Buy Books worth Rs 500/- & Get 1 Book Free! Click Here!
Buy Books worth Rs 500/- & Get 1 Book Free! Click Here!

Sayandipa সায়নদীপা

Classics


2  

Sayandipa সায়নদীপা

Classics


আগুনপাখি

আগুনপাখি

10 mins 846 10 mins 846

[এই গল্পটি সেই মানুষটিকে উৎসর্গ করলাম যে আমার বাস্তব জীবনের "শান" ---- শুভময় ব্যানার্জি, যার অনুপ্রেরণায় আমার কলম, আমার শব্দগুলো নতুন করে ডানা মেলেছিল]


 

---- উফফ কি এই সেকশন ৩৭৭ কে স্বীকৃতি দিয়েছে যে আদালত! কোনো মানে হয়?


---- কেন হয়না ঠাম্মি?


---- আরে বাবা আমাদের দেশের সংস্কৃতি বলে তো একটা জিনিস আছে নাকি?


---- কিসের সংস্কৃতি? ওরা তো ঠাম্মি কোনো সংস্কৃতির অমর্যাদা করেনি, ওরা শুধু চেয়েছে নিজের ভালোবাসার মানুষটার কাছে থাকতে।


---- থাক থাক এসব বড় বড় কথা...! তা আদালত রায় দিলেই সব হয়ে গেল নাকি? ওদের মা বাবাকে জিজ্ঞেস করে দেখুক তো তারা মেনে নিতে পারবেন কিনা?


---- ঠাম্মি এর মধ্যে মা বাবা কোথার থেকে আসছে? মা বাবা মেনে নিক বা না নিক এতে ওদের মধ্যকার অনুভূতির কোনো পরিবর্তন হবে না।


---- অনুভূতি...! ভালো বললে।


---- আচ্ছা ঠাম্মি তোমার আর দাদুরও তো একে অন্যকে ভালো লাগত তাই বিয়ে করেছিলে; তাহলে তোমাদেরই মত অন্যদুটো মানুষ যখন একে অন্যকে ভালোবাসে, একসাথে থাকতে চায় তখন তোমাদের এতো সমস্যা কিসের? ওরা তো কারুর কোনো ক্ষতি করছেনা।


---- করছে না? প্রকৃতির বিরুদ্ধে গিয়ে কিছু করা ক্ষতি নয়?


---- প্রকৃতির বিরুদ্ধাচারণ! কিভাবে ঠাম্মি? তুমি আমি যেমন প্রকৃতি থেকে সৃষ্ট, ওরাও ঠিক তেমন। ওদের মধ্যেও যা আছে প্রকৃতির দান, এমনকি ওরা যে গে বা লেসবিয়ান সেটাও প্রকৃতিই ওদের ঐভাবে সৃষ্টি করেছে।


---- বুঝলাম কিন্তু ভেবে দেখো তো আজ আমাদের পাড়ায় এরকম দুটো ছেলে কিংবা মেয়ে একসঙ্গে থাকলে পাড়ায় বাচ্চাগুলোর ওপর কি প্রভাব পড়বে?


---- কোনো প্রভাব পড়বে না যদি না ওই বাচ্চাগুলোর সামনে তোমরা ওটাকে ট্যাবু হিসেবে প্রেজেন্ট করো। যদি তোমরা স্বাভাবিক ভাবে এই সম্পর্ক মেনে নিতে পারো তাহলে দেখবে বাচ্চারা সবাইও স্বাভাবিকভাবেই নেবে ব্যাপারটাকে।


---- কিন্তু…


---- ঠাম্মি, তোমরা এভাবে কেন ভাবো? গে বা লেসবিয়ান বলে কিছু হয়না, এভাবে ভেবে দেখো না যে একটা মানুষ আরেকটা মানুষকে ভালোবেসেছে।


---- কি ব্যাপার বলতো তাতাই তুই আজকাল এদের খুব সাপোর্ট করছিস দেখছি…!


---- আমার আর কিছু বলার নেই।


                       ২


---- আজকাল বাচ্চারা যে এতো বিগড়ে যাচ্ছে তার কারণ কি জানো?


---- কি স্যার?


----ওয়ার্কিং মাদার। আজকাল মেয়েরা সবাই শিক্ষিত এবং তারা সবাই চায় চাকরি করবে। হ্যাঁ চাকরি করলে আর্থিক স্বাধীনতা আসে ঠিকই কিন্তু সত্যি বলতে সংসারটা ভেসে যায়।


---- তাহলে স্যার আপনি বলছেন আগেকার সিস্টেমই ঠিক? মেয়েদের সংসার সামলানোটাই একমাত্র কাজ?


---- নট লাইক দ্যাট তৃষা। আমি সবসময় বলি মেয়েদের শিক্ষাটা খুব জরুরি। তুমি যতদূর পড়তে চাও পড়ো। কিন্তু পড়লেই যে চাকরি করতে হবে তার তো কোনো মানে নেই না?


---- কেন স্যার?


----দেখো হাজব্যান্ড তো রোজগার করবেই, তো তোমার যদি প্রয়োজন না থাকে তাহলে মেয়েদের চাকরি করার কি দরকার? দেখো একজন বাইরে যাবে যখন তখন আরেকজনকে তো বাড়িতে থেকে ভেতরটা সামলানো উচিৎ তাই না? আর দেখো আর্থিক স্বাধীনতা চাইলে মেয়েরা বাড়িতে থেকে টিউশনি করুক বা কোনো ব্যবসা খুলে বসুক যেটা বাড়িতে থেকেই হবে।


---- স্যার উল্টোটাও তো হতে পারে। ছেলেরা কেন বাড়িতে থাকতে পারে না? ছেলেরাও তো ঘর সামলাতে পারে।


---- তাই? তা তুমি একটা বেকার ছেলেকে বিয়ে করবে তো?


---- অসুবিধা কোথায় স্যার? আসলে কি জানেন তো আমরা কিছু ট্যাবু তৈরি করে রেখেছি আমাদের চারপাশে। যেমন ছেলেদের বেকার থাকা অপরাধ, কিন্তু মেয়ে বেকার থাকলে সে সুগৃহিণী, সুমাতা হবে। আবার আমরাই ট্যাবুটা তৈরি করেছি যে মেয়েরা বেকার ছেলেকে বিয়ে করতে পারবে না, এতে সমাজে নাকি মান থাকেনা। কোনো মেয়ে নিজে রোজগার করলেও তাকে বিয়ে করতে হবে তার চেয়ে বেশি রোজগারী কোনো ছেলেকে, এদিকে ছেলেদের ক্ষেত্রে ঠিক উল্টোটা।


---- মানলাম তোমার কথা। কিন্তু আমরা যেটা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছিলাম তাতে ভেবে দেখোতো একটা ওয়ার্কিং কাপলের বাচ্চা কিন্তু দুপুরবেলা বাবা মা দুজনের মধ্যে মাকেই খোঁজে, বাবাকে নয়। আসলে নাড়ির টান বলে একটা জিনিস হয় তৃষা।


---- এর একটা কারণ বলবো স্যার? এর কারণ হল আমাদের সমাজ। একটা বাচ্চা জন্মানোর পর তার মা যদি চাকরি করে তাহলে আশেপাশের লোক এতো আহা উহু করে যে ছোটর থেকে বাচ্চাটার একটা ধারণা জন্মে যায় মা বাড়িতে না থাকাটা বিশাল ব্যাপার। ইন ফ্যাক্ট বাচ্চা জন্মানোর পর মাকে শুনতে হয় যে সে কি চাকরিটা ছেড়ে দেবে এবার! এই প্রশ্নটা কিন্তু বাবাকে করা হয়না।


---- তোমরা না নিজেদের অত্যাচারিত নিপীড়িত প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে সবেই তর্ক করো, বাস্তব ভালো কথাও বুঝতে চাও না। 



                        ৩


---- কিরে সাকিব কাল কলেজ এলি না কেন?


---- এমনিই।


---- তুই তো এমনি এমনি কলেজ কামাই করার ছেলে নোস। কি হয়েছে বলবি না?


---- মনটা ভালো লাগছিলো না রে। শুয়েছিলাম সারাদিন।


---- কেন রে?


---- কাল আমার দিদির মৃত্যুবার্ষিকী ছিল।


---- তোর দিদি! জানতাম না তো।


---- হুমম। আমারও এক দিদি ছিল। দু'বছর আগে মারা যায়। 


---- ওহ। অসুখ করেছিল?


---- খুন হয়েছিল।


---- কি!!!


---- হুমম। দিদি উচ্চমাধ্যমিক দেবে যে বছর সে বছরই মামা ভালো একটা সম্বন্ধ আনে, বাবাও বিয়ে দিয়ে দেয়। আমার দিদি পড়াশুনাতে খুব ভালো ছিল জানিস।


---- তুই বাধা দিসনি?


---- কি যে বলিস না! আমি তখন মাধ্যমিক দেবো। আমার ক্ষমতা কি বাধা দেওয়ার! জানিস তো ওরা বিয়েতে কোনো পণ নেয়নি বলে আমার বাবা দারুণ খুশি ছিল। ওরা যে কেন নেয়নি….


---- কেন?


---- কি যে বলি… আমার জামাইবাবু… আমার জামাইবাবু লোকটা ঠিকঠাক ছিলনা, মানে লোকটা আদপে পুরুষ নয়। আই হোপ ইউ ক্যান আন্ডারস্ট্যান্ড।


---- ওহ মাই গড!


---- হুমম রে। দিদি বুঝতে পেরে থাকতে চায়নি আর। কিন্তু ওরা অনেক ভুলভাল বুঝিয়ে রেখেছিল। দিদিকে দিয়ে সারাদিন ঘরের কাজকর্ম করাতো আর….


---- তোরা ফিরিয়ে নিয়ে এলি না কেন?


---- আমাদের আর্থিক অবস্থা তো জানিসই। সেদিন বোধহয় কোনো কারণে ওদের মধ্যে গোলমাল হয়েছিল, প্রায়ই গোলমাল লাগতো। সেদিন হয়তো চরমে পৌঁছেছিল, তাই ওরা… ওরা আমাদের বলেছিল গ্যাস বাস্ট করেছিল। কিন্তু আমরা জানি ওরাই ওকে মেরে ফেলেছিল।


---- তারপর? তোরা থানায় ডায়েরী করেছিলি?


---- নাহ।


---- কেন? 


---- আমাদের সে ক্ষমতা আছে নাকি? পুলিশ কোর্ট কাছারির চক্কর কাটা… এতো টাকা কোথায় পাবো?


---- বাহ্, তোরা কিচ্ছু করলি না? তোর দিদির প্রতি এরকম একটা অন্যায়কে সমর্থন করলি? তোর তো নিজের দিদি সাকিব, তাকে ন্যায় বিচার দেওয়ার জন্য কিচ্ছু করলি না?


---- সবসময় আবেগ দিয়ে সবটা হয়না তৃষা। বাস্তবটা অন্যরকম। তুই নিজেকে দিয়ে বিচার করছিস, আমার অবস্থা বোঝার ক্ষমতা তোর নেই।


---- মানলাম। কিন্তু টাকা পয়সাটাই সব নয় সাকিব। এমন অনেকে আছেন যারা বিনা পয়সায় এই ধরণের কেস লড়েন, তোরা কোনো সংস্থার সাহায্য নিতে পারতিস।


---- বলে যা তুই। বললাম তো আমাদের অবস্থা তুই বুঝবি না। ফার্স্ট জেনারেশন লার্নার যারা হয় তাদের ফ্যামিলি কিরকম সে নিয়ে কোনো আইডিয়া নেই তোর।


---- তা সত্ত্বেও আমি মানতে পারছিনা সাকিব। তোরা…


---- মানতে হবে না। লিভ ইট। 




                   ★★★★★


---- কি হল ম্যাডাম? একা একা কেন?


---- কিছু না।


---- আপসেট? ক্লাসে যা ঘটল সেটা নিয়ে?


---- নাহ। আচ্ছা শান তুই সাকিবের ব্যাপারটা জানতিস?


---- কোন ব্যাপারটা বলতো?


---- ওর দিদির ব্যাপারে।


---- হুমম কালই জেনেছিলাম।


---- বাহ্। তোর রাগ হয়নি শান?


---- হয়েছিল। মনে হচ্ছিল ওর দিদির শ্বশুরবাড়ির লোকগুলোকে শাস্তি দিতে পারলে ভালো হত।


---- আমার তো সেই সাথে সাকিবের ওপরেও রাগ উঠছে ভীষণ। অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে দুজনেই সমান দোষী। সাকিবরা কোনো স্টেপ নেয়নি ভাব একবার।


---- পরিস্থিতি ছিল না।


---- ওরা চেষ্টাই করেনি। সাকিবের কাছেই জানলাম।


---- ওরা যা ভালো বুঝেছে করেছে। 


---- প্লিজ শান, তোর থেকে এরকম রিপ্লাই এক্সপেক্ট করিনি। ভালো বুঝেছে মানে? ওর দিদি… ওর নিজের দিদি যে কিনা অতো মর্মান্তিক ভাবে মারা গেল সে কি তার বিচারটা পেল? উল্টে তার বাড়ির লোক এভাবে মুখ বুজে রইল। উফফ....


---- ওদের সে সামর্থ্য নেই রে যে ওরা লড়াই করবে।


---- তুই ভুল করছিস শান। লড়াই করতে চাইলে ঠিক করা যায়, অর্থিক সঙ্গতিটাই বড় কথা নয়। সবসময় অর্থের প্রয়োজনও হয়না। আর একটা কথা ভেবে দেখেছিস? ধর ওই লোকটা আবার একটা বিয়ে করল এবং সেই মেয়েটারও একই পরিণতি হল। এর জন্য সাকিবরাও খানিক হলেও দায়ী নয় কি? 


---- রিল্যাক্স।আজকে ক্লাসের ঘটনায় বোধহয় তোর মাথা গরম আছে।


---- শান আমি কি সবসময় ভুল কথা বলি?


---- হঠাৎ এ প্রশ্ন?


---- নাহ, আজ অমৃত স্যারের ক্লাসে স্যার দুম করে বলে দিলেন আমি নাকি বাস্তব বুঝতে চাইছি না। ডু ইউ রিয়েলি থিংক সো? আমি কি খুব অযৌক্তিক কথা বলছিলাম? 


---- আসলে দেখ…


---- নাহ তারপর সাকিবের ব্যাপারটায় সেও বললো আমি নাকি বোঝার চেষ্টা করছিনা আবার তুইও আমার এগেনস্ট এ কথা বলছিস। আমি কি সত্যিই সবসময় অযৌক্তিক কথা বলি? আমার কথার কোনো ভিত্তি থাকে না?


---- রিল্যাক্স রিল্যাক্স এতো হাইপার হোস না। 


---- না, আমি জানতে চাই। আজকাল সবসময় দেখি যে বাড়িতে, কলেজে যাই বলি সবাই… সবাই… কেমন রিয়াক্ট করে। মানে আমি যেটা ভাবি তার সাথে আমার যারা ক্লোজ তাদের চিন্তাভাবনা কখনও মেলে না। আমার ফ্রাস্ট্রেটেড লাগতে শুরু করেছে এবার। সব সময় মনে হয় আমিই কি তাহলে ভুল? আমি যা ভাবি যা বিশ্বাস করি সবই কি তাহলে ভুল?


---- তৃষা…


---- অনেস্টলি বল না শান, আজ ক্লাসে অমৃত স্যারের সাথে যখন কথা হচ্ছিল তখন কি আমি খুব ভুল কিছু বলেছিলাম? কিংবা তোরও কি মনে হয়না সাকিবদের কিছু স্টেপ নেওয়া উচিৎ ছিল?


---- তৃষা শান্ত হ। আমার কথাটা শোন।


---- বল।


---- দেখ আজ যদি আমি বলি যে তুই ভুল, এতে কি তোর এই মানসিক অশান্তির কোনো কিছু সুরাহা হবে? কিংবা ধরে নে আমি বললাম তুই ঠিক। আমি জানি এই মুহূর্তে তোর ঠোঁটের কোণে একটা চওড়া হাসি ফুটবে। কিন্তু এখানেই কি শেষ? তোর মনের যে দ্বন্দ্ব সেটা কি মিটবে? 


---- কি বলতে চাইছিস?


---- দেখ তৃষা আমরা প্রত্যেকে একেকজন আলাদা মানুষ, আমাদের চিন্তা ভাবনা আলাদা। এটা যেমন ঠিক কথা, তেমনই আরেকটা কথাও হচ্ছে যে আমরা এমন একটা দেশে বাস করি যেখানে কিছু প্রচলিত ধ্যানধারণা আছে, যেগুলো এমন ভাবে আমাদের মজ্জায় ঢুকে গেছে যে আমরা ওর থেকে বেরোতে পারিনা। আমরা আমাদের সংস্কৃতি বলে গর্ব করি কিন্তু ভেবে দেখিনা সত্যিই ওটা যদি সংস্কৃতি হয় সেটা আদৌ আমাদের পক্ষে মঙ্গলজনক তো? অমৃত স্যারের কথাই ধরে নে, স্যার যা বললেন তার সাথে কিন্তু ৮০% লোক সহমত হবে। কারণ এটাই চলে আসছে, এটাই হয় তাই এটাই হতে থাকবে।


---- কিন্তু তাহলে শিক্ষার মূল্য কি রইল?


---- দেখ শিক্ষাকে অনেক সময় অভ্যাস বা একটা প্রচলিত ধারণা ছাপিয়ে চলে যায়। আমাদের মত দেশে আবার এটা বেশি করে হয়। আমরা কোনো তর্ক করার সময় যুক্তির থেকেও বেশি আমাদের প্রচলিত ধারণাকে প্রাধান্য দিয়ে ফেলি, আমরা ওর বাইরে ভাবতে পারিনা। 


---- এটার কি তবে পরিবর্তন সম্ভব নয়? যেটা সঠিক সেটা কোনোদিনও প্রতিষ্ঠা হবে না?


---- তৃষা, ঠিক বেঠিক বড্ড আপেক্ষিক বিষয়। আমি তোর সব কথার সাথে যে সহমত হবো তা কিন্তু নয়। আমরা বড় হওয়ায় সাথে সাথে আমাদের অনেক মূল্যবোধও কিন্তু পাল্টায়, সেই মতো আমাদের অন্য ধ্যানধারণাও যে কোনো সময় পাল্টাতে পারে।


---- আমি তোর কথা কিছুই বুঝতে পারছি না।


---- দেখ তোর মনে এখন যে অশান্তি চলছে তার প্রধান কারণ তুই কনফিউজড। এক, তোর মনে হচ্ছে যে তোর আশেপাশের মানুষগুলোর সাথে তোর চিন্তা তরঙ্গ ম্যাচ করছে না।

দুই, তুই দ্বন্দ্বে পড়ে গিয়েছিস যে তোর নিজস্ব চিন্তাভাবনাগুলো আদৌ ঠিক তো!


---- হুমম।


---- তো আগেই যে কথাটা বললাম, আমরা প্রত্যেকে আলাদা মানুষ, আমাদের চিন্তাভাবনা আলাদা। আবার আমাদের দেশের কিছু ফিক্সড ট্যাবু আছে যেগুলো সংশোধনের দরকার। আর তুই চাস সেটা সংশোধন করতে। সেটা তোর ঠাম্মি বা অমৃত স্যারের ভুল কনসেপ্টই হোক বা সাকিবের পরিবারের মত মানুষগুলোকে এনকারেজ করাই হোক। ঠিক বললাম তো?


---- হুমম। কিন্তু আমি একা আর কি করতে পারি?


---- এক্সাটলি এটাই তোর সমস্যা। তুই সব সময় সব কিছুতে হাল ছেড়ে দিস। তুই সবার আগে নিজের ক্ষমতাকে সন্দেহ করিস আর সেটাই তোর ফ্রাস্ট্রেশনের উৎস। একা বলে পারবিনা তুই ধরেই নিলি?


---- তাহলে কি করব বল?


---- এক মিনিট…

………………..

এটা দেখ।


---- এটা কি?


---- খুলে দেখ।


---- চিঠি?


---- চিনতে পারছিস?


---- এটা তো…


---- হুমম, এটা সেই চিঠি যেটা তুই আজ থেকে বেশ কয়েকমাস আগে আমাকে লিখেছিলি, এটা সেই চিঠি যেটা একটা ল্যাদ খাওয়া ছেলেকে সত্যিকারের ইন্সপায়ার করেছিল ভালো করে পড়ার জন্য।


---- তুই এটা এখনও রেখেছিস!


---- হুমম কারণ এটা আমার কাছে খুব স্পেশ্যাল।


---- কিন্তু এটা দেখে কি করব?


---- তোর কি মনে আছে যে আমাদের রোজ দেখা হওয়া সত্ত্বেও তুই কেন আমাকে চিঠি লিখতে গিয়েছিলি?


---- কারণ আমি এই কথাগুলো ঠিক গুছিয়ে বলতে পারতাম না, আমি লিখলে কোনো কিছু ভালো করে এক্সপ্রেস করতে পারি…


---- এক্সাটলি, তুই লিখেছিলিস। এমন করে লিখেছিলিস যাতে করে আমার মত পাবলিকও এটা পড়ার পর ভাবতে বাধ্য হয়েছিল। 


---- তুই ঠিক কি করতে বলছিস বলতো আমাকে?


---- তোর ডায়েরীগুলো এবার বের করার সময় এসেছে। তোর কলমের জোর আছে তৃষা, তোর কলম মানুষকে ভাবতে বাধ্য করে। তাহলে তুই সেটা কেন ব্যবহার করছিস না? 

দেখ, তোর মনের যেসব চিন্তা আছে, তোর যেসব কনসেপ্ট সেগুলো তুই লোকের সামনে আন। হতে পারে অনেক লোক তোর মতোই ভাবে, তারাও হয়তো তোর মতো নিজেকে এখন একা ভাবছে। তোর কলম যদি তোদের মিলিয়ে দিতে পারে তাহলে তোর নিজেরও মনটা হালকা হবে আর যারা তোর মতো তারাও বুঝবে তারা একা নয়। এমনও তো হতে পারে যে আবার তোর কলম কারুর ভাবনা পাল্টে দিল। এর চেয়ে আনন্দের কি কিছু আছে?


---- আর যদি সবাই বিরোধিতা করে?


---- করলে করবে। বিরোধিতা তো এমনি হয়না, তারা নিশ্চয় তাদের যুক্তি দেবে। সেগুলো শুনবি, ভাববি সেগুলো নিয়ে। এমনও তো হতে পারে তুই কোনো বিষয়ে প্রেজুডাইসড। সেক্ষেত্রে বিরোধিতা কিন্তু তোর চিন্তায় স্বচ্ছতা আনবে।


---- হুমম কিন্তু এটা কিভাবে সম্ভব?


---- সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে অসম্ভব বলে কিছু আছে নাকি? ফেবুতে একটা পেজ খোল সেই সঙ্গে একটা ব্লগ খোল। একসাথে হাজার হাজার মানুষ পড়বে তোর লেখা।


---- ওরে বাবা আর লোকে যদি আমার লেখা পড়ে হাসে?


---- হাসবে না রে পাগলি, আমি বলছি তো।


---- ধুরর তুই বললে কি হবে! তুই নিজেই তো আমার ব্যাপারে প্রেজুডাইসড।


---- হাঃ হাঃ বুঝলাম। দেখ একটু আগেই বলছিলাম না তোর সমস্যা এটাই… তোর নিজের ওপর বিশ্বাস বড় কম। এরকম ভাবে চলে না তৃষা, বিশ্বাস রাখ নিজের ওপর। লাইফে রিস্ক তো নিতে হয়। আর কতদিন কোকুনে বন্দি রাখবি নিজেকে?


---- কিন্তু হঠাৎ করে এসব…


---- এক কাজ কর। শুরুটা নাহয় ছদ্মনাম দিয়েই হোক। কেউ জানলো না তোর পরিচয়, তোর লেখাই হবে তো একমাত্র পরিচয়। দেখ লোকে কি বলে তখন।


---- এটা তো ভালো বলেছিস। কিন্তু কি হবে ছদ্মনাম!!! আমি তো এসব নাম দেওয়ার ব্যাপারে খুব কাঁচা জানিস।


---- উমমম ভাবতে দে। 

……………………….

আচ্ছা, আগুনপাখি নামটা কেমন? এই নামটার মাধ্যমেই হয়তো তোর একটা নতুন সত্তার জন্ম হল!


---- ব্রিলিয়ান্ট! থ্যাংক্স এ লট শান।


Rate this content
Log in

More bengali story from Sayandipa সায়নদীপা

Similar bengali story from Classics