বাবা নেই
বাবা নেই
সেই দিন বাবা নেই কথাটি শুনতে হয়েছিল আরেকবার, শহরতলির এক স্টেশনের প্লাটফর্মে অপেক্ষায় বসে ছিলাম আমার গন্তব্য স্থলে যাওয়ার ট্রেনের জন্য, হঠাৎ ঘোষিত হল, সেই নির্দিষ্ট ট্রেন আসবে আধা ঘন্টা দেরিতে, অগত্যা ব্যাগপত্র নিয়ে অপেক্ষায় থাকা, মধ্য দুপুরে বেশ ভালোই ভিড়, যাত্রীদের, প্লাটফর্মে গাছের নিচে বসে রয়েছি, বাঁধানো বেদিতে, হঠাৎ দুটো বাচ্চা কে নিয়ে অনাহারক্লিষ্ট,এক মা শুকিয়ে যাওয়া চেহারায়, অসহায় মলিন চাওনিতে তাকিয়ে রইল," কিছু সাহায্য করুন, শিশু দুটি খিদের যাতনায় রয়েছে, দেখলাম মার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে, এদের বাবা নেই? না, জন্ম দিয়ে ছেড়ে চলে গেছে, আমি তো ছেড়ে যেতে পারিনি, কেন ছেড়ে চলে গেল?এদের বাবা,---- এইসব বাবারা এই রকমই করে, নারী দেহের যৌন সুখের সন্ধানে, আমার দেহের গতি হারিয়ে গিয়েছে, এদের পর পর জন্ম দিতে গিয়ে পুষ্টির অভাবে রক্তশূন্যতায় যৌবন শক্তি বিকল হয়ে গিয়েছে, তাই এইরকম দয়ামায়াহীন বাবারা পথে পথে অন্ন খুঁজে নেওয়ার শাস্তি দিয়ে গিয়েছে, পালিয়ে, আরেকটি নারীর কাছে,---- তাকেও একদিন আমার মত পথে পথে, রেল স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে নামতে হবে, ওই প্রবঞ্চক বাবার রেখে যাওয়া সন্তানদের বাঁচানোর জন্য।
ঘোষিত হলো আমাদের ট্রেন আসছে, হুইসেল বাজিয়ে প্লাটফর্মে ঢোকার মুহূর্তে, কিছু অর্থ, বাচ্চা দুটি হাতে দিয়ে এগিয়ে গেলাম ট্রেনে ওঠার জন্য, উঠতে গিয়ে পিছন ফিরে দেখলাম, শিশু দুটির মা আমার দিকে তাকিয়ে রয়েছে, চোখদুটি দিয়ে অশ্রু জল গড়িয়ে পড়ছে,তখনো, আমি কামরার ভিড়ের মধ্যে নিরাপদ স্থান নিলাম, কিন্তু মনে ভাসতে থাকলো পিতৃহারা দুটি শিশুর মায়া জড়ানো চোখ দুটি, আর তাদের মায়ের মুখচ্ছবি, ট্রেনের গতির সাথে মনকে ভারাক্রান্ত করে তুলল প্রতিদিনের এই চলার পথে।
ঘূনে ধরা সমাজের এই অমানবিক, নিষ্ঠুর, কলঙ্কিত বাবাদের কে শাস্তির বিধান করবে এই দেশে?
