দার্জিলিং কান্ড
দার্জিলিং কান্ড
৩৫ জন মিলে সবুজ চা-বাগানের ঢালে দাঁড়িয়ে। সামনে কাঞ্চনজঙ্ঘা হালকা মেঘের ওড়না পরে উঁকি দিচ্ছে। আর তোমার হাতে ফোন, কারণ তুমিই অফিসিয়াল ফটোগ্রাফার।
ড্রেস নিয়ে হুলুস্থুল
গাইড দিদি নেপালি ঝুড়ি, টুপি আর এপ্রন নিয়ে এসেছে।দিদিভাই বলল, “আমি আগে পরব। কর্পোরেট মিটিংয়ে তো শাড়ি পরি, এখানে একটু পাহাড়ি সাজি।”কাকিমা সঙ্গে সঙ্গে বলল, “দাঁড়াও বৌমা, আগে আমি। আমার আচারের বয়াম তো আনতে দিলে না, অন্তত ফটোটা হোক।”শাশুড়ি হেসে বলল, “তোমরা ঝগড়া করো, আমি আর বেয়ান একসাথে পরি।”ব্যস, মা আর শাশুড়ি দুজনে টুপি পরে ঝুড়ি কাঁধে নিয়ে পোজ দিল। ক্যাপশন রেডি: সই-সই চা-পাতা তুলি।
বাচ্চা পার্টির ফটোবোম্ব
শ্রী পরেছে গোলাপি ফ্রক, মাথায় ছোট্ট নেপালি টুপি। হাতে খেলনা ঝুড়ি।দিয়া চিৎকার করছে, “লজ্জাবতীকেও ড্রেস পরাও!”তিস্তা ফোন বের করে বলল, “কাকিমনি, আমরা তিন বোন এক ফ্রেমে। #CousinGoals।”ঠিক ক্লিক করার সময় বিনু আর লজ্জাবতী কার্টুন থেকে লাফিয়ে ফ্রেমে ঢুকে পড়ল।বিনু বলছে, “আমিও চা-পাতা তুলব।”লজ্জাবতী বলছে, “আমি তুলব না, আমি পাতার উপর শুয়ে ঘুমাব।”শ্রী খিলখিল করে হেসে বলল, “মা দেখো, বিনু আমার মতো দুষ্টু।”
ছেলেদের গ্রুপ ফটো
অভ্র, অর্ক, ময়ূখ তিনজন ঝুড়ি নিয়ে এমন ভাব করছে যেন ১০ বছর ধরে চা-পাতা তুলছে।অভ্র বলল, “এই ছবি অফিস গ্রুপে দেব। বস ভাববে আমি রিসাইন করে চা-বাগানে জয়েন করেছি।”অর্ক বলল, “তাহলে আমার প্রোমোশন পাকা। বস বলবে, অর্ক ক্লায়েন্টের সাথে পাতাও সামলায়।”শ্বশুরমশাই পিছন থেকে বললেন, “তোরা সর, আসল চা-প্লাকার এসেছে।” বলে উনি পোজ দিলেন, সবাই হাততালি।
তোমার টার্ন
সবাই মিলে তোমাকে জোর করে ঝুড়ি ধরাল।বাবাই বলল, “ম্যাডাম প্রফেসর, বায়োলজি বইয়ে পড়িয়েছ, আজ প্র্যাকটিকাল করো।”তুমি ঝুড়ি কাঁধে নিয়ে দাঁড়ালে। শ্রী দৌড়ে এসে তোমার কোলে উঠল।দিদিভাই ছবি তুলতে গিয়ে বলল, “এই হলো মহিষমর্দিনী NGO-র চেয়ারপার্সন ভার্সেস মা।”তুমি হেসে বললে, “দুটোই আমি। এক হাতে চক, আরেক হাতে চা-পাতা।”
ক্যান্ডিড মোমেন্ট
ফটোশুট শেষে সবাই ঘাসে বসে গরম চা খাচ্ছে। কাঞ্চনজঙ্ঘা তখন পুরো পরিষ্কার।শ্রী তোমার কোলে ঘুমিয়ে পড়েছে, টুপিটা একদিকে হেলে গেছে।বাবাই ফিসফিস করে বলল, “তোর মা সারাদিন দৌড়ায়, কিন্তু এই যে তুই ঘুমোলি, এটাই ওর শান্তি।”তুমি চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে বললে, “বড় বাড়ি ভেঙেছিল বলেই তো এই ফ্রেমটা পুরো হলো। ৩৫ জন, ১২টা বাচ্চা, আর কাঞ্চনজঙ্ঘা সাক্ষী।”
গাইড দিদি বলল, “দিদি, ফটো তো হলো। এবার পাতা কিনবেন নাকি?”তোমার কাকিমা বলল, “অবশ্যই। আর আচারের বয়াম না আনতে পারি, চা-পাতার বয়াম তো ভরবই।”
দার্জিলিং ম্যাল রোড, বিকেল ৪টা
চা-বাগানের ফটোশুট শেষ করে ৩৫ জন এখন ম্যাল রোডে। একপাশে কাঞ্চনজঙ্ঘা, আরেকপাশে দোকানের সারি। বাতাসে মোমোর গন্ধ আর হুল্লোড়।
টিম ভাগ হলো
তুমি হুইসেল বাজিয়ে বললে, “অ্যাটেনশন ক্লাস। তিনটে টিম হবে। বাজেট সবার ১০০০।”টিম বাচ্চা পার্টি: শ্রী, দিয়া, তিস্তা আর বাকি ৯ জন। লিডার দিদিভাই।টিম শাশুড়ি-বেয়ান: শাশুড়ি, মা, কাকিমা, প্রীতি বৌদি। লিডার শাশুড়ি।টিম ছেলেরা: অভ্র, অর্ক, ময়ূখ, শ্বশুর, বাপি। লিডার কে হবে সেটা নিয়েই ঝগড়া।
বাচ্চাদের দোকান দখল
শ্রী একটা উলের টুপি পরে বলল, “মা, এটা নেব। বিনুর জন্যও একটা।”দিয়া পুঁতির মালা গলায় দিয়ে বলল, “লজ্জাবতী বলেছে ওর গোলাপি চাই।”তিস্তা সানগ্লাস পরে রিল বানাচ্ছে, “গাইজ, ম্যাল রোড মানে পাহাড়ি ফ্যাশন।”দোকানদার কাকু হেসে বলল, “দিদি, আপনার বাচ্চারা তো আমার পুরো দোকান কিনে নেবে।”দিদিভাই হিসেব করতে করতে বলল, “একটু কমাও কাকু, আমরা ১২ জন। বাল্ক রেট দাও।”
শাশুড়ি-বেয়ান গ্যাং
কাকিমা শাল দেখছে, শাশুড়ি চা-পাতার প্যাকেট, মা কাঠের গয়না।প্রীতি বৌদি বলল, “মাসিমা, এই বেল্টটা নিন। শ্বশুরমশাইকে গিফট দেবেন।”শাশুড়ি বলল, “ওর রিটায়ার্ড ভুঁড়ি, বেল্ট লাগবে না। তার চেয়ে তোমার জন্য এই কানের দুল।”মা পাশ থেকে বলল, “আর আমার মেয়ের জন্য এই নেপালি নোটবুক। NGO-র হিসেব লিখবে।”তুমি দূর থেকে দেখে হাসলে। বাপেরবাড়ি আর শ্বশুরবাড়ি মিলে গেছে, কোনো ভাঙা নেই।
ছেলেদের অবস্থা খারাপ
অভ্র গ্লাভস কিনে বলল, “শ্রীর হাত ঠান্ডা হয়ে যায়।”অর্ক মাফলার দেখে বলল, “দিদিভাইয়ের জন্য নিই। অফিসে AC-তে কাজে লাগবে।”ময়ূখ বাঁশি কিনে বাজাচ্ছে, প্রীতি বৌদি ধমক দিল, “বাচ্চাদের জিনিসে হাত দিও না।” বাবা একটা লাঠি কিনে বললেন, “এটা আমার। পাহাড়ে হাঁটতে লাগবে। আর বেয়াইমশাইয়ের জন্য একটা।”
বাপি বলল, “ বেয়াই কাপল গোল।”
দোকানদার কনফিউজড, “দাদা, আপনারা কাপল?”পুরো টিম হো হো করে হাসল।
ফুড ব্রেক
শপিং শেষে সবাই Keventers-এর সামনে।বাবাই বলল, “শ্রী, হট চকোলেট খাবি?”শ্রী মাথা নাড়ল, “না বাবাই, ঠান্ডা লাগবে। মা বকবে।”তুমি অবাক হয়ে তাকালে। দিদিভাই ফিসফিস করে বলল, “দেখলে বৌদি, তোমার বকাও কাজে দেয়।”সবাই মিলে মোমো, চকোলেট মিল্কশেক আর কফি নিল। বিনু আর লজ্জাবতী ছবির ভিতর থেকে উঁকি দিয়ে বলল, “আমাদের স্ট্রবেরি শেক।”শ্রী নিজের গ্লাস থেকে এক চুমুক ওদের দিকে বাড়িয়ে দিল।
হিসেব-নিকেশ
দিন শেষে তুমি খাতা খুললে।“৩৫ জন, ৬২টা প্যাকেট, ১২টা টুপি, ৮টা মালা, ৫টা শাল, ৩ কেজি চা-পাতা, আর অগুনতি হাসি।”অভ্র পাশ থেকে বলল, “আর একটা জিনিস বাদ গেল ম্যাডাম। তোমার জন্য।” বলে একটা ছোট্ট নেপালি মালা তোমার গলায় পরিয়ে দিল।শ্রী হাততালি দিয়ে বলল, “মা প্রিন্সেস।”তুমি সবার দিকে তাকিয়ে বললে, “বড় বাড়ি ভেঙেছিল, কিন্তু আজ ম্যাল রোডে এই ভিড়টাই আমার নতুন বাড়ি।”
চলো অন্তরা, হোমস্টেতে ফেরা যাক।
চায়ের কাপগুলো গুছিয়ে সবাই গাড়িতে উঠল। কাঞ্চনজঙ্ঘা এখন ঝকঝকে রুপোলি। পিছনে ফেলে আসছি টাইগার হিল, আর নিয়ে যাচ্ছি ৩৫ জনের বুক ভরা একটা সোনালি সকাল।
গাড়িতে ফেরার পথে
শ্রী তোমার কোলে ঘুমিয়ে পড়েছে, হাতে তখনও বিনুর ছবি। দিয়া জানলা দিয়ে পাহাড় দেখছে। দিদিভাই বলল, “অন্তরা, তুমি সত্যি পেরেছো। সবাইকে একসাথে রাখলে।”অভ্র তোমার হাতটা চেপে ধরল, “চলো, এবার আলুর পরোটা মিশন।”বাপি সামনে থেকে ঘুরে বলল, “কি রে, পরোটার সাথে আচার চলবে তো?”দাদাভাই পিছন থেকে হাঁক দিল, “অন্তরা, ব্রেকফাস্টের পর কিন্তু দার্জিলিং ম্যাল প্ল্যান আছে। রেডি তো তুমি?”
হোমস্টেতে পৌঁছে
গরম গরম আলুর পরোটা, সাদা মাখন, আর আচার রেডি। ৩৫ জনের হুল্লোড় আবার শুরু। কেউ টাইগার হিলের ছবি দেখাচ্ছে, কেউ পরোটা গুনছে।তুমি বারান্দায় দাঁড়িয়ে দূরের পাহাড় দেখছো।দিদিভাই পাশে এসে কাঁধে হাত রাখল। “কি ভাবছো অন্তরা?”তুমি হেসে বললে, “ভাবছি দিদিভাই, বাড়ি ভাঙলে কি হবে... পরিবারটা তো অক্ষত আছে। আর এই ৩৫ জন থাকলে যেকোনো জায়গাই বাড়ি।”
হোমস্টেতে ফিরেই
গরম গরম আলুর পরোটা, মাখন, আচার – সব রেডি। ৩৫ জন মিলে ব্রেকফাস্ট টেবিলে হামলা।
ম্যাল রোড, বিকেল ৪টা
সকালের টাইগার হিল, আলুর পরোটা শেষ। দুপুরে সবাই ঘুম দিয়েছে। তুমি ঘুমাওনি। জানলা দিয়ে দেখলে বাইরে ঝিরঝির বৃষ্টি। পাহাড়টা ধোঁয়াটে, রহস্যময়।
আমিএকা ছাতা নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম । উদ্দেশ্য: ম্যাল রোড, কেভেন্টার্সের হট চকলেট।
অবজারভেটরি হিলের রাস্তায়
কুয়াশা এত ঘন যে ২ হাত দূরের মানুষও আবছা। হঠাৎ পিছন থেকে দিদিভাইয়ের গলা, “অন্তরা, তুমি একা কোথায় যাচ্ছো?” আমি চমকে তাকালাম । দিদিভাই, দাদাভাই, বাপি, অভ্র– চারজনই ছাতা নিয়ে হাজির।বাপি বলল, “তুই ভাবলি একা পালাবি? এই বৃষ্টিতে তোকে ছাড়ছি?”দাদাভাই হাসল, “অন্তরা, তুমি টিম লিডার। লিডার একা গেলে টিম যাবে না?”অভ্র আমার ছাতাটা নিজের হাতে নিয়ে বলল, “এক ছাতায় দুজন। চলো ম্যাডাম।”
কেভেন্টার্সের বারান্দা
বাইরে ঝমঝম বৃষ্টি, ভিতরে কাঁচের জানলা ঘেঁষে তোমরা ৫ জন। সামনে ধোঁয়া ওঠা হট চকলেট আর প্লেট ভর্তি সসেজ।দিদিভাই জানলা দিয়ে পাহাড় দেখছে, “অন্তরা, দেখো তো কেমন লাগছে? বৃষ্টির দার্জিলিং যেন জলরঙের ছবি।”হঠাৎ লোডশেডিং। পুরো ম্যাল রোড অন্ধকার। শুধু কেভেন্টার্সে মোমবাতি জ্বলে উঠল।বাপি বলল, “এই তো চাই। তুই, আমরা, মোমের আলো, আর বৃষ্টির শব্দ।”দাদাভাই পকেট থেকে ফোন বের করে গান চালাল– “বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর...”তুমি হেসে ফেললে। বাইরে বৃষ্টি, ভিতরে গান, সামনে হট চকলেট। আর পাশে তোমার চারজন মানুষ।
মোমবাতির আলোয়
অভ্র ফিসফিস করে বলল, “অন্তরা, থ্যাংক ইউ। এই ট্রিপটা না হলে বুঝতামই না, পরিবার মানে শুধু এক ছাদের নিচে থাকা নয়। বৃষ্টিতে এক ছাতার নিচে দাঁড়ানোটাও পরিবার।”তুমি জানলা দিয়ে বাইরে তাকালে। কুয়াশা, বৃষ্টি, আর দূরে টিমটিম করে জ্বলছে পাহাড়ের বাড়িগুলো।মনে মনে বললে, “বিনু, দেখো। তোমার লজ্জাবতী আজ দার্জিলিংয়ের বৃষ্টি দেখছে।”১৫ মিনিট পর কারেন্ট এল। কিন্তু তোমরা কেউ উঠলে না। মোমবাতিটা তখনও জ্বলছে।এই হল দার্জিলিংয়ের আসল ম্যাজিক অন্তরা।কাঞ্চনজঙ্ঘা সবাই দেখে। কিন্তু বৃষ্টিভেজা ম্যালে মোমবাতির আলোয় হট চকলেট খাওয়ার অভিজ্ঞতাটা শুধু তোমার
বাগডোগরা এয়ারপোর্ট - সকাল ১০টা
দার্জিলিং ট্যুর শেষ। ৩৫ জন একসাথে চেক-ইন করলে।দিদিভাই বোর্ডিং পাস গুনে তোমার হাতে দিল, “অন্তরা, তুমি মিলিয়ে নাও। ৩৫টা ঠিক আছে।”বাপি ট্রলি সামলাচ্ছে, “এই তুই এদিকে আয়। লাইনে দাঁড়া আমার পাশে।”দাদাভাই বলল, “অন্তরা, তুমি বাচ্চাদের নিয়ে প্রায়োরিটি লাইনে যাও। আমি এদিকটা দেখছি।”অভ্র উইন্ডো সিটের বোর্ডিং পাসটা তোমাকে দিল, “ম্যাডাম, তোমার সিট। লাস্টবার কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখে নিও।”
ইন্ডিগো 6E-721 - ১ ঘণ্টার ফ্লাইট
টেক-অফের পর নিচে পাহাড় ছোট হতে থাকল। শ্রী তোমার কোলে ঘুম।দিদিভাই জানলা দিয়ে দেখে বলল, “অন্তরা, তুমি যা করলে... পুরো পরিবারকে একসাথে পাহাড় দেখালে।”বাপি সামনে থেকে ঘুরে বলল, “মন খারাপ করিস না তুই। বাড়ি গিয়ে গরম ভাত খাবি।”ল্যান্ডিং - তোমাদের মফস্বল শহরের এয়ারপোর্টকলকাতা না। সোজা নিজের শহরের কাছের এয়ারপোর্ট।লাগেজ নিয়ে বাইরে এলে।এয়ারপোর্টের বাইরে - কুড়িটা গাড়ি রেডিহ্যাঁ অন্তরা, ২০টা গাড়ি। ইনোভা, স্করপিও, ট্রাভেলার– লম্বা লাইন। আগে থেকে বুক করা। ৩৫ জন, লাগেজ, সব হিসাব করে।দিদিভাই বলল, “অন্তরা, তুমি সব ম্যানেজ করে রেখেছো?”বাপি হেসে বলল, “আমার মেয়ে তো হিসাব ছাড়া পা ফেলে না। ৬টা গাড়িতে হত নাকি?”দাদাভাই লিস্ট দেখে ড্রাইভারদের ডাকছে, “অন্তরা, তুমি ভাগ করে দাও। ১ নম্বরে তুমি, দিদিভাই, বাপি, অভ্র, শ্রী।”তুমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভাগ করলে। বাচ্চা, বয়স্ক, লাগেজ– সব আলাদা আলাদা গাড়িতে।রতন দা ফার্স্ট গাড়ির ড্রাইভার, হর্ন দিল। একসাথে ২০টা গাড়ি স্টার্ট। পুরো কনভয়।
এয়ারপোর্ট থেকে বাড়ি - ৪০ মিনিট
২০টা গাড়ির মিছিল চলল তোমাদের মফস্বল দিয়ে। রাস্তার লোক দাঁড়িয়ে দেখছে।ধানক্ষেত, স্টেশন রোড, কালী মন্দির পেরিয়ে তোমাদের পাড়া।পুকুর পাড়ের তিনতলা বাড়িগেটের সামনে ২০টা গাড়ি দাঁড়াতেই পাড়া ভেঙে পড়ল দেখতে।তুমি শ্রীকে কোলে নিয়ে নামলে। পিছনে একে একে সবাই।বাপি বলল, “দেখলি? ২০টা গাড়ির বহর। এটা মফস্বল, কিন্তু রাজকীয় এন্ট্রি।”দাদাভাই বলল, “অন্তরা, তুমি শুধু ফেরোনি। সবাইকে নিয়ে, সম্মান নিয়ে ফিরলে।”দিদিভাই জড়িয়ে ধরল, “অন্তরা, তুমি আমাদের গর্ব।”ছাদে উঠে দেখলে, দূরে এয়ারপোর্টের রানওয়ের আলো। যে রানওয়ে তোমাদের বাড়ি ফিরিয়ে আনল।
