Participate in the 3rd Season of STORYMIRROR SCHOOLS WRITING COMPETITION - the BIGGEST Writing Competition in India for School Students & Teachers and win a 2N/3D holiday trip from Club Mahindra
Participate in the 3rd Season of STORYMIRROR SCHOOLS WRITING COMPETITION - the BIGGEST Writing Competition in India for School Students & Teachers and win a 2N/3D holiday trip from Club Mahindra

Sourya Chatterjee

Classics Inspirational


4.5  

Sourya Chatterjee

Classics Inspirational


ইন্টারভিউ

ইন্টারভিউ

6 mins 252 6 mins 252

ট্যাক্সিটা ডেকে থামিয়ে তার ভিতর উঠে বসলেন সুমনবাবু। ফোল্ডিং ওয়াকিং স্টিকটা কে ফোল্ড করে নিয়ে পাশে রেখে ড্রাইভারকে বললেন

- চলুন

- কোথায় দাদা?

- দেশপ্রিয় পার্ক

পলাশবাবু রুদ্ধশ্বাসে দৌড়াচ্ছেন হাতে ক্যামেরা নিয়ে। “সুমন” বলে চিৎকার পেছনের বাজির আওয়াজের সাথে মিশে সুমনবাবুর কানে এসে পৌঁছাচ্ছে না। জয়ের আনন্দের ছবি তুলতে তুলতে দু তিন মিনিটের জন্য অন্যমনস্ক হয়ে গেছিলেন পলাশবাবু। ব্যাস, তার মাঝেই কখন যেন বেরিয়ে পড়েছেন সুমনবাবু।

উল্লাসে, আনন্দে ময়দান মুখরিত হচ্ছে। প্লেয়াররা আনন্দে মেতেছে সাজঘরে। আজকের দিনটা, এই আজকের দিনটার অপেক্ষাতেই তো এতদিন দিন গুনছিল ওরা। কেউ একে অপরকে আলিঙ্গন করছে, কেউ বা মুষ্ঠীবদ্ধ হাত আকাশের দিকে ছুড়ছে। বাঁধ না মানা আনন্দের প্লাবন সাজঘরে আছড়ে পড়ছে বারংবার। মিস্টার দত্ত আজ “মোমেন্টস” ক্লাবের সাফল্যে খুশিতে ডগমগ হয়ে একটা পার্টিরও বন্দোবস্ত করলেন। টিমের প্লেয়াররা , কর্মকর্তারা, সমস্ত স্টাফরা যে যার মত যত খুশি আজ আনন্দ করবে। 

- এই, সুমন স্যার কোথায়? ওনাকে দেখছি না তো অনেকক্ষন হলো।

- সত্যিই তো। ফোন কর না রে একটা।

- হুমম, করছি দাঁড়া।


পলাশবাবু ট্যাক্সি-স্ট্যান্ডে দৌড়াতে দৌড়াতে পৌঁছালেন। ঠিক তিন চার সেকেন্ড আগে সুমনবাবুর ট্যাক্সিটা ছেড়ে দিয়েছে । “শিট” বলে প্রচন্ড জোরে চেঁচিয়ে উঠলেন পলাশবাবু। চোখেমুখে একরাশ হতাশা। সামনে বেঁকে হাঁটুতে হাত দিয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে তখন ঘনঘন দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন পলাশবাবু। 

কাঁধে একটা হাতের স্পর্শ পেয়ে চোখ তুলে চাইলেন পলাশবাবু। পাশে ঘটিগরমওয়ালা হাতের আঙুল উঁচু করে বললেন

- আপনাকে ডাকতেসে ঐখ্যানে ওই ট্যাস্কিটা থেকে।

পলাশবাবু দেখলেন সুমন বাবুর ট্যাক্সিটা কয়েক হাতের ব্যবধানে দাঁড়িয়ে । সুমনবাবু জানলা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে ডাকছেন 

- এই পলাশ, উঠে আয়। খেয়ালই করিনি। ভাগ্যিস ড্রাইভারদাদা বললেন। উঠে আয়।

বুকে হাত দিয়ে তখনও হাপাচ্ছেন পলাশবাবু। হতাশা ভরা মুখটায় মুহূর্তে হাসির ঝিলিক ফুটে উঠেছে তখন।

- আরে আয়। 

- আসছি তো।

- ঘটিগরম কিনে নে তো দুটো। খেতে খেতে কথা বলব তবে।


ট্যাক্সিতে উঠে স্বস্তির হাসি হেসে দরজাটা বন্ধ করলেন পলাশবাবু। 

- থ্যাংক ইউ। তোর ইন্টারভিউটাই নেওয়া হচ্ছিল না। সেই দুপুর থেকে ওয়েট করছি, আর তুই পালিয়ে যাচ্ছিলি আরেকটু হলে। 

- ওটা দে আগে।

- কোনটা?

- ঘটিগরমটা

- ও হ্যাঁ, এই নে। 

- তারপর? কেমন আছিস বল।

- আরে সেসব পরে হবে। আগে কাজের কাজটা সেরে নেই। শুরু করি ইন্টারভিউটা।

- বাবা, “সেরা খবর” নিউজপেপার এইসব সেকেন্ড ডিভিশন ম্যাচের নিউজও কভার করছে আজকাল!

- সেসব পরে বলছি। 

- আচ্ছা, তবে শুরু কর। তুই তো সব-ই জানিস।

ক্যামেরা , টেপরেকর্ডার বের করতে করতে পলাশ টুক করে নিজের ছোটবেলায় ডুব দিল একবার। ও আর সুমন বাল্যকালের বন্ধু। সেই ছোটবেলা থেকে এক স্কুলে পড়াশুনা। দুজনের কেউই তথাকথিত মেধাবী ছাত্র ছিল না। তবে নিজ নিজ গুণে দুজনেরই স্কুলে বেশ ভালো নামডাক ছিল। স্কুলের স্পোর্টসের দিন এমন কোনো প্রতিযোগিতা থাকত না, যেখানে সুমন পুরস্কার পেত না। তেমনই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের দিন পলাশকে ছাড়া কোনো অনুষ্ঠানের কথা ভাবতেই পারতেন না স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকারা। ক্রমে দিন এগোলো, স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে কলেজ জীবনে প্রবেশ করল ওরা। পলাশ জার্নালিজম নিয়ে ভর্তি হল। ওর চোখে মুখে তখন শহরের সেরা নিউজ পেপারের জার্নালিস্ট হওয়ার স্বপ্ন উঁকি মারছে। ওদিকে সুমন ইতিহাস নিয়ে ভর্তি হলেও খেলার মাঠই ওর ধ্যানজ্ঞান হয়ে উঠল ক্রমশ। সেকেন্ড ইয়ারেই ইউনিভার্সিটি ফুটবল টিমের ক্যাপ্টেন হল সুমন। দুই বন্ধুর দুটি আলাদা স্বপ্ন তাদের নিজস্ব পথ ধরে যাত্রা শুরু করল আস্তে আস্তে। কখন যে কালের তালে পলাশ আর সুমন থেকে ওরা পলাশবাবু আর সুমনবাবু হয়ে উঠল তা টেরও পায় নি ওরা।


- বাপরে বাপ, ক্যামেরা, টেপ রেকর্ডার..কত কিছু! আমি হলে নির্ঘাত দু দিনের মাথায় আমায় চাকরি থেকে আউট করে দিত। এত কিছু গুছিয়ে করতেই পারতাম না।

কথা গুলো বলে হাসলেন সুমনবাবু। পলাশবাবু বেশ সিরিয়াস এখন। প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু করলেন উনি

- সুমন মিত্র, খেলার ময়দান থেকে ডার্টি পলিটিক্সের জন্য হারিয়ে যাওয়া একটা নাম। সেই সুমন মিত্র কুড়ি বছর পর আবার ময়দানের প্রথম সারির মুখ হতে চলেছে। কেমন লাগছে?

- কুড়ি বছর আগের স্মৃতি আর মনে রেখে কি করব। মাঝে মধ্যে সেই স্মৃতি মনে হানা দেয় না, সে কথা বললে ভুল হবে। তবে সেসব স্মৃতি মনে এলে সেখান থেকে শুধু শক্তি সংগ্রহ করে জীবনে চলার পথে আরো এগিয়ে যেতে চাই। হুমম, আজ ভালো তো লাগছেই। তবে লড়াইটা তো সবে শুরু। অনেকটা পথ চলা বাকি।

- আপনার নিজের হাতে গড়া “মোমেন্টস” টিম আজ দেশের সেকেন্ড ডিভিশন লীগে চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরের বছর ফার্স্ট ডিভিশন লীগে খেলার সুযোগ পেল। এই অনুভূতি ঠিক কেমন?

- খুব ই ভালো। তবে ওই যে বললাম। লড়াইটা তো সবে শুরু হল। ফার্স্ট ডিভিশনেও ভালো ফল করতে হবে। সেটাই তো আসল চ্যালেঞ্জ।

- কুড়ি বছর আগে ঠিক কি হয়েছিল একটু যদি বলেন

- আমি সে দিনের ঘটনা নিয়ে কিছু বলতে চাই না। ফুটবল খেলায় চোট আঘাত লেগেই থাকে ওরকম। তবে মিস্টার দত্তের কাছে আমি কৃতজ্ঞ আমাকে খেলার ময়দানে নিজেকে প্রমাণ করার আর একটা সুযোগ দেবার জন্য।

- বাড়ি থেকে কতটা সমর্থন পেয়েছেন এই ফুটবল কোচ হবার জার্নিতে?

- সম্পূর্ণ। আমার বাবা মায়ের তরফ থেকে এতটা সমর্থন না পেলে আজ দেশের ফার্স্ট ডিভিশনে কেন সেকেন্ড ডিভিশন লীগেও কোচিং করানোর স্বপ্ন অধরা থেকে যেত। এই যে বাবাকে কথা দিয়েছি, চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে সবার প্রথম তোমার সাথে মিষ্টি খাবো বসে। তাই তো আগে বাবার সাথে মিষ্টি খেয়ে তারপর ইচ্ছে করলে টিমের আনন্দোৎসবে আবার এসে জয়েন করব ক্ষণ।

- আর আপনার স্ত্রী…

- কিছু ব্যক্তিগত কারণে আমাদের সেপারেশন হয়ে গেছে।

- এবার ম্যাচের কথায় আসি। টিমের সব থেকে ভালো প্লেয়ার কাকে মনে করেন?

- টিম হিসেবে খেলি। প্লেয়ারের আগে কোনো বিশেষণ বসাতে পছন্দ করি না।

- পরের বছর ফার্স্ট ডিভিশনে খেলবে “মোমেন্টস” টিম। কিছু পরিবর্তন?

- টিম ম্যানেজমেন্ট জানে। ঘটিগরমটা না গরম না খেয়ে মজা নেই। তোরটা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে।

- কি? ও, হে হে!

আগে থেকে ঠিক করে রাখা প্রশ্ন করে যেতে থাকলেন পলাশবাবু। সুমনবাবু উত্তর দিয়ে চলেছেন একের পর এক। সুমনটা ছোট থেকেই এরকম , কেমন যেন একটা। লড়াই করতে বড্ড ভালোবাসে। নিজের স্বপ্নকে ছোঁয়ার জন্য সব বাঁধাকে অতিক্রম করতে বিনা দ্বিধায় ঝাপিয়ে পড়ে ও, কিন্তু কোনো অজুহাত পছন্দ করে না।

সুমনের স্বপ্নরথ তখন টগবগিয়ে ছুটছিল। বাইশ বছর বয়সে দেশের প্রথম ডিভিশন লীগে খেলার সুযোগ পেয়ে গেছিল সুমন। সব-ই অবশ্য তার পরিশ্রম আর ইচ্ছের ফসল। দুটো বছর পেরোতে না পেরোতেই সুমন একেবারে সাফল্যের শিখরে। তার টিমে নিয়মিত প্রথম একাদশে ফরোয়ার্ড পজিশনে খেলছে, দুর্ধর্ষ সব গোলও করছে। বেশ ভালো নামডাক হচ্ছে আস্তে আস্তে। একদিন একটা নক আউট টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচে জাতীয় টিমের নির্বাচকদের আসার কথা। তখন “সেরা খবর” নিউজপেপারে জুনিয়র রিপোর্টারের চাকরি পেয়ে গেছে পলাশ। ফাইনাল ম্যাচটা কভার করার দায়িত্ব নিজে যেচেই নিয়েছিল পলাশ। ওর বন্ধু খেলবে বলে কথা! তাছাড়া শুধু খেলবে নয়, নিশ্চিত জাতীয় দলে সুযোগও পাবে। এই সুযোগ ছাড়া যায় নাকি! না, জাতীয় দলে সুযোগ পায়নি সুমন, এমন কি ফাইনাল ম্যাচটা খেলারও সুযোগ পায়নি। তার আগের দিন নিজেদের মধ্যে প্র্যাক্টিস ম্যাচে নিজের সতীর্থ ফুটবলারের করা ইচ্ছেকৃত একটি জঘন্য ট্যাকেলে আজীবনের জন্য ফুটবল থেকে দূরে সরে যেতে হয় সুমনকে। ফাইনাল ম্যাচে সুমনের টিম জিতেছিল, সেই সতীর্থ ফুটবলারটি জাতীয় দলের জন্য নির্বাচিতও হয়েছিল। শুধু সুমন আর কোনোদিন ফুটবল খেলা কেন, লাঠি ছাড়া হাঁটতেও পারল না আর। স্বপ্নগুলো যখন ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে সুমনের, তখন সবথেকে কাছের মানুষটা, তার স্ত্রীও তাকে ডিভোর্স দিয়ে চলে যায়। সাফল্যের শিখর থেকে যেন কেউ তাকে ধাক্কা মেরে অন্ধকার শ্যাওলামাখা দমবন্ধকর একটা খাদে ফেলে দিয়েছিল তখন। স্পোর্টস কোটায় পাওয়া চাকরিতে পেট ভরছিল, কিন্তু ঐভাবে বেঁচে থাকার মানে ছিল না। সেদিনের ঘটনার প্রায় কুড়ি বছর পর, আজ থেকে দু বছর আগে মিস্টার দত্ত তৃতীয় ডিভিশনে খেলা ধুঁকতে থাকা “মোমেন্টস” ক্লাবকে কোচিং করানোর দায়িত্ব সুমনবাবুর হাতে তুলে দেন। গতবছর তৃতীয় ডিভিশন থেকে টিমকে দ্বিতীয় ডিভিশনে তোলেন, আর আজ তুললেন প্রথম ডিভিশনে। 

দেখতে দেখতে দেশপ্রিয় পার্ক কখন যে চলে এসেছে খেয়ালই করেননি ওনারা। সুমনবাবু বললেন

- আয়। আমাদের বাড়িতে অনেকদিন পর তোর পদধূলি পড়বে।

- হুমম, চ। 

- আচ্ছা সুমন, শিউলির উপর তোর সত্যিই কখনো রাগ হয় না?

- কেন হবে বল তো? ও তখন একটা বাচ্ছা মেয়ে, বাইশ বছর বয়স। আমার একটা চূড়ান্ত স্বপ্নভঙ্গ যেমন হয়েছিল, তেমনটা তো ওর-ও হয়েছিল। আমি কাউকে কিছুর জন্য দায়ী করতে চাই না রে। অভিকে ওই ট্যাকেলটার জন্যও নয়, শিউলিকেও আমায় ছেড়ে চলে যাবার জন্য নয়। জীবনটা আমার। একাই লড়তে হবে।

চুপ করে গেলেন পলাশবাবু। মুখে স্মিত হাসি আর সুমনবাবুর জন্য একরাশ শ্রদ্ধা। সুমনবাবু জিজ্ঞেস করলেন

- তোর খবর বল। কেমন চলছে? বাই দ্য ওয়ে, “সেরা খবর” এসব সেকেন্ড ডিভিশন ম্যাচ কভার করার জন্যও এখন রিপোর্টার পাঠাচ্ছে, সে ব্যাপারে বললি পরে বলবি। বললি না তো।

- তোকে বলা হয়নি সুমন। আমি একমাস হল রিসাইন করেছি। নানান বিষয়ে সত্যি খবর ছাপা হচ্ছিল না বেশ কয়েকদিন ধরে। প্রথমে প্রতিবাদ করলাম। শুনল না। রিসাইন করলাম তখন। তারপর কিছু স্টাফ জোগাড় করে নতুন একটা নিউজ পেপার বের করতে শুরু করলাম।

- আরে ওয়াও! 

- লড়াইটা তো সবে শুরু। জানিস, আমার এই লড়াইয়ে অন্যতম ইন্সপায়ারার কে?

- কে রে?

- তুই, সুমন।

ব্যস্ত শহরের সন্ধ্যায় এক ফুটপাথে দুই বন্ধু তখন একে অপরকে আলিঙ্গন করছে তখন। 


Rate this content
Log in

More bengali story from Sourya Chatterjee

Similar bengali story from Classics