STORYMIRROR

Nityananda Banerjee

Thriller

4  

Nityananda Banerjee

Thriller

ললন্তিকা ধারাবাহিক

ললন্তিকা ধারাবাহিক

5 mins
426

পর্ব চৌষট্টি 

কথায় বলে ঈশ্বর যা করেন ; তা' মঙ্গলের জন্যই করেন। 

অভয়ঙ্করবাবু অরবিন্দকে এক রকম টানতে টানতে থানার ভেতর অফিসে নিয়ে এলেন । 

থানায় একটা চাঞ্চল্য দেখা দিল । ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পুলিশ কর্মীর হন্তদন্ত হয়ে দৌড়ে এল । অফিসার ইনচার্জ মি: রঞ্জিত গুপ্ত চেয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে পড়লেন ।

অভয়ঙ্করবাবু অরবিন্দকে ধরে বললেন - মিঃ অফিসার ! গতকাল এরই খোঁজে গীতা আশ্রমে রেইড করেছিলেন না ? পালাচ্ছিল বেটা । রেঞ্জারের চোখকে ফাঁকি দেয়া সোজা ! পাঞ্জাবী মোড় থেকে তুলে আনলাম ।

- এ কি মিঃ সরকার আপনি ?

অভয়ঙ্করবাবু বললেন - এই নিন আপনার আসামী । আপনাদের হয়ে কাজটা আমিই না হয় করে দিলাম।

- তা বেশ করেছেন। বসুন বসুন ।

গুপ্তসাহেব চা আনতে বললেন। অভয়ঙ্করবাবু বললেন - আসামীকেও এক কাপ দিয়েন ! 

তারপর বললেন - গত রাতে একটি পাণ্ডুলিপি আপনি এর কাছ থেকে ছিনিয়ে এনেছেন। তাই ও এসেছে আপনার নামে এফ আই আর করতে।

মিঃ রঞ্জিত গুপ্ত হেসে উঠলেন । 

- বেশ মজাদার কথা বলেন আপনি মিঃ সরকার । রেঞ্জার না হয়ে তো কোন লেখকের ডেঞ্জার হতেই পারতেন ।

- শুনুন । এই ছেলেটি জন্ম থেকে আসামী নয় । আরণ্যক বসুরায়ের পাল্লায় পড়ে দুষ্কর্ম করে গেথে একটার পর একটা - সেজন্য সাজা তো ওকে পেতেই হবে। তার আগে আমার একটা অনুরোধ আছে।

- অনুরোধ ! বলে ফেলুন।

- পাণ্ডুলিপিটা ওকে ফেরত দিতে হবে । আর একটা কথা । ছেলেটি আরণ্যক বসুরায়ের নামে পাণ্ডুলিপি চুরি এবং পাণ্ডুলিপির রচয়িতাকে খুন করার অভিযোগ জানাবে বলে এসেছে।

অরবিন্দ যেন স্বপ্ন দেখছে। আর মাঝে মাঝে হকিকত বুঝে নিচ্ছে নিজের শরীরে চিমটি কেটে ।

অভয়ঙ্করবাবু বলতে লাগলেন তাঁর রেঞ্জার জীবনের কাহিনী । অনন্ত মোহন সরখেলের ইতিহাস এবং অবশ্যই অরবিন্দ কি ভাবে প্রশান্ত মোহন সরখেল থেকে অরবিন্দ সরখেল হল সেই কাহিনী।

মধ্যে উল্লেখ করলেন ললন্তিকার ইতিহাস যে এখন আরণ্যকের সাথে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। 

অরবিন্দের দু'চোখ ভরা জলে । বাবার চাকরি খেয়েছিলেন বলে আক্ষেপ এখনও যায়নি অভয়ঙ্করবাবুর। নাহ্ লোকটাকে বিশ্বাস করে ভুল করেনি ।

সব শোনার পর রঞ্জিত গুপ্ত বললেন - দেখুন মিঃ সরকার ! পাণ্ডুলিপি ফেরত দেওয়াই যায় । তবে আপনি যদি রাখেন তো !

অভয়ঙ্করবাবু বললেন - যার জিনিস তাকে না দিয়ে আপনি আমাকে দিতে চাইছেন কেন ?

- শুনুন। পুলিশের খাতায় ও এখন ফেরার এক আসামী। কখন কি ঘটে যায়; শেষ পর্য্যন্ত পাণ্ডুলিপি বেহাত হয়ে গেলে আরণ্যকের বিরুদ্ধে সব চেয়ে বড় প্রমাণটাই তো চলে যাবে । তার চেয়ে হয় আপনি রাখুন নয়তো থানার হেফাজতেই থাক ।

এমন অকাট্য যুক্তির কাছে কোন কথা চলে না। তিনি অরবিন্দকে বললেন - কি প্রশান্ত মোহন সরখেল ? কি করতে চাও ?

অরবিন্দ বলল - আপনারা ঠিক করুন স্যার । সত্যি তো আমার তো কোন ঠিক ঠিকানা নেই । কখন কোথায় আছি!

অভয়ঙ্করবাবু বললেন - কোথায় আবার থাকবে ? তুমি আমার বাড়িতে থাকবে । মিঃ গুপ্ত আপনি কি একে অ্যারেস্ট করতে চান ? 

মিঃ গুপ্ত বললেন - আইন তো তাই বলে !

অভয়ঙ্করবাবু বললেন - আইন তো অনেককিছুই বলে, যেমন ঘুষ খাওয়া বা দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। দাতা এবং গ্রহীতা উভয়েই সমান অপরাধী। কিন্তু পুলিশ কি সবসময় মানে তা ?

রঞ্জিত গুপ্ত বললেন - আপনার মুখে কিছু আটকায় না রেঞ্জার সাহেব !

- সংশোধনী প্লীজ ! প্রাক্তন রেঞ্জার সাহেব। এখন তো রিটায়ার্ড। 

বলে হাসতে লাগলেন ।

রঞ্জিত গুপ্ত বললেন - আপনি বলছেন যখন ওকে অ্যারেস্ট করছি না ; কিন্তু এর দায়িত্ব আপনাকে নিতে হবে ।

অভয়ঙ্করবাবু অরবিন্দের মুখের দিকে চেয়ে বললেন - কি হে ছোকরা ! আমাকে বিপদে ফেলবে না তো ! অবশ্য যদি তুমি ভালো ছেলের মত আমার কাছে থাকো তবে তোমারই মঙ্গল । আরণ্যককে শাস্তি দিতে, তোমার বাবার হত্যাকারীকে শাস্তি দিতে তোমাকে আর গা ঢাকা দিয়ে থাকতে হবে না ।

অরবিন্দের চোখ দু'টো চিকচিক করে উঠল ।

অভয়ঙ্করবাবু মিঃ গুপ্তকে বললেন - চল্লিশ বছর জন্তু জানোয়ারের সঙ্গে থেকেছি আজ থেকে না হয় কোন আসামীর সঙ্গ দিই - তবু মানুষ তো !

ওরা পাণ্ডুলিপি থানায় রেখে ফিরলেন বাড়িতে।

অরবিন্দ বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করল - স্যার, আমার নাড়ীনক্ষত্র কি ভাবে জানলেন ?

অভয়ঙ্করবাবু হাসলেন - আমি তেমন কিছু জানি না। তোমার বাবা আমার অফিসে কাজ করেছেন সেই সুত্রে তিনি একটা উপন্যাস জাতীয় কিছু লিখছেন জানতাম। এ জন্য তিনি কাজে ফাঁকি দিতেন । বহুবার সাবধান করা সত্বেও তিনি শোনেননি। শেষে মেমো ইস্যু করেও যখন তার কোন জবাব পেলাম না ; ভেবে নিলাম হি ইজ রিলাক্ট্যান্ট ভেরি মাচ । এরই মধ্যে খবর পেলাম তিনি প্রখ্যাত সাহিত্যিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁর বই ছাপানোর চেষ্টা করছেন । কিন্তু তার জন্য তো খরচ আছে। তিনি অসদুপায়ে কামাল জাহির - এই সব দুষ্কৃতিদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বন্যপশূদের মেরে ফেলতে সাহায্য করছেন - তখন তাঁকে ডিসমিস করে দেওয়া ছাড়া অন্য উপায় ছিল না । তির পরেই তো তাঁর পাণ্ডুলিপি চুরি হয় এবং তাঁকে মেরে ফেলা হয় ।

অরবিন্দের চোখের পাতা ভিজে এসেছে। জামার হাতায় জল মুছে বলল - প্রতিশোধ নেয়ার অনেক চেষ্টা করেছি স্যার ; কিন্তু শয়তানটা এত সেনসিটিভ যে কি করে প্রতিবারঈ বেঁচে গেছে নিজেই ভাবতে পারি না ।

- থার্ড আই শুধু দেবদেবীদের থাকে না ; শয়তানেরও থাকে । আমি তোমাকে সাহায্য করতে চেয়েছি কেন জানো ?

অরবিন্দ সেটাই তো জানতে চায় । চেনাজানা কেউ নয় ; এমন লোককে যেচে যে হেল্প করতে চায় তার কারণ তো জানা জরুরী। কিন্তু মুখে কিছু বলল না ।

অভয়ঙ্করবাবু বললেন - লোকটাকে বিনয়ী ভদ্র এবং যথার্থ সাহিত্যিক বলেই জানতাম । সে যে এমন শয়তান জানতাম না । জানলাম তখন যখন শুনলাম আমার বেয়াই মশাইয়ের , যিনি তার ভায়রা ভাই, তাঁর ক্ষতি করার চেষ্টায় ছিলেন। এমনকি -

অরবিন্দ খুব কৌতুহলী হয়ে উঠল । বস করে বলে বসল

- এমনকি !

- এমনকি সে তার নিজের স্ত্রীকেও খুন করিয়েছে পথ দুর্ঘটনার নাটক করে । 

- ইস্ কি শয়তান !

অভয়ঙ্করবাবু বললেন - এ কথা তুমিও বলছ?

- কেন বলব না স্যার ! নিজের পথ পরিষ্কার করার জন্যই তো এমন করেছিলেন!

- আর ওই কাজটা করেছিলে তুমি । 

অরবিন্দ স্বীকার করে নিল । তখন ললন্তিকার সঙ্গে ওঁর খুব মাখামাখি চলছে। আমিও দেখলাম যতটুকু পারি রোজগার করে নিই। 

অভয়ঙ্করবাবু বললেন - তোমাকেও তোমার সাজা ভুগতেই হবে । তবে আমি এ নিয়ে কিছু করব না। কারণ আমার একমাত্র টার্গেট আরণ্যক বসুরায় । 

ওঁরা বাড়িতে ঢুকলেন । শৈলদেবীর মুখোমুখি হলেন।

- এ আবার কে ?

অভয়ঙ্করবাবু বললেন - শুনলে ভয় পাবে আবার পুরোটা শুনলে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যাবে । ডিটেইলসে বলব সব কিছু । পটকা স্কুল থেকে ফিরুক। সবার সঙ্গেই আলোচনা করতে হবে ।

( ক্রমশ )




Rate this content
Log in

Similar bengali story from Thriller