বিরহ
বিরহ
হাড় বজ্জাত হাড় হাভাতে বুড়ীটা ;
শেষকালে এসে বলে কি না দেব ছেড়ে !
আমার নয় ; কামালের ছোট খুড়িটা ;
কিছু বললেই লাঠি হাতে আসে তেড়ে ।
হাড় হিম করা পাঁজর নামের খাঁচায় ;
বন্দী ছিল সাধাসিধে ওই বুড়োটা ,
বুড়ীটা এখনো নাকে দড়ি দিয়ে নাচায় ;
আমায় নয় ; কামালের ছোট খুড়োটা ।
অতি সাধারণ জীবন যাপন করি ;
এমনি ললাট জোটেনি কোন মেয়ে,
সব দেখেশুনে প্রেম বুকে নিয়ে মরি ;
এত আমগাছ; কোকিল ওঠে না গেয়ে ।
একা বসে থাকি; নেই কেউ তিনকূলে ;
রোজগারপাতি তেমনই মন্দ নয়,
পথ চেয়ে থাকি মনের জানালা খুলে ;
যদি কখনো কেউ সেই পথ পার হয় ।
দারুন গরমে ঘনঘন কাটে বিজলী ;
আকাশ কাঁপানো মাটি ফাটা রোদ বাড়ে,
বুড়ী এসে বলে হারামজাদা তুইও ম'লি ;
হাড় পাঁজরায় গরম নিঃশ্বাস ছাড়ে ।
ভয়ে সরে যাই ; মরে যাই ভারি লাজে ;
ফোকলা মুখে বুড়োটা তখন হাসে ,
' ওই দেখ বাছা কামাল গিয়েছে কাজে ;
তোরও তো উচিৎ ফসল ফলানো চাষে ।
আমি তবে সবে চোখ মেলে দেখি চেয়ে ;
আকাশ ঘণিয়ে ভেসে আসে বাদল মেঘ ,
সুমুখে আমার দাঁড়িয়ে কাজলা মেয়ে ;
ধমকে বলে মেপে দেখ দেখি বায়ুবেগ ।
আমার মনের আরশিতে পড়ে বাজ ;
জল ভেজা চোখে সামনে দাঁড়িয়ে বৃষ্টি,
নিজে ভেসে যায় ; ভাসিয়েও যায় তাজ ;
কুয়াশার মত হারিয়ে যায় আমার দৃষ্টি ।

