Participate in the 3rd Season of STORYMIRROR SCHOOLS WRITING COMPETITION - the BIGGEST Writing Competition in India for School Students & Teachers and win a 2N/3D holiday trip from Club Mahindra
Participate in the 3rd Season of STORYMIRROR SCHOOLS WRITING COMPETITION - the BIGGEST Writing Competition in India for School Students & Teachers and win a 2N/3D holiday trip from Club Mahindra

Sharmistha Mukherjee

Drama Crime Thriller


3  

Sharmistha Mukherjee

Drama Crime Thriller


কালো মেয়ের উপাখ্যান পর্ব ৩

কালো মেয়ের উপাখ্যান পর্ব ৩

5 mins 259 5 mins 259

শ্বশুর বাড়িতে সবার ঐ অবস্থা দেখে ঘৃণায় আমার গা গুলিয়ে ওঠে । তারপর থেকে বহুবার আমার শ্বাশুড়ী - ননদ আর আমার স্বামী আমার শরীরটাকে নীলামে তুলেছে । ওরা বাড়িতে থাকলেই আমার খাবারে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দিতো । আমাদের কাজের ছেলেটা একদিন বাজার করতে গিয়ে ওষুধের দোকান থেকে জেনে এসেছিল যে ওষুধ আমাকে রোজ খাবারের সাথে দেওয়া হয় সেগুলো ঘুমের ওষুধ । এইসব অত্যাচার সহ্য করি প্রায় আট মাস । একবার আচমকাই ওদের তিনজনকেই বাইরে যেতে হয় । তবে যাবার আগে আমার দায়িত্ব দিয়ে যায় কাজের ছেলেটার কাছে । আমাদের কাজের ছেলেটা খুব ভালো ছিল । একদিন সুযোগ বুঝে আমাকে পালাতে সাহায্য করে । আমি পালিয়ে যাই । বাড়ির সামনে থেকে কোনো গাড়ি না পেয়ে একটা লরি আসতে দেখে তাতেই উঠে পড়ি । লরিটা মাঝখানে একটা ধাবায় দাঁড়ায় আর একটা খালাসি আমাকে একটু খাবার খেতে দেয় । খাবারটা খাওয়ার পর কি হয়েছিল কিছুই জানি না । যখন জ্ঞান ফিরলো তখন আমি এখানে । এক যৌনখেলার হাত থেকে বাঁচতে গিয়ে আরেক যৌনখেলাঘরে এসে পড়লাম । প্রথম প্রথম খুব কষ্ট হোতো এখন আর কষ্ট হয় না । তোরা সবইতো জানিস এখানে আসার পরের সব ঘটনা । শিক্ষিত হয়েও আজ আমার জায়গা এই অন্ধকার গলিতে । 


নিশির কথা শেষ হতেই সবাই একেবারে চুপ করে গেল । কারো মুখে আর কথা বলার মতো ভাষা নেই । হঠাৎ ঘরের নিস্তব্ধতা ভেঙে যামিনী বলে উঠলো , " আমাদের সবারই এক অবস্থা , আমরা সবাই পুরুষদের হাতের খেলনা । যখন ইচ্ছে হয় খেলা করে আর প্রয়োজন মিটে গেলে ছুঁড়ে ফেলে দেয় । " 


হঠাৎ শ্যামা বলে উঠলো , " আমি মেয়ে হতে চাই না নিশি দিদি , আমাকে একটু ছেলে বানিয়ে দেবে ? " শ্যামার এই শিশুসুলভ কথা শুনে সবাই মিলে হেসে উঠলো । নিশি শ্যামাকে আদর করে বললো , " না রে শ্যামা একবার যে মেয়ে হয়ে জন্মায় তাকে মৃত্যু পর্যন্ত মেয়ে হয়েই থাকতে হয় । মেয়ে হয়ে জন্মানো পাপ নয়, পাপ কিছু অসভ্য মানুষের দূষিত চোখের । " শ্যামা কিছুই বুঝতে পারলো না শুধু নিশির মুখের দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইলো । 


সিতারা আচমকা নিশির দিকে তাকিয়ে ইশারা করলো শ্যামার সাথে কথা বলার জন্য । সিতারার ইশারা বুঝতে পেরে নিশি শ্যামাকে বললো , " শ্যামা সেদিন তোর সাথে কি হয়েছিল কিছু মনে পড়ছে ? " এই কথা শুনেই শ্যামা ভয়ে কাঁপতে শুরু করলো । তাড়াতাড়ি করে মুখটা লুকিয়ে নিলো নিশির কোলের মধ্যে । 


নিশির কোলের মধ্যে মাথা গুঁজে ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে শ্যামা বললো , আমাকে ওরা আবার তুলে নিয়ে যাবে , আমাকে ওরা আবার তুলে নিয়ে যাবে । আমাকে বাঁচাও নিশি দিদি, আমাকে বাঁচাও । " এই বলে ভয়ে চিৎকার করে কেঁদে ওঠে । সাথে সাথেই নিশি আর সিতারা আদর করতে শুরু করে । সিতারা বলে , " কুছ নেহি হোগা শ্যামা , হাম সব হ্যায় না তেরে সাথ । কোয়ি নেহি আয়েগা । রো মত্ , কুছ নেহি হোগা শ্যামা " এই বলে মাথায় হাত বুলিয়ে বুঝাতে বুঝাতে শ্যামা শান্ত হয় । সেদিন থেকেই সবাই ঠিক করে যতোক্ষণ শ্যামা নিজে থেকে কিছু না বলছে ততোক্ষণ এ ব্যাপারে ওকে কেউ কিছু জিজ্ঞাসা করবে না । 


সেদিনের মতো সবার গল্পের আসর শেষ হয়ে গেল । সবাই উঠে যে যার ঘরে চলে গেল তৈরি হতে । সেদিন রাতে একটা দুঃখজনকভাবে ঘটনা ঘটে মৌসির ডেরায় । 


সেদিন সবাই সবার খরিদ্দার নিয়ে নিজের নিজের ঘরে চলে গেল কিন্তু যামিনীর তখনও কোনো খরিদ্দার জুটলো না । কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে যামিনী নিজের ঘরে গিয়ে বসে রইলো । হঠাৎ দরজার আওয়াজ পেয়ে বুঝতে পারলো খরিদ্দার এসেছে । পিছনে ফেরা অবস্থায় বসেই যামিনী বললো , " আসো, আসো বাবু । আজকে একরাতের আমার নাগর তুমি । আসো, আসো কাছে আসো " এই বলে একগাল হেসে সামনে ঘুরেই আৎকে উঠলো । আজকের এই খরিদ্দার তার স্বামী ? যামিনীকে দেখে ওর স্বামী বিষ্ণুও অবাক হয়ে যায় । যামিনী বললো , তুমি এখানে ? তুমি এখানে কি করতে এসেছো ? এক্ষুনি বেরিয়ে যাও এখান থেকে , যাও বেরিয়ে যাও । তুমি বেরোবে না লোক ডাকবো ?" যামিনীর কথা শেষ না হতেই বিষ্ণু এক লাফে গিয়ে যামিনীর মুখ চেপে ধরে । তারপর যামিনীর শাড়ির আঁচল দিয়ে মুখটা বেঁধে এক ধাক্কায় বিছানার উপর ফেলে দেয় । যদিও যামিনীর হাত - পা খোলা থাকায় বহু চেষ্টা করে বিষ্ণুকে বাঁধা দেওয়ার কিন্তু কোনো লাভ হোলো না । বিষ্ণু একপ্রকার ঝাঁপিয়ে পড়ে টেনে ছিঁড়ে ফেলে যামিনীর শরীরের সব কাপড় । বহু বছর আগে যামিনী যাকে ভালোবেসে নিজেকে উজার করে দিয়েছিল আজ সে নরপিশাচ । নিমেষের মধ্যে যামিনীর উপর নিজের পৌরুষত্ব ফলায় বিষ্ণু । শুধু যামিনীর শরীরে বীর্যপাত করেই থেমে থাকলো না , প্রচন্ড আক্রোশে সিগারেটের ছেঁকায় ক্ষতবিক্ষত করলো যামিনীর শরীরের বিশেষ কিছু অংশ , স্তনবৃন্ত - নাভির চারপাশ - যৌনাঙ্গ - ঠোঁট ইত্যাদি । জখম করার সময় তার মুখে ছিল ভয়াবহ রাগের প্রকাশ । বিষ্ণু বলছিল, " শালী হারামি মাগী, আমার জন্য দু - চারজনকে খুশি করে টাকার জোগাড় করতে কষ্ট হচ্ছিল ? আর এখন এখানে এসে ধান্দায় নেমে টাকা কামাচ্ছিস ? নে মাগী কাল থেকে কি করে টাকা কামাবি দ্যাখ । " প্রচন্ড যন্ত্রনায় যামিনী কোনোরকমে নিজেকে ছাড়িয়ে উঠে বিছানার পাশে টেবিলের উপর রাখা পিতলের ফুলদানি দিয়ে সজোরে বিষ্ণুর মাথায় আঘাত করে । আঘাতের চোটে সাথে সাথে বিষ্ণু নিস্তেজ হয়ে যায় । মাথা ফেটে রক্তে ভেসে যাচ্ছে বিছানা । যামিনী যেহেতু পড়াশোনা জানতো তাই টেবিলের একপাশে রাখা একটা ছোটো খাতায় কিছু একটা লিখে একটা চেয়ার টেনে বিছানার উপর রাখে । তারপর ধীরে ধীরে চেয়ারের উপর উঠে দাঁড়িয়ে নিজের শাড়ি দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে সজোরে চেয়ারটা লাথি মেরে বিছানার থেকে নীচে ফেলতেই গলার ফাঁসটা চেপে গিয়ে মৃত্যু ঘটে । গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করলো যামিনী । অপরদিকে যামিনীর ঘর থেকে অস্বাভাবিক জোরে কিছু পড়ার শব্দ শুনে সবাই ছুটে আসে । অনেক ডাকাডাকি করার পর দরজা না খোলায় হরিয়া আর কানাই মিলে দরজা ভাঙতেই সবাই ঘরের দিকে তাকিয়ে আৎকে ওঠে । সিতারা আর নিশি চীৎকার করে ওঠে একসাথে । 



Rate this content
Log in

More bengali story from Sharmistha Mukherjee

Similar bengali story from Drama