STORYMIRROR

Nityananda Banerjee

Classics Crime

4  

Nityananda Banerjee

Classics Crime

ভোরের সূর্য্য পর্ব ঊনপঞ্চাশ

ভোরের সূর্য্য পর্ব ঊনপঞ্চাশ

3 mins
272

পর্ব ঊনপঞ্চাশ

শশাঙ্কর চোখে অপার বিস্ময় । এ যেন কোন গোলকধাঁধা

মনে হচ্ছে । এই মাত্র তাকে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে অথচ সে দিব্যি বেঁচেবর্তে রয়েছে । শরীরে চিমটি কেটে দেখে নিল । চিমটি হয়তো জোরে কেটে ফেলেছিল তাই উ: করে চমকে উঠল ।

চোখ দু'টো কচলে নিয়ে তাকাতেই সে বিপাশাকে দেখতে পেল । তারই সামনে চেয়ারে বসে রঙ্গ দেখছে । একযোগে মঞ্চে উপবিষ্ট সকলে হেসে কর তালি দিতে লাগলেন ।

জেলার সাহেব পিছন থেকে ওর চুলের মুঠি ধরে বললেন - ওঠ ছোঁড়া, তোর বিয়ে ।

মিসেস সঞ্জনা কুমার এগিয়ে এসে বললেন - কই গো বরের টুপিটা এনে দাও !

শশাঙ্কর মনে হল স্বপ্ন দেখছে । পরক্ষণেই ভাবল - ধ্যেৎ মরে গিয়ে কেউ স্বপ্ন দেখে না কি ! এই তো লোকজন সবাই হাসছে, হাত তালি দিচ্ছে, বিয়ের সানাই বাজছে - এ কি স্বপ্ন হতে পারে ?

সঞ্জনা মাথায় মুকুট চাপিয়ে দিলেন । হক সাহেব মুচকি হেসে বিপাশাকে উঠে দাঁড়াতে বললেন । একটা রঙীন কাপড় মাথায় রেখে শশাঙ্ককেও ঢেকে দিলেন।

বললেন - শশাঙ্ক এবার উভয়ে উভয়ের চোখের দিকে তাকাও ।

তারপর বললেন - তোমার ইলায় রজনীগন্ধার যে মালাটা আছে তা বিপাশার গলায় পরিয়ে দাও।

বিপাশা নিজের মালাটিও শশাঙ্কর গলায় পরিয়ে দিল ।

একই দৃশ্য দেখা গেল নাগেশ্বর এবং জ্যাকলিনের কাছ থেকে । সানাইয়ের সুরে সুরে আকাশে বাতাসে ধ্বণিত হল - যদিদং হৃদয়ং মম ত্বদিদং হৃদয়ং তব, যদিদং হৃদয়ং তব ত্বদিদং হৃদয়ং মম ।

একই প্রথায় ক্রিশ্চান হলেও জ্যাকলিনের মা তন্দ্র এবং বাবা ডক্তার বাবুও তাঁদের একমাত্র মেয়েকে নাগেশ্বরের হাতে তুলে দিলেন ।

উপহারের বন্যা বয়ে গেল । আশ্চর্য্য লাগল যে তন্দ্রা এবং নন্দিনী উপহারের ক্ষেত্রে দুই দুই ভাব করেননি ।

শঙ্খ ঊলুধ্বণি দিয়ে দু'জোড়া বরবধূকে দুটি পৃথক বাসরে আনা হল ।

শশাঙ্কর মনের ঘোর তখনও কাটেনি । এই ভাবে স্বপ্ন দেখছে তো আমনি মনে হয় ঈশ্বরের লীলা বোঝা ক্ষুদ্র মানুষের পক্ষে অসম্ভব ।

মিঃ কুমার ব্যতীত সকলেই তার সঙ্গে দেখা করে যাচ্ছেন । এমনকি সর্বেশ্বরের পরিবার ও ডাক্তার বাবুর পরিবার, হক সাহেব - সকলেই আশীর্বাদ করে গেলেন । জেলার সাহেবের সময় হয়নি দেখা করার ।

শশাঙ্কর হয়তো অভিমান হয়েছে কিন্তু ক্ষুব্ধ হয়নি । সে দেখেছে পুলিশের বড় বড় কর্তারা এসেছেন; হয়তো সেজন্য ব্যস্ত আছেন ।

বিপাশা বলল - কথা দিয়েছিলে , এখন তা রক্ষা করলে ।

শশাঙ্ক বলল - আমার কি সত্যিই সাজা মকুব হয়েছে ?

বিপাশা বলল - এখন ও সব কথা থাক । ভাগ্যিস রাঁচি থেকে পালাতে পেরেছিলাম তাই বড় দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে গেলে ।

- মানে ? তুমি পাগলা গারদে ছিলে না ?

- ছিলাম; কিন্তু পাগল ছিলাম না । মানসিক অবসাদে ভুগছিলাম । ডাক্তার বাবুই তো আমাকে সারিয়ে তুললেন ।

- তুমি ডাক্তার বাবুর কাছে এলে কি করে ?

- বলেছি না , আজ শুভ দিনে ওসব আলোচনা না করাই মঙ্গল । সুযোগ মত সব জানাব ।

দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ শুনে শশাঙ্ক চমকে উঠল । বিপাশা বলল - ঢয় পেয়ো না । আমি দেখছি।

দরজা খুলে দিতেই জেলার সাহেব বললেন - কি রে ! বড্ড বাঁচা বেঁচে গেলি । আর বিপাশাই তোকে এ যাত্রা বাঁচিয়ে দিল । নইলে এতক্ষণ বেওয়ারিশ লাশ হয়ে মর্গে চলে যেতিস ।

শশাঙ্ক বলল - আপনাকে কি বলে যে ধন্যবাদ দেব ভেবে পাচ্ছিনা স্যার !

- আর ভাবতে হবে না । আর আমার ধন্যবাদের প্রয়োজন নেই । বড় ভাগ্যগুনে ডাক্তার বাবুর কৃপা আর মিঃ পাণ্ডের আনুকূল্য পেয়েছিস । অবশ্য এটা তোর ভাগ্যে নয়; এই পুরো কৃতিত্বটাই বিপাশার প্রাপ্য ।অবশ্য ডক্টর সাব, পাণ্ডেজী ছাড়াও আর একজনের নাম না উল্লেখ করলে অন্যায় হবে - মিঃ নাজিমুল হক - বর্তমান ওসি সাব। জানিস তোর জন্য ওঁর চাকরিটাই যেতে বসেছিল ?

- স্যার আপনাদের কথা মরার পরও ভুলব না ।

জেলার বললেন - ভাবছিলি আমি কেন দেখা করিনি, তাই তো ?

শশাঙ্ক চুপ থাকল ।

- এতক্ষণ ভি আই পি সামলাচ্ছিলাম । কত সাহেব-সুবোরা এসেছিলেন । তাদের বিদায় দিতে দেরী হল । এবার চলি রে। শরীরটা আর বইছে না ।

( চলবে )


Rate this content
Log in

Similar bengali story from Classics