STORYMIRROR

Nityananda Banerjee

Thriller

4  

Nityananda Banerjee

Thriller

গোয়েন্দা ( ধারাবাহিক)

গোয়েন্দা ( ধারাবাহিক)

4 mins
263

পর্ব নয়

হেড লাইটের আলোয় সূর্য্যকিরণকে দেখে র পিতৃদেবের মনে আশার সঞ্চার হল । তড়িঘড়ি গাড়ি থেকে নেমে ছেলেকে জড়িয়ে খুব আদর করলেন । অনুরভা দেবী নামতে গিয়ে পায়ে আঘাত পেলেন। কোনমতে খুঁড়িয়ে হেঁটে ঐলেন ছেলের কাছে। বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরে বললেন - এতদিন কোথায় ছিলি বাবা ? আমি তো চিন্তায় অস্থির হয়ে গেছিলাম । খুব ভালো করেছিস ফিরে এসে।

অভিমানী সূর্য্য ক্ষোভের সাথে বলল - তোমরাই তো আমাকে ত্যাগ দিয়েছ। এখন আর এমন নাটক করছ কেন ?

তপনকিরণ বললেন - ওরে বাবা, মুখ ফস্কে বলে ফেলেছি। আর তুই সেটাই বেদবাক্য মেনে চলে গেলি।

অনুপ্রভা দেবী বললেন - তা' হ্যাঁরে, মেয়েটিকে কোথায় রেখে এসেছিস ?

- বলতে পারব না মা । হানিমুন থেকে ফেরার পর সেই যে নিজের বাড়ি গেল ; আর দেখা হয়নি।

তপনকিরণ বললেন - বেশ হয়েছে। তুই বেঁচে গিয়েছিস। অমন একটা বিদঘুটে মেয়েকে ছেলের বউ হিসেবে মানতে পারছিলাম না ।

- কিন্তু বাবা, আমি যে ওকে ভালবাসি !

অনুপ্রভা দেবী বললেন - আর ও? ও তোকে এমনি ভালবাসে যে দেখা করতেও আসে না ।

সূর্য্যকিরণ বলল - হয়তো কোন কারণে সময় পায়নি।

তপনকিরণ বললেন - তাহলে গাড়িতে ওঠ। চল সবাই মিলে দেখা করে আসি ।

সূর্য্য প্রসঙ্গ পরিবর্তন করতে বলল - একটু আগে তোমরা চেঁচিয়ে উঠেছিলে কেন ? আর কেনই বা গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছিলেন ?

অনুপ্রভা দেবী বললেন - সে অনেক কথা বাবা। নে চল, বাড়ি চল। বাড়ি গিয়ে বলব ।

এমন সময় সাইরেন বাজিয়ে পুলিশের গাড়ি এসে পড়ল । পুলিশের লোকজন এসে তাঁদের ঘিরে নানা প্রশ্ন করতে লাগলেন । কোথায় দেখেছেন, প্রাণীটি দেখতে কেমন ছিল, কোনদিকেই বা কি ভাবে পালিয়ে গেল ইত্যাদি।

করালীপ্রসাদ সেনশর্মা তাদের পরিচয় জানতে চাইলেন । তপনকিরণ চৌধুরী নিজের পরিচয় দিলেন। অনুপ্রভা দেবীকে দেখিয়ে বললেন - আমার সহধর্মিণী। আর ওই যে গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে -

গেটের দিকে চেয়ে দেখলেন সূর্য্য নেই । তিনি চুপ করে গেলেন ।

করালীপ্রসাদ জিজ্ঞেস করলেন - গেটের সামনে ? কই, সেখানে তো কেউ নেই। কে ছিল সে ?

মুখ নীচু করে তপনকিরণ বললেন - হয়তো কোথাও গেল । ও ছিল আমার একমাত্র পুত্র ।

করালীপ্রসাদ বললেন - একমাত্র পুত্র ? কি নাম বলুন তো ?

- সূর্য্য । সূর্য্যকিরণ চৌধুরী ।

মিস্টার সেনশর্মার নিকট সব পরিষ্কার হয়ে গেল । বললেন - একটি মেয়ে - কি যেন নাম তার - ঠিক মনে পড়ছে না । সে থানায় একটা ডায়েরী করেছে । তাতে এই সূর্য্যকিরণ চৌধুরীর নাম আছে। আচ্ছা বলুন তো, আপনার ছেলে কি কোন মেয়ের সাথে প্রেমট্রেমে জড়িয়ে পড়ে বিয়ে করেছিল ?

তপনকিরণ ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলেন । শুকনো কাশি কাশতে লাগলেন । অনুপ্রভা দেবী এগিয়ে এসে বললেন - ছেলে আমাদের অমতে বিয়ে করেছে বলে ওকে আমরা স্বীকার করিনি।

করালীপ্রসাদ বললেন - মেয়েটির কি নাম বলুন তো ?

- কি যেন নামটা! বুকে আসছে মুখে আসছে না।

- ঈশিকা সামন্ত - তাই না ?

- হতেও পারে।

সেনশর্মা শুধু হুমম বলে চুপ করে গেলেন ।যাবার আগে বলে গেলেন - হিজ কেস ইজ ভেরী সিরিয়াস। ও ফিরে এলে আমাদের খবর দেবেন। নতুবা আমরা আবার আসব।

পুলিশের গাড়ি চলে গেল । চৌধূরী দম্পতি বাড়িতে প্রবেশ করলেন । দোতলার বারান্দায় এসে দেখেন সূর্য্য রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে আছে।

খুবই অবাক হলেন তিনি। গেট থেকে উপর অবধি তালা দেওয়া সত্বেও সে কি ভাবে দোতলায় এল ভেবে পেলেন না ।

তাঁর বিস্ময় কাটাতে সূর্য্য বলল সে পাইপ বেয়ে উপরে উঠে এসেছে।

- কিন্তু কেন ?

- ঈশিকা আমার নামে থানায় একটা কেস দিয়েছে।

- কেস? কেমন কেস ?

- সে অনেক কথা । পরে বলব ।

- না । এখনই বল । খুব চিন্তা হচ্ছে। এ দিকে আগামীকাল কলকাতা হাইকোর্ট রায় দেবে। সেই জন্য মায়ের কাছে বৈদিক ভিলেজে গিয়েছিলাম । মনে হচ্ছে কেসটা হেরে যাব। মা যদি হেল্প করতেন এ যাত্রা রক্ষা পেতাম । কিন্তু মা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। এদিকে তুই আবার আর এক ঝামেলা লাগিয়েছিস ।

- আমারটা ছাড়ো । ম্যানেজ করে নেব।তোমাদের চিন্তা কর । যদি বল তো আমি কেস ঘুরিয়ে দিতে পারি।

তপনকিরণের বিস্ময়ের শেষ নেই। ফাইনাল হিয়ারিং হয়ে গেছে । শুধু রায় ঘোষণাই বাকি, আর ছেলে বলে কি না কেস ঘুরিয়ে দেবে !

বিস্ময়ভরা চোখে ছেলের দিকে চাইলেন তিনি ।

সূর্য্য বলল - সে বিদ্যে আমার জানা আছে। তুমি কোন চিন্তা কর না বাবা। কাল আমি কোর্টে যাব ।

( চলবে )


Rate this content
Log in

Similar bengali story from Thriller