Sandip Das

Tragedy

5.0  

Sandip Das

Tragedy

অন্যায়

অন্যায়

10 mins
813


গল্পটা পড়তে পড়তে আপনাদের স্রেফ একটা গল্প বলে মনে হতে পারে , কিন্তু তারই পাশাপাশি বলে রাখি এই গল্পের প্রত্যেক অক্ষরে যে নাম লেখা আছে তা কোন গল্প নয় , একটা বাস্তব । আর এই বাস্তব গল্পটা আজ প্রেস ক্লাবের বদ্ধ কেবিনে বসে যখন শুনছিলাম তখন মনে হচ্ছিল , এই পৃথিবী জুড়ে আজও কত প্রকারের প্রতারক ঘুরে বেড়াচ্ছে । আজও শ্রেণী বিভাজনের সত্যিটা জ্বলজ্বল করে এই পৃথিবীতে । মালিক শ্রেণী আজও তার কর্মচারীর কাছ থেকে ছলে বলে কৌশলে ছোঁ মেরে নিয়ে যেতে চায় শুভের মত নিরীহ ছেলের অধিকার । আজ সন্ধ্যায় কথায় কথায় শুভ নিজের অতীত অভিজ্ঞতা আমার সামনে যখন খুলে রাখতে শুরু করলো তখন একজন প্রকাশক নয় মানুষ হয়ে হাঁ করে সব শুনছিলাম । আর সেই অভিজ্ঞতাই কলমের ডগায় ফুটিয়ে তুলতে প্রকাশক স্বত্বা থেকে নিজেকে লেখক সত্বায় পরিবর্তন করলাম আজ । 

গল্পটা শুরু আজ থেকে প্রায় ৩ বছর আগে । দীর্ঘ ৫ বছর ধরে সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছে শুভ । দেখতে দেখতে ২০০ র বেশি পরীক্ষাও দিয়ে ফেলেছে ইতিমধ্যেই , কিন্তু কোন জায়গায় আজও কোন দাগ কাটতে পারে নি । রীতিমতো হতাশ হয়ে পড়া ছেলেটি সেদিন কিন্তু হাল ছেড়ে দেয় নি , বয়সের শেষ প্রান্তে পৌঁছেও সে একের পর এক সরকারি চাকরির পরীক্ষা দিয়ে চলেছে । কথায় আছে যে খাটে সে অবশ্যই ফল পায় , আর শুভের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম কিছুই হয় নি । ২৬ বছর বয়সী শুভের ভাগ্যের সিঁকে আজ ছিঁড়লো অবশেষে । তার নাম নতুন ভারত বীমা কোম্পানিতে প্রশাসনিক অফিসার পদে নির্বাচিত হয়েছে বলে সে ইন্টারনেট মারফত জানতে পারে । প্রথমে নিজের চোখের ওপর বিশ্বাস হচ্ছিল না তার ; তাই বারবার সে একই লিস্ট নেড়ে ঘেঁটে দেখতে লাগলো । জীবনের এমন এক মুহূর্তে দাঁড়িয়ে শুভ এক বুক ভরা স্বপ্নকে স্বার্থক হতে দেখতে পাচ্ছে । আফসোস একটাই , এমন এক খুশির খবর তার বাবা কিছুই বুঝতে পারবে না । তিনি আলজেইমারের শিকার , ফলত্ব বর্তমান সমস্ত স্মৃতি হারিয়ে ফেলেছেন সেই রোগের প্রভাবে । 

শুভ দিন গুনছে এখন কোম্পানির অফার লেটার পাওয়ার ও তারপর বাকি টুকটাক ফর্মালিটিস শেষ হলেই তার লক্ষ পূরণ হয়ে যাবে । সাতদিন পরে কোম্পানির তরফ থেকে মেডিক্যালের জন্য ডাক পড়লো আর তার সাথে একটি এগ্রিমেন্ট কপির বয়ান পাঠানো হয়েছে যেটা ওই নির্দিষ্ট দিনে জমা দিতে হবে শুভকে । এগ্রিমেন্ট অনুযায়ী কোম্পানি শুভের সঙ্গে চার বছরের এগ্রিমেন্ট করবে , অর্থাৎ চার বছর না হলে শুভ এই চাকরি কোনমতেই ছাড়তে পারবে না ( যার মধ্যে এক বছরের ট্রেনিং পিরিয়ড ও ধরা আছে ) । যদি কোন কারনে শুভকে চার বছরের আগে চাকরি ছাড়তে হয় তবে তাকে জরিমানা স্বরূপ এক বছরের গ্রস মাইনে ও ট্রেনিং ফি বাবদ পঁচিশ হাজার টাকা কোম্পানিকে ফেরত দিতে হবে । এগ্রিমেন্টে আরো লেখা আছে যে কোম্পানি যে কোন সময়ে কোন নোটিস ছাড়াই শুভকে কাজ থেকে তাড়িয়ে দিতে পারে এবং এমন এক অবস্থায়ও শুভ আগের নিয়ম অনুযায়ীই ক্ষতিপূরণ ফেরত দিতে বাধ্য থাকবে । উপরের দুটি ক্ষেত্রেই ক্ষতিপূরণ না দিলে কোম্পানি শুভর বিরুদ্ধে আইন মাফিক ব্যবস্থা নিতে পারে ।

প্রথম চাকরি পাওয়ার আনন্দ মানুষকে পাগল করে তোলে । এতটাই পাগল করে দেয় যে তখন তার ওপর হতে চলা অন্যায় সে কোন দিন ঠাহর করতে পারে না । আমার শুভও তো রক্ত মাংসের একজন মানুষ । তার চিন্তা ভাবনা এসবের বাইরে না হওয়াটাই স্বাভাবিক - তাই না ? শুভ সেদিন অত ভাবেনি । ভাবেনি যে কোম্পানি তার ওপর কি রকম অত্যাচার করতে পারে । ভবিষ্যত নিয়ে যতটা কম ভাবা যায় ততই ভালো , ছেলেবেলা থেকে শুভ তাই শিখে এসেছিল বড়দের থেকে । কিন্তু ভাবনার দৌড় যে বাড়ানো উচিত এটা কেউ বলেনি তাকে । মেডিক্যাল ও অন্যান্য ফরম্যালিটি বেশ ভালো ভাবে পূর্ণ হল তার । এখন শুধু জয়েনিং লেটার হাতে পাওয়া বাকি । 

আমাকে গল্পের এতদূর বলে মিনিট খানেক চুপ করে বসলো সে । বেশ বুঝতে পারছিলাম এর আগের অনুভূতিটা বলা তার কাছে আরও কষ্টের । কোনভাবে নিজেকে সামলে নিয়ে আবার শুরু করলো শুভ । 

" ১৯ মে ২০১৫ সালে আমার জয়েনিং হয় । মেল আই ডি তে জয়েনিং লেটার কোম্পানি থেকে মেল করা হয়েছিল । জয়েনিং লেটার অনুযায়ী আমায় বর্ধমানের অফিসে জয়েন করতে বলা হয় । নির্দিষ্ট দিনে আমি অফিসে হাজির হই । সকাল দশটায় অফিস খুললে আমায় ভেতরে বসতে বলা হয় । প্রায় এগারোটা নাগাদ ব্র্যাঞ্চের ম্যানেজার বি. রাহা অফিসে প্রবেশ করে ও আমাকে নিজের চেম্বারে ডেকে পাঠায় । সেখানে আমার ডকুমেন্টস এর জেরক্স ও সার্ভিস এগ্রিমেন্ট জমা নেওয়া হয় । এর পর তিনি নিজে আমার সাথে সকলের পরিচয় করিয়ে দেন । 

অফিসের কলিগরা আমার থেকে অনেক সিনিয়র । তবে তাতে আমার কোনদিন অসুবিধা হয় নি । তাদের সঙ্গে থেকে আমি বিমার বিভিন্ন বিষয়ে কাজ শিখতে শুরু করি । দিন পনেরো পরে কোম্পানি থেকে আমাদের নতুন জয়েন করা সকলকে ট্রেনিংয়ের জন্য পুনে পাঠায় । সেখানে ন্যাশনাল ইনসিউরেন্স একাডেমিতে আমার থাকার ব্যবস্থা হয় । সেখানেই ট্রেনিং চলতে থাকে আমার । " 

আমি এতক্ষন সব শুনছিলাম মন দিয়ে । এবার শুভকে আমি একটু থামিয়ে প্রশ্ন করি ; " পুনের দিনগুলো কেমন ছিল " ? প্রশ্নটা নেহাত আগ্রহ নিয়ে করেছিলাম কিন্তু শুভ মানেই ঘটনা এটা ভুলে গেছিলাম । আর পুনে মানে কত অভিজ্ঞতা কি আর বলবো । সব শুধু শুনেই যাচ্ছিলাম , বলতে পারেন গিলছিলাম । 

ইতিমধ্যেই গরম সিঙ্গারা নিয়ে হাজির অফিসের কেরানি । সাহেবের গেস্ট এসেছে দেখেছিল বেশ আগেই । তাই সাহেবের হাঁক ডাকের অপেক্ষা করেনি সে আর । ওয়াচম্যান তন্তুকে ডেকে নিজের পকেট ভাঙিয়ে গরম দশটা সিঙ্গারা আর বড় কাপে দু কাপ চা ট্রে তে সাজিয়ে সে সোজা চেম্বারে এসে উপস্থিত । একটা সিঙ্গারা হাতে তুলে নিয়ে কামড় বসালো শুভই এবার । মেজাজটা বেশ ফুরফুরে মনে হচ্ছে ওর । পুনের জীবনী বলতে গিয়ে শুরু করলো এন আই এ র বিকেলের চা পান দিয়ে । বললো , " বুঝলি পুনের বিকেলগুলো বেশ রসালো ছিল । কোনদিন আলু পকড়া , কোনদিন কচুরি , কোনদিন পাও ভাজি আর কোনো কোনো দিন সৌমিকের সাথে কে এফ সি , ম্যাকডোনাল্ডের স্বাদ আজও ভোলার নয় " । 

সিঙ্গারায় আরও একটা কামড় বসিয়ে শুভকে সৌমিকের ব্যাপারে জানতে চাইতেই ওর মুখ দিয়ে একটা ছোট্ট হাসি আর ইডিয়ট বেরিয়ে এল । তারপর কিছুক্ষন থেমে বললো , " একটা বাচ্চা ছেলে । ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে বেরিয়েই চাকরি পেয়ে গেছে । বিদেশ ভুয়ে থাকার অভিজ্ঞতা তেমন নেই । ইঞ্জিনিয়ার হয়েছে দুর্গাপুর থেকে । বাড়ির কাছেই তাই হোস্টেল লাইফ কাটাতে হয় নি কোনদিন । পুনেতে তার বন্ধু বলতে আমি আর সোরেন । সোরেন অবশ্য অন্য প্রকৃতির মানুষ ছিল । হোস্টেলের বাইরের খাবার বলতে মদ আর মাংস ছাড়া কিছুই চিনতো না । সৌমিক বড়ুয়া অবশ্য মদ সিগারেট ছুতো না আর তাই আমাকেই বগল দাবা করে নিয়ে যেত প্রায়ই ক্লাস শেষ হবার পর কে এফ সি , ম্যাকডোনাল্ড , পিজা হাট প্রভৃতি দোকানে । একদিন তো আবার আমাকে নিয়ে হাজির মেনল্যান্ড চায়নাতে । জানিস খুব আনন্দ করে দুজনে ল্যাম্ব খেয়েছিলাম । এই ভাবেই দিন কাটছিল দুজনের । সকাল থেকে ক্লাস আর বিকেল হলেই পুরো দমে মজা , খাওয়া দাওয়া আর শনি রবিবার --- সেটা না বললেই নয় । সারাদিন ঘুরে বেড়াতাম দুজনে " । 

শুভ ও তার পুনের দিনগুলো শুনতে শুনতে চা সিঙ্গারা কখন শেষ করে ফেলেছি বুঝতেই পারিনি । বদ্ধ কেবিন ছেড়ে দুজনে এবার বেরিয়ে পড়লাম আমার চার চাকা গাড়িতে সামনাসামনি কোথাও । নন্দনের পিছন দিক করে নামলাম দুজনে । মন ভরছে না এটুকুতে । গাড়ির ড্রাইভারকে ফেরত পাঠিয়ে দুজনে গিয়ে বসলাম একটা গাছ তলায় । একটা সিগারেট ধরিয়ে শুভকে বললাম , তারপর ?? ব্যাস শুভ শুরু হয়ে গেল অমনি । 

" আমাদের প্রথম ট্রেনিং এক মাসের ছিল । আর এই এক মাস জুড়ে অত ছেলে মেয়ের মহা মিলন তীর্থে এক মুহূর্ত একা অনুভব করি নি এক মুহূর্ত । প্রথম মাইনে পেলাম এই ট্রেনিং চলা কালীন । ৫৮০০০ টাকা । ভেবে পাচ্ছিলাম কি করবো এই টাকা নিয়ে । পুনে থেকে কিছু শপিং করলাম সবাই । বড়ুয়াটা অবশ্য কিছুই কেনেনি । পুরো টাকাটাই জমিয়ে রেখেছিল । আর এভাবেই এক মাস কাটিয়ে আমরা ফিরে এলাম নিজের নিজের অফিসে অন জব ট্রেনিংয়ের জন্য । 

অবশ্য পুনের দিনগুলো বলা হলে আরও একটা কথা বলতেই হয় । দুষ্টু মিষ্টি প্রেমের গল্প । সেটা ছাড়া ওই দিনগুলো অসম্পূর্ণ ছিল । এক এক করে ধরে ধরে বলছি , মন দিয়ে শোন । তবে তার আগে এক কাপ চা হয়ে যাক " ?? 

চায়ের গরম ভাঁড়ে হালকা চুমুক দিতে দিতে শুভর মুখ থেকে বেরিয়ে আসতে লাগলো পূজা , মৌসুমী র মত নাম না জানা কত নাম । পুনের সেই ছোট্ট জগৎ ঘেরা তাদের গল্প । অল্প অল্প প্রেম ধরা পড়ছিল শুভর চোখে মুখে । এরা এসেছিল অল্প সময়ের জন্য আর তারপর হারিয়ে গেছিল শুভর জীবন থেকে । তবু এসবার মধ্যিখানে যার নাম শুভর মনকে ভারাক্রান্ত করে তুলেছিল বারবার সে হল মঞ্জলি । ঝাঁসির গলি যেন তার ছোঁয়ায় পুনের বাতাসে মিশে গেছিল প্রতিবার । আর এমন অভিজ্ঞতা শুনতে শুনতে দুরন্ত এক্সপ্রেস হাওড়া ফিরে এলে কেমন যেন গতিতে ভাঁটা দেখতে পাই । শুভর গল্পগুলো কিন্তু এখানে 

শেষ হয় না । বরং শুরু হয় নতুন করে মাস খানেকের প্রতীক্ষার পরে । আগস্ট এর আহ্বান এর অপেক্ষা নিয়ে ফিরে এলো সবাই নিজের নিজের অফিসে অন জব ট্রেনিং নিতে । শুভ হাওড়া নামার পরের দিন ই ফিরে এলো বর্ধমানে , বিরহাটার চার দেওয়ালে । শুরু হল কাজের মধ্যে কাজ শিখে নেওয়া তার । এক মাসের দীর্ঘ এই পথে শুভর উন্নতি চরমে পৌঁছায় । নানা প্রকার আন্ডার রাইটিং এবং ক্লেমস শুভ বেশ ভাল ভাবেই করায়ত্ত করে ফেলেছিল । সিনিয়ার কলিগদের ভালোবাসা ও এজেন্টদের বিশ্বাসকে সম্বল করে শুভর প্লেন পুনে বিমানবন্দরে যখন অবতীর্ণ হল তখন প্রায় রাত দশটা । এত কিছু শুনছিলাম , তবু একটা প্রশ্ন এখনও পিছু ছাড়ছিল না কিছুতেই আর এই উৎকন্ঠার মধ্যেই শুভকে প্রশ্নটা পেরেই ফেললাম , " তোর দিন গুলো এত সুন্দর ছিল , তাহলে আফসোসটা কোথায় ছিল ? তুই যে অন্যায়ের কথা বলবি বলেছিলিস সেটা কি ছিল ? কেই বা দোষী " ? 

শুভ জ্বলন্ত নিকোটিনের মধ্যে নিজেকে ঢেকে নিয়েছে ততক্ষনে । শুধু তার গলা শোনা গেল ধোঁয়ার মধ্যে থেকে --- 

" যা ছিল তা আমাদের তৈরি । অন্যায় এর পর্ব আসছে আগে । আমার ভালোর মূল্য পেয়েছি কত । কিছু যন্ত্রনা অবশেষ " । 

কিছুই বুঝতে পারলাম না । তবে কি প্রেম ঘটিত কিছু ! নাকি অন্য কোন ঘটনার দিকে তার ইঙ্গিত । শুভর জীবনে প্রেমের আঘাত নতুন কিছু নয় , কিন্তু সব সময় কি প্রেম তাকে আঘাত দিয়ে যাবে । আজ সন্ধ্যা নেমে আসায় সে বাড়ি ফিরে গেল । তবে কাল আসবে কথা দিয়েছে । গল্পটা বলাটা তার জন্য খুব জরুরি । আমিও অপেক্ষায় রইলাম । শুভকে জানাটাও তো কম জরুরি নয় !!! 

দ্বিতীয় দিন অপেক্ষা আর সইল না আমার । ঘড়িতে দশটা বাজতেই গাড়ি নিয়ে হানা দিলাম সোদপুর , শুভর বাড়িতে । আমাকে দেখে শুভর দুই প্রহরীর তো আনন্দের বাঁধ মানে না । ফেয়ার এন্ড হ্যান্ডসাম তো রীতিমতো চিৎকার শুরু করে দিল । অবশেষে শুভ নিজে এসে আমাকে এসকর্ট করে ঘরের ভেতরে নিয়ে গেল । সকালের জলখাবার তাও শুভর বাড়িতে -- এ যেন এক পরম প্রাপ্তি । লুচি আর আলুরদম খেয়ে দুজনে ছাদে গিয়ে বসলাম । শুভর হাতে একটা ঝোলানো ব্যাগ আর ব্যাগ থেকে সে এক এক করে কাগজগুলো বার করে চলেছে । কিছুক্ষন এভাবে চলার পর আমার মুখের দিকে তাকিয়ে শুভ বললো , " গল্প অনেক শুনলি কাল থেকে । আজ আসল জায়গায় আসা যাক । একাউন্টেন্ট পদের জন্য আমি যেদিন ফর্ম ভরেছিলাম তার পাঁচ দিন পর আমি ইনসিউরেন্স কোম্পানিতে যোগদান করি । তাই কোম্পানির নাম জানাই নি আমার এপ্লিকেশনে । স্বাভাবিক ভাবেই কোম্পানীকেও কিছু জানাই নি আমি এবং একদম গোপনে ধাপে ধাপে পরীক্ষা দিয়ে যেতে থাকি । 

যেদিন কোম্পানি ছাড়ি সেদিন ব্যক্তিগত কারন দেখিয়েছিলাম ও আমার ম্যানেজার সেটি গ্রহণ করেছিল । আমি কোম্পানির এগ্রিমেন্ট এর টাকা ফেরত দেবো বলেছিলাম কারন কোম্পানির এগ্রিমেন্ট এ পরিষ্কার বলা ছিল --- এক বছরের গ্রস মাইনে ও ট্রেনিং ফি বাবদ পঁচিশ হাজার টাকা কোম্পানিকে ফেরত দিতে হবে যদি চার বছরের আগে আমি কোম্পানি ছেড়ে দিই । 

কোম্পানির রিজিওনাল অফিসে টাকার অংকের বিষয়ে আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম । ওরা কিছু জানাতে পারেনি । এরপর এগ্রিমেন্ট কপি দেখে আমি নিজেই হিসাব করি আমাকে প্রায় ছয় লাখ টাকা ফেরত দিতে হবে । যদিও এক বছরের মধ্যে কিছু ছেলে কোম্পানি ছেড়ে দিলে তাদের অনেক কম টাকা ফেরত দিতে হয়েছিল । আর আমার বেলায় কোম্পানি নির্দেশ দেয় আমি যত দিন কাজ করেছিলাম তত দিনের গ্রস মাইনে ফেরত দিতে হবে আমায় । 

আমি ওর মুখের দিকে হা করে তাকিয়ে রয়েছি । কিছু বলার ভাষা নেই আর । শুভর দু চোখ দিয়ে জল ঝরছে । কথা বলতে পারছে না , তবু বলে চলেছে শুভ ; 

" ১৯ মাস চাকরি করলাম নাকি বেগার খাটলাম । শালা এরা মানুষের বাচ্চা যে কর্মচারীদের খেতে পড়তে দিতে পারে না । কত বড় ভিখারি এরা যে এক হাতে টাকা দেয় , মাইনে দেয় আর অন্য হাতে সব নিয়ে নেয় । সাধারণ লোক আদালতে যেতে পারে না কারন তাদের প্রচুর টাকা নেই । নাহলে কবে জেল খাটতো হারামির বাচ্চাগুলো । " 

শুভকে কোন মতে থামালাম আজ । একদিকে সদ্য বাবা হারানোর যন্ত্রনা অন্যদিকে এভাবে শোষিত হওয়ার জ্বালা । সেই সব যন্ত্রণাগুলোই মিলিয়ে মিশিয়ে সে লিখেছিল সেদিন নিজের শেষ প্রার্থনায় আর আজ আমি চেষ্টা করলাম সেটাই তুলে ধরতে নিজের লেখার পাতায় : 

"

Sir , humanity is the greatest thing in the earth and you had proved it repeatedly from time to time . Please consider and reply me soon that can an employee's salary be made zero only in the name of a bond ?

                                     "


Rate this content
Log in

Similar bengali story from Tragedy