STORYMIRROR

Nityananda Banerjee

Classics

4  

Nityananda Banerjee

Classics

ভোরের সূর্য্য পর্ব সাতচল্লিশ

ভোরের সূর্য্য পর্ব সাতচল্লিশ

3 mins
366

পর্ব সাতচল্লিশ


জনৈক জেলকর্মী আদালতের হুকুমনামা হাতে অপেক্ষা করছে সাহেব কখন খাওয়া ছেড়ে উঠে আসবেন । জেলারের চেম্বারে তখনও বিবেকানন্দ কুমার, সঞ্জনা কুমার এবং শশাঙ্ক তিনজনে গল্পগুজব করে ডিনার করছেন । 

কোন রাত ন'টায় ওঁরা বসেছেন ; তিন ঘন্টা হয়ে গেল এখনও বেরোচ্ছেন না দেখে কর্মীটি বেশ বিরক্তির সঙ্গে অপেক্ষা করছে । 

এমনিতে তার ডিউটি রাত দশটায় শেষ হয়ে গিয়েছে। ভেবেছিল সিল করা খামটা সাহেবকে দিয়েই বাড়ি চলে যাবে । অতিরিক্ত দু'ঘন্টা ডিউটি হয়ে গেলেও মিঃ কুমারের বেরিয়ে আসার কোন সম্ভাবনা দেখছে না কর্মীটি । 

অফিস চত্বরে তেমন কেউ নেই যে তার হাতে খামটা ধরিয়ে দেবে । এদিক সেদিক চাইতেই দেখতে পেল এক জন আসছে । ভালো লাগল তার । কিন্তু তাঁকে সামনে দেখে খাম হস্তান্তর করতে সাহস পেল না । 

পোষাক দেখে মনে হল তিনি পুলিশের কোন হোমড়াচোমড়া ব্যক্তি । প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে ভেবে আহ্লাদিত হল । এবার সাহেব নিশ্চয় বেরোবেন। 

কিন্তু অফিসারটি তার আশায় জল ঢেলে দিয়ে চেম্বারের পাশের পথ ধরে সোজা জেলের সেলে প্রবেশ করলেন ।

নিরুপায় কর্মীটি তখন ডাইনিং এর দরজায় মৃদু করাঘাত করল ।

জেলার সাহেব গম্ভীর গলায় ডাকলেন - কন ?

দরজার বাইরে থেকে লোকটি বলল - স্যার! আর্জেন্ট চিঠি আছে ।

এবার সাহেবকে উঠতেই হল । তিনি ' এক্সকিউজ মি ' বলে বেরিয়ে এলেন । লোকটি সীল করা খাম তাঁর হাতে তুলে দিয়ে সেলাম ঠুকে প্রস্থান করল ।

সাহেব দেখলেন খামের উপর লেখা - মোস্ট আর্জেন্ট এবং কনফিডেন্সিয়াল কথা দুটো লেখা । প্রেরক রেজিস্টার অব দ্য হাইকোর্ট অব পাটনা ।

তিনি বুঝে গেলেন অফিসিয়াল হার্ডকপি আদালত থেকে এসেছে এবং তা' শশাঙ্কর মুক্তি বিষয়ের পত্র ।

পকেটে রেখে আবার খাবার টেবিলে এসে বসলেন । শশাঙ্কর পাতা তখনও অর্ধেক খালি হয়নি ।

বললেন - কি রে বারোটা বেজে গেল - এখনও তোর খাওয়া হল না ?

- খাচ্ছি তো স্যার । সব খেয়ে নেব । আপনারা আমার কাহিনী শুনতে চেয়েছেন তাই খাওয়াতে ব্যাঘাত ঘটছে।আপনাদের যদি খাওয়া হয়ে গিয়ে থাকে তবে হাত মুখ ধুয়ে নিন। আমি সেই অবসরে খাওয়া শেষ করে নিই।

মিসেস কুমার বললেন - শশাঙ্ক আর তো হাতে তিন থেকে চার ঘন্টা সময় আছে । তুমি কি এর মধ্যে তোমার কথা শেষ করতে পারবে ?

- যতটা সম্ভব হয় বলে দি । আর তো এ জীবনে আপনাদের মত ভালো শ্রোতা পাব না । সেজন্য...

কুমার সাহেব বললেন - ঘুমোবি না ?

- না স্যার । এখানে আছি ভালো আছি । আর এই তিনঘন্টা কাটিয়ে দিলেই তো স্নানযাত্রা শুরু হবে । জানেন স্যার, আমাদের গ্রামে কালীপূজোর রাতে সারারাত পাঁঠা বলি হয় ।

- পাঁঠা বলি ? সারারাত ধরে ? কতগুলো পাঁঠা বলি দেওয়া হয় ?

অবাক হয়ে প্রশ্ন করেন মিসেস কুমার ।

- তাও নেই নেই করে অন্তত শ' পাঁচেক তো হবেই । জানেন ম্যাডাম ! পাঁঠাগুলোকে বলির আগে পুকুরে চুবিয়ে আনা হয় । তারপর শিং দুটোয় তেল সিঁদুর লাগিয়ে ফুল বেলপাতায় মন্ত্রের সাহায্যে উৎসর্গ করা হয় । তারপরই হাঁড়িকাঠে গলা ঢুকিয়ে তিন চার জন চারটে পা ধরে টানতে থাকে । ঘাড়ে জল দিয়ে তলোয়ারের সাহায্যে এক চোটেই ধড় মুণ্ডু আলাদা করে দেওয়া হয় । আমি নিজের চোখে দেখেছি । ওরা পশু তো স্যার । মানুষের মারপ্যাঁচ বোঝে না। উৎসর্গ করার সময় বেলপাতাগুলো যতটা পারে খেয়ে ফেলে । আসলে খাওয়া আর ঘুম এই দুটো ওরা ভাল বোঝে ।

মিসেস কুমার বলেন - তারপর ?

- তারপর আর কি ? আনন্দে নেচে ওঠে সবাই। জয় মা জয় মা বলে দু'হাত তুলে নাচে । বড় মায়া হত স্যার । যদিও ছেলেবেলায় ওই বলির প্রসাদ আমিও কত খেয়েছি।

আচ্ছা স্যার ! সত্যি সত্যিই কি আমাকে ফাঁসির আগে স্নান করতে হবে ?

মিসেস কুমার চুপ করে থাকেন । এবার জেলার সাহেবের মুখ দিয়েও কথা বেরোয় না । শশাঙ্ক তো নিশ্চয় শুনেছে ফাঁসি দেওয়ার পদ্ধতি কেমন ।

এবার হক সাহেব ঢোকেন সেখানে । বলেন - স্যার একবার বাইরে আসবেন ? 

জেলার বেরিয়ে এলে বলেন - সব কমপ্লিট স্যার । ওই দেখুন ফাঁসুড়েও এসে গেছে । যেমন যেমন নির্দেশ ছিল ঠিক তেমনই করা হয়েছে। ট্রায়াল রাণও কমপ্লিট ।

( চলবে )



Rate this content
Log in

Similar bengali story from Classics