Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

পলাশ মাহাত

Comedy Tragedy


2.2  

পলাশ মাহাত

Comedy Tragedy


লোকাল বাস

লোকাল বাস

6 mins 370 6 mins 370

           বিমল কলেজ স্টুডেন্ট । বাংলা অনার্স করছে । এই বছর থার্ড ইয়ার । বয়েস একুশ । বলিষ্ঠ চেহারা , আর মনটা ভীষন আবেগি । কলেজের মেয়েগুলোকে দেখে দেখে কত যে কবিতা লিখেছে তার কোন গানিতিক হিসাব নেই । মনের মাধুরি দিয়ে সাজিয়েছে স্বপ্নের প্রেমিকাকে । ছোটাছুটি করেছে মেয়েদের পেছনে পেছনে , কিন্তু রেজাল্ট আসেনি । সে ধরে নিয়েছে , সে যত বড় প্রেমিক হোক না কেন , যত কাব্যগ্রন্থ রচনা ক্রুক না কেন , তাকে প্রেমিকাহীন হয়েই থাকতে হবে ।মেয়ে পটানো তার ধাতে নেই । কিন্তু উদ্মাদ যৌবন মানে না কোন যুক্তি । কোন দর্শন । মেয়ের প্রতি দুর্বার টান তাকে ভেতরে ভেতরে অস্থির করে তোলে । ভাবে , একদিন না একদিন তার স্বপ্ন সত্যি হবে । তার জীবনেও আসবে প্রেমিকা । প্রেম । অমর প্রেম ।

           আর একদিন সত্যি সত্যি আসে প্রেমিকা ।তার অধরা স্বপ্ন সত্যি হয়ে ওঠে ।   

সেইদিন বিমল লোকাল বাসে মেসে যাচ্চিল ।এর আগে কোনদিন লোকাল বাসে ওঠেনি । সেইদিন প্রথম।আর সেই দিনেই ঘটে ঘটনাটা । 

          বাসে ওঠে বিমল । বসে নিজের সিটে । চাকার ওপরের সিটটাই তার । ভিড় তেমন নেই । চাষের দিন । লোকের আসা যাওয়া নেই বললেই চলে । কিন্তু ভীষন গুমোট । ভাদ্রের প্রথম দিক । মনসা পুজার ছুটিতে এসেছিল বিমল বাড়ি। বাস ছাড়তেই হাওয়া এল জানালা দিয়ে । বিমল জানালা ফাঁকে বাইরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে যাচছিল । ঘটনাটার উতপত্তি ঘটল গেঙাড়া মোড়ে । বাস এসে থামল মোড়ে আর এক মহিলা উঠল বাসে । ব্যস বিমলের হয়ে গেল ।

মহিলাটি ছিল অদ্ভুত সুন্দরী । উদ্দাম , পাগল-করা যৌবন তার । রঙটি যেমন ফর্সা , শরীরটিও তেমনি সর্পিল । নেশা ভরা মায়াবী দীঘল চোখ । আর সে চোখে আবেদন আর আবেদন । বিমল ওই মহিলাকে দেখে একেবারে গাড্ডু বনে গেল।

বিমল ভগবানের কাছে প্রার্থনা করল , অই মহিলা যেন তার কাছের ফাঁকা সিটে এসে বসে । এবং তাই হলও । বিমল এইবার ভাবল যাক , আজকের জার্নিটা বেশ সুখপ্রদ হবে । এমন সুন্দর মনোমোহিনী নারীর ঘন উষ্ণ সান্নিধ্যে তার এই যাত্রাকে করে তুলবে সর্বাঙ্গ সুন্দর ও সাফল্যমন্ডিত । ভেতরে ভেতরে সে ভীষন উত্তেজনা অনুভব করছিল ।

মহিলাটি বসলে সে একবার মহিলার দিকে তাকাল । আর তখনই সেই মহিলার সংগে তার চোখের দৃষ্টি মিলে গেল । এ যেন এক মহাসংগম । আনন্দ উচ্ছ্বাস আর উত্তেজনা যেন একসংগে তার দেহ মনে আছাড় খেয়ে পড়ল । তার মনে হল , সে যেন এই মুহূর্ত্তেই পাগল হয়ে যাবে । তার এই সৌভাগ্য তাকে আকাশ ভাসাতে লাগল ।

বাস এগিয়ে চলে । আবার বাইরের দিকে তাকায় বিমল । কিছুক্ষ চেয়ে থাকে । তারপর আবার তাকায় মহিলার দিকে । ঘন কালো চুলের মাঝে একটু সিঁদুরের ছোঁয়া । তার রুপের শভা বাড়িয়েছে ।চুল থেকে ওঠে আসছে মেয়েলি মাদকতার গন্ধ । নেশাগ্রস্ত লাগছে বিমলকে । মুগ্ধতা যেন তাকে চারদিক থেকে গ্রাস করে নিচ্ছে । কথা বলার জন্য তার মন ছটপট করে । কিন্তু কি কথা বলবে , কেমন করে শুরু করবে বুঝে ঊঠতে পারছে না । কখনো সরাসরি কখনো গোপনে তাকাচ্ছে ।তাতে তার মনে হচ্ছে সে শান্তি পাবে । কিন্তু শান্তি কোথ্য্য ? বরং তাতে তার তাকানোর চাহিদা আরও বাড়ছে । মন হচ্ছে সে মুখের দিকে চেয়েই থাকবে অনন্তকাল । জন্ম-জন্মান্তর ।

এক সময় কন্ট্রাক্টর এসে ভাড়া চাইলে সে বিষ্ণুপুরের ভাড়া কাটল । বিমল আর একবার তাকাল তার দিকে । আর একবার তাদের চার চোখ এক হয়ে গেল । কিন্ত এইবার মহিলা হাসল । তার রক্তিম ঠোঁটের বেরিয়ে এল এক মোহনী হাসি । আর সে বলল , তুমি কোথায় নামবে ?

এই সামনেই । কলেজ ।

           বলেই বিমল ভাবল তাকে ভাই বলল ? এর মানে কি ? তবে কি সে যা ভাবছে ভুল ভাবছে ? মহিলা কি তাকে ভাই মনে করছে ? তার অনুভূতি আর মহিলার অনুভূতি কি সম্পূর্ণ আলাদা । মিথ্যে সে স্বপ্ন দেখছে ? যেন আকস্মিক মৃত্যু ঘটে । আর মহিলার দিকে তাকাতে পারে না । গোমড়া মুখে চেয়ে থাকে বাইরে ।

কিছু সময় পার হয় । মহি;লা বলে ওঠে , কলেজ পড় ?

হু

দেখেই বুঝতে পেরেছি । 

কি করে বুঝলে ?


মহিলা এইবার মুচকি হেসে বলে , কলেজে না পড়লে এত সুন্দর হ্যান্ডস্যাম চেহারা হয় ?

বিওম্ল নিজের তারিফ শুনে খুশিতে নেচে উঠল । এবং তার মনে হল হল সে একটু আগে যা ভাবছিল তা সত্য নয় । সে যা ভেবেছে সব তার অনুকূলে । প্রথম প্রথম সবাই ভাই বলেই পরিচয় জমায় , তারপরে সে সম্পর্ক চলে যায় আদিমতার আবিল স্রোতে । এইটাই সমাজের নিয়ম । এমনি করে বয়ে চলে সমাজের ধারা । মানুষের জীবন ।


হঠাত যেন একবার বাসটা খুব জোরে ব্রেক দিল আর বাসের সব যাত্রী হেলে গেল যেদিক সেদিক । ওই মহিলা তো হুমড়ি খেয়ে পটল বিমলের গায়ে । আর কাঙ্খিত নারীদেহের উষ্ণ রোমাঞ্চকর চাপে বিমল গেল দিশে হারা হয়ে । এমন সুখ এমন বিচিতে অনুভূতির স্বাদ সে এই জীবনে প্রথম অনুভব করল । মনে হল তার সে যেন মাতাল হয়ে যাচ্ছে ।

সে মহিলার দিকে তাকাল । মহিলা বলল কিছুই হাসল । যেন সে লজ্জিত । 

বিমলও আবভাব করে বোঝাতে চাইল ওটা কোন ব্যাপার না । এমন হয়ে থাকে ।

মহিলা শেষ পর্যন্ত বলেই ফেলে , বাস্টা যে এমন ভাবে ব্রেক দেবে বুঝতে পারিনি ।

-        কেউ বুঝতে পারেনি ।

আবার দুজনেই চুপ । কিছু সময় চলে যায় । বিমল ভাবে এইবার কি কথা বলা যায় ? বলতে তার অনেক কিছু মন করে । বুঝে উঠতে পারে না । আড়ষ্ট বোধ করে । মহিলা নিজের দিকে আকৃষ্ট করার কৌশল ভাবে । ভেবেই যায় ।

           বাস এগিয়ে চলে । ইঞ্জিনের ঘ্যানর ঘ্যানর শব্দ । আর মিনিট দশেক পরেই বাস পৌঁছাবে কলেজ । তখন কে কোথায় ভ্লে যাবে তার কোন হদিশ থাকবে না । আর হয়ত দেখা হবে এই নহিলার সংগে । কথা হবে না । কিন্তু এই স্বল্প সময়ের স্মৃতি থেকে যাবে ।

বিমল উদাস হয়ে তাকায় । চোখের সামনে জ্বলজ্বল করে রাঙা সিদুর । যেন তাকে আকর্ষনীয় করে তু;লে । বিমল মনে মনে ভাবে , প্রেম হলে এমনই হয় । সমতা থাকে না । বৈধতা থাকে না । অনুকুলতা থাকে । যদি থাকত তবে কেন এই মহিলাকে দেখে তার মনে হচ্ছে সে প্রেমে পড়েছে ? কেন এইরকম দুর্বার টানে টানছে ?

           কিন্তু সত্যিই কি আর কোনদিন দেখা হবে না ? প্রেম এমনো ঠুনকো হয় ? মন মনের খোঁজ পেয়েও কি হারিয়ে যায় । বিমল নিখুঁতভাবে দেখতে থাকে । দেখতেই থাকে ।

           মহিলা সে তাকনো দেখে বলে কিছু বলবে ।

 বিমল , না ।

           তাহলে কি করে চেয়ে আছো কেন ?

           বিমল নিজেকে সামলে নিয়ে বলে , না এমনি ।

           মহিলা হাসে । সেই হাসি যা দেখে বিমলের চোখের পাতা পড়ে না । সেই হাসি যা দেখে বিমলের মনে হয় একে আমি ভুলব কি করে ?

           বাস এসে কলেজে থামে । বিমল নেমে যায় । তার পর দাঁড়িয়ে থাকে । সেই জানালার দিকে তাকায় যেখানে সে বসেছিল , যেখানে অই মহিলা বসেছিল । বিমল দেখে ,জানালা দিয়ে অই মহিলা তাকে দেখছে । অপলক চোখে দেখছে । বিমলও দেখছে । দুজন দুজনকে শুধু দেখছে । আর দেখছে । বাস ছেড়ে দেয় । তবু দুজন দুজনকে দেখছে । যতদূর দেখতে পায় বিমল চেয়ে থাকে । তারপর চোখের আড়াল হতেই বিমলের নাক দিয়ে একটা মোটা নিঃশ্বাস বেরিয়ে আসে । সে সেখানে আরও কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে থাকে ।তারপর চলা শুরু করে । সামনেই মেস । আর দুপা হাটলেই মেসে পৌঁছে যাবে , ঠিক সেই সময় তার একটা হাত চলে যায় জিন্সের পেছনের পকেটে । দেখে মানিব্যাগ নেই । পকেট মার হয়ে গেছে । কে করল পকেটমার বুঝতে তার বাকি রইল না । তবু তার শুধূ এইটুকুই মনে হল প্রেম অমর । টাকা আসে , টাকা যায় । টাকা দিয়ে প্রেমের বিচার হয়না । প্রেম অমর ,প্রেম অমর ।  

                                


Rate this content
Log in

More bengali story from পলাশ মাহাত

Similar bengali story from Comedy