তারা
তারা
ছোট থেকেই আকাশের
তারাদের সাথে কথা বলতো সে।
সারাদিন থাকতো অপেক্ষায়
কখন সন্ধ্যা নামবে পশ্চিম আকাশে,
কখন সে খুঁজবে তার বাবা কে!
বাবা কে কখনো দেখেনি সে,
শুধু শুনেছে তার কথা মা’য়ের কাছে,
বাবা নাকি আকাশের তারা হয়ে গেছে।
সেই থেকে শুরু-
রোজ রাতের আকাশে
নিমীলিত নয়নে হাজার তারার মাঝে
সে খোঁজে তার বাবাকে।
রাতের আকাশে সব তারারা ঝিকমিক করে,
তাদের দেখে খুশিতে উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে তার মুখ।
ঐ যে তারা টি বেশী উজ্জ্বল-
বুঝি মিটিমিটি হাসছে তাকে দেখে-
সেই কি তার বাবা,
হাসছে তাকে দেখে!
হঠাৎ সেই তারা থেকে এক আলোর টুকরো পড়লো খসে,
আনন্দে হাততালি দিয়ে ওঠে সে-
বাবা বুঝি আশীর্বাদ পাঠালো
তাকে ভালোবেসে।
কিন্তু সহসা সে আলোকবিন্দু
বাতাসে মিলিয়ে গেল।
মনমরা হয়ে চোখে জল-
কাঁদে শিশু হাপুস নয়নে-
বাবা এতটুকুও ভালোবাসে না তাকে।
রোজই কেঁদে চলে সে-
কেঁদে কেঁদে কাহিল হয়ে পড়ে।
অসুস্থতা বেড়ে চলে রোজ।
সন্ধ্যা নামলেই নিশার আকাশে
খুঁজে ফেরে বাবাকে-
মন মানে না তার-
বোঝে না কিছুতেই সে।
কত ডাক্তার-বদ্যি-ওষুধ-সব বৃথা,
ধীরে ধীরে ক্লান্ত হয়ে এলিয়ে পড়ে শরীর।
চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসে-
হাত বাড়িয়ে বুঝি বাবার কোলে উঠতে চায়-
বাবা বুঝি কোলে তুলে নিল তাকে-
শান্ত হলো সে।
আজ বুঝি সে মিললো বাবার সাথে-
তারা হয়ে- তারাদের দেশে।
