STORYMIRROR

Nityananda Banerjee

Thriller

4  

Nityananda Banerjee

Thriller

ললন্তিকা ধারাবাহিক

ললন্তিকা ধারাবাহিক

5 mins
311

পর্ব আটানব্বই


পরের দিন সকালে আরণ্যকের কি মনে হল কয়েকদিন অনন্তের ফোনটা বাজছে না । ওর ফোন রাতবিরেতে বেজে ওঠে ; অথচ এই ক'দিন কেউ ফোন করছে না তা কি হয় !

অনন্তের মোবাইল নিয়ে নাড়াচাড়া করে দেখলেন কোন কল আসেনি বা যায়নি । জিজ্ঞেস করলেন - কি হে লেখক, তুমি যেমন চুপ আছ ; তোমার ফোনেও কি সেই সংক্রমণ হয়েছে না কি ?

অনন্ত কোন কথা বলেননি । আরণ্যকের সঙ্গে কথা না বলাই ভালো। 

আরণ্যক আবার বললেন - নাও একবার ললন্তিকাকে ফোন কর দেখি । দেখি মাগিটা আছে কোথায় ? 

রাগে মুখ লাল হয়ে গেল অনন্তের । যতই হোক ভাগ্নী তো ! তাকে গালাগালি করলে তাঁর গায়ে তো লাগবেই। কিন্ত তিনি নাচার । তিনি ফোন করলেন ললন্তিকাকে। ললন্তিকার প্রতি কড়া নির্দেশ দেওয়া আছে মোবাইল না খুলতে।

অনন্ত বলল ফোনের সুইচ অফ করে রেখেছে। 

আরণ্যক তখন ফোন ছেড়ে বললেন - তোমার সম্পত্তিটা এখন আমার কব্জায় থাকুক। 

ফোন নিয়ে আরণ্যক চলে গেলেন নিজের নির্দিষ্ট স্থানে।

মি: সন্তু মুখার্জী এবং মি পরমেশ্বর ভট্টাচার্য্যকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আশ্রমের ভেতরে ভীড় নিয়ন্ত্রণ করার জন্য মিঃ ভৌমিকের নির্দেশে । এসি সালভে রয়েছেন মেলা নজরদারিতে।

অভয়ঙ্করবাবু গুরু দায়িত্ব নিয়েছেন নিজের কাঁধে। সুতরাং ললন্তিকার সঙ্গে কিছু আলোচনা করতে হবে ভেবে মিঃ ভৌমিককে বললেন - এ বিষয়ে কি কোন কথা বলতে হবে ললন্তিকার সঙ্গে ?

মিঃ ভৌমিক বললেন - নিশ্চয় বলতে হবে । তবে শুধু বলবেন যেহেতু সে আরণ্যকের হিটলিস্টে আছে সে জন্য ও যেন মুসলিম মেয়েদের বোরখা পরে সর্বাঙ্গ ঢেকে রাখে ।

- ব্যস ! ওইটুকুই? 

মিঃ ভৌমিক বললেন - এখনকার মত । বাকি আমি যথাসময়ে বলে দেব ।

সে সময় ললন্তিকা তাঁদের ঘরের দিকে আসছিল । মিঃ ভৌমিক বললেন - এ ভাবে খোলামেলা ঘরের বাইরে আসবে না মা জননী। আরণ্যকের চর কোথাও না কোথাও লুকিয়ে থাকতে পারে । যদি বেরোতেই হয় তবে বোরখা পরে নিও মা । আর তোমার স্বামীকেও বলবে তোমার ড্রেসের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তিনিও যেন বেরোন। এটা নির্দেশ নয়; নিরাপত্তা বিষয়ক সাবধান বাণী ভাববে ।

ললন্তিকা ' ঠিক আছে মেসোমশাই ' বলে চলে যাচ্ছিল । মিঃ ভৌমিক বললেন - তোমার হাতে যদি সময় থাকে একবার এসো ; কিছু আলোচনা আছে।

- বলুন না । আমি এখন ফাঁকা আছি। কাকাবাবুও আছেন দেখছি । বলুন কি বলবেন ?

ওঁরা ললন্তিকাকে ভেতরে ডেকে নিলেন । অভয়ঙ্করবাবু দরজাটা ভেজিয়ে দিয়ে ললন্তিকার মুখোমুখি বসলেন ।

মিঃ ভৌমিক বললেন - তোমার চেয়ে আরও ভালো করে আরণ্যককে কেউ জানে না। যতদূর জানি তুমি তার শ্বাস প্রশ্বাস বুঝতে পার।

ললন্তিকা বলল - সে তো জানি অবশ্যই । কেন কিছু খবর আছে নাকি ?

অভয়ঙ্করবাবু বললেন - আছে মা। আরণ্যক এখন নাগা সন্ন্যাসীর ভেক ধরে এখানে এসেছে। সঙ্গে তোমার মামা অনন্ত মোহন সরখেলও আছেন ।

- আমার মামা ? তিনি বেঁচে আছেন ? আমি তো জানতাম পাণ্ডুলিপি চুরি করেও আরণ্যক ওকে খুন করিয়েছে ।

- হ্যাঁ মা । আমরাও তাই জানতাম। তোমার বিশ্বাস না হলে এই নাও ফোনে ধরিয়ে দিচ্ছি কথা বলে নাও।

মিঃ ভৌমিক অভয়ঙ্করবাবুকে সে চেষ্টা থেকে বিরত করলেন । কারণ অনন্ত বাবুর ফোন যে তাঁরই কাছে আছে তার নিশ্চয়তা নেই । আসলে অনন্ত বাবু এখন বাধ্য হয়ে আরণ্যকের হাতের পুতুল হয়ে আছেন । তবে আমি কথা দিচ্ছি তাঁর সঙ্গে তোমার দেখা করিয়ে দেব। শুধু সময়ের অপেক্ষা করছি ।

ললন্তিকা বলল - আমার যে কি আনন্দ হচ্ছে মেসোমশাই, কাকাবাবু, আপনাদের বোঝাতে পারব না ।

মিঃ ভৌমিক এবার বললেন - তোমাকে যেভাবে বলছি তেমনটিই তোমাকে করতে হবে। তবে এক ঢিলে দু' পাখি মারা সম্ভব হবে ।

- বলুন না কি করতে হবে। যা বলবেন আমি তাই করব। এমনকি সজ্জন বাধা দিলেও শুনব না।

- শোন মা ! আগামীকাল ভোর হবার কিছু আগেই তুমি আর বেয়াই মশাই যাবে এক মুসলমান দম্পতির ছদ্মবেশে । আরণ্যক কোথায় আছে জান কি?

ললন্তিকা ঘাড় নেড়ে বলল - না ।

- শোন কপিলমুনির মন্দিরের মুখোমুখি নাগা সাধুদের আখড়ায় তেরো নং চালায় আরণ্যক বসুরায় রয়েছে আর বারো নং চালায় তোমার মামা অনন্তবাবু। তারা দুজনেই কিন্তু নগ্ন। সুতরাং ভয় বা লজ্জা পেলে চলবে না। তোমার কাজ শুধু আরণ্যককে আইডেন্টিফাই করা। বাকি কাজ আমাদের । মিঃ সিং কে জানিয়ে দিও এই সার্জিক্যাল স্ট্রাইকে তিনি যেন বাধা না দেন। নতুবা আর ওকে ধরা যাবে না ।

ললন্তিকা বলল - আমার জীবন পণ রইল । সজ্জনকে বুঝিয়ে নেব। আপনারা রেডি থাকুন । আর কাকাবাবু , আমি তৈরি হয় থাকব; ডেকে নেবেন প্লীজ । আরণ্যকের খেল খতম তাহলে আমার হাতেই হোক ।

অভয়ঙ্করবাবু বললেন - মা গো । যতটা সহজ ভাবছ তত সহজ নয় কিন্তু। 

- কোন ভয়কেই আমি আর ভয় বলে মনে করি না । এ ভাবে বেঁচে থাকার চেয়ে মরণ ভালো।

মিঃ ভৌমিক বললেন - তুমি তোমার কাজ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেয়েছ তো ?

- হাণ্ড্রেড পার্সেন্ট মেসোমশাই। 

ঠিক তখনই ফোন এল রাণীগঞ্জ থানার ওসি মি: গুপ্তের কাছ থেকে ।

মিঃ ভৌমিক বললেন - বলেন অফিসার। আপনিও কি গঙ্গাসাগরে এসেছেন ?

- মিঃ গুপ্ত বললেন - না স্যার, আমি একটা সাংঘাতিক খবর দিতে আপনাকে ফোন করেছি।

- বলেন।

- স্যার , লাড্ডু সিং ওরফে গুগুন নামে যে লোকটা রাঁধুনি সেজে সরকার বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করেছিল তাকে আমরা অ্যারেস্ট করে চৌদ্দ দিনের রিমান্ডে নিয়েছিলাম। সে দেখছি জেল থেকে পালিয়েছে। শুধু তাই না ; একটা চিঠি লিখে রেখে গেছে ।

- কি লিখেছে ?

- স্যার, লিখেছে, সেকেণ্ড অফিসারকে ধন্যবাদ জানাই আমাকে খালাস করে দেবার জন্য । আমি আর তিনি চললাম গঙ্গাসাগর মেলায় । পারেন তো আমাদের মোকাবিলা করেন । 

স্যার আশঙ্কিত হচ্ছি আরণ্যক বসুরায় হয়তো অধীর বাবুকে টাকা খাইয়ে আপনাদের উপর হামলা করার জন্যই লিড্ডুকে নিয়ে পালিয়েছেন ।

- ডোন্ট ওয়েরি মিঃ গুপ্ত । আমরা আরণ্যকসহ যাতে তার সাগরেদদের ধরতে পারি সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি । আপনি শুনলে অবাক হবেন আরণ্যক বসুরায় স্বয়ং এখানে এসে পড়েছে। তার গতিবিধি আমরা জানতে পেরেছি। গ্রেপ্তার হওয়া এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।

মিঃ গুপ্ত আশ্বস্ত হলেন । মিঃ ভৌমিক বললেন - থ্যাঙ্ক ইউ ফর ইয়োর ইনফরমেশন। লাড্ডু সিং এর একটা ছবি পাঠিয়ে দিন আমার হোয়াটসঅ্যাপে। 

মিঃ গুপ্ত বললেন - আমি এখনই পাঠিয়ে দিচ্ছি স্যার। অধীরের ছবিটাও দিয়ে দিচ্ছি।

- ওকে থ্যাঙ্কস। 

চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ল পুলিশের মধ্যে । তেরো নং চালায় এখনই অভিযান চালানো যায় । কিন্তু ভয় নাগা সন্ন্যাসীদের নিয়ে । অন্তত যারা সত্যিকার নাগা সন্ন্যাসী তাঁরা রুখে দাঁড়াবেনই । ক্যারেক্টারিস্টিকস তো তাই বলে। অতএব সময় খুঁজতে হবে । উপযুক্ত সময়ে সঠিক স্ট্রাইক করতে না পারলে আরও কিছু জীবন হানির আশঙ্কা আছে।

মিঃ ভৌমিক চিন্তিত হলেন । অভয়ঙ্করবাবু বললেন - কি বেয়াই মশাই! কোন খারাপ খবর পেলেন নাকি। 

ভৌমিক সাহেব বললেন - তেমন কিছু নয়; তবে লাড্ডু সিং আর সেই অধীর বাবু নাকি সাগর মেলায় এসে পড়েছে। 

- আমি জানতাম। আমি জানতাম আরণ্যক এত সহজে হাল ছেড়ে দেবার পাত্র নয় । তার নেটওয়ার্ক বিশাল।

- গুলি মারুন নেটওয়ার্কের! 

মিঃ ডৌমিক বললেন - আজই হবে আমাদের অ্যাকশন। সকলে রেডি থাকুন । আমি পুলিশদের এলার্ট করে দিচ্ছি। তবে একটা অনুরোধ, ললন্তিকা বা সজ্জন ছাড়া তৃতীয় কেউ যেন ঘূণাক্ষরেও এই খবর না পায় । এমনকি রুদ্র বা পটকাও নয় ।

( ক্রমশ )



Rate this content
Log in

Similar bengali story from Thriller