রেস্তোরাঁয়
রেস্তোরাঁয়
সেদিন স্বপনে দেখি দূরে রেস্তোরাঁয় ;
ছিটেফোঁটা চারজন বসেছে টেবিলে,
কবিতারা বসে আছে; ঠিক তার বাঁয় ;
একটি পাগলা কবি চোখ রাখে বিলে ।
আকাশ তো নয় ; যেন ঝুলন্ত রেস্তোরাঁ;
তারাবাতি জ্বেলে দেখে একগুচ্ছ ফুল ,
পাগলা কবিটি নাকি অল্পস্বল্প খোঁড়া ;
কবিতার টাকে দেয় একরাশ চুল ।
একদিন অপরাহ্নে তুমি আর আমি ;
রেস্তোরাঁয় গিয়ে দেখি শুধু অন্ধকার,
পাগলা কবিটা বলে তোমাদের জানি ;
ভাঙা বুকে কাদা ঢেকে দেখাও বাহার ।
হতবাক হয়ে যেই দেখি চোখ মেলে ;
কোথায় সে অর্বাচীণ পুরাতন কবি !
আকন্ঠ সোমসুধা উল্টানো বোতলে;
নেশা ঘোরে পড়ে আছে প্রভাতের রবি।
দুইপাশে আটজন চারটি টেবিলে ;
আঁক কাটে দাগ দেয় তোমার ললাটে,
তখনো ধরেনি মাছ কোন শাঁখচিলে ;
গোগ্রাসে চেয়ে আছে ফাঁকা ঝিল ঘাটে ।
পাগল কবিটা নাকি করেছে আদেশ ;
মেনুকার্ডে মৎস্যের পদ নেই কেন,
শাঁখচিল বলে তাকে ' রয়েছ তো বেশ ;
আঁধারের ছন্দ নিয়ে দাঁড় কাক যেন ।
ক্রোধে অগ্নিশর্মা হয় ; দু'চোখ কবির ;
ফোঁস করে লিখে যায় দুই চার ছত্র ,
রেস্তোরাঁয় আলো নেই আঁধার স্থবির ;
এই মোর জীবনের শেষ লেখা পত্র ।
পাগলা কবিটি ধায় আলোক আনিতে ;
দূরে উর্দ্ধে নীলিমায় অন্ধকারে একা,
জেনে গেছি সব সত্য ; তুমি কি জানিতে ;
এখানেই তোর সাথে হবে শেষ দেখা ?
