রহস্যময় অরণ্য
রহস্যময় অরণ্য
রুহি ! রোহান ! এই জলদি ওঠ তোরা ! যেতে হবে তো জলদি ! তাড়াতাড়ি ব্যাগপত্র গোছা তৈরী হয়ে নে।
মায়ের এরকম ডাক শুনে ভাইবোন দুইজনে লাফ দিয়ে উঠলো।
কি বলছো মা ? কোথায় যেতে হবে ? এখন তো ছুটি আমাদের।
আরে তোরা তোদের বাবাকে বলছিলিনা ছুটিতে কোথাও নিয়ে যেতে সেইজন্যই তোদের বাবা আমাদের সবাইকে নিয়ে ঘুরতে বাইরে যাবে। তোরাইতো চেয়েছিলি।
দুই ভাই বোন তাদের নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিলোনা এ কথাটা। কারণ বাবা তাদেরকে কখনোই কোথাও নিয়ে যায়নি বা যেতেও দেয়নি আজকে হঠাৎ নিজ থেকে নিয়ে যাচ্ছে এ যেন তারা মেনে নিতে পারলোনা।
মা তুমি কি সত্যি বলছো ? নাকি আমাদেরকে ঘুম থেকে তুলার জন্য মজাকরে বললে ? দেখো মা সকাল সকাল আমাদের সাথে মজা করোনা ঘুমাতে দেও।
এই আমি কেন তোদের সাথে মজা করতে যাবো আজব ? নিজেরা গিয়ে তোদের বাবাকে জিজ্ঞেস করে নে। আর ঘুম থেকে উঠ বেলা হয়ে গেছে নিচে নাস্তার টেবিল এ চলে যায় তোদের বাবা তোদের জন্য অপেক্ষা করছে।
দুই ভাই বোন হাত মুখ ধুয়ে নাস্তা করতে নিচে নামলো। দেখলো তাদের বাবা নাস্তার টেবিল এ বসে পত্রিকা পড়ছেন। পত্রিকা থেকে চোখ না সরিয়েই বললেন।
শুভ সকাল রুহি , রোহান !
শুভ সকাল বাবা ! নাস্তার টেবিল এ বসে রুহি তার বাবাকে জিজ্ঞেস করলো বাবা মা বললো তুমি নাকি আমাদেরকে নিয়ে ঘুরতে যাবে ? এ কথাকি সত্যি ?
হ্যাঁ সত্যি কথা এটা। আমরা আজকে বিকেলেই যাবো দুইদিন থাকবো।
কিন্তু বাবা হঠাৎ করে তুমিতো আগে থেকে আমাদের কিছু বলোনি আর আমার এবং রোহানের তো পড়া আছে ছুটি থাকলেও কলেজ থেকে অনেক পড়া দিয়েছে শেষ করতে হবে।
অরে আপু কি সমস্যা দুইদিন ই তো ! এই দুইদিনে এমন কিছু আসবে যাবেনা আব্বু নিয়ে যেতে যাচ্ছে বাধা দিস না।
আতাউর রহমান বললেন, সারাদিনতো পড়িস ই তোরা তোদের রিফ্রেশমেন্ট এর জন্যই নিয়ে যেতে চাচ্ছি শুধু তো দুইদিন ই থাকবো তারপর তো চলেই এসব নতুন জায়গায় গেলে মনটাও ভালো লাগবে।
কিন্তু বাবা জায়গাটা কোথায় মানে তুমিতো আমাদের জায়গাটা সম্পর্কে কিছু বল্লেনা।
জায়গাটা সম্পর্কে কিছু বলবোনা ওখানে গেলে সব জানতে পারবি। তাড়াতাড়ি নাস্তা সেরে সবকিছু গুছিয়ে তৈরী হয়ে নিস তোরা।
ঠিক আছে বাবা। রোহান বললো।
বাবার কথামতো দুই ভাই বোন চলে গেলো যার যার মতো তৈরী হতে।
এবার ওদের পরিচয় দেয়া যাক। রুহি , রোহান দুই ভাই বোন। দুইজন পিঠেপিঠি বয়সের। রুহি ইন্টার সেকেন্ড ইয়ার এ পরে আর রোহান ইন্টার ফার্স্ট ইয়ার। ওদের বাবা আতাউর রহমান এবং মা রুমানা বেগম। ঢাকার গুলশান এলাকার একটা বড় এপার্টমেন্ট এ থাকে এরা সবাই। এই এপার্টমেন্ট আতাউর রহমান কিনে নিয়েছেন। আতাউর রহমান শহরের অনেক নামকরা একজন ব্যবসায়ী। অনেক প্রতাপশালী লোকদের সাথে ওঠাবসা তার। এদিকে রুমানা বেগম সাধাসিধা একজন গৃহিনী। ঘর সামলে রাখেন আর এই দুষ্ট দুই ভাইবোনকে সামলাতেই তার হিমশিম খেতে হয়। সারাদিন এদের ঝগড়া লেগেই থাকে কিন্তু মিল ও আছে তাদের মধ্যে বেশ।
রুহি রোহান ব্যাগ গোছাচ্ছিল আর ঝগড়া করছিলো।
এই রুহি তুই ব্যাগ এ সবসময় এরকম আটা ময়দা নিয়ে ঘুরিস কেন ? এমনেই তো আটা ময়দা মেখে যাবি আবার নিয়েও যেতে হবে নাকি ? যত্তসব।
রুহি রেগে গিয়ে বললো এগুলো মেকআপ ওকে !!! আর আমি তোর এক বছরের বড় তোর এতো সাহস কি করে হয় আমার ব্যাপারে নাক গলানোর। আমি কি তোর ব্যাপারে নাক গলাই নাকি গলাইসি এখন ? তুই যে তোর ব্যাগ এ হাবিজাবি কত কিছু নিয়ে যাচ্ছিস কই আমিতো কিছু বলিনি কেন নিয়েছিস ?
তাহলে তুই কেন বলছিস ? নিজের টা নিয়ে থাক !
রুমানা বেগম ওদের ঝগড়া শুনে দৌড়ে ওদের রুম এ আসলেন। তোরা আবার শুরু করলি ? শান্তি দিবিনা আমাকে ? সারাটাদিন তোদের ঝগড়া লেগে থাকে একটু মিলেঝুলে থাকতে পারিস না ?
রুহি বললো এই বান্দর থাকলে ঝগড়া লেগেই থাকবে।
রোহান বললো কি বলি তুই আমি বান্দর ? তাহলে তুই বান্দরনী।
দেখসো মা ? তোমার ছেলেকে থামতে বলো এই ঝগড়া কিন্তু ও আগে শুরু করসে ও আমার মেকআপ নিয়ে কথা বলসে আমি কিন্তু ওর ব্যাপারে কিছুই বলিনি।
তোরা থামবি একটু !!!!! তোদের বাবা তাড়া দিচ্ছে জলদি তৈরী হয়ে নিচে আয়। আমি যেন আর একটু ও ঝগড়া না শুনি। নাহলে তোদের যাওয়া কিন্তু ক্যানসেল করে দিবো বললাম !
মায়ের কথা শুনে ওরা ঝগড়া বন্ধ করে নিজেদের কাজে মনোযোগ দিলো। রুহি কয়েকটা গল্পের বই নিয়ে নিয়েছিল যাতে ওখানে একঘেয়েমি লাগলে পড়তে পারে। রোহান সাথে করে তার দামি ক্যামেরা নিয়ে নিলো ওখানে ছবি তুলার জন্য। রোহানের আবার ফটোগ্রাফির খুব শখ।
রুমানা বেগম ও তার নিজের ব্যাগ গুছিয়ে নিলেন।
এদিকে আতাউর রহমান ফোন এ কারো সাথে কথা বলছিলেন। হুম জায়গাটা পরিষ্কার করে রাখো এবং রুম গুলো ও গুছিয়ে তৈরী রাখো আমরা কাল সকালের মধ্যেই ঐখানে পৌঁছে যাবো। আর শোনো উত্তরের ওই রুমটা ভালো করে বন্ধ করে রাখবে আমার ছেলেমেয়েরা যেন ওই রুম এ কোনোভাবে না যেতে পারে এবং ওদেরকে এব্যাপারে বেশি কিছু বলতে যেয়োনা তোমার তো মুখে কিছু আটকায়না। আমার কথাটা যেন মনে থাকে বুঝলে?
কেমন হতে যাচ্ছে ওদের এই ভ্রমণ রোমাঞ্চকর নাকি একঘেয়েমি ? ওরা কি কোনো নতুন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে যাচ্ছে ? কি হবে ওখানে ?
কি এমন ব্যাপারে আতাউর রহমান তার ছেলেমেয়েদের থেকে আড়ালেরাখতে চাইছেন? জানতে হলে পরের পর্বের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

