রাতের রিতশা | 18+
রাতের রিতশা | 18+
কাহিনী : রাতের রিতশা
কলমে : আমি রাহুল রায়
নির্মানে : বইবেশ
অন্ধকার রাস্তাঘাট, অনবরত বৃষ্টি ঝরে পড়েছে আকাশ থেকে,
রাস্তায় দুধরে শুধু বন এবং জঙ্গল।
মানুষ কিংবা কোন থাকার আশ্রয়ের চিহ্নমাত্র নেই।
মাথা বাঁচাতে রাস্তার থেকে খানিকটা দুরে একটু আলো দেখতে পেলাম, ভাবলাম সেখানেই কিছুটা আশ্রয় হতে পেতে পারি,
আর যাই হোক মাথা বাঁচানোর মতো কিছুটা ঠাই পাওয়া যাবে।
একটু একটু করে যখন এগিয়ে এলাম সেই আলোটার দিকে,
দেখতে পারলাম আসলে সেটা একটি নিস্তব্ধ শ্মশান।
মাথার চুল বেয়ে জল ঝরছিল,
তাই চোখের উপর হাত দিয়ে জলটাকে ভালো করে মুছে নিয়ে, এগিয়ে গেলাম সেদিকে…
শ্মশানটি ভীষণ ছোট এবং নির্জন, একবার দেখলেই বোঝা যায় বোধহয় সপ্তাহে এক দুটো মরা পোড়াতে আসে, কিংবা তাও আসে কিনা সে বিষয়ে সন্দেহ আছে বেশ।
সামনের একটু টিনের ছাউনি দেখে তার নাচে এসে দাঁড়ালাম,
বেশ ঠান্ডা আবহাওয়ায় তাই পকেট থেকে একটা সিগারেট এবং দেশলাই বেশ করে তা জ্বালালাম।
এরপর নজর রাখলাম চারদিকে,
শ্মশানকে ঘিরে রয়েছে একটা বড় গাছ, রাতের অন্ধকারে ঠিক বুঝতে পারলাম না যে সেটা কিসের গাছ কিন্তু আকার এবং ধরন দেখে মনে হলো যেন সেটা বট কিংবা পাকুরের হবে।
সেই গাছটির খানিকটা দূরে রয়েছে একটি মন্দির।
ভেজা ভেজা অবস্থায় এগিয়ে গেলাম সেদিকে, এখানে বড় গাছটি থাকার কারণে বৃষ্টির জল খুব কম পড়ছে।
এগিয়ে গিয়ে দেখলাম, মন্দিরের ভিতরে দেবীর বিগ্ৰহের সামনে রাখা একটু ধুপ এবং একটা উঁচু করে রাখা বড়ো জ্বলন্ত প্রদীপ, মোটা শলতা ও বেশ খানিকটা তেল ঢালা তাতে।
বোধহয় কোন পুরোহিত রোজ এসে দুবেলা মায়ের আরতি করে যায়।
দুহাত জোর করে মাকে প্রনাম করলাম,
বিরাট বড়ো সেই দেবীর বিগ্ৰহটি এবং দেবীর দুই চোখ যেন বেরিয়ে আসতে চাইছে সমস্ত পাপের বিনাশ করতে।
দেবীর সামনে ভালো করে চোখ ফেরাতেই দেখলাম, মায়ের বিগ্ৰহের সামনে ছড়িয়ে রয়েছে অজস্র লাল টাটকা রক্ত, কিসের রক্ত ওগুলো?
কোন আহত জীবজন্তুর হবে হয়তো !
নাকি মানুষের ?
ঝড়বৃষ্টির রাতে নির্জন অন্ধকারে সবকিছুই খুব সাধারণ ভেবে মেনে নেওয়া বড্ড কঠিন,
কারণ নির্জন রাতে একাকীত্বতা বুঝিয়ে দেয় ভয় এবং দেখিয়ে দেয় সাহসিকতার পরিচয়।
এখন বৃষ্টি একটু ধরেছে, ঠিক এমনি সময় খেয়াল করলাম শ্মশানের ঠিক মাঝখানে যেখানে সিমেন্ট দিয়ে বাঁধানো থানের মাঝের চারটি লোহার শিক,
যেখানে কাঠ রেখে মৃতদেহ পোড়ানো হয়, যেখানে জীবনের সমস্ত আশা, আকাঙ্খা, জেদ, অহংকার সব পুড়িয়ে ধুলিসাৎ করে দেওয়া হয়,
সেখানে পড়ে রয়েছে একটা দেহ… নগ্ন মেয়ের দেহ !
ভালো করে দেখতে একটু সামনে এগিয়ে এলাম,
এত ঝড়বৃষ্টির রাতে এই নির্জন অন্ধকার শ্মশানে একটি মেয়ে, বেচে নাকি মড়ে ?
মেয়েটির নাকের সামনে হাত রেখে দেখলাম, না… নিঃশ্বাস নিচ্ছে না, মানে মৃত।
শরীর বেশ ঠান্ডা বোধহয় অনেকক্ষণ আগেই মারা গেছে মেয়েটি,
সারাগায়ে একটাও ক্ষত চিহ্ন কিনবা দাগ নেই।
কিকরে মারা গেলো মেয়েটি ?
আর তার শরীরের পোশাক গুলো কোথায়, আশপাশটা ভালো করে লক্ষ্য করলাম, না কোথাও কোনো পোশাক পড়ে নেই।
হঠাৎ কোথা থেকে একটু মেঘ গর্জন করে উঠলো আকাশে, আর সেইসঙ্গে জেগে উঠলো আমার পুরুষত্ব মনের লালসা,
আমার নিজের অজান্তেই আমার দুটো হাত চলে গেলো সেই নীরব মেয়েটির দেহের বুকের উপর।
উত্তেজনায় নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলাম না, আমার মনে তখন কাজ করছিল এক অমানবিকতা।
যেন কোনো এক মায়া আমাকে মায়াবী করে তুলেছে সেই শরীরের দিকে।
নিজের শার্টের বোতাম এক এক করে খুলতে লাগলাম, যেনো সেই বোতামের সাথে একটু একটু করে খুলছিল আমার সাধারণ মানব জ্ঞানের পরিস্থিতি।
শার্টটি খুলে ফেললাম, তারপর তা ছুড়ে ফেললাম শ্মশানে বাঁধানো থানের একেবারে শেষ প্রান্তে।
এরপর উঠে দাঁড়ালা, নিজেকে যেনো আর সামলাতে পারলাম না, খুলে ফেললাম নিচের পেন্টর বেল্ট।
আর দেরি করতে পারছিলাম না, তাই কোনমতে নিজের পেন্টটা অর্ধেক খুলেই লুটে পড়লাম সামনে শোয়ানো সেই মেয়েটির ওপর।
এক হাতে আঁকড়ে ধরলাম তার বুক আর আরেক হাতে আঁকড়ে ধরলাম তার যোনী।
আজ বাঁধা দেবার কেউ নেই, আর না আছে আটকানোর।
শরীরের সমস্ত টুকু শক্তি দিয়ে নিজেকে অর্পণ করলাম মেয়েটির সেই মৃতদেহে।
মত্ত হয়ে উঠলাম এই কামসুখে, শিতল ও নিথর দেহটা যেনো আমায় আরো উত্তেজনায় করে তুলছিল।
ঝড়বৃষ্টির এই শীতল রাতেও আমার কপালে ফুটে উঠতে লাগলো বিন্দু বিন্দু ঘাম…
কিন্তু আমি থামলাম না, নিজের কামরস সম্পুর্ন ভাবে উর্গে না দাওয়া পর্যন্ত।
বরং মেয়েটির বুকের উপর থাকা হাতটি আরো জোড়ালো হয়ে উঠলো, আমার উত্তেজনা ক্রমে ক্রমে আরো বেড়ে উঠতে লাগলো।
আমার মুখ থেকে অস্ফুট আহ্… হু… জাতীয় আওয়াজ বেরিয়ে আসতে লাগলো।
ঠিক এমনি সময় খেয়াল করলাম সেই মৃত মেয়েটির শরীর ধীরে ধীরে শক্ত হয়ে আসতে লাগলো,
ভালো করে চোখ খুলে দেখতে পেলাম, কোথায় সেই মৃত মেয়েটি,
আর চমকিত হলাম তখন যখন দেখলাম আমি যার ওপর শুয়ে ছিলাম সেটি হলো দেবীর বিগ্ৰহ।
আমি চমকে উঠলাম, ভয়ে আমার বুক কেঁপে উঠলো, আমি উঠে দাঁড়ালাম।
আমার মনথেকে তখন সমস্ত সুখ সরে ভয়ের দ্বার হয়ে খুলে গেলো।
এরপর আমার চোখ গেলো দেবীর মন্দিরে যেদিকে তাকানোর পর বুঝলাম আমার চমকানোর আরো বাকি ছিল।
কারণ দেবীর মন্দিরে কোনমতে ঠেস দিয়ে দাড় করানো আছে সেই অপরুপ সুন্দর মেয়েটির মৃতদেহ।
নীথর চোখ বন্ধ করে শুধুমাত্র দেওয়াল ও কয়েকটি বাঁশের বাধ্যমে দেহটি দাড় করানো।
আর সেই মৃত মেয়েটির যোনী থেকে পায়ের ওপর বেড়ে পড়ছে কাচা টাটকা রক্ত।
ধন্যবাদ


