গোয়েন্দা ( ধারাবাহিক)
গোয়েন্দা ( ধারাবাহিক)
পর্ব নয়
হেড লাইটের আলোয় সূর্য্যকিরণকে দেখে ওর পিতৃদেবের মনে আশার সঞ্চার হল । তড়িঘড়ি গাড়ি থেকে নেমে ছেলেকে জড়িয়ে খুব আদর করলেন । অনুরভা দেবী নামতে গিয়ে পায়ে আঘাত পেলেন। কোনমতে খুঁড়িয়ে হেঁটে ঐলেন ছেলের কাছে। বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরে বললেন - এতদিন কোথায় ছিলি বাবা ? আমি তো চিন্তায় অস্থির হয়ে গেছিলাম । খুব ভালো করেছিস ফিরে এসে।
অভিমানী সূর্য্য ক্ষোভের সাথে বলল - তোমরাই তো আমাকে ত্যাগ দিয়েছ। এখন আর এমন নাটক করছ কেন ?
তপনকিরণ বললেন - ওরে বাবা, মুখ ফস্কে বলে ফেলেছি। আর তুই সেটাই বেদবাক্য মেনে চলে গেলি।
অনুপ্রভা দেবী বললেন - তা' হ্যাঁরে, মেয়েটিকে কোথায় রেখে এসেছিস ?
- বলতে পারব না মা । হানিমুন থেকে ফেরার পর সেই যে নিজের বাড়ি গেল ; আর দেখা হয়নি।
তপনকিরণ বললেন - বেশ হয়েছে। তুই বেঁচে গিয়েছিস। অমন একটা বিদঘুটে মেয়েকে ছেলের বউ হিসেবে মানতে পারছিলাম না ।
- কিন্তু বাবা, আমি যে ওকে ভালবাসি !
অনুপ্রভা দেবী বললেন - আর ও? ও তোকে এমনি ভালবাসে যে দেখা করতেও আসে না ।
সূর্য্যকিরণ বলল - হয়তো কোন কারণে সময় পায়নি।
তপনকিরণ বললেন - তাহলে গাড়িতে ওঠ। চল সবাই মিলে দেখা করে আসি ।
সূর্য্য প্রসঙ্গ পরিবর্তন করতে বলল - একটু আগে তোমরা চেঁচিয়ে উঠেছিলে কেন ? আর কেনই বা গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছিলেন ?
অনুপ্রভা দেবী বললেন - সে অনেক কথা বাবা। নে চল, বাড়ি চল। বাড়ি গিয়ে বলব ।
এমন সময় সাইরেন বাজিয়ে পুলিশের গাড়ি এসে পড়ল । পুলিশের লোকজন এসে তাঁদের ঘিরে নানা প্রশ্ন করতে লাগলেন । কোথায় দেখেছেন, প্রাণীটি দেখতে কেমন ছিল, কোনদিকেই বা কি ভাবে পালিয়ে গেল ইত্যাদি।
করালীপ্রসাদ সেনশর্মা তাদের পরিচয় জানতে চাইলেন । তপনকিরণ চৌধুরী নিজের পরিচয় দিলেন। অনুপ্রভা দেবীকে দেখিয়ে বললেন - আমার সহধর্মিণী। আর ওই যে গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে -
গেটের দিকে চেয়ে দেখলেন সূর্য্য নেই । তিনি চুপ করে গেলেন ।
করালীপ্রসাদ জিজ্ঞেস করলেন - গেটের সামনে ? কই, সেখানে তো কেউ নেই। কে ছিল সে ?
মুখ নীচু করে তপনকিরণ বললেন - হয়তো কোথাও গেল । ও ছিল আমার একমাত্র পুত্র ।
করালীপ্রসাদ বললেন - একমাত্র পুত্র ? কি নাম বলুন তো ?
- সূর্য্য । সূর্য্যকিরণ চৌধুরী ।
মিস্টার সেনশর্মার নিকট সব পরিষ্কার হয়ে গেল । বললেন - একটি মেয়ে - কি যেন নাম তার - ঠিক মনে পড়ছে না । সে থানায় একটা ডায়েরী করেছে । তাতে এই সূর্য্যকিরণ চৌধুরীর নাম আছে। আচ্ছা বলুন তো, আপনার ছেলে কি কোন মেয়ের সাথে প্রেমট্রেমে জড়িয়ে পড়ে বিয়ে করেছিল ?
তপনকিরণ ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলেন । শুকনো কাশি কাশতে লাগলেন । অনুপ্রভা দেবী এগিয়ে এসে বললেন - ছেলে আমাদের অমতে বিয়ে করেছে বলে ওকে আমরা স্বীকার করিনি।
করালীপ্রসাদ বললেন - মেয়েটির কি নাম বলুন তো ?
- কি যেন নামটা! বুকে আসছে মুখে আসছে না।
- ঈশিকা সামন্ত - তাই না ?
- হতেও পারে।
সেনশর্মা শুধু হুমম বলে চুপ করে গেলেন ।যাবার আগে বলে গেলেন - হিজ কেস ইজ ভেরী সিরিয়াস। ও ফিরে এলে আমাদের খবর দেবেন। নতুবা আমরা আবার আসব।
পুলিশের গাড়ি চলে গেল । চৌধূরী দম্পতি বাড়িতে প্রবেশ করলেন । দোতলার বারান্দায় এসে দেখেন সূর্য্য রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে আছে।
খুবই অবাক হলেন তিনি। গেট থেকে উপর অবধি তালা দেওয়া সত্বেও সে কি ভাবে দোতলায় এল ভেবে পেলেন না ।
তাঁর বিস্ময় কাটাতে সূর্য্য বলল সে পাইপ বেয়ে উপরে উঠে এসেছে।
- কিন্তু কেন ?
- ঈশিকা আমার নামে থানায় একটা কেস দিয়েছে।
- কেস? কেমন কেস ?
- সে অনেক কথা । পরে বলব ।
- না । এখনই বল । খুব চিন্তা হচ্ছে। এ দিকে আগামীকাল কলকাতা হাইকোর্ট রায় দেবে। সেই জন্য মায়ের কাছে বৈদিক ভিলেজে গিয়েছিলাম । মনে হচ্ছে কেসটা হেরে যাব। মা যদি হেল্প করতেন এ যাত্রা রক্ষা পেতাম । কিন্তু মা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। এদিকে তুই আবার আর এক ঝামেলা লাগিয়েছিস ।
- আমারটা ছাড়ো । ম্যানেজ করে নেব।তোমাদের চিন্তা কর । যদি বল তো আমি কেস ঘুরিয়ে দিতে পারি।
তপনকিরণের বিস্ময়ের শেষ নেই। ফাইনাল হিয়ারিং হয়ে গেছে । শুধু রায় ঘোষণাই বাকি, আর ছেলে বলে কি না কেস ঘুরিয়ে দেবে !
বিস্ময়ভরা চোখে ছেলের দিকে চাইলেন তিনি ।
সূর্য্য বলল - সে বিদ্যে আমার জানা আছে। তুমি কোন চিন্তা কর না বাবা। কাল আমি কোর্টে যাব ।
( চলবে )
