সূর্য্যেন্দু গায়েন

Classics Fantasy Inspirational


3  

সূর্য্যেন্দু গায়েন

Classics Fantasy Inspirational


18+যৌবন

18+যৌবন

7 mins 10 7 mins 10

18 যৌবন


আজ এক সম্পূর্ণ আলাদা ধরণের গল্প লেখার চেষ্টা করলাম | প্রেম, পরিবার, প্রকৃতি নিয়ে অনেক লেখা গল্প পড়লাম | অনেক লেখলাম | আজ যেটা লিখবো সেটা আশা করি ছাত্র ছাত্রীদের ভালো লাগবে | অনেকে আবার তাদের পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করবে | আসি এবার আজকের গল্পে |


                  অডিটের শিক্ষক, প্রফেসর অরিজিৎ পট্টানায়ক | খুব ফ্রাঙ্ক স্বভাবের স্যার | মর্নিং কো-এড কলেজে পড়ি | স্যারও খুব ভালো অডিট সাবজেক্ট পড়ান | চাঁছাছোলা কথা বলেন | যার সমালোচনা করেন, তার তো অবস্থা খারাপ | ওই যেমন বলেন, আচ্ছা তোমরা যে অঙ্ক শেখো, কি কাজে লাগবে তোমাদের ? শুধু যোগ, বিয়োগ, গুন ও ভাগটুকুই শিখলে যথেষ্ট, অন্তত আমার মনে হয় | আচ্ছা এই বীজ গণিত শিখে কি লাভ ? তুমি যদি রিসেপসনিস্ট এর জব কর, তোমার ওই কাজে বীজ গণিত কি কাজে লাগবে ? কোনো ছাত্র পড়া না পারলে আবার বকা ঝকা নয় | উল্টে অন্যরা হাসলে উনি বলেন, হাসছো কেন তোমরা ? আজ পারেনি কাল পারবে | মনে হয় কোথাও পার্ট টাইম জব করে, তাই পড়ার সময় ঠিক মতো পাচ্ছে না | আবার যে ছাত্রের সম্পর্কে উনি একটু আধটু চেনেন , তাকেও তার মতো উত্তর দেন |


            এই সেদিন যেমন সমর পড়া বলতে পারেনি | স্যর সোজা বলে বসলেন, কি সমর আজকাল মনে হয় খুব মেয়ে বাজি হচ্ছে ? ওই সুমিতা, তুই মনে হয় সমর এর সাথে প্রেম করিস ? আচ্ছা সুমিতা তুই বল, সমর যদি পড়া মন দিয়ে না করে তাহলে তার রেজাল্ট ভালো হবে না, আর রেজাল্ট ভালো না হলে সে ভালো চাকরী পাবে না | ভালো চাকরী যদি না পায়, তাহলে তুই কি সমর কে বিয়ে করবি ? আমার তো মনে হয় করবি না, কারণ তুই এটুকু বুঝিস আজকালকার বাজারে কম বেতনের কাজে সংসার চালানো কি কষ্টের | তাহলে ক্ষতি-টা কার হলো ? আমার মনে হয় ক্ষতিটা হলো , সমর আর সমরের সময় নষ্ট করা প্রেমের | সুমিতাও একদিন অন্য কোনো চাকুরিয়ালা ছেলের সাথে বিয়ে করে চলে যাবে | লাইফ স্টাইল নষ্ট হবে সমরের | সমর যদি ভালো পড়াশোনা করে, ভালো চাকরী পায়, সুমিতাকে বিয়ে ও করতে পারবে আবার প্রেম করাটাও সার্থক হবে | 18 যৌবনের ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে স্যারের এই সকল আদেশ উপদেশ দারুন লাগলো |


        ক্লাস রুমে করতালি আছড়ে পড়লো | পাশের রুমে অংকের স্যার গজ গজ করে অঙ্ক শেখাতে লাগলেন | নির্ধারিত সময়ে প্রফেসর পট্টানায়ক ক্লাস শেষ করে বাই স্টুডেন্টস বলে ক্লাস ছাড়লেন | যাওয়ার সময় অঙ্কের স্যার এর রুমে একটু উঁকি মেরে বললেন, সরি প্রফেসর বঙ্কিম | ডিসটার্ব করলাম বুঝতেই পারছো 18 যৌবনের ছাত্র ছাত্রী তো তাই---- বলে চললেন স্টাফ রুমের দিকে | এদিকে অংকের স্যার ভুলে গেছেন পরের কি থিওরী বসিয়ে ক্লাসটা শেষ করবেন | উফফ |

কি রকম যেন একটা ঝড় বয়ে গেলো ক্লাস টায় |

ইতি মধ্যে ক্লাসে নোটিশ এলো আগামী মাসের দু তারিখ ইভিনিং কলেজ এর সাথে ফুটবল প্রতিযোগিতা আছে | সকলের অংশগ্রহণ কাম্য | সবাই তো আত্মহারা | হো হো একটা রব উঠলো সারা কলেজে |

নেক্সট দিন ক্লাসে পট্টনায়ক স্যার এলেন | সবাইকে উৎসাহ দিয়ে গেলেন | বললেন এবারেও কাপ টা যেন আমাদের কলেজের হয় | ছাত্র ছাত্রী সকলে উৎসাহিত হলো |

         এবার সময় মাঠে নামার | পট্টনায়ক স্যার স্টেডিয়াম এর দর্শকাশন থেকে উৎসাহিত করছেন | আমাদের কলেজ এক গোলে পিছিয়ে ছিলো | এমন সময় পট্টনায়ক স্যার গেলেন মাঠের ধারে | সুশীল কে উৎসাহিত করার জন্য এমন এক বিষয় তুললেন যা দেখে সকলে অবাক |

= সুশীল তুমি সীমা'র সাথে প্রেম করো মনে হয় না ?

= হ্যাঁ স্যার | বললো সুশীল।

= এটাই তোমার সুযোগ, সীমা তোমাকে ভালোবাসতে চায় না | যদি তার মন জয় করতে চাও তাহলে চাই একটা গোল | সীমা স্টেডিয়ামে আছে |


             ব্যাস কে আর দেখে সোজা কর্নার থেকে গোল | দ্বিতীয়ার্ধে আমাদের কলেজের হয়ে আর এক গোল করলো জাভেদ | সে তার গার্লফ্রেন্ডকে কথা দিয়েছিলো এক গোল দেবেই | জয় হাসিল | জয় হাসিল হবেই না বা কেনো ? এ যে অফুরন্ত 18 যৌবনের লড়াই | পট্টনায়ক স্যার সকলকে বাহবা দিলেন। এবং পরের বার ট্রেকিং এর এডভেঞ্চার এর জন্য ঘোষণা করলেন |


          উল্লাস আর আনন্দের সঙ্গে সকলে পড়াশোনা করতে লাগলো | এ যেন এক অদম্য 18 এর স্পৃহা |


অতি উৎসাহের সঙ্গে যারা যারা যেতে চাইলো তারা সকলেই বেরিয়ে পড়লো অযোধ্যা পাহাড়ের উদ্দেশ্যে |

সুনীলের গোছগাছ করতে দেরি হচ্ছে, বাড়ী থেকে এখনো বেরোতে পারেনি | এদিকে অনিক ফোন করে দু চারটা গালাগাল ও দিয়ে দিলো | রিয়া আর সীমা যেন দুই বোন | কি সাজুগুজু চলছে | ওদেরও লেট | ব্যাস প্রকাশের মাথা গরম | সোজা ফোন রিয়াকে | কিরে তোরা কোথায় ? বাসের টাইম হয়ে গেছে | সত্যি তোরাও না | এতো সাজের কি দরকার ? তোদের কি আজ সম্বন্ধ কেউ দেখতে আসছে নাকি ? যতসব |


         ওদিকে রিয়া রেগে আগুন | ধূর ! যাবো না | আরও দেরী | শেষমেষ সকলের এক হয়ে বেরোতে বেরোতে 2 ঘন্টা লেট |


          বাসে উঠে একপ্রস্থ ঝগড়া | যাদের যাদের লেট তাদের উপর গরম দেখানো হলো | যাক পট্টনায়ক স্যার এর হস্তক্ষেপে সমাধান হলো | আর সব হবেই বা না কেন ? সকলেই যে 18 যৌবনের অগ্রদূত | বাসে হইহুল্লোড় আর গল্প আড্ডায় সকলে মশগুল | এমন সময় ড্রাইভার সজোরে ব্রেকে পা দিলো | সকলে হুড়মুড়িয়ে পড়লো | কি হলো কি হলো | ওই এক কালো বিড়াল রাস্তা কেটে চলে গেলো তাই ব্র্যাক | যত সব অদ্ভুত রীতি, গজ গজ করে চললো লিটন | কারণ, ওর কনুই'এ লেগেছে একটু | প্রভাস বললো ভাগ্যিস ব্র্যাক কসেছে | না হলে বিড়ালটা মারা পড়তো | গাড়ি আবার নির্দিষ্ট গতিতে এগিয়ে চললো গন্তব্যের দিকে |


           দেরীতে হলেও গাড়ি গিয়ে দাঁড়ালো হোটেলের সামনে | সকলে হইহই করে নেমে যে যার নির্ধারিত রুম এ প্রবেশ করলো | মেয়েদের সাথে কয়েকজনের মা ও এসে ছিলো | সকল মেয়ে এক রুমে | আর ছেলেরা অন্য রুমে | সুভাষ আবার একটু ভয় পায় , বাথরুমের ধারে বিড়াল ডাকছিলো, ভয়ে বেরিয়ে এসে বললো, ভাই সাবধান থাকিস সকলে,আমি ভুতের কান্নার শব্দ পেয়েছি | ব্যাস এই কথা কোনো প্রকারে মেয়েদের রুমে পৌঁছে গেছে | সে কি থরোহরিকম্প | যাইহোক সেই রাতে বিভাস ও হোটেলের ছেলেরা মিলে আবিস্কার করলো এক হুলো বিড়াল |


          পরের দিন ট্রেকিংয়ে বেরোতে হবে | সকলে রাতের খাবার খেয়ে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়লো | ইয়ার্কির ছলে সুনীল মাওঃ মাওঃ করে উঠল | ব্যাস ! কে দেখে, সব হুড়োহুড়ি করতে শুরু করেছে | কেউ কেউ তো মশারি ছিঁড়ে বেরোতে চাইছে | যাক, প্রফেসর পট্টনায়ক, সব সামলে নিলেন | স্যার তো বলেই দিলেন, আচ্ছা তোরা সকলেই তো 18 যৌবনের লহর , এতো ভয় পেলে হবে কি ভাবে ? কাল আবার ট্রেকিং আছে | স্যার, সুভাষের উদ্দেশ্যে বললেন, সুভাষ কাল ট্রেকিং এ যাবে তো তুমি ? পাহাড়ের মাথায় চড়তে হবে। সুভাষ ভয়ে জুবুথুবু | তাও উত্তর দিলো, হ্য স্যার আমি যাবো | সেদিনের রাতটা সকলেরই কাটলো খুব রোমহর্ষক ভাবে |

         18 যৌবনেও যে ভয়ের সঞ্চার হয়, তা সুভাষের মুখ চোখ না দেখে বোঝা মুস্কিল | পরের দিন সকালে সকলে মিলে হালকা নাস্তা করে ট্রেনারের সঙ্গে বেরিয়ে পড়লো | তার মধ্যেই সুভাষ দুবার হিসি করে এলো, শুধু ভয়ে | যারা যারা আগে থেকে ট্রেকিং এর ট্রেনিং নিয়েছিলো, তারাই পাহাড়ে উঠবে বলে ঠিক হলো | বাকিরা নীচে থেকে উৎসাহিত করবে |   ছোটখাটো পিকনিক তাদের জন্য আয়োজন হলো |


           18 যৌবনে যেন , কোনো বাধা আসতে পারে না | অনেকেই গেলো ট্রেকিংয়ে | দু চার জন মেয়েও গেলো | অদম্য সাহস ও 18 বয়সের গরম রক্তই পারে প্রতিকূলতাকে সরিয়ে এগিয়ে যেতে | সুভাষ তো বলেই বসলো, স্যারঃ ওরা ট্রেকিংয়ে যাচ্ছে যাক না, আমি ওদের জামা কাপড় পাহারা দি | সবাই চলে গেলে হবে কি করে স্যার বলুন ?

               হুম | হুম | ঠিক আছে | ভালো করে নজরে রেখো | আর হ্যাঁ, বিড়াল হইতে সাবধান |

            ট্রেকিং এর সব প্রস্তুতি সারা | রওনা দিলো ট্রেকিং টিম | সকলে মিলে উৎসাহিত করলো | ট্রেকিং চলতে চলতে হঠাৎ সুশীল এর পায়ে কি যেনো নরম নরম ঠেকলো | সুশীল ক্ষণিক দাঁড়ালো | নীচে পায়ের কাছে তাকিয়ে যেই বিস্ফারিত চোখে দেখলো, অমনি, বাবাগো মাগো বলে চিৎকার | সাথে, সাপ সাপ বলে লাফিয়ে উঠলো | সুশীল সোজা দৌড় দিলো বেস ক্যাম্পে | বাকি যারা ছিলো তারা সাবধানতা অবলম্বন করে এগিয়ে গেলো | আবার বিপিত্তি লিটনের কোমরে বাঁধা দড়ি, খানিকটা আলগা হয়ে এসেছে | ট্রেনার সঙ্গেসঙ্গে বাঁধনটা শক্ত করে বাঁধলো | দুপুরের দিকে সাকসেসফুল ট্রেকিং এর পর সকলে নিরাপদেই ফিরলো |

              যে যার অভিজ্ঞতা সকলের সাথে শেয়ার করছিল, এমন সময় সুভাষ এসে বললো, ভাই সকল, আমি কিন্তু তোদের জামা কাপড়ের উপর তীক্ষ্ণ নজর রেখে ছিলাম | যাতে এদিক ওদিক গুলিয়ে না যায় | আমারও এক দারুন অভিজ্ঞতা হলো | সকলে মিলে হো হো করে হাসলো | তার মাঝে কেউ একজন মাওঃ মাওঃ করে উঠলো | সুভাষ বললো, কে রে হতছাড়া আয় তোর দাঁত ভেঙে দেবো | আর ভাঙবেই না কেন, সে যে 18 এর দাবিদার | মুখে চোখে অদম্য সাহস শুধু বিড়ালের ভয় আছে একটু |


পরের দিন সকলে বাড়ি ফিরলো এক নতুন অভিজ্ঞতার সাথে | প্রফেসর পট্টনায়ক লিটন'কে জিগ্যেস করলেন, লিটন তুই কিভাবে চড়লি পাহাড়ে ? তোর তো অভিজ্ঞতা নেই আগে | তখন ক্লাসের সকলে মিলে বলে উঠলো স্যার" আমরা সবাই 18 , কোনো বাধা আটকাতে পারবে না আমাদের | আমরা অফুরন্ত যৌবনের অধিকারী ||



Rate this content
Log in