Sayandipa সায়নদীপা

Classics


2  

Sayandipa সায়নদীপা

Classics


ভিটের টানে(তাতাইয়ের গল্প-১৫)

ভিটের টানে(তাতাইয়ের গল্প-১৫)

8 mins 742 8 mins 742

বড় রাস্তা ধরে বাইকটা ছুটছে দুরন্ত গতিতে। হুহু করে বাতাস এসে ধাক্কা দিচ্ছে হেলমেটের কাঁচে। মাথার ওপর মেঘমুক্ত নীলাকাশ। এক ঝাঁক পাখি উড়ে যাচ্ছে খুব কাছ দিয়েই। মাথায় হেলমেট থাকায় বাতাসের কোনো শব্দ শোনা যাচ্ছে না তাদের। বাইকটা আরও কিছুদূর এগোতেই হেলমেটের কাঁচটা তুলে দিল তাতাই। সামনে পাথর খাদান। এটা যদিও হেমন্তকাল,বৃষ্টি হওয়ার কথা নয়, তবুও কয়েকটা খাদানে জল জমে আছে। একপাশে কতকগুলো শুকনো কাশফুলের ঝাড়ও নজরে পড়ল। এই জায়গাটায় যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই লালচে পাথুরে মাটির সমারোহ, রুক্ষতার মধ্যেও যে এতো সৌন্দর্য লুকিয়ে থাকতে পারে তা এই জায়গাটাকে না দেখলে বোঝাই যায়না। নিজের অজান্তেই একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল তাতাই। তার খুব সাধ ছিল একবার তারা বাবা, মা, দাদু, ঠাম্মা, আর তাতাইরা ভাই বোন… এইছয়জন মিলে এখানে এসে পিকনিক করে যাবে। জীবনে কিছু কিছু সাধ থাকে যা হয়তো সারাজীবনের জন্য অপূর্ণই রয়ে যায়। পিকনিক করতে কোনোদিনও যদি আর আসাও হয়, ছয় জনে আর কোনোদিনও আসা হবে না।


    খাদান ছেড়ে মাটির রাস্তায় বাইকটা নামতেই বেশ অবাক হল তাতাই। আগে এই রাস্তার দু'পাশে ঘন শাল জঙ্গল ছিল। এখন একদিকে তো একটা অসম্পূর্ণ কারখানার কাঠামো দাঁড়িয়ে আছে, কবে জঙ্গল কেটে এসব হল কে জানে! আর অন্যদিকটাতেও তো জঙ্গলটা পিছিয়ে অনেক দূরে চলে গেছে। তাতাইয়ের মনে পড়ে গেল ছোটবেলায় নগেন দাদুর সাইকেলে চেপে ওরা ভাইবোনরা বিকেল বেলায় আসতো শাল জঙ্গলে বেড়াতে, শাল পাতা তুলে নিয়ে গিয়ে চলত পাতার থালা বানানোর প্রতিযোগিতা। রাত হলেই এই জঙ্গলে শেয়াল ডাকত। তাতাই ভয়ে ঠাম্মির আঁচল ধরে ঘুরত তখন। 


   গাড়িটা ক্যাঁচ করে একটা ব্রেক কষতেই সম্বিৎ ফিরল তাতাইয়ের,

---- কি হল বাবা?


---- একটা বল এসে লাগল চাকায়।

বাবা কথাটা বলতে বলতেই একটা বাচ্চা ছেলে এসে বলটা নিয়ে ছুট লাগাল। তাতাইয়ের দৃষ্টি বাচ্চাটাকে অনুসরণ করতেই নজরে পড়ল স্কুলটা। দেখলো একটা খড়ের চালা দেওয়া ছোট্ট জায়গায় এক সাথে অনেক বাচ্চা বসে, কেউ বা ছুটে ছুটে খেলছে। একজন মাস্টার মশাই ওদের সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে।

---- চারিদিকে এতো উন্নতি হচ্ছে স্কুলগুলোর। এই স্কুলটার এরকম অবস্থা কেন?


---- কেন আর… জানিসই তো এটা একটা পিছিয়ে পড়া গ্রাম। কারেন্টটাই এসেছে মাত্র ক'বছর হল। গ্রামে একটাও স্কুল নেই এখনও, সবাইকে পড়তে সেই কয়েক কিলোমিটার দূরের স্কুলে যেতে হয়। এটা তো বোধহয় প্রাইভেটে একজন পড়াচ্ছেন, দেখেছিস না পাঠশালার মত ব্যাপার। 


---- কিন্তু দূরের স্কুলটায় তো শুনতাম অবস্থাপন্ন বাড়ির ছেলে মেয়েরাই যায় বলে। এদিকে তো অনেক গরিব মানুষের বসতি ছিল, তারা কোথায় যায়?


---- কে জানে! তখন তো ওরা স্কুলে যেত না, আর এখন কি হয় জানিনা। অনেক বছর তো…

কথাটা আর শেষ করতে পারলেন না বাবা। একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো তাঁর ভেতর থেকে।


   তাতাইরা এখন যাচ্ছে ওদের গ্রামের বাড়িতে। যেখানে জন্মেছিল ওর দাদু, বাবা, পিসিমণি সবাই। তাতাইয়ের জন্ম শহরে হলেও ছোটবেলার বেশিরভাগটাই কেটেছে এই গ্রামে---- শাল জঙ্গলে ঘুরে, পুকুরে মাছ ধরে, বাবুই পাখির বাসা দেখে, সন্ধ্যে হলে শেয়ালের গান শুনে… সেসব দিন হারিয়েছে কবেই। গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ ছিন্ন হয়েছে। তাতাইরা অবশ্য চায়নি ছিন্ন হোক। প্রতি বছর ওরা দু'বার করে এসে থাকতো এখানে--- একবার পুজোর সময় আর একবার পৌষ পার্বনের সময়। তাতাইয়ের মনে পড়ে একটা দল ছিল এই চত্বরে, তারা খড়ের পুতুল বানিয়ে সেই পুতুলের নাচ আর গান শুনিয়ে শুনিয়ে পৌষ পার্বনের সময় গ্রামে গ্রামে ঘুরে পিঠে সংগ্রহ করত। ওদের ওই দু লাইনের ছোটো ছোটো গানগুলো শুনতে ভারী মজা লাগত তাতাইয়ের। স্মৃতি বিশ্বাসঘাতক, কোনো গানই আর সেভাবে মনে না থাকলেও একটা গানের দৃশ্য তাতাইয়ের মনে গাঁথা হয়ে রয়ে গেছে। 


"খসলা শাগের ভিতরে বাঘ বসাঁইছে

বড় বৌকে দেখতে প্যায়ে ঘাড় নড়াইছে।"


এই গানটার সাথে ছেলেগুলোর বাঘের লাফ আজও যেন চোখের সামনে ভেসে উঠল তাতাইয়ের। 


   তারপর সময়ের সাথে সব কিছু কেমন যেন ওলট পালট হয়ে গেল। ছোটবেলায় তাতাই অতো বুঝতো না। একটু বড় হওয়ার পর বুঝতে শিখল। তাতাইয়ের দাদু হোমিওপ্যাথি প্র্যাকটিস করতেন, আশেপাশের বেশ কয়েকটা গ্রামে খ্যাতি ছিল তাঁর চিকিৎসার। এমনিতেও দরদী মানুষ হিসেবেও পরিচিত ছিলেন তিনি। দাদু বরাবরই শিক্ষানুরাগী ছিলেন, তাই গ্রামে থাকলেও ছেলে মেয়ের পড়াশুনোর দিকে তাঁর ছিল সচেতন দৃষ্টি। দু'জনকেই একটু বড় হওয়ার পর বাইরে পাঠিয়ে দেন তিনি এবং বাবা আর পিসিমণিও দাদুর সম্মান রেখে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। দাদুর খ্যাতি তাও মেনে নিলেও বাবা আর পিসিমণির এই সাফল্য অনেকেই মেনে নিতে পারল না। দুর্ভাগ্য বশত সেই প্রত্যেকটা মানুষ লতায় পাতায় জড়িয়ে তাতাইদেরই আত্মীয়। একই বংশের লোক। বাইরের অনাত্মীয়রা দাদুকে এতো সম্মান করত আর এদিকে নিজের আত্মীয়রাই…! তাদের মনে সবসময় হতে থাকল আমাদের ছেলে মেয়েরা পারল না, আর ওরা পেরে গেল! তারা দাদুর নামে মিথ্যে অভিযোগ আনলো গোপনে পারিবারিক সম্পত্তি গোপনে বিক্রি করে ছেলে মেয়েকে পড়ানোর। দাদু অনেক বোঝাবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলেন। আসলে যারা অভিযোগ করছিল তারা নিজেরাও জানতো যে এই অভিযোগ অমূলক কিন্তু দাদুর মত শান্ত মানুষকে ভেতরকে ভেঙে দেওয়ার জন্য কিছু তো করতেই হবে, তাই এই মিথ্যে অভিযোগ, অপমানের বিষ তীর দিয়ে প্রতিনিয়ত আঘাত করতে থাকলো তারা। সবাই অবশ্য সমান নয়, অনেক আত্মীয়ও ছিলেন যারা দাদুর পাশে ছিলেন। তবুও এসব আর সহ্য করতে পারছিলেন না দাদু। তিনি চলে গেলেন বাবার কাছে শহরে। এই গ্রামটার সাথে ওদের বেঁধে রাখা একটা মোটা সুতো সেদিন প্রায় ছিঁড়েই গিয়েছিল। যেটুকু বাকি রয়ে গিয়েছিল সেটা ওই কিছু মানুষের ভালোবাসা এবং বাড়িটার টানে। তাই তো প্রতি বছর ওরা ফিরে আসতো। সেই আসা টুকুও একপ্রকার বন্ধ হয়ে গেল ক্রমাগত পারিবারিক অশান্তিতে। দাদু বরাবরের শান্তিপ্রিয় মানুষ ছিলেন, সম্পত্তি নিয়ে এই নোংরা খেলা তাঁর ছিল ভারী অপছন্দের। তিনি নির্দ্বিধায় সব ভাগ ছেড়ে দিলেন। ঠাকুমা অভিযোগ জানালে, দাদু বলেছিলেন,

"আমি ছেলে মেয়েকে মানুষ করতে চেয়েছিলাম, ওরা মানুষের মত মানুষ হয়েছে। ওরাই আমার সম্পদ। এর বেশি আর চাইনা আমার।"

দাদু বারবার বলতেন, "এই বেশ আছি। নিজেদের মত করে আমরা ভালো আছি। বুঝলি তাতাই সব সময় জানবি স্বাচ্ছন্দের চেয়ে শান্তি অনেক ভালো।"

দাদুর কথাটা মনে পড়তেই চোখের কোণটা ভিজে এলো তাতাইয়ের। দাদু আজ এক বছর হয়ে গেল ওদের মাঝে নেই। দাদু চলে যাওয়ার পরে পরেই ওদের গ্রামের বাড়িটা বিক্রি করার জন্য চাপ আসতে থাকে ক্রমাগত। ফোনের পর ফোনে বাবা জেরবার হয়ে যায়। বাবার অবস্থা দেখে ঠাকুমা একসময় বলেই ফেলেন, "দিয়ে দে। আপদ বিদেয় হোক।"

মানুষ কতটা আঘাত পেলে নিজের ভিটেমাটি, নিজের শ্বশুরবাড়িকে "আপদ" বলে সম্বোধন করতে পারে তা ভেবে কিনারা পায়নি তাতাই। দাদুও মুখে যাই বলুক, মৃত্যু দিন পর্যন্ত যে একটা অব্যক্ত যন্ত্রনা ভেতরে ভেতরে তাকে কুরে কুরে খেত সেটা বেশ বুঝতো তাতাই। আজ এসবের শেষ দিন। সুতোর শেষ পাকটাও আজ ছিঁড়ে ফেলতে যাচ্ছে ওরা। পিসিমনিও আসছে। হয়তো এটাই হওয়ার ছিল, হয়তো এটাই সবার জন্য ভালো।


    বাড়িটার সামনে বাইকটা দাঁড়াতেই বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল তাতাইয়ের। শূন্য খামারে আমগাছটা আজও দাঁড়িয়ে আছে। এই আমগাছটাকে ঘিরে কত স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে ছোটোবেলার। গোয়াল ঘরটাও গরু শূন্য, কেউ সেখানে এক গাদা খড় রেখে গিয়েছে। বাড়ির সামনের টিউবওয়েলটায় মরচে পড়েছে, আর ওতে জল ওঠে না নিশ্চিত। 

---- বাবা কুলিটা কোথায় গেল?

---- মজে গেছে।

বাবার গলাটা অস্বাভাবিক রকমের শুকনো। বাবার মুখের দিকে তাকাল তাতাই, মানুষটার ভেতরটা তোলপাড় হচ্ছে। নিজের ছেলেবেলাকে বেচে দেওয়া কি সহজ কথা!

কুলিটা আর নেই!!! বর্ষাকালে সেই দরজা খুললেই কুলকুল করে বয়ে চলা জলের স্রোত, তাতে চুনো মাছের আনাগোনা, কাপড় দিয়ে তাদের ধরার চেষ্টা…. কিচ্ছু নেই, সব শুকনো। যেমন করে শুকিয়ে গেছে তাতাইদের ভেতরটাও। 


  ঘরের ভেতর ঢুকতেই তাতাইয়ের চোখের সামনে যেন ভেসে উঠল এই মেঝেতেই আসন পেতে ওদের ভাত খাওয়ার দৃশ্য, দাদুর পোষা বেড়ালগুলো ঠিক এই জায়গাটাতেই দাঁড়িয়ে লেজ নাড়ত। ওই তো ওই দিকের ঘরটায় দাদু ঠাম্মি থাকতো। ওপরের ঘরে থাকতো তাতাইরা। নীচের এই ঘরটায় চাষের জিনিস তোলা থাকতো, আর ওই যে বাইরের ঘরটা, ওটাই তো দাদুর চেম্বার। ওপরের হল ঘরটায় গ্রীষ্মের রাতে ঘুমাতো ওরা। শীতকালে ওখানে হুহু করে ঠান্ডা নামত। ওই যে দেড় তলার ঘরটা এক সময় করা হয়েছিল ধান রাখার জন্য, তারপর অব্যবহৃত হয়ে পড়ে ছিল। দাদু ওকে ভয় দেখিয়ে বলতো ওই ঘরটায় দুটো ভুত পোষা আছে… মামদো আর হুমদো। আজ ওই ঘরটার সামনে দাঁড়িয়ে হুহু করে কেঁদে উঠল তাতাই। ভীষণ কষ্ট হচ্ছে তার, ভীষণ… এই বাড়িটা বিক্রি হয়ে গেলে তো আর তাদের কিছুই থাকবে না, কোনোদিনও ফিরতে পারবে না এই গ্রামে!! দাদু ঠাকুমার স্মৃতি সব হারিয়ে যাবে!! আজ হঠাৎ করে বাচ্চামেয়ের মত তাতাইয়ের মনে হল সত্যিই কি ঘরটায় মামদো আর হুমদো বলে কেউ আছে? যদি থাকে তারা পারবে না এই বাড়ি বিক্রি আটকাতে? পারবে না? 

আর কি কিচ্ছু করার নেই???


                   ★★★★★


কাল সকালে লোকগুলোর কথা বলতে আসার কথা। কিছু মানুষের ভীষণ আনন্দ হচ্ছে, হয়তো তারা ভাবছে বেশ জব্দ করা গেল ওই মৃত লোকটাকে। একটা লোক জীবনে সব কিছু পেয়ে যাবে তা কি হয়?


   পাশের বাড়ির কাকলি ঠাকুমা একটা হ্যারিকেন দিয়ে গেছেন তাতাইদের। রাতে ওনার বাড়িতেই খাবার ব্যবস্থা হয়েছে। সামনের ঘরটায় মাদুর পেতে বসে আছে তাতাই, বাবা, পিসিমণি আর পিসিমশাই। বাবা আর পিসিমণি থাকতে থাকতে নিজেদের ছোটবেলার বিভিন্ন গল্প বলে উঠছেন। তাতাই এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে বাইরের দিকে। আজকে জ্যোৎস্না, এরকমই জ্যোৎস্নাভরা সন্ধ্যেবেলা ওই বারান্দায় বসে দাদুর কাছে গ্রামের বিভিন্ন গল্প শুনতো তাতাই। ওখানে বসলে ওই কিছুটা দূরে পুকুর পাড়ের তালগাছগুলো দেখা যেত। তালগাছগুলো থেকে ঝুলতো বাবুই পাখির বাসা। দাদু মাঝে মাঝে রসিকতা করে বাবুই পাখির ঘর সংসারের গল্প বলতেন। হাঁ করে শুনতো তাতাই। এখন আর তালগাছগুলো নেই, পুকুরটাও সংস্কারের অভাবে প্রায় মজে গেছে। এতটা জায়গা, এতো বড় বাড়ি…. দাদুর স্মৃতি সব চলে যাবে হাত থেকে!  


  আজ বিকেলে হাঁটতে হাঁটতে গ্রামটা ঘুরছিল তাতাই, অনেক কিছু দেখলো, অনেক কিছু হারিয়ে যাওয়া পথে খোঁজার চেষ্টা করল। যেখানে সব গ্রাম উন্নতি করছে ধীরে ধীরে সেখানে এই গ্রামটা যেন আরও পিছিয়ে পড়ছে দিনকে দিন। গ্রামের ওই মানুষগুলো যাদের অনেক আছে তাও আরও চাই, তারা নিজেদের আখের গুছিয়ে নিতেই ব্যস্ত। গ্রামে ঢোকার পথে যে ঝুপড়িগুলো ছিল, যারা দিনমজুর খেটে বা শাল পাতার পাতা বুনে সংসার চালাতো তাদের অবস্থা যেন আরও সংকীর্ণ হয়েছে। আশিক্ষার অন্ধকারে এখন আরও বেশি করে ডুবে গেছে ওরা।


---- দাদা আর কি কোনো উপায় নেই? ওদের পুকুর বা ঐদিকটা বিক্রি করে দিই কিন্তু বাড়িটা থাক না। বাড়িটা নিয়ে তো ওদের কোনো কাজ নেই, ওরা পেলেই ভেঙে ফেলবে নিশ্চয়।


---- শান্ত হ বুড়ি। নিজেকে সামলা, আমি বুঝতে পারছি তোর মনের অবস্থা।


---- একটা উপায় কিন্তু আছে পিসিমণি।

ফ্যাসফ্যাসে গলায় বলল তাতাই। বাবা, পিসিমণি আর পিসিমশাই চমকে উঠে ওর দিকে তাকালেন।


---- আমি আজ বিকেলে ঘুরতে বেরিয়েছিলাম। খুব খারাপ অবস্থা গ্রামটার, খুব খারাপ। আমার ভেবেই অবাক লাগছে এতো বড় গ্রাম অথচ কাছে পিঠে কোনো স্কুল নেই। আচ্ছা বাবা পিসিমণি দাদু তো সবদিন মানুষের ভালোর জন্য কাজ করেছেন। তোমরাই তো বলো দাদুর কাছে কোনো মানুষ সাহায্য চাইতে এসে ফিরে যায়নি। তাহলে আমরা কি পারিনা সেই মানুষটার আদর্শকে মাথায় রেখে গ্রামটার জন্য কিছু করতে?


---- কি করার কথা বলছিস তুই তাতাই?


---- এতো বড় বাড়ি, জায়গা… এগুলো যদি আমরা গ্রামের স্কুল করার জন্য দান করে দিই? দাদুর নামে স্কুল… তাহলে? প্লিজ বাবা, প্লিজ পিসিমণি পিসো… আমার কথাটা একটু ভেবে দেখো।

 

  তাতাইয়ের কথা শোনার পর কিছুক্ষণ বাক্যস্ফূর্তি হলোনা কারুর মুখে। তারপর হঠাৎ করে তাতাইকে জড়িয়ে ধরে হাউহাউ করে কেঁদে উঠলেন পিসিমণি,

---- ওরে আমরা বড়রা যা ভাবতে পারিনি, তুই ছোটো হয়ে সেটা ভেবে ফেললি। তোকে কি বলে যে ধন্যবাদ দেব মা জানিনা, তুই আমার বাবার স্মৃতি বাঁচিয়ে রাখার জন্য এমন চমৎকার একটা উপায় বললি!

  দু'হাত দিয়ে পিসিমণি পিসিমণিকে জড়িয়ে ধরে ভেজা গলায় তাতাই বলল,

---- মানুষটা আমারও যে দাদু গো পিসিমণি।


Rate this content
Log in

More bengali story from Sayandipa সায়নদীপা

Similar bengali story from Classics