AYAN DEY

Classics Fantasy Inspirational


3  

AYAN DEY

Classics Fantasy Inspirational


লক্ষ্য

লক্ষ্য

9 mins 685 9 mins 685

পায়ে পায়ে বল নিয়ে দুরন্ত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে ছেলেটা । গোটা ভারত আজ ওর দিকে তাকিয়ে । উত্তেজিত হয়ে উঠছেন কালো কোর্ট গায়ে ছেত্রী । এই একটা গোল আর এত এত বছরের জ্বালা , অভিমান , ক্ষোভ - তার নিষ্পত্তি । বিপক্ষের ডিফেন্ডার ঠিক পা বাড়িয়ে সামলে নিলো । ছেত্রী ক্ষিপ্রতার সাথে মাঠের মধ্যে আসতে যাচ্ছিলো । খেলা আর দশ মিনিট বাকি । এখনও বরাবর ১-১ । আর্জেন্টিনাও জেতার জন্য মরিয়া । বৃদ্ধ মারাদোনা লাঠির ভরেও খেলা দেখতে এসেছেন । 

একি মাঠে ফিজিও কেন ? ও হো এই কি কারণ যার জন্য ছেত্রী মাঠে ছুটে যাচ্ছিলেন । মেন স্ট্রাইকার কুনাল মেহতা আহত , পা দিয়ে রক্ত প​ড়ছে । এখন উপায় । অথচ সুনীল জানেন এই মুহূর্তে কুনালের বদলে যে কেউ নামলেই এই ম্যাচ টাইব্রেকার হবে ।

কে এই কুনাল ? ভারতের লজ্জার এতগুলো দিন ঢেকে কী করে ভারত প্রথমত ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ২০৫৪ তে সুযোগ পেলো , তাতে গ্রুপ লেভেল খেলে ফাইনালেও উঠলো , এই গল্প জানতে চলুন কুনালকে একটু চিনে নেওয়া যাক ।কুনালকে জানতে গেলে তার জন্ম থেকে এখন অবধি সবটাই বলা দরকার ।

বেনারস ২০৩০ :

বেনারসের নামজাদা পতিতা কমলিবাঈ । শরীরের বিনিময়ে কমলিবাঈয়ের জীবন দারুণ চলছে । মাত্র কুড়ি বছর ব​য়সে নিজের কাকার ঘৃণ্য নজর থেকে বাঁচতে বাড়ি ছেড়ে পালায় কমলা বসু নামের মেয়েটি । কোলকাতা ছেড়ে এধার ওধার ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ এক শেঠের চোখে পড়ে কমলা । শেঠ প্রস্তাব রাখতেই দুবার ভাবেনি কমলা ।

গ্রীষ্মের দুপুর , কমলিবাঈ অত্যন্ত শরীর খারাপ নিয়ে শুয়ে । রুমাবাঈ এসে জিজ্ঞেস করতেই বলে যে বারবার বমি হচ্ছে ।

রুমাবাঈ একটু খুঁটিনাটি জিজ্ঞাসা করতেই সবটা স্পষ্ট হলো কমলির । 

রুমাবাঈ মাথা চাপড়াতে চাপড়াতে বললো , " হায় হায় ! মেরি বুলবুল কো ইয়ে ক্যায়া হো গয়ি ! পেট মে তু পাপ পাল রহি হে , উসকো ক্ষতম করনা হোগা । "

কমলিবাঈ আতঙ্কে রে রে করে উঠলো । বললো , " নেহি নেহি , উসকো দুনিয়া ম্যায় আনা হ্যায় । "

রুমাবাঈ বলে , " ইয়ে ধান্দা চৌপট হো জায়েগি তেরি । কওন রাখেগা খয়াল ? মে বোলতা হুঁ বিহারী শেঠ সে বাত করকে ডক্টর লে আ অওর উসকো ভিদা কর । "

কমলি এবার খানিক উত্তেজিত হয়ে বললো , " কাভি নেহি , কোহি ভি মেরি অওলাদ কো ছুঁয়া তো কাটকে গঙ্গা মাইয়া কে গোদ মে শুলা দুঙ্গি । শালি , দো কওরি কি ল​ড়কি , মা হোনে কি কিমত তু ক্যায়া সমঝেগি । "

রুমাবাঈ বললো , " আচ্ছা , ঠিক হ্যায় , তেরি ইয়ে তেজ কাঁহা যাতি হ্যায় দেখুঙ্গি যব উসকো বাপ কা নাম পুছা যায়েগা ! সিধি বোলতি হু , উসলিয়ে দিল পে লগতি হ্যায় । মর তু তাবায়েফ । "


সকলের অমতে জন্ম দিলো একটি পুত্রসন্তানের । কমলি ওর নাম দিলো কুনাল । জন্মের কিছুমাস পর যখন বাচ্চারা হাঁটতে শেখে তখনও কুনাল হাঁটতে শিখলো না । রুমাবাঈ একদিন কথা শুনিয়ে গেলো , " নাজায়েজ কবুতর কভি ভি উড় নেহি পাতি ! "

ডাক্তার দেখালো কমলি । জানা গেলো রিকেটে আক্রান্ত ছোট্ট কুনাল । 

বেনারসের ঘিঞ্জি পরিবেশে সাধারণ মানুষের বাচ্চাই অনেক সম​য় অপুষ্টি রোগে ভোগে তো কমলি কোন ছাড় । ও যেখানে থাকে প্রচুর প​য়সা রোজগারেও তার উন্নতি হয়নি । এখনও খোলা স্থানে শৌচক্রিয়া করতে হয় । থাকার ঘর বেশ ছোট । একসঙ্গে ১০ জনে থাকে । অনেকবার মন চেয়েছে বড়ো একটা ফ্ল্যাট কেনে কিন্তু প​য়সা জোগাড় হলেও সভ্যস্থানে ঘর দিতে চায় না কেউ ।

যাই হোক , সে কুনালকে ডাক্তারের দেওয়া ভিটামিন ডি সম্বলিত ওষুধ , পায়ে মালিশ ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে লাগলো । যখন থেকে কথা বলতে শিখলো কুনাল , তখন থেকেই সে বলতে লাগে , " মা , ম্যায় চলুঙ্গা ক্যায়সে ? "

ক্রমে ক্রাচের ব্যবস্থা করলো কমলি । কুনাল ক্রাচ নিয়ে কোনোক্রমে হাঁটতো চলতো । অন্য মেয়েরা কমলিকে নিয়ে মজা করতো । তার কাছে বাবুরা এসেও চলে যেতে লাগলো ।

তনুজ মেহতা বলে এক ব্যবসায়ী প্রতিমাসে একবার আসতেন কমলির কাছে । উনি সকলের চেয়ে আলাদা । আজ পর্যন্ত কমলিকে ছুঁয়ে পর্যন্ত দেখেননি । শুধু সুরাপানের টান আর নাচ দেখার শখ । তিনি কমলিকে একদিন বললেন , " কুনাল কি জিমেদারি মুঝে সঁপেগি কমলি ? "

পেয়ালায় মদ ঢালতে ঢালতে কমলি অথাৎ চমকে উঠলো , বললো , " ক্যায়া ? কুনাল কি জিমেদারি ... আপ লেঙ্গে ? "

তনুজ বললো , " হাঁ লুঙ্গা । আপনা বেটা য্যায়সে পালুঙ্গা । "

অঝরে কেঁদে ফেললো কমলি । তনুজের কথায় সম্মতি দিলো সে ।

তনুজ কুনালকে বড়ো করার গুরুভার নিলো । পাঁচ বছর ব​য়স , তখনও কুনাল ক্রাচ নিয়েই চলছে ।

২০৩৬ :

কুনালের জন্মদিনে শহরের নামী ব্যবসায়ীদের ডেকেছেন মেহতা । কুনাল গিফট পেয়ে আনন্দে ভরপুর । মা এসেছেন , মায়ের কাছে আদর খেলো কুনাল । 

পরদিন সকালে একটা গিফটে দেখলো একটা ফুটবল । ফুটবলটা নিয়ে নেড়েচেড়ে যখন দেখছে তখনই ঘরে তনুজ প্রবেশ করলো ।

তনুজ বলল , " আরে ফুটবল কন ভেজা হে ? জানতা নেহি কেয়া ... " এটুকু বলেই থামতে হলো |

এই গিফট যে স্বয়ং মা তাকে দিয়েছে | সেই রাতেই দেখা করতে গেলেন কমলির সাথে |

ফুটবল দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে কমলি বলে যে সে তাকে হাটতে দেখতে চায় , দৌড়োতে দেখতে চায় |

সে আরও বলে , " জনম সে মা আগর উসকি বেটে কো অপাহিজ দেখতে রহে তো উস পর ক্যায়া বিঁধতি হ্যায় আপ নেহি জানতে । ভো ফুটবল সে হি চল পড়েগা , দৌড় পড়েগা ... দেখনা মেহতা সাব । "

স্কুলে ভর্তি হলো কুনাল প্রতিবন্ধকতা নিয়েই । রোজ স্কুল থেকে ফিরে আলমারি থেকে ফুটবল নামিয়ে পায়ের উপর রাখতো । মেহতাবাবু আড়ালে কেঁদে চলতেন ।

একদিন রবিবার মেহতা চা পান করছেন আর কাগজ প​ড়ছেন । পায়ের কাছে কিছু ঠেকতে সেটা পা দিয়ে ঠেলতেই বুঝলেন ওটা ফুটবল । কাগজের পাতা থেকে চোখ সরিয়ে সামনে তাকাতেই রীতিমতো বিস্মিত হয়ে উঠলেন । কুনাল দাঁড়িয়ে বিনা ক্র্যাচে । দৌড়ে এসে ফুটবল নিয়ে গেলো । 

" কুনাল ! বেটে তু চল সকতা হ্যায় ! " বলে কোলে তুলে নিলেন কুনালকে আর সাথে সাথেই মায়ের কাছে নিয়ে গেলেন ।

কুনাল প​ড়াশুনায় মোটামুটি করে ফুটবলের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে লাগলো । এর মধ্যে ডাক্তার তাকে ৮ বছরে রিকেট মুক্ত বলে দিয়েছেন । ক্রমে স্কুলের ফুটবল টিমে রেগুলার প্লেয়ার হয়ে উঠলো কুনাল ।

২০৪২ :

সুনীল ছেত্রী শেষবারের জন্য ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ কোয়ালিফায়ার খেলছেন । চিলির সাথে জিতলেই প্রথম ওয়ার্ল্ড কাপ খেলবে ভারত । 

১২ বছরের কুনাল তখন ফুটবল বেশ বোঝে । স্কুল ফেরত ম্যাচ দেখতে বসে প​ড়লো । মেহতা জিও কাজ সেরে জলদি টিভির সামনে বসে পড়লেন । প্রথম গোল দিয়ে ৬০ মিনিটের মাথায় ছেত্রী গেঞ্জি খুলে মাঠ ঘুরছেন । ব্রাজিলবাসী ভারতীয়রা তখন উন্মাদ । ৭০ মিনিটে একটা দারুণ পেনাল্টি সেভ করলো ভারত । ঠিক ৮৯ মিনিট , সুনীলের পায়ে লেগেই একটা গোল পেয়ে গেলো চিলি । ১-১ শেষ হলো , সবকিছু মিলিয়ে ভারতের কোয়ালিফাই করা হলো না । 

কুনাল সে রাতে ঘুমোতে পারেনি । গোটারাত ছটফট করেছিলো , গুমড়ে গুমরে কেঁদেছিলো ।

২০৪৫ :

কমলি বেনারসের পতিতাপাড়া ছেড়েছে ৫ বছর হলো । মেহতার বাড়িতেই থাকে সে । মেহতা তাকে নিজের স্ত্রীর মর্যাদা দিলেও সমাজ তাকে এখনও ঘৃণ্য চোখেই দেখে । আজও মনে পড়ে স্টেশনে ঘোরাকালীন তাকে করা এক শেঠের প্রস্তাব , তখন না করলে তাকে সমাজের বাকিরা বিনিপ​য়সায় ছিঁড়ে খেতো । সে মরতো না খেয়ে । আর আজ সুস্থ জীবনে ফিরতে গেলেও সমাজের অনুমতি লাগবে ।

মেহতার বাড়ি প্রায়শই অনেকে কমলির খোঁজে আসতো কিন্তু কমলি তাড়িয়ে দিতো । একদিন একটা লোক তেমনই মেহতার অনুপস্থিতিতে এসে কমলির উপর চ​ড়াও হ​য় । মদ্যপ অবস্থায় তার উপর শারীরিক অত্যাচার করে ।

তনুজ কুনালকে নিয়ে বেরিয়েছিলেন , সেই মুহূর্তে এই ঘটনা । রক্তাক্ত অবস্থায় ভর্তি হলো কমলি হাসপাতালে । দুদিনের মধ্যেই কোমায় চলে গেলো ।

মেহতা পুলিশ লাগিয়ে ঐ লোকটিকে গ্রেফতার করিয়েছে । এবার কুনালের ভবিষ্যৎ নিয়ে ল​ড়তে লাগলো তনুজ ।

কুনালকে ফুটবল শেখাতে ভর্তি করলেন এক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে । কুনাল স্কুলের টিমে খেলতই , উফরন্তু বাইরে আলাদা শেখায় সব রকম দক্ষতা অর্জন করলো ।

২০৪৮ :

স্টেট লেভেল ম্যাচের ফাইনালে খেলছে কুনাল । ৭৮ মিনিটে আর ৭৯ মিনিটের মাথায় দুটো পরপর গোলে এগিয়ে থাকা ঝাড়খন্ডের দলকে ১-২ গোলে পরাস্ত করলো তার দল ।

২০৫০ :

পা নিয়ে মাঝেমধ্যে তার অল্প ব্যাথা ছাড়া আর কিছু হতো না | কুনালের স্টেট লেভেল জেতার পরপরই সুনীলকে দেশের কোচ রূপে নির্ধারণ করা হ​য় । ২০৪২ এর লজ্জায় সুনীল ত​ৎক্ষণাৎ অবসর নিয়েছিলেন । ৫ বছর সমাজ ছেড়ে গুটিয়ে রেখেছিলেন । শেষে মেসি ভারতে এসে সাংবাদিকদের সামনে যখন সুনীলের সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন তখন আবেগে আপ্লুত ছেত্রী ফোন করেন মেসিকে । তখনই তার অবস্থান জানা যায় । ইণ্ডিয়ান ফুটবলের অধিকর্তারা তাঁকে কনভিন্স করেন কোচের পদে অ্যাপ্লাই করতে । তিন বছর পর হঠাৎ একদিন জানা তায় ছেত্রী নিজের আবেদন জমা দিয়েছেন । ব্যস ছেত্রী কোচ ।

ছেত্রীর নজরে ২০৫০ সাল নাগাদ প্রথম আসে কুনাল । সেই ২০৪২ এর পর কোয়ালিফায়ার খেলার চান্সও পায়নি ভারত । স্পন্সরের অভাবে বন্ধ আই.এস্.এল । এমতাবস্থায় টালমাটাল টিমের দায়িত্ব ছেত্রীর হাতে । তখনই নজরে আসে কুনাল ।

ইউ.পি বোর্ডের চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করে কুনালের খবর জোগাড় করেন ছেত্রী ।

কুনাল তখন কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র । ফুটবল দারুণ খেলার পাশাপাশি ছবি আঁকার প্রতি তার সখ জন্মায় । স্কুল ছাড়ার পরই আর্ট কলেজে ভর্তি হ​য় । কলেজ ফেরত একদিন ফোন আসে একটা অজানা নম্বর থেকে । ট্রুকলারে এ.আই.এফ.এফ এর লোগো দেখে হকচকিয়ে যায় । 

কাঁপা কাঁপা গলায় বলে , " হ্যালো । "

" হাই , আই অ্যাম সুনীল ছেত্রী , আই ওয়ান্ট ইউ ইন ইন্ডিয়ান টিম । "

ঘটনাটা এতটাই কাকতালীয় যে সে ভাবলো , এ তার কোনো বন্ধুর ছক । কিন্তু পর মুহূর্তেই নম্বরের আঙ্গিক ও ট্রুকলারে নামের কথা মাথায় আসতে দরদর করে ঘামতে ঘামতে বললো , " ই...ইয়েস স্যার । "

" নেক্সট উইক আই ওয়ান্ট ইউ অ্যাট গোয়া ট্রেনিং সেন্টার । টিকিটস উইল বি সেন্ট টু ইউ , ইফ ইউ ক্যান প্রোভাইড ইওর বেসিক ডিটেলস । আ লিঙ্ক উইল বি শেয়ার্ড ইন মেসেজ , ওপেন দ্যাট অ্যান্ড ফিল । গুড নাইট । "

সবকথা মেহতাকে জানাতে ছেলের কপালে চুমু খেলেন । ছেলেকে বুকে জ​ড়িয়ে নিলেন ।

এরপর কুনালের জ​য়যাত্রা শুরু হলো । 

২০৫১: জাতীয় দলে নির্বাচন ।

২০৫২ : কোয়ালিফায়ারে টিমকে নিজের জোরে জিতিয়ে ২০৫৪ এ ওয়ার্ল্ড কাপ খেলানো ।

সবই স্বপ্নের যাত্রা চলছিলো ।

২০৫৪ :

গ্রুপ লিগে একা পাঁচম্যাচে ৭ গোল করে টিমকে প্লেঅফে নিশ্চিত করলো কুনাল । বাকিদের মধ্যে সেরা সুদেব , ভরত । 

কোয়ার্টারে স্পেন , সেমিতে উরুগুয়ে সব্বাইকে ধুলো করে ফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি ভারত ।

আজ সারাদিন মেহতাবাবু কমলির কাছে থাকবেন । কমলির চোখের কাছে ছেলের খেলা দেখাবেন । কমলি এখনও কোমায় । ডাক্তার বলেছে ওষুধে ন​য় হঠাৎ কিছুতেই ঠিক হতে পারে কমলি ।

তনুজের মনে হলো ছেলের প্রথম গোল দেখে পাতাটা নড়ে উঠলো কমলির চোখের ।

" কমলি , উঠো , দেখো খেল । আজ দোনো মিলকে জিতকা যশন মানায়েঙ্গে । "

খেলা শেষ হওয়ার মুখে হঠাৎ চোট কুনালের । ৯২ বছরের মারাদোনার মুখে তখনও ম্লান হাসি ফুটে । মেসি চকিত অবস্থায় সুনীলের হাত ধরলেন । দুই কোচ একে একে মাঠে এলেন । কুনাল জানালো তার পায়ে যে মাঝেমধ্যের ব্যাথা সেটাই হঠাৎ চাগাড় দিতে ব্যালান্স হারায় ও তার উপর পা চলে আসে একজনের । সে নিজে বলে সে ফিট । খেলা ফের শুরু হ​য় । একটু আস্তেই ছুটছে সে । 

" হে কিষাণ , হে মহাদেভ উসকা হিম্মত বাড়াও । " বললেন মেহতা ।

৮৭ মিনিট মৃদুমন্দ গতিতে ওয়ার্ম আপ স্টাইলে বলকে ইতি - উতি ঘুরিয়ে যাচ্ছে কুনাল । সুদেব একটা পাস চাইলো । আলতো করে পাস দিলো কুনাল ।

সুদেব তিনজনকে কাটিয়ে এক মহা অদ্ভুত স্ট্রাইক করলো । গোলকিপারের পা লেগে বল ফিরে আসছিলো , সেইসময়ে জোরে পা চালালো কুনাল । গোলকিপারের পায়ের ভিতর দিয়ে গোলপোস্টের লাইন পার করলো বল । ব্যান্ডেজ রক্তে ভিজে গেলো । সেদিকে হুঁশ নেই কুনালের । উন্মত্ত হয়ে জার্সি খুলে ছেত্রীর দিকে ইঙ্গিত করলো । ছেত্রী এতক্ষণে মেলালো জার্সি নম্বর ১১ । বাকি ৪ মিনিট ওভার্টাইম নিয়ে কোনোক্রমে গোল না দিয়ে ভারত জিতে নিলো ম্যাচ ।

কমলির আঙ্গুল নড়ে উঠলো । মেহতা আনন্দে উল্লাসে ফেটে প​ড়লেন ।

২০৫৪ : ফুটবলে বিশ্বজ​য়ী ভারত । টুর্নামেন্টে গোল্ডেন বুট পেলো কুনাল মেহতা , ম্যাচসেরা সে , ইমার্জিং প্লেয়ার সে ।

প্রাইজ নিয়ে নামতেই ছেত্রী বুকে জ​ড়িয়ে কেঁদে ফেললেন । কিছুক্ষণের মধ্যেই কুনালকে ফোন করলেন মেহতা । কিন্তু কন্ঠস্বর ... এ তো তার মায়ের ।

" বেটা , দিল খুশ হো গয়া । ভগবান তেরা ভলা করে । "

" মা ... তুম ঠিক হো গ​য়ি হো ... " বলে উল্লাসে ফেটে প​ড়লো কুনাল ।

সত্যি লক্ষ্য স্থির হলে কোনো বাধাই কিছু ন​য় । জীবন সব বাধার মিশ্রণ , ইচ্ছাশক্তি ঠিক তোমায় লক্ষ্য পার করাবে ।


Rate this content
Log in

More bengali story from AYAN DEY

Similar bengali story from Classics