Maheshwar Maji

Classics


2  

Maheshwar Maji

Classics


অপরাধী

অপরাধী

8 mins 942 8 mins 942

রুক্মিনী বড় বউ আর সুলেখা ছোট বউ।একই দিনে শ্বশুরের ভিটেয় পা রেখেছিল।


দশরথ মাহাতো মারা গেছেন কয়েক বছর হল।তার স্ত্রী চপলার বয়স এখন চল্লিশ।বড় ছেলে মনা,ছোট ছেলে ধনার মধ্যে বছর দেড়েকের পার্থক্য।

প্রথম পুত্র হওয়ার সুবাদে মনার শারীরিক গঠন ধনার থেকে হৃষ্টপুষ্ট।তাগড়ায়।ভরাট সমুদ্রের মত শরীর!

তেমনি ছোট হওয়ার সুবাদে ধনার বুদ্ধি তার দাদার থেকে বরাবরের বেশি।

এরপর তাদের মা,বাবা আর তৃতীয় সন্তান নেননি বলে ধনা প্রায় পাঁচ বছর অব্দি মায়ের দুধ টেনেছিল।

স্বাভাবিক ভাবেই তার মস্তিস্কের গঠন পরিপূর্ণ হয়ে ছিল।


ছোট থেকেই দুই ভাই মিলে জল কাদায় ফুটবল খেলে বেড়াত।

তাদের সেই খেলা ইস্কুলের মাঠে অনেকের নজর কাড়তে শুরু করল।

সেবার নন্দনপুর হাই ইস্কুল ডিস্ট্রিক চ্যাম্পিয়ন হল। শুধু মাত্র এই দুই ভায়ের সুবাদে।

মনা বরাবর ব্যাকে আর ধনা রানারে খেলে।প্রতিপক্ষের ধেয়ে আসা বলকে আটকানোর দায়িত্ব মনার উপর।সেই বল কায়দা করে ধনার পায়ে পাঠিয়ে দেয় মনা।

সেই বল ধনা তার দুপায়ের যাদু দেখিয়ে পাতলা শরীরটা হাওয়ায় পাঁক খাইয়ে সুড়ুত করে বলটা ঠুকে দেয়, গোলপোষ্টের এক কোণে।

গোল কিপার ধনার ভিরমি চালে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ে।

এদিকে তখন মাঠের বাইরে হাজার সিটি আর হাততালির মাঝে "ধনা...ধনা" নামের শোরগোল ভেসে আসে।


এতদিন ধরে সেই আওয়াজ মনার কানের পর্দায় কাঁপন ধরিয়ে বুকের খাঁচাটাকে চওড়া করে এসেছে।

ইদানিং সেটা আর হচ্ছে না।

মনার দুকানে ধনা নামের প্রতিধ্বনিটা জ্বালা ধরিয়ে দেয়।বুকের ভেতরে টনটনে ব্যথা অনুভব করে।

সেটা শুরু হল,বিয়ের মাস চারেক পর থেকেই।


মনার স্ত্রী রুক্মিনী।সতেরো বছর বয়স।গায়ে,গতরে যৌবনের বান যেন উপচে পড়ে।

এক মাথা ঘন কালো কোঁকড়ানো চুল।পান পাতার মত মুখ।আর এক জোড়া আগুন রঙা চোখ।চলার প্রতিটি ছন্দে যেন অজন্তাদেবীর এক,একটা ভঙ্গিমা ফুটে ওঠে।

তার ঠিক উল্টো সুলেখা।বুক আর কোমর যেন এক।সারা শরীরজুড়ে মাংসের অভাব।দেখতে অনেকটা তাল গাছের মত ধিঙ্গি।তবে একটা ব্যাপারে রুক্মিনীকে টপকে গেছে।তা হল গায়ের রঙ।

তাকে দেখে অচেনা মানুষেরা উঁচু বংশের বউ বলেই ভাবেন।


বিয়ের মাস দুয়েক পরই সুলেখার পেটে সন্তান এসে গেল।

সেই থেকে তাদের শাশুড়ী চপলাদেবী বলতে শুরু করলেন,এবার রুক্মিনীর পেট ভরাট হলেই আমি থির হই।।একসাথে যেমন দুই ছেলেকে মানুষ করেছি।এবার দুই নাতি,নাতনিকে মানুষ করতে পারলে দুচোখে শান্তি নামবে।তারপর আর শ্মশানের চিতাকেও ভয় পাব না।

ঘরটা সেই কবে থেকে শান্ত হয়ে আছে।এবার দুটো কচি,কাচার শব্দে সব সময় ভরে থাকবে।হাত,পায়ের জড়তা আর রইবে না।


আরো দু,তিন মাস বয়ে গেল।তবু রুক্মিনীর জঠরে শুভ সন্দেশ এলো না।

সুলেখার পেট যত উঁচু হতে লাগল।রুক্মিনীর মনে তত প্রতিহিংষার আগুনটা লকলক বেড়ে উঠল।

সুলেখার ভারী পায়ের দিকে তাকিয়ে রুক্মিনীর চোখ জ্বালা করে ওঠে।মনাকে বলে,তুমি নামের দাদা।গুনে বরাবর ধনার থেকে ছোট।খেলার মাঠেও সেই ধনার নাম নিয়েই সবাই সিটি বাজায়।আবার এদিকে দেখো।কেমন তোমার সন্তান এবার থেকে ভাই-এর সন্তানকে দাদা বলে ডাকবে!

তুমি হেরে গেছ।একদম গো হারা।


ধীরে,ধীরে রুক্মিনী তার শরীরি টানে ধনাকে নিজের দিকে আকৃষ্ট করে ফেলল।

সেটা মনার চোখে ধরা পড়ল না।


একদিন রুক্মিনী ধনার পিঠে তেল মালিশ করার ছলে নিজের কামনার শেকল দিয়ে তাকে আষ্টেপিষ্টে বেঁধে ফেলল।

তাদের সেই সিৎকার দরজার ফাঁক দিয়ে সুলেখার কানে এসে বাজল।

মনের ভেতরটা গুড় গুড় শব্দ করে উঠল। সে কিছুতেই ধনাকে হারাতে চায় না।


দুই ভাই মিলে ফ্যাইন্যাল ম্যাচ খেলতে গেছে।

শাশুড়ি মাঠের কাজে সকাল,সকাল রুক্মিনীকে আসতে বলে বেরিয়ে পড়েছেন।

এমন সময় সুলেখা রণমূর্তি ধারণ করে রুক্মিনীর দিকে চেয়ে বলে উঠল,খবরদার রাক্ষসী...আমার মরদকে হাতাবার তাল করলে আমি তোকে ছাড়ব না। কী ভেবেছিস কী!...আমি দিনরাত চোখ বুজে ঘোরাফেরা করি নাকি? ভাশুরের চোখকে ফাঁকি দিলেও,আমাকে পারবি না।কারণ ধনা আমার মরদ।ওকে আমি ভালবাসি।আমার মরদের উপর ভাগ বসার মতলব একদম করবি না বলছি।

রুক্মিনী তিক্ষ্ণ হেসে বলে উঠল,তোর মরদকে আমি ডাকি না।ওই খিদের তাড়নে আমার গতর দেখে লাল ঝরিয়ে ছুটে আসে।তোর শুকনো শরীরে আছে কি?...যে ওর মন ভরবে?পেটে সন্তান পেয়েছিস ওই খুব।পুরুষের মন পেতে গেলে আগে নারী হতে হয়।তুই নারী নাকি?ধিঙ্গি একটা তালগাছ!না আছে বুকে পাহাড়,আর কোমর,পাছা যেন শুকিয়ে কিশমিশ হয়ে গেছে!..ও দিয়ে দেওরকে বেঁধে রাখার স্বপ্ন দেখিস!

ভরা পুকুরে সাঁতার কাটবে নাতো কি শুকনো ঢোবায় মাথা ঠুকবে?

সুলেখা তর্জনি উঠিয়ে রুক্মিনীকে সাবধান করে বলে উঠে,আমি শেষ বারের মত বলে দিচ্ছি।তুই আমার স্বামী থেকে দূরে থাক।দ্বিতীয় বার দেখলে...তার পরিণাম ভয়ানক হবে দেখে নিস।

রুক্মিনী শরীর দুলিয়ে হেসে উঠল,হা...হা...।ক্ষমতা থাকলে নিজের স্বামীকে আগলে দেখা।আমার শরীরে বান এলে তো গা ভেজাতে পুরুষকে ডাকবোই।

রুক্মিনী কথাটা শেষ করেই মাঠের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যায়।


সুলেখা ধপ করে দেওয়াল ধরে বসে পড়ল।তার মনে, আশংকার কালো মেঘ গর্জন করে উঠল।

একদিকে স্বামী হারানোর যন্ত্রণা অন্যদিকে নিজের কামনাদীপ্ত জায়ের অবাধ্য শরীরের মাতলামি তাকে স্থির থাকতে দিল না কিছুতেই।

তারসাথে আবার চালের উপর কাকটাও সমস্বরে কা..কা করে তার মাথাটাকে ভারি করে দিচ্ছে।একটা কিছু না করলেই নয়।


আজ আর একটা পাসও মনা,ধনার দিকে দিল না।

উল্টোদিকের ডিফেন্সকে ছুঁড়ে দিচ্ছে।সেই দেখে ধনার মাথা জ্বলে উঠল।

হাফ টাইমের আগেই অলরেডি দুটো গোল খেয়ে গেছে।মনার উল্টো চালের দায়ে।এবার বিপরীত পাস দিয়ে সেটা আবার বাড়িয়ে চলেছে।

ফলস্বরূপ, আজ প্রথম,তাদের টিম কোন ফ্যাইন্যাল ম্যাচ হারলো।তাও আবার পাঁচটা গোলের ব্যবধানে।


তাতে গোটা টিম ছিঃ..ছিঃ করলেও মনার ভেতরে খুশির বাজনা বাজছে।

কারণ আজ আর কেউ ধনার নাম নিয়ে জয়ধ্বনি তোলেনি।

এই প্রথম তার ভাইকে চোখের সামনে হারতে দেখল।


দুই ভাই একসাথে বাড়ি ঢুকলেও মনের ভেতর একটা অদৃশ্য দূরত্বের সৃষ্টি হয়েছে।

এসেই শুনল,সুলেখাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রুক্মিনীকে মনা জিজ্ঞাসা করল,ওর কী হয়েছে?

উত্তরে রুক্মিনী চুলের গোছা বাগিয়ে তিক্ষ্ণ হেসে বলে উঠল,পেটের উপর মুগুর মেরে এখন আবার আমার নাম নেওয়া হচ্ছে!...বেশ করেছি।না মেরেই যখন এত কথা।তখন দোষ নিতেই বাঁধা কী?

মনা জিজ্ঞাসু চোখে বলে উঠল,সত্যি করে বলো মনি!...তুমিই কী এই ক্ষতিটা করেছ?

---শাশুড়িও তো আমার কথা কানে তোলেননি।এবার তুমিও তোল না।কিন্তু দেওর...তুমি তো আমার কথা মানো?সত্যি বলছি আমি সুলেখার কোন ক্ষতি করিনি।শুধু ঝগড়াই যা করে ছিলাম।গায়ে হাত তুলিনি।

কথাটা শোনা মাত্রই দুভাই মিলে একটা বাইক ডেকে তাড়াতাড়ি হাসপাতালের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ল।


চপলাদেবীর উঠোন জুড়ে আজ গাঁ সুদ্ধ লোকের ভীড়।

সালিশী সভা বসেছে।সুলেখার উপর হওয়া অত্যাচারের একটা বিহীত করার জন্য।

অভিযোগটা হচ্ছে যে,শাশুড়ী এবং স্বামীর অনুপস্থিতিতে দুই জা মিলে ঝগড়া শুরু করে।পরে সেটা হাতাহাতি পর্যায়ে নেমে এলে বড় বউ রুক্মিনী,ছোট বউ সুলেখার ছয় মাসের গর্ভে লাঠি দিয়ে সজোরে আঘাত করে।তারফলে সুলেখার গর্ভ নষ্ট হয়ে যায়।সুলেখার প্রচন্ড চিৎকার শুনে রুক্মিনী বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।এদিকে সুলেখাকে গুরুতর অবস্থায় গ্রামের মানুষজন মিলে হাসপাতালে ভর্তি করে।সেখানে তার পেট থেকে গর্ভস্থ মৃত সন্তানকে বের করা হয়।

গায়ের একজন মাষ্টারমশাই বলে উঠলেন,ঘটনাটা কী সত্যি রুক্মিনী?

রুক্মিনী জোর গলায় বলে উঠল, একদম মিথ্যে ।আমি ওর সাথে বচসা করলেও গায়ে হাত দিইনি।

মাষ্টারমশাই বলে উঠলেন, তাহলে সুলেখা মিথ্যে কেন বলবে?...তোমার উপর দোষ চাপিয়ে ওর কী লাভ?

রুক্মিনী বলতে গিয়ে পারে না।আসল কারণটা।চুপ হয়ে যায়।

তখনি সভার মাঝে মনা দাড়িয়ে বলে উঠল,আমি বলছি মাষ্টারমশাই ।সুলেখার কথা হুবহু সত্য।কারণ রুক্মিনী সত্যি, সত্যিই সুলেখাকে হিংসে করত।ওর মা হওয়ার সংবাদটা সে খুশি মনে মেনে নিতে পারেনি।সেইজন্য আমাকেও অনেকবার ভাই-এর পিছনে লেলিয়ে দিয়েছে।

আমার স্ত্রী বলে আমি তাকে আড়াল করছি না।আমি চাই,মণি তার কৃতকর্মের উপযুক্ত শাস্তি পাক।

এরজন্য আইন,আদালত যা করতে হয় করবো।ওর শাস্তি পাওয়াটা ভীষণ দরকার।দোষ করলে ভগবানকেও শাস্তি পেতে হয়।আমি নিজে গিয়ে ওর বীরুদ্ধে নালিশ ঠুকে আসব।

এরপর আর সভার কেউ মনার সিদ্ধান্তকে টলাতে পারলেন না।

ঠিক করা হল,আইনি পথেই রুক্মিনীর শাস্তি ধার্য করা হবে।


চপলাদেবী তো রাতদিন চোখের জলে ভাসছেন।এমন অবস্থায় অসুস্থ সুলেখার পরিচর্যা করতে রুক্মিনীকেই এগিয়ে আসতে হল।

সুলেখার মনে দিদির প্রতি জমে থাকা হিংসার বরফ এতদিনে গলতে শুরু করল।সেই জল দু চোখের পলক ভেদ করে গড়িয়ে পড়ছে চোখের কোন বেয়ে।

রুক্মিনীর উদ্দেশ্যে বলে ওঠে,আমাকে ক্ষমা করে দে দিদি।অন্ধ হয়ে গেছিলাম স্বামীর মোহে।নিজের অক্ষমতার কাছে হেরে গিয়ে তোর উপর প্রতিশোধ তোলার নেশায়।সেইজন্য নিজের সন্তানকে পেটের ভেতরেই শেষ করে দিয়েছি।আমি মহাপাপী দিদি।শাস্তিটা তোর না...আমার প্রাপ্য।আমি সবার কাছে নিজের দোষ স্বীকার করে নেব।

রুক্মিনী মনের চাপা নিঃশ্বাসকে আস্তে করে ছেড়ে বলে উঠল,একদম না।দোষ তোর না বোন।তুই তো ফুলের মত পবিত্র।তোর আর ধনার ভালবাসায় কোন খাদ ছিল না। তাই আমার হিংসে হত।তোকে কষ্ট দেওয়ার জন্য আমি দেওরকে জোর করে নিজের শরীরের সাথে মেশাতে চেয়ে ছিলাম।পুরুষ মানুষের ধৈর্য কতটুকু!...একজন কামনাদগ্ধ নারীকে অবহেলা করে পালিয়ে বেড়ায়?

পাপটা আমি করেছি।তবে ভাবিনি...এই খেলায় একটা নিষ্পাপ জীবনকে বলি হতে হবে!...আমি চাই।আমার এই পাপের সাজা যেন ফাঁসি হয়।আদালত না দিলে আমি নিজেই নেব।আমায় ক্ষমা করিস বোন।আসলে আমরা কেউ জানতাম না।নারীর একমাত্র শত্রু সে নিজেই।পুরুষরা তো আমাদের দূর্বলতার সুযোগ নেবেই।

এতে অবাক হওয়ার কী আছে?আমার,তোর কথা এরা আর কেউ শুনবে না। বলে কোন লাভ নেই।দোষ যখন করেছি...শাস্তিটাও মাথা পেতে নেব।তুই ভাল থাকিস বোন।স্বামী,শাশুড়ী আর আমার মরদটাকেও দুবেলা দুমুঠো ভাত বেড়ে দিস হতভাগী।আমার আর স্বামীর ঘর করা হল না বোন।চলি...বোন..বিদায়।


দেখতে,দেখতে চারটা বছর পার হয়ে গেল। আজ রুক্মিনী জেলের সাজা শেষ করে স্বামীর ঘরে পা রাখছে।

চপলাদেবী এই কবছরে যেন অনেক বুড়ি হয়ে গেছেন।

সুলেখার শরীরটা আর আগের মত পাতলা নেই। একটু গায়ে,গতরে বেড়েছে।

দীপক সাজিয়ে,শঙ্খধ্বণি বাজিয়ে রুক্মিনীর গলায় একটা ফুলের হার পরিয়ে ঘরে তোলা হল।

দুই পুত্রবধুর মিলন ছবির দিকে তাকিয়ে চপলাদেবীর চোখ দিয়ে আনন্দের ধারা বইতে লাগল।

রুক্মিনী শ্বাশুড়ীর পা ছুঁয়ে বলে উঠল,কাঁদবেন না মা।অনেক চোখের জল আপনি সারা জীবনে ব্যয় করেছেন।আর না।এবার আপনার সুখের দিন এসে গেছে।আশির্বাদ করুণ...যাতে আমি আমার সমস্ত সেবা দিয়ে আপনাকে ধন্য করতে পারি।আমরা দুই বোন মিলে আপনার আর কোন দুঃখ রাখব না।

তারপরেই রুক্মিনী হঠাৎ করে বলে উঠল,আর নতুন বাবুটাকে দেখছি না কেন?

এইবার সুলেখার চোখ ফেটে জল বেরিয়ে এল।

রুক্মিনী জোর করে তার মুখটা ধরে বলে উঠল,কী হল তোর!...উত্তর দিচ্ছিস না কেন?...তবে যে দেওর আমাকে বলেছিল,তুই আবার মা হয়েছিস?

পিছন থেকে ধনা বলে ওঠে,সব মিথ্যে কথা।তোমাকে সুস্থ রাখার জন্য।জীবনের প্রতি,সংসারের প্রতি টানটা ধরে রাখার জন্য ।সুলেখা আর কোনদিন মা হতে পারবে না বৌদি।তাইতো আমরা সবাই মিলে তোমার মুক্তির অপেক্ষায় দিন গুনছিলাম।কবে তুমি আসবে?...এই শূণ্য ঘরে দুটো ফুল ফুটবে?...আমি কাকু হব?সুলেখা কাকি হবে?...মায়ের গলা জড়িয়ে রাজা,রাণীর গল্প শুনবে??সব তোমার প্রতিক্ষায় থমকে আছে বৌদি।

সুলেখা চোখ মুছে হেসে বলে উঠল,তোর সন্তান দু দুটো মায়ের ভালবাসা পাবে দিদি।একদম চিন্তা করিস না।

রুক্মিনীর গলাটা বুজে এল।থরথর করে নরম ঠোঁটযুগল ব্যথার ভরে কেঁপে উঠল।দুহাত প্রসারিত করে দুঃখি বোনটাকে তার সাগরসম বুকের মধ্যে ভরে বলে উঠল,কেন...কেন বোন?

সুলেখা বলে উঠল,তোকে তো দেশের অন্ধ কানুন সাজা দিল দিদি।আর আমাকে স্বয়ং ঈশ্বর।ডাক্তার বলেছেন,আমি আর মা হতে পারবো না। দুঃখ করি না দিদি।তুই তো আছিস।


এমন সময় পিছন থেকে ধনা আস্তে সুরে বলে উঠল,কেমন আছো?

রুক্মিনীর বুকটা ছলাত করে বেজে উঠল।এই ডাকটা তার বড্ড চেনা। প্রেমর গন্ধ মিশে আছে।ধীরে,ধীরে ঘাড় ঘুরিয়ে মনার দিকে চাইল।কোথায় মনার সেই পর্বতের মত শক্তিশালী শরীর!...ক্ষয় হতে হতে কঙ্কালটুকু যেন রয়ে গেছে।মুখভর্তি দাড়ি।উস্কোখুস্কো চুল।কোটরে ঢোকা দুটো চোখ ।

রুক্মিনীর চোখ দিয়ে করুণা ধারা বইতে লাগল।এগিয়ে গেল মনার সামনে।মনার মাথাটা ক্রমশ মাটির সাথে মিশে যেতে লাগল।

রুক্মিনী ধরা গলায় বলে উঠল,কেন...কেন আমায় একবারও জেলে দেখতে আসোনি?

বড় অভিমান হয়েছিল ...জানো তো।এইজন্যই কী আসোনি?..কিন্তু কেন?...কেন নিজেকে এতবড় শাস্তি দিয়েছ তুমি?

মনা মাথা তুলে বলে উঠল,আমার মনে হয়েছিল তাই।এখন আমি আবার ভাল হয়ে যাব দেখো।তুমি এসে গেছ তো।

সকলের চোখ দিয়ে বড় সুখের কান্না ঝরতে লাগল।


Rate this content
Log in