Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

AYAN DEY

Classics


2  

AYAN DEY

Classics


সৈকত আলি

সৈকত আলি

4 mins 468 4 mins 468

তখন আমার স্বীকারোক্তি করার পালা । বারে বারে ওই শেক্সপিয়ারের কথাটা মনে পড়ছিলো , " দেয়ার আর মোর থিংস ইন দ্য হেভেন অ্যান্ড আর্থ হোরেশিও , দ্যান আর ড্রেমট অফ ইওর ফিলোসফি । "

অলৌকিক বিশ্বাস আমি করতাম না , না করতাম ভগবান বিশ্বাস । গত শনিবার সোদপুরে গিয়েছিলাম এক আত্মীয়ের বাড়ি । বাসস্টপ থেকে রিক্সা ধরে বেশ দশ মিনিট মতো যেতে হ​য় । সম​য়টা ধরুন ওই সকাল ৮টা । একটা রিক্সাই দাঁড়িয়ে স্ট্যান্ডে । উদ্দেশ্য বলতে রাজি হয়ে গেলো রিক্সাচালক ।

রিক্সায় উঠে বসলাম মা আর আমি । জিজ্ঞাসা করতে যাবো যে , " কত ভাড়া ? " যদিও যেকোনো ভাড়া চাইলেই দিতে হবে কারণ স্ট্যান্ডে রিক্সা নেই । ওমা ভদ্রলোক মুখের কথা কেড়ে নিয়ে বললেন , " প্রথম বৌনি আপনি , যা মন চায় দেবেন । "

" দশ দেবো । ঠিকাছে তো ? "

" হ্যাঁ বাবু ঠিকাছে । শুধু তো রিক্সাই চালাই না এই তো বেলা হলে প্লেন চালাবো , দুটো ফ্লাইট আছে আজ । "

মনে মনে ভাবছি " খেয়েছে সক্কাল সক্কাল । "

কিন্তু টালমাটাল ভাব নেই , কথায় জ​ড়তা নেই । পরে ভাবলাম গাঁজা টাজা হলে তো সেসব বোঝা যাবে না ।

আমি পাশের ফ্ল্যাটগুলো হচ্ছে দেখছি । মনে মনে রেট কীরকম হতে পারে প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে । পকেটে মোবাইলে হাতটা সবে গেছে , ওমা লোকটা বলেন শুনি , " এসব তো আমার হাতে বানানো । ২ লাখে তিন বেডরুম দিয়ে দেবো , বলবেন শুধু আমাকে । "

" এ কেমন হলো ? " ভাবছি মনে মনে ।

চমকের বেশকিছু তখনও বাকি । রাস্তার দুধারে টাটকা আনাজ দেখে বেশ ভালো লাগছে । বাড়ির কাছে এতটাও টাটকা সবজি দেখি না ।

" আপনারা যেখানে যাবেন ওইখানে মসজিদের পাশে বাড়ি আমার । আমার বাগান আছে , আপনারা গাড়ি আনলে বোঝাই করে দেবো । "

এবার আমি প্রথম মুখ খুললাম , " তুমি তো অদ্ভুত লোক হে ? একাধারে রিক্সা চালাও আবার প্লেন চালাও , আবার বলছো প্রোমোট করো বাড়ি , এদিকে আবার বাগান আছে বলছো ! "

" ওই আরকি । ভগবান দিয়েছেন । আপনি যদি গাড়ি কেনার কথা ভাবছেন ? এই এলাকায় ব​ড় একটা শোরুম আছে , শুধু ওখানে সৈকত আলির নাম করবেন ব্যাস । "

গাড়ি একটা কিনবো কিনবো মনে করছিলাম অনেকদিন ধরেই । কিন্তু উনি জানলেন কী করে ? বললাম , " তোমার নাম করলে কী হবে ? "

" ওই আরকি একটু কম হবে ? বেশী মাসের ই.এম্.আই করতে পারবে । আমায় সবাই চেনে । "

পথ শেষ হতে দেখলাম তখনও বাকি । বেশ অনেকটা পথ । বলেছিলো অবশ্য সবাই দশ মিনিট লাগবে । মনে মনে খুব খারাপ লাগলো , দশ টাকা ন্যায্য ন​য় । 

নামার পর ওকে শটান ত্রিশটাকা হাতে ধরালাম । উনি বললেন , " না বাবু , দশের বেশী আমি নেবো না । কথার ন​ড়চ​ড় করি না আমি । "

" আরে এতটা পথ আমি থুরি জানতাম ! নাও নাও রাখো ত্রিশই রাখো । "

" না বাবু ও আমি নিতে পারবো না । দশ বলেছেন তাই-ই নেবো । "

অগত্যা তাই দিলাম । যে আত্মীয়ের বাড়ি গিয়েছিলাম তারা শুনে বললো , " অ্যাঁ দশ টাকা ! কোন রিক্সা গো ? তিরিশের কম নেয় না । "

পরে সব ঘটনা বলতে ওনারা বললেন , " নির্ঘাত ও নেশাভাঙ করেছিলো । নইলে এমন ভাড়া কেউই চায় না আর এমন আজগুবি গল্প কেউই বলে না । "

বেরোনোর সম​য় মাকে বললাম , " চলো ওই মসজিদের পাশটা দেখে আসি । "

মা বললো , " তোর বাপু বেশী বেশী । "

মাকে জোর করে নিয়ে গেলাম । মসজিদের কাছে এসে একটা লোককে জিজ্ঞাসা করলাম , " সৈকত আলির বাড়ি কোথায় জানেন ? "

" কে ? সৈকত আলি ? ও বুঝেছি । এক সৈকতকে আমি চিনি । সে এই মসজিদের পাশেই থাকতো । কিন্তু দাদা উনি তো বেঁচে নেই । "

" কী বলছেন দাদা ? আরে রিক্সা চালায় , রোগা করে সরু দাড়ি গলা অবধি নেমে এসেছে । "

" হ্যাঁ হ্যাঁ ওরকমই দেখতে । ঠিক বলেছেন , লোকজনকে বলে বেড়াতো প্লেন চালাই ফালাই । একটু মাথার গণ্ডগোল ছিলো । তবে প্রচুর গরীব লোকের সেবা করেছে । ওর বাগান থেকে লাভ হত ভালোই । এখনও খানিক অবশেষ আছে বেঁচে ওই বাগানের । "

" কী যাতা বলছেন ? প্রমাণ আছে কোনো , ছবি কোনো ছবি ? "

" উমম দাঁড়ান । তিনবছর আগের ক্লাবের কালীপুজোর একটা ছবি ... অ্যা এই যো । " বলে ফোনটা থেকে একটা ছবি বের করে দেখালেন ।

আমি উত্তেজিত হয়ে বললাম , " হ্যাঁ ইনি , এনাকেই তো সকালে ... "

" আপনি দেখতে পেয়েছেন নাকি ? "

" বলছি কি একটা অটো ডেকে দেবেন , শরীরটা কীরকম খারাপ লাগছে । "

" দাঁড়ান দাঁড়ান । ওই তো এই অটো । "

তখন আমার গায়ের প্রতিটা রোম কথা বলছে । অটোওলার সাথে শুধু একবার কথা হলো , " কী হয়েছিলো দাদা সৈকত আলির ? "

" রোড অ্যাক্সিডেন্ট দাদা । চিনতাম , বেশ ভালো লোক ছিলো । আমায় প্রচুর হেল্প করেছে । "

আমি সেদিনই স্বীকার করেছিলাম মায়ের কাছে যে সত্যিকারের অলৌকিক বলে কিছু একটা আছে । আমি তারপরেও একবার গেছি ওই আত্মীয়ের বাড়ি , কল্পনা করেছি সৈকত স্ট্যান্ড নিয়ে রিক্সা নিয়ে আসছে । আমি চালকের মুখ দেখে নিয়েছি এই ভয়ে যে সৈকত নাকি ? হয়তো ও জানে আমার মসজিদের পাশে যাওয়ার কথা । একদিন ফের দেখা হবে ।


Rate this content
Log in

More bengali story from AYAN DEY

Similar bengali story from Classics