দুষ্টু মিষ্টি প্রেম
দুষ্টু মিষ্টি প্রেম
বিয়ের আগে আমি শাড়ি পরতেই জানতাম না। বিয়ের পর অভ্রই আমাকে প্রথম শাড়ি পরিয়ে দেয়। *হানিমুনে গিয়ে ও আমাকে একটা খুব পাতলা, হালকা শাড়ি দিয়েছিল। সাথে ব্রা, প্যান্টি, সাটিনের নাইটি আর স্লিভলেস ড্রেসও দিয়েছিল। ওসব পরতে আমার খুব অস্বস্তি হতো, লজ্জা লাগত। আমি পড়তে চাইতাম না। কিন্তু ওকে খুশি করার জন্য, ওর আবদারে রাজি হয়ে যেতাম। ও নিজের হাতে আমাকে ওগুলো পরিয়েও দিত।* পরতে গিয়ে লজ্জায় মরে যাচ্ছিলাম। কিছুতেই পরতে পারছিলাম না। তাও ও নিজে হাতে পরিয়ে দিল। বলল, "বরের আদেশ"। প্রথম দিকে ওকে একদম সহ্য করতে পারতাম না। চড় মেরেছিলাম, ভুল বুঝেছিলাম। কিন্তু ওর ছোট ছোট কেয়ার, চুপচাপ পাশে থাকা দেখে আস্তে প্রেমে পড়ে গেলাম।
আমাদের বিয়েটাই হয়েছিল অদ্ভুতভাবে। আমি ওদের ওখানে চাকরি করতাম। দুর্গা ঠাকুর দেখতে গিয়ে ঠাকুরের ইচ্ছায় ওর হাত থেকে সিঁদুর আমার মাথায় পড়ে যায়। আরেকবার মন্দিরেও একই কাণ্ড। আমি রেগে গিয়ে ওকে চড় মেরেছিলাম, ওর বন্ধুকেও মেরেছিলাম। খুব চেঁচামেচি করেছিলাম। পরে ও ওর মা-বাবাকে দিয়ে আমার বাড়িতে প্রস্তাব পাঠায়। তখন বুঝলাম, ও অনেক আগে থেকেই আমাকে ভালোবাসত। এভাবেই বিয়েটা হয়। বন্ধুদের সবার পরে বিয়ে হওয়ায় ওকে নিয়ে সবাই বেশি খ্যাপাত।
বিয়ের পর শিউলির ঝামেলা শুরু হয়। ও অভ্রকে ভালোবাসত, কিন্তু অভ্র বাসত না। *শিউলির বিয়ে হয়ে গেছিল, তাও ও তার হাজবেন্ডকে ডিভোর্স দিয়ে অভ্রর কাছে আসতে চেয়েছিল। এটা আমি আর সহ্য করতে পারতাম না।* শিউলি প্রেগনেন্সির নাটক, কান্নাকাটি করে কাছে আসতে চাইত। আমি প্রচণ্ড জেলাস হতাম। ক্যারাটে জানতাম বলে রাগের মাথায় একদিন ওকে মেরেও দিয়েছিলাম। অনেক কষ্টে ওকে সরাতে পেরেছি।
আমাদের দুজনের কথা ছিল, একটাই বেবি নেব। তাকে মানুষের মতো মানুষ করব। মেয়ের শখ ছিল, তাই আমাদের একটা ফুটফুটে মেয়ে হলো। কিন্তু বন্ধুরা থামল না। দেরিতে বিয়ে, একটাই বেবি, রাতের সোহাগ—সব নিয়ে খ্যাপাত। আমাকে খ্যাপাত, অভ্রকেও ছাড়ত না। আমার বন্ধুরাও ওকে নিয়ে মজা করত। অভ্র খুব লাজুক। লজ্জা পেত, ভেতরে ভেতরে কষ্টও পেত।
সবচেয়ে বড় অশান্তি ছিল ড্রিঙ্ক নিয়ে। আমি এই জিনিসটা একদম সহ্য করতে পারতাম না। অথচ অভ্রর বন্ধুরা সন্ধ্যা হলেই আমাদের ঘরে আড্ডা জমাত। ওদের ক্লাবঘর আছে, আরও জায়গা আছে, তাও আমার ঘরেই এসে বসত। আমি যখন কাজে ব্যস্ত থাকতাম, ওরা লুকিয়ে ড্রিঙ্কের বোতল নিয়ে ঢুকত। আলমারির পেছনে, জামাকাপড়ের ভেতর লুকিয়ে রাখত যাতে আমি না দেখি। দুবার আমার চোখে পড়ে গেছিল। আমি প্রচণ্ড চেঁচামেচি করি, কান্নাকাটি করি। আমি রাগ করি বলে অভ্র ওদের সাথে বসতে চাইত না, কিন্তু বন্ধুদের চাপে থাকতেই হতো। দাদাভাইও ওদের সাথে মিশত, দাদাভাইও ড্রিঙ্ক করত।
ওরা অনেকবার অভ্রকে জোর করে ড্রিঙ্ক করিয়েছে। আমাকেও করাতে চেয়েছিল। ঘরে পারেনি। পরে একবার বাগানবাড়িতে নিয়ে গিয়ে আমাকে ড্রিঙ্ক করিয়েছিল। ওরা চাইছিল আমার মনের সত্যি কথাটা বের করতে। আসলে তখন বাড়ি থেকে বেবি নেওয়ার জন্য খুব চাপ আসছিল। আমরা একটু বেশি বয়সে বিয়ে করেছিলাম, তাই মা-বাবা, শ্বশুর-শাশুড়ি সবাই বলত দেরি করলে সমস্যা হবে। অভ্র লজ্জায় আমাকে মুখ ফুটে বলতেই পারত না। অনেক সাহস করে যেদিন বলল, আমি সময় চেয়ে নিলাম।
প্রথম বেবি হওয়ার দু বছর পর আবার শুরু হলো চাপ। এবার দ্বিতীয় বেবির জন্য। আমার ইচ্ছা ছিল না, অভ্ররও না। কিন্তু বন্ধুরা খ্যাপানো বাড়িয়ে দিল। দুবার ওরা আমাকে ড্রিঙ্ক করিয়েছিল, অভ্রকেও। তারপর একটা ঘরে আমাদের আটকে দিয়েছিল। সেই রাতে একটা খারাপ ঘটনা ঘটে। অভ্র ড্রিঙ্কের ঘোরে নিজের মধ্যে ছিল না। কী হয়েছিল সেটা আর মনে করতে চাই না। ওই বাগানবাড়িতেই আমাদের প্রথম বেবি কনসিভ হয়েছিল। ঘরেও হয়েছিল, সেটা অন্য গল্প।
তবে আমাদের দিনের বেলার ঝগড়া, রাগ, অভিমান যাই থাকুক, রাতগুলো ছিল শুধু আমাদের। অভ্র দিনের বেলা আমাকে তেমনভাবে ছুঁত না। খুব সংযত থাকত। কিন্তু রাত হলেই ওর অন্য রূপ দেখতাম। ঘরের আলোটা নিভিয়ে দিয়ে ও পাশে এসে বসত। কথা বলতে বলতে হঠাৎ শাড়ির আঁচলের উপর দিয়ে আমার হাতে হাত রাখত। আঙুল দিয়ে আমার হাতের রেখা আঁকত। আমি কেঁপে উঠতাম, কিন্তু সরিয়ে নিতাম না। ও সবসময় আমাকে চুমু খেত। কপালে, গালে, চোখের পাতায় চুমু খাওয়া তো রোজকার ব্যাপার। *মাঝে মাঝে কাপড়টা সরিয়ে পায়ের ফাঁক দিয়েও চুমু খেত, কাপড়টা সরিয়ে বুকের ওপরেও চুমু খেত আর বলতো, “এইসব জায়গায় চুমু খাওয়ার অধিকার শুধু আমার।”* আমি লজ্জায় ওর বুকে মুখ লুকাতাম। *মাঝে পায়েল খুলে গেলে ও দুষ্টুমি করে বলত, “পায়েল নিচে না, পায়েল ছুটছে, এখন ফেরত দাও।”* আমি হেসে পা বাড়িয়ে দিতাম, ও পরিয়ে দিত।
*আমি যখন রাত জেগে ল্যাপটপে কাজ করতাম, ও কিছু বলত না। শুধু চুপচাপ ঘরের আলোটা বন্ধ করে দিত। আমি যাতে বুঝে যাই, এবার ল্যাপটপ বন্ধ করে শুয়ে পড়তে হবে।* ওর নীরব আবদার আমি ফেলতে পারতাম না।
*আমি যখন আয়নার সামনে চুল আঁচড়াতাম, ও পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে বলত, “মাথার চুল তুমি আঁচড়াও, কিন্তু ওই জায়গার চুলটা আমি আঁচড়াবো। ওই জায়গার চুলটা আমি নিজের হাতে বেঁধে দেবো। ওই জায়গাটা শুধু আমার জন্য। অন্য কেউ যেন হাত না দেয়, দিলে তার হাত আমি কেটে দেবো।”* শুনে আমার গা শিউরে উঠত। লজ্জা, ভয়, ভালোবাসা—সব একসাথে হতো।
মাঝে মাঝে আমি যখন ড্রেস চেঞ্জ করব বলতাম, ও দুষ্টুমি করে বলত, "যেও না, আমার সামনেই চেঞ্জ করো। অসুবিধা কী?" আমি লজ্জা পেয়ে বলতাম, "ধুর, কী বলছ! আমি এখানে চেঞ্জ করব?" ও হেসে আমার কানের কাছে মুখ এনে বলত, "কেন? আমি তো তোমার বর। বর দেখবে না তো কি পাড়ার লোক দেখবে?" ওর গরম নিঃশ্বাস আমার কানে লাগত। লজ্জায়, ভালোবাসায় আমি গলে যেতাম।
রাতে অভ্র মাঝে বলত, “পাতলা শাড়িটা পরেই শোও না। তোমাকে জড়িয়ে ধরতে, কাছে টেনে নিতে সুবিধা হয়।” আবার কখনো বলত, “আঁচলটা সরিয়ে শোও, গরম লাগবে না।” *মেয়ে রাতে কাঁদলে যাতে অসুবিধা না হয়, তাই ও বলত, “ব্লাউজের হুক না, ব্লাউজটাই পুরোটা খুলে শুয়ে পড়ো না। গরমে কষ্ট হবে, আর আমারও কাছে টানতে সুবিধা হবে।”* আবার হেসে বলত, “সাবধান, সব খুলে শুয়ে আছো। হঠাৎ কেউ এসে পড়লে দেখে নেবে। আমার আগে অন্য কেউ সব দেখে নিলে আমারই লস।” আমি হেসে বলতাম, “সব খুলে শুয়েছি তো কী? আমি তো ওপর দিয়ে হাতটা চাপা দিয়ে দিচ্ছি, কেউ দেখতে পাবে না।” *আসলে আমিও জামাকাপড় খুলেই শুতাম। আর যখন আমি খালি গায়ে শুতাম, তখন ও নিজেই আমার বুকের উপর দিয়ে হাতটা চাপা দিয়ে দিত। বলত, “কেউ দেখে ফেলবে, আমি থাকতে তোমাকে কেউ দেখতে পারবে না।”* গরমের দিনে জানলা-দরজা খোলা থাকত, তাই একটু অসুবিধা হতো।
*ওর কেয়ারটা ছিল পাগলের মতো। রাত্রিবেলা সবসময় বলত, “হিস পেলে আমাকে ডাকবে, একা একা হিস করতে যাবে না। অন্ধকারে অসুবিধায় পড়ে যাবে।”* আমি হাসতাম, কিন্তু মনে শান্তি পেতাম। *আর আমি যখন পার্লারে চুল কাটতে যেতাম, তখন কানে কানে বলে দিত, “মাথার চুল কেটে আসো ঠিক আছে, কিন্তু ওই জায়গার চুলগুলো শুধু আমার জন্য রেখো। ওই জায়গার চুল শুধু আমিই কাটব, কাউকে হাত দিতে দিও না ওখানকার চুলে।”* শুনে আমি লজ্জায় মাটিতে মিশে যেতাম।
*শুধু আমাদের ঘরেই না, আমি যখন বাপের বাড়ি যেতাম তখনও ওর পাগলামি থামত না।* ওখানে গেলেও সুযোগ পেলে আমাকে জড়িয়ে ধরত, চুমু খেত। দুষ্টুমি করে বলত, “জামা-কাপড় খুলে রাখো তো, দেখি বউটাকে।” আমি ভয়ে ভয়ে বলতাম, “ধুর, মা-বাবা আছে বাড়িতে।” তাও ও শুনত না। আর আমি একা বাপের বাড়ি গেলে ও রাত্রিবেলা ঘর থেকে ভিডিও কল দিত। স্ক্রিনে আমার মুখটা দেখেই বলত, “ওই সব ঠিক আছে তো? ওখানে কেউ চুমু-টুমু খায়নি তো? ওই অধিকারটা শুধু আমার, মনে থাকে যেন।” আমি হেসে বলতাম, “পাগল একটা, তুমি ছাড়া আর কে খাবে?”
রাত গভীর হলে আমরা দুজন শুধু দুজনের হয়ে যেতাম। ও আমার কপালের চুল সরিয়ে কপালে একটা লম্বা চুমু খেত। তারপর আমার হাতটা নিয়ে নিজের বুকের উপর রাখত। বলত, “দেখো, তোমার জন্য কেমন ধুকপুক করছে।” আমি ওর বুকে কান পেতে শুয়ে থাকতাম। ওর বুকের ওঠানামা, হার্টবিট—সব আমার চেনা। ও আমার পিঠে আস্তে আস্তে হাত বুলিয়ে দিত। মাঝে আমার আঙুলগুলো নিজের আঙুলে জড়িয়ে নিত। কোনো কথা না বলেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যেত।
অভ্রর ভালোবাসা দেখানোর ধরনটা আলাদা ছিল। ও মুখে বেশি কিছু বলত না। কিন্তু রাতে যখন আমার পাশে শুত, আমার চুলে বিলি কেটে দিত। আমার হাতটা শক্ত করে ধরে রাখত, যেন আমি হারিয়ে না যাই। মাঝে ঘুমের মধ্যে আমার নাম ধরে ডেকে উঠত। আমি জেগে গিয়ে ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতাম।
এভাবেই আমাদের দিন কাটে। সকালে ঝগড়া, বিকালে অভিমান, আর রাতে অফুরন্ত ভালোবাসা। বন্ধুরা যতই খ্যাপাক, দুনিয়া যতই চাপ দিক, রাতের ওই কয়েকটা ঘণ্টা শুধুই আমাদের। ওখানে কোনো ড্রিঙ্ক নেই, কোনো শিউলি নেই, কোনো চাপ নেই। শুধু আমি আর অভ্র, আর আমাদের না-বলা ভালোবাসা।

