সোনার সংসার
সোনার সংসার
মফস্বলের দোতলা বাড়ি। ৮ জন। রান্নার মাসি নেই। আমরা ৭টায় ঘুম থেকে উঠি।
সম্পর্কের হিসাব:
শ্বশুর বাড়ি
(অর্ক ) ভাসুর/দাদাভাই = শ্রীর জেঠু, দিয়ার বাবা। কর্পোরেট জব করে । একদম গম্ভীর নয়।
(দিতিপ্রিয়া ) জা/ দিদিভাই = শ্রীর জেঠিমা, দিয়ার মা। কর্পোরেট জব করে ।
(অভ্র) হাসবেন্ড = দিয়ার কাকাই, শ্রীর বাবা। কর্পোরেট জব করে । তোমার শক্তি।
আমি,অন্তরা = দিয়ার কাম্মা, শ্রীর মা। সুভাষ অ্যাকাডেমি কলেজ এন্ড ইউনিভার্সিটি এর প্রফেসর + মেয়ে ও মহিলাদের জন্য NGO চালাই।
(অনিমেষ )শ্বশুর= ৬৯ বছর বয়স। আগে কর্পোরেট অফিসের জব করতেন, এখন রিটায়ার্ড।
( দীপান্বিতা)শাশুড়ি = ৬০ বছর বয়স। হাউস ওয়াইফ ।
ওরা নিজেদের ছেলেদের মতই আমাদের দুই জাকে সমান চোখে দেখেন ও ভালোবাসে ওরা আমাদেরকে বৌমা না বলে নাম ধরে ডাকেন ও তুই বলে সম্বোধন করে এবং আমাদেরকে তাদের শ্বশুর-শাশুড়ি না বলে মা বাবা বলে ও তুমি বলে ডাকার অনুমতি দিয়েছে।
দিয়া – ৮ বছর। শ্রী – ৪ বছর। একই স্কুলে পড়ে।
বাপের বাড়ি
( উদয়) বাপি = দোকান আছে।
( সোনালী ) মা= হাউস ওয়াইফ।
( পার্থ ) কাকা= দোকান আছে।
( প্রিয়া ) কাকিমা= দোকান আছে।
( ময়ূখ ) ভাই = ব্যবসা করে।
( প্রীতি) ভাইয়ের বউ= চাকরি করে।
( তিস্তা) ভাইয়ের মেয়ে= দশ বছর বয়স। স্কুলে পড়ে।
শ্বশুরবাড়ির গল্প
রান্নার মাসি নেই। আমি আর দিদিভাই মিলে ৮ জনের রান্না করি। আমরা বাড়ি না থাকলে মা কাজ করে। বাবাকে ওষুধ আমি আর দিদিভাই দিই। বাচ্চাদের রেডি করি আমরা দুই জা মিলে। মাকে চা আমি আর দিদিভাই মিলে দি,যখন যার সময় হয়। বাজার বাবা করে। অভ্র-দাদাভাই করে না।
সকাল ৭টা
আমিআর দিদিভাই উঠে পড়ি। বাবা ও মাও ওঠে ।
আমি শ্রী-দিয়াকে রেডি করছি।
দিদিভাই: "অন্তরা, তুমি বাচ্চাদের দেখো। আমি মায়ের চা-টা করে দিই। তারপর বাবার ওষুধ।"
বাবা ব্যাগ নিয়ে বেরোন, "আমি বাজারটা করে আনি। কী আনবো রে মা?"
আমি : "বাবা, তুমি শুধু মাছ আর সবজিটা আনো। বেশি ঘুরবে না।"
সকাল ৭:১৫
দিদিভাই মাকে চা দেয়, "মা, চা নাও ।" আমি বাবাকে ওষুধ দিই, "বাবা, বাজার থেকে এসে ওষুধটা খেয়ে নেবে।"
মা: "আমার কর্তা বাজার করে, দুই বৌমা আমাকে চা দেয়, বাবার সেবা করে।"
সকাল ৮টা
বাবা বাজার নিয়ে ফেরে। শ্রী-দিয়া রেডি। অভ্র-দাদাভাই নিজেরা রেডি হয়ে টিফিন নিয়ে অফিসে যায়। অভ্র: "অন্তরা, তুমি আর বৌদি মেয়ে, রান্না, বাবার ওষুধ, মায়ের চা – সব করো। আর বাবা বাজার করে। আমি নিশ্চিন্ত।"
সকাল ৯টা
তুমি কলেজে, দিদিভাই অফিসে।
দুপুর ১টা
তোমরা না থাকলে মা রান্না করে, শ্বশুরকে ওষুধ দেয়।
আমি আর দিদিভাই ফিরে NGO-র কাজ, রাতের রান্না করি ।
সন্ধ্যা ৭টা
আমিআর দিদিভাই রান্নাঘরে । বাবার ও মায়েরওষুধ , চা – সব আমরাই দিই।
দাদাভাই হাসে, “আমার কাজ শুধু খাওয়া। বাজার বাবা করে, সংসার অন্তরা আর দ্বিতিপ্রিয়া।
শ্রী এর বায়না
শ্রী এর বাবা একদিন অফিস থেকে ফেরার পথে আইসক্রিম নিয়ে আসে।ঠান্ডা লাগার ভয়ে আমি ওকে আইসক্রিমটা খেতে বারণ করি।যখন সবাই ঘুমিয়ে পড়ে ও আর দিয়া এসে আইসক্রিম খেতে শুরু করে।আমি একটা শব্দ পেয়ে উঠে এসে দেখি ওরা আইসক্রিম খাচ্ছে। বড়দের যতক্ষণ খেতে সময় লাগে ওদের তার আগেই শেষ হয়ে গেছে।আমি আর আমার মেয়ে দুজনেই আইসক্রিম লাভার।লা্কি্ন্তু আ ঠান্ডা লাগার পর তো আছি আমি একটু বকাবকি করলাম তাতে আর কি হবে এমনি সময় দুজনে মিলে আইসক্রিম ঝগড়া করে এখন মা বকেছে বলে আ যে দিদিয়ার সাথে মিলে আইসক্রিম খেতে শুরু করেছি এরকমই মজার কান্ডে ভরতে থাকে পরের দিনই ঠান্ডা লেগেছিল
এনজিওর নতুন নাম
আমাদের এনজিওর ওনার যিনি তার নাম অনন্যা দি। অনন্যা দি এনজিওর সমস্ত দায়িত্ব আমার হাতে তুলে দিয়ে বিয়ে করে রাজস্থান চলে গেছেন।তারপর এনজিওর সামনে একটা নতুন ঝড় আসে। সেই ঝড় সামলে উঠে তো তার বদনাম ঘুচিয়ে তাকে নতুন করে সাজিয়ে তার নতুন নাম দেওয়া হয়। সেই নামই আমরা মহালয়ার দিন সমস্ত এনজিওর কলিগরা মিলে ঠিক করছিলাম সেই সময় আমার মেয়ে শ্রী এসে মহিষ্মর্দিনী পালা শুনতে চায় তখনই আমার মাথায় একটা নাম আসে। সেই জন্যই এনজিওর নাম দেওয়া হয় মহিষ্মর্দিনী এনজিও হাউস।
আমাদের হানিমুন হয়েছিল কাশ্মীরে তাই শ্রী এখন বায়না করেছে কাশ্মীর যাবে। দিন দিন ওর বায়না বেড়েই চলেছে আর মেয়েরা তো বাবার কাছে প্রিন্সেস হয় ওর বাবার কাছে একটু বেশিই ভালো তখন মাকে না পেলেও চলবে শরীর ছোট থেকে তো কাজের জন্য ওকে বেশি সময় দিতে পারিনি তাই ও বাড়ির বড়রা আর বাবার কাছেই ও মানুষ হয়েছে তাই এরকম হয়ে যায় হয়তো আর আগের বারের লাস্ট টিপ ছিল আমাদের পুরি বন্ধু বান্ধবরা মিলে গেছিলাম ও শরীরটা খারাপ ছিল বলে ওকে নিয়ে যেতে পারিনি আ তার জন্য এখন বায়না শুরু করেছে কাশ্মীর যাবে তখন ঠান্ডা লাগিয়েছে তাই আমি বললাম কাশ্মীর না দার্জিলিং যাবো তাই ফ্যামিলিরা মিলে দার্জিলিং যাবো ফ্যামিলি বন্ধু বান্ধব আত্মীয় স্বজন সবাই মিলে আমার বাপের বাড়ি থেকে আমার আ বন্ধু বান্ধবরা আমার জায়ের বাপের বাড়ির বন্ধু বান্ধব আমার হাজবেন্ডের আ বন্ধু বান্ধব আমার দাদা ভাইয়ের বন্ধু বান্ধব এছাড়া আত্মীয় স্বজনরা সবাই মোট পঁয়ত্রিশ জন যাবো আমার ভাইয়ের মেয়ে তিস্তা আমার জায়ের মেয়ে দিয়া আর আমার মেয়ের স্ত্রী ছাড়া মোট ন জন বাচ্চা আছে কোনো বারো জন বাচ্চা হচ্ছে তাহলে আ সবাই মিলে পঁয়ত্রিশ জন যাচ্ছি এখান থেকে নিজস্ব গাড়ি কুড়িটা করা হয়েছে আ সেই কুড়িটা গাড়ি করে আমরা এয়ারপোর্টে পৌঁছাবো এয়ারপোর্ট থেকে আ প্লেন বুক প্লেনের টিকিট বুক করা হয়েছে সেখান থেকে শিলিগুড়ি পৌঁছাবো শিলিগুড়ি থেকে আ শিলিগুড়ি থেকে আমরা সোজা আ ওখানকার অভিজ্ঞ ড্রাইভারদের নিয়ে যাবো কাশ্মীর আ মিরিখ ঘুরে তারপর দার্জিলিং পৌঁছাবো আ যেহেতু বাচ্চা আছে রিস্ক নেওয়া যাবে না এর সাথে আর একটু পাঠাচ্ছি ওর সাথেই চুপ করে দেবে arithmetic park join hurray আমরা ওখানে গিয়ে happy valentine's day তে উঠবো. আগে থেকেই room book করা আছে. ওখানে আগে আমার এক দাদা গেছিলেন. ওখানে চেনাশোনা আছে. অসুবিধা হবে না. নির্বিলীগ জায়গা. বাচ্চাদের জন্য খুব ভালো. মেলে তো ঘুরতেই হবে. ওখানকার মোমো, কফি তো খেতেই হবে. আর সব থেকে ভালো sunrise. Tiger hill দেখা. সমস্ত কিছু ওখানকার যা আছে সমস্ত কিছুই দেখা হবে. আমরা সবাই সবই এখানে সমস্ত আত্মীয়স্বজন বন্ধুবান্ধব কদিনের মধ্যে চলে আসছে. এখান থেকে shopping শুরু হবে. ওর ওখানে গিয়েও shopping হবে. আমার মেয়ে তো বলেই দিয়েছে ওখানকার dress কিনবে. ওর জন্য বাচ্চাদের জন্য আমাদের নিজেদের জন্য ওখানকার dress কিনবো. Dress পরে photo shoot করবো. এছাড়াও মালা, পুতি, বেল টুপি সবও কিনবো. অনেকে দেখাটা চলবেই. আর আমার মেয়ে বায়না করেছে।আগের বারে পাহাড়ে গিয়ে রোপ ওয়ে চেপেছিল তাই এবারে রোপওয়ে নিয়ে এক্সাইটেড না,এখন টয়ট্রেন চাপবে বলেছে। টয়ট্রেন চাপতেই হবে, তার জন্য ই তো যাচ্ছি।সবাই সবার মতো করে ঘুরবে।কেউ কারোর লিডার হবে না। সবাই মিলে বাচ্চাগুলোকে দেখবে। এভাবে সবাই মিলে যাবো। প্ল্যান, প্যাকিং, টিকিট বুকিং সমস্ত কিছু আমাদের হয়ে গেছে। বাচ্চারা, আমরা সবাই মিলে খুব এক্সাইটেড।আপাতত এটাই প্ল্যান।
