পুনর্মিলন
পুনর্মিলন
তেঁতুল গাছের দশ হাজারি পাতা ;
হাওয়ায় দুলে পড়ছে ঝুরু ঝুরু ,
আকাশ ভরা আমলা গাছের ছাতা ;
পায়ের নীচে করছে দুরু দুরু ।
ওইখানে এক ঝর্ণা ছিল কাছে ;
গুল্ম ছিল আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা,
মা শীতলার মন্দির এক আছে ;
সেথায় এখন শুনি ভুতের কাঁদা ।
ওঁৎ পেতে রয় বুড়বকের দল ;
নির্জনে কি মৎস্য খেলে জলে ?
এও বুঝি মা শীতলার ছল ;
গুটি বসন্ত মাছের দেহে চলে ।
আজকে সেথায় মিলন উৎসব ;
দল বেঁধে সব আসছে একে একে ;
মরসুমি কোন কোকিল করে রব ;
কাকের বাসায় উঠল হঠাৎ ডেকে ।
নিঝুম দুপুর গনগনে আঁচ গায়ে ;
সুয্যিমামা মাঝ গগনে হাসে ,
পুনর্মিলন তেঁতুল গাছের ছায়ে ;
বুড়বকেরাও কাউকে ভালবাসে ।
ফুচকা ডোবে তেঁতুল গোলা জলে ;
শাল পলাশের পাতায় পাতায় ওঠে ,
পুনর্মিলন মহুয়া গাছের তলে ;
বাঁধানো বেদী কুসুম তাতেই ফোটে ।
ঝর্ণা মানেই পাহাড় বেয়ে নামা ;
ঝর্ণা মানেই নদীর স্রোতে ভাসা ,
উপল দেখে হঠাৎ খানিক থামা ;
পরক্ষণেই খিলখিলিয়ে হাসা ।
ছিল যারা আড়ালে আবডালে ;
সুযোগ বুঝে সবাই হল জড়ো,
আটকে পড়ে সবাই মাছের জালে ;
পুনর্মিলন মানেই আবার মরো ।
স্মৃতিগুলো টগবগিয়ে ফুটে ;
রোদের আঁচে মাছের ঝোল যেন,
সূয্যিমামাও রোজ সকালেই উঠে ;
রোজই তাকে দেখা যায় না কেন ?
