্যত আমি বানিয়ে দেবো বুঝলে । ছেলেটি আবার বলে ঠিক আছে দাদা আপনিই জিতবেন কথা দিলাম । প্রমোটার বলে কথাটা মনে থাকে জানো তাহলে এখন আমি চলি । হা দাদা আপনি নিশ্চিন্তে জান আপনার সাথে আমরা আছিতো…………।
সমাপ্ত
( অপরাধ মার্জনা করবেন তবে এটাই বস্তব )
