End of Summer Sale for children. Apply code SUMM100 at checkout!
End of Summer Sale for children. Apply code SUMM100 at checkout!

পলাশ মাহাত

Comedy Tragedy


2.2  

পলাশ মাহাত

Comedy Tragedy


লোকাল বাস

লোকাল বাস

6 mins 404 6 mins 404

           বিমল কলেজ স্টুডেন্ট । বাংলা অনার্স করছে । এই বছর থার্ড ইয়ার । বয়েস একুশ । বলিষ্ঠ চেহারা , আর মনটা ভীষন আবেগি । কলেজের মেয়েগুলোকে দেখে দেখে কত যে কবিতা লিখেছে তার কোন গানিতিক হিসাব নেই । মনের মাধুরি দিয়ে সাজিয়েছে স্বপ্নের প্রেমিকাকে । ছোটাছুটি করেছে মেয়েদের পেছনে পেছনে , কিন্তু রেজাল্ট আসেনি । সে ধরে নিয়েছে , সে যত বড় প্রেমিক হোক না কেন , যত কাব্যগ্রন্থ রচনা ক্রুক না কেন , তাকে প্রেমিকাহীন হয়েই থাকতে হবে ।মেয়ে পটানো তার ধাতে নেই । কিন্তু উদ্মাদ যৌবন মানে না কোন যুক্তি । কোন দর্শন । মেয়ের প্রতি দুর্বার টান তাকে ভেতরে ভেতরে অস্থির করে তোলে । ভাবে , একদিন না একদিন তার স্বপ্ন সত্যি হবে । তার জীবনেও আসবে প্রেমিকা । প্রেম । অমর প্রেম ।

           আর একদিন সত্যি সত্যি আসে প্রেমিকা ।তার অধরা স্বপ্ন সত্যি হয়ে ওঠে ।   

সেইদিন বিমল লোকাল বাসে মেসে যাচ্চিল ।এর আগে কোনদিন লোকাল বাসে ওঠেনি । সেইদিন প্রথম।আর সেই দিনেই ঘটে ঘটনাটা । 

          বাসে ওঠে বিমল । বসে নিজের সিটে । চাকার ওপরের সিটটাই তার । ভিড় তেমন নেই । চাষের দিন । লোকের আসা যাওয়া নেই বললেই চলে । কিন্তু ভীষন গুমোট । ভাদ্রের প্রথম দিক । মনসা পুজার ছুটিতে এসেছিল বিমল বাড়ি। বাস ছাড়তেই হাওয়া এল জানালা দিয়ে । বিমল জানালা ফাঁকে বাইরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে যাচছিল । ঘটনাটার উতপত্তি ঘটল গেঙাড়া মোড়ে । বাস এসে থামল মোড়ে আর এক মহিলা উঠল বাসে । ব্যস বিমলের হয়ে গেল ।

মহিলাটি ছিল অদ্ভুত সুন্দরী । উদ্দাম , পাগল-করা যৌবন তার । রঙটি যেমন ফর্সা , শরীরটিও তেমনি সর্পিল । নেশা ভরা মায়াবী দীঘল চোখ । আর সে চোখে আবেদন আর আবেদন । বিমল ওই মহিলাকে দেখে একেবারে গাড্ডু বনে গেল।

বিমল ভগবানের কাছে প্রার্থনা করল , অই মহিলা যেন তার কাছের ফাঁকা সিটে এসে বসে । এবং তাই হলও । বিমল এইবার ভাবল যাক , আজকের জার্নিটা বেশ সুখপ্রদ হবে । এমন সুন্দর মনোমোহিনী নারীর ঘন উষ্ণ সান্নিধ্যে তার এই যাত্রাকে করে তুলবে সর্বাঙ্গ সুন্দর ও সাফল্যমন্ডিত । ভেতরে ভেতরে সে ভীষন উত্তেজনা অনুভব করছিল ।

মহিলাটি বসলে সে একবার মহিলার দিকে তাকাল । আর তখনই সেই মহিলার সংগে তার চোখের দৃষ্টি মিলে গেল । এ যেন এক মহাসংগম । আনন্দ উচ্ছ্বাস আর উত্তেজনা যেন একসংগে তার দেহ মনে আছাড় খেয়ে পড়ল । তার মনে হল , সে যেন এই মুহূর্ত্তেই পাগল হয়ে যাবে । তার এই সৌভাগ্য তাকে আকাশ ভাসাতে লাগল ।

বাস এগিয়ে চলে । আবার বাইরের দিকে তাকায় বিমল । কিছুক্ষ চেয়ে থাকে । তারপর আবার তাকায় মহিলার দিকে । ঘন কালো চুলের মাঝে একটু সিঁদুরের ছোঁয়া । তার রুপের শভা বাড়িয়েছে ।চুল থেকে ওঠে আসছে মেয়েলি মাদকতার গন্ধ । নেশাগ্রস্ত লাগছে বিমলকে । মুগ্ধতা যেন তাকে চারদিক থেকে গ্রাস করে নিচ্ছে । কথা বলার জন্য তার মন ছটপট করে । কিন্তু কি কথা বলবে , কেমন করে শুরু করবে বুঝে ঊঠতে পারছে না । কখনো সরাসরি কখনো গোপনে তাকাচ্ছে ।তাতে তার মনে হচ্ছে সে শান্তি পাবে । কিন্তু শান্তি কোথ্য্য ? বরং তাতে তার তাকানোর চাহিদা আরও বাড়ছে । মন হচ্ছে সে মুখের দিকে চেয়েই থাকবে অনন্তকাল । জন্ম-জন্মান্তর ।

এক সময় কন্ট্রাক্টর এসে ভাড়া চাইলে সে বিষ্ণুপুরের ভাড়া কাটল । বিমল আর একবার তাকাল তার দিকে । আর একবার তাদের চার চোখ এক হয়ে গেল । কিন্ত এইবার মহিলা হাসল । তার রক্তিম ঠোঁটের বেরিয়ে এল এক মোহনী হাসি । আর সে বলল , তুমি কোথায় নামবে ?

এই সামনেই । কলেজ ।

           বলেই বিমল ভাবল তাকে ভাই বলল ? এর মানে কি ? তবে কি সে যা ভাবছে ভুল ভাবছে ? মহিলা কি তাকে ভাই মনে করছে ? তার অনুভূতি আর মহিলার অনুভূতি কি সম্পূর্ণ আলাদা । মিথ্যে সে স্বপ্ন দেখছে ? যেন আকস্মিক মৃত্যু ঘটে । আর মহিলার দিকে তাকাতে পারে না । গোমড়া মুখে চেয়ে থাকে বাইরে ।

কিছু সময় পার হয় । মহি;লা বলে ওঠে , কলেজ পড় ?

হু

দেখেই বুঝতে পেরেছি । 

কি করে বুঝলে ?


মহিলা এইবার মুচকি হেসে বলে , কলেজে না পড়লে এত সুন্দর হ্যান্ডস্যাম চেহারা হয় ?

বিওম্ল নিজের তারিফ শুনে খুশিতে নেচে উঠল । এবং তার মনে হল হল সে একটু আগে যা ভাবছিল তা সত্য নয় । সে যা ভেবেছে সব তার অনুকূলে । প্রথম প্রথম সবাই ভাই বলেই পরিচয় জমায় , তারপরে সে সম্পর্ক চলে যায় আদিমতার আবিল স্রোতে । এইটাই সমাজের নিয়ম । এমনি করে বয়ে চলে সমাজের ধারা । মানুষের জীবন ।


হঠাত যেন একবার বাসটা খুব জোরে ব্রেক দিল আর বাসের সব যাত্রী হেলে গেল যেদিক সেদিক । ওই মহিলা তো হুমড়ি খেয়ে পটল বিমলের গায়ে । আর কাঙ্খিত নারীদেহের উষ্ণ রোমাঞ্চকর চাপে বিমল গেল দিশে হারা হয়ে । এমন সুখ এমন বিচিতে অনুভূতির স্বাদ সে এই জীবনে প্রথম অনুভব করল । মনে হল তার সে যেন মাতাল হয়ে যাচ্ছে ।

সে মহিলার দিকে তাকাল । মহিলা বলল কিছুই হাসল । যেন সে লজ্জিত । 

বিমলও আবভাব করে বোঝাতে চাইল ওটা কোন ব্যাপার না । এমন হয়ে থাকে ।

মহিলা শেষ পর্যন্ত বলেই ফেলে , বাস্টা যে এমন ভাবে ব্রেক দেবে বুঝতে পারিনি ।

-        কেউ বুঝতে পারেনি ।

আবার দুজনেই চুপ । কিছু সময় চলে যায় । বিমল ভাবে এইবার কি কথা বলা যায় ? বলতে তার অনেক কিছু মন করে । বুঝে উঠতে পারে না । আড়ষ্ট বোধ করে । মহিলা নিজের দিকে আকৃষ্ট করার কৌশল ভাবে । ভেবেই যায় ।

           বাস এগিয়ে চলে । ইঞ্জিনের ঘ্যানর ঘ্যানর শব্দ । আর মিনিট দশেক পরেই বাস পৌঁছাবে কলেজ । তখন কে কোথায় ভ্লে যাবে তার কোন হদিশ থাকবে না । আর হয়ত দেখা হবে এই নহিলার সংগে । কথা হবে না । কিন্তু এই স্বল্প সময়ের স্মৃতি থেকে যাবে ।

বিমল উদাস হয়ে তাকায় । চোখের সামনে জ্বলজ্বল করে রাঙা সিদুর । যেন তাকে আকর্ষনীয় করে তু;লে । বিমল মনে মনে ভাবে , প্রেম হলে এমনই হয় । সমতা থাকে না । বৈধতা থাকে না । অনুকুলতা থাকে । যদি থাকত তবে কেন এই মহিলাকে দেখে তার মনে হচ্ছে সে প্রেমে পড়েছে ? কেন এইরকম দুর্বার টানে টানছে ?

           কিন্তু সত্যিই কি আর কোনদিন দেখা হবে না ? প্রেম এমনো ঠুনকো হয় ? মন মনের খোঁজ পেয়েও কি হারিয়ে যায় । বিমল নিখুঁতভাবে দেখতে থাকে । দেখতেই থাকে ।

           মহিলা সে তাকনো দেখে বলে কিছু বলবে ।

 বিমল , না ।

           তাহলে কি করে চেয়ে আছো কেন ?

           বিমল নিজেকে সামলে নিয়ে বলে , না এমনি ।

           মহিলা হাসে । সেই হাসি যা দেখে বিমলের চোখের পাতা পড়ে না । সেই হাসি যা দেখে বিমলের মনে হয় একে আমি ভুলব কি করে ?

           বাস এসে কলেজে থামে । বিমল নেমে যায় । তার পর দাঁড়িয়ে থাকে । সেই জানালার দিকে তাকায় যেখানে সে বসেছিল , যেখানে অই মহিলা বসেছিল । বিমল দেখে ,জানালা দিয়ে অই মহিলা তাকে দেখছে । অপলক চোখে দেখছে । বিমলও দেখছে । দুজন দুজনকে শুধু দেখছে । আর দেখছে । বাস ছেড়ে দেয় । তবু দুজন দুজনকে দেখছে । যতদূর দেখতে পায় বিমল চেয়ে থাকে । তারপর চোখের আড়াল হতেই বিমলের নাক দিয়ে একটা মোটা নিঃশ্বাস বেরিয়ে আসে । সে সেখানে আরও কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে থাকে ।তারপর চলা শুরু করে । সামনেই মেস । আর দুপা হাটলেই মেসে পৌঁছে যাবে , ঠিক সেই সময় তার একটা হাত চলে যায় জিন্সের পেছনের পকেটে । দেখে মানিব্যাগ নেই । পকেট মার হয়ে গেছে । কে করল পকেটমার বুঝতে তার বাকি রইল না । তবু তার শুধূ এইটুকুই মনে হল প্রেম অমর । টাকা আসে , টাকা যায় । টাকা দিয়ে প্রেমের বিচার হয়না । প্রেম অমর ,প্রেম অমর ।  

                                


Rate this content
Log in

More bengali story from পলাশ মাহাত

Similar bengali story from Comedy