কালপিট ( পর্ব - ২ )
কালপিট ( পর্ব - ২ )
-: কালপিট :-
~ ( পর্ব - ২ )
কৃষ্ণচরণের মৃত্যুটা সত্যিই কি একটা নিছক কাকতালীয়
ঘটনা ছিল ... ?
তিমির বসু এই দিধা নিয়ে বিষ্টুদার কাছে যাবে বলে ঠিক করেছিলেন ...
পরদিন সকাল ৭ টা বেজে ৫ মিনিট বিষ্টুদা চায়ে চুমুক দিয়ে খবরের কাগজ পড়ছিলেন , সেই সময় তিমির বসু তার সামনে এসে হাজির হন । বিষ্টুদা তাকে দেখে : " কি হে তিমির এত সকাল সকাল , কিছু হল নাকি আবার ? " কিছুক্ষণ চুপ থেকে তিমির বসু : " হ্যাঁ বিষ্টুদা , একটা বড় রহস্যময় দূর্ঘটনা ঘটে গেছে ? " তিমিরের কথা শুনে বিষ্টুদা : " দুর্ঘটনা ... কেন ভাই , কার কি হলো ? "
আপনি শোনেন নি ... দিন দুয়েক আগে কৃষ্ণদার সেই মর্মান্তিক খবরটা ! হ্যাঁ শুনেছি , শুনে খুব খারাপ লাগল ... আর হ্যাঁ , কৃষ্ণচরণের মৃত্যুতে তুমি রহস্যের কি দেখলে ?
গ্রামের লোকেদের কাছে শুনলাম গাড়ির নীচে কুকুর চলে আসায় , গাড়ি ডিসব্যলেন্স হয়ে যাওয়াই অ্যাক্সিডেন্টটা হয় । অন্যদিকে তিমির বসু কৌতুহলের সাথে " সত্যিই বিষ্টুদা এতে কোনো রহস্যের কিছু নেই ? " " না ভাই নেই " ।
আসলে তুমি একটু বেশি কৌতুহলী ! সব কিছুতেই রহস্য খুঁজে বেড়াও । মানছি কৃষ্ণচরণের মৃত্যুটা একটা স্বাভাবিক মৃত্যু থেকে একটু আলাদা কিন্তু এতে রহস্যজনক কিছুই
নেই ।
বিষ্টুদা ( বিষ্ণু চন্দ্র দে ) একজন সাদা - মাটা মনের সাধারণ মানুষ , তার বাবা গণিত ও সংস্কৃতের একজন পন্ডিত
ছিলেন । প্রথম জীবনে তিনি এক বেসরকারি সংস্থার সাথে যুক্ত ছিলেন পরে তিনি এই গোয়েন্দার পেশায় আসেন । তার এই গোয়েন্দাগিরি শুধুমাত্র একটা পেশা নয় বরং তার কাছে এটা একটা নেশা ... এই নেশা কে কাজে লাগিয়ে তিনি
নানাবিধ রহস্যের সমাধান করেছেন ও নির্দোষদের বিচারও পায়েদিয়েছেন ... ।
সেইদিন দুজনের কথোপকথনের পর বিকেল বেলায় একজন ভদ্রলোক বিষ্টুদার বাড়িতে আসেন , লোকটির পরিচয় সম্পর্কে বিষ্টুদা প্রথমে কিছু আঁচ করতে না পারলেও পরে লোকটি নিজের পরিচয় দেওয়ায় জানা যায় লোকটি আসলে কৃষ্ণচরণের বাড়িরলোক ( তার ছেলে ) । কি কাজে এসেছেন প্রশ্ন করাই তিনি বলেন , কৃষ্ণচরণ মানে আমার বাবার মৃত্যুর ব্যপারে আপনার সাথে আমার একটু কথা ছিল ! বিষ্টুদা : " হ্যাঁ বলুন , কি বলবেন ? "
ভদ্রলোক : " বিষ্টুদা , আমার ধারণা যে বাবার মারা যাওয়ার পেছনে কারুর হাত নিশ্চয়ই আছে , এটা একটা অ্যাক্সিডেন্ট তো হতেই পারে না ! এই আশ্চর্যজনক কথা শুনে বিষ্টুদা অবাক হোন এবং বলেন : " কেন , এইরকম আপনার কেন মনে হয় ... ? " কিছুদিন আগে বাবাকে কারুর সাথে ফোনে কথা কাটাকাটি হতে দেখেছিলাম , দেখেছি বললাম কারণ ওদের মধ্যে কি কথা হচ্ছিল তা আমি শুনতে পায়নি ... " !
এই কথা শুনে বিষ্টুদা : " আচ্ছা , পরে আপনি আপনার বাবা কে প্রশ্ন করেন নি ? " ভদ্রলোক : " করেছিলাম , কিন্তু তাতে উনি কিছু উত্তর দেন নি ! বলেছিলেন , কিছুই হয়নি সব ঠিক আছে ... । আর কিছু জানেন কি না ভদ্রলোক কে জিজ্ঞেস করাই তিনি আর কিছু জানেন না বলে জানান ।
বিষ্টুদা সবটা শুনে ভদ্রলোক কে বলেন , ঠিক আছে , আপনার বাবার মৃত্যুর আসল কারণ আমি খুঁজে বের করব এবং সত্যিই যদি কারুর হাত থেকে থাকে এতে তাহলে তাদের প্রাপ্য শাস্তিও তারা পাবে ।
রাত্রি প্রায় ১২ নাগাদ বিষ্টুদা একটু বিশ্রাম নিচ্ছিলেন , সেই সময় দরজার কাছে কারুর একটা ছায়া দেখতে পান তিনি কাছে যেতেই সেই ছায়াটি সেখান থেকে সরে যায় ! কে ওখানে বলতে বলতে যেই তিনি দরজা খুলবেন সেই সময় এক গুলির শব্দ ... তার পিছু নিলেও তাকে তিনি ধরতে পারেন নি কিন্তু কথায় বলে না , " যত বড়ো মাস্টারমাইন্ড হোক না কেন , তারা একটা না একটা ভুল তো অবশ্যই করে " এক্ষেত্রেও ঠিক একই ঘটনা ঘটেছে । দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার তাড়ায় তার এক জুতো ছাপ কর্দোমাক্ত মাটিতে ছেপে যায় । সেই সময় তিনি একটি অদ্ভুত জিনিস লক্ষ্য করলেন কাদার ওপর .....
. . . . . . . . . . .
. . . . . . . . . . .
