Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

Suravi Roy

Abstract


5.0  

Suravi Roy

Abstract


'গাছমাতা' -এক মায়ের যন্ত্রণা

'গাছমাতা' -এক মায়ের যন্ত্রণা

17 mins 1.1K 17 mins 1.1K

 "আমাকে তোমরা কেটে ফেলছ,মেরে ফেলছ টেকনোলজির উন্নতি করবে বলে, কিন্তু আমিতো এই এক কোণে শান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছি। তোমাদের তো কোনো ক্ষতি করিনি বরং উপকার করেছি অনেক এবং এখনও করে চলেছি। আমার জন্যই তোমরা বেঁচে আছো, জীবন ধারনের ক্ষমতা পেয়েছো। আর আজ টাকার লোভে আমাকে মেরে ফেলছো, আর মেরেই যখন ফেলছো তখন সম্পূর্ণ শেষ করে দাও, এভাবে জরাজীর্ণ করে, পঙ্গু করে রেখে যাচ্ছো কেন? আমার সমস্ত পাতা, ডালপালা সমস্ত কিছু কেটে দিলে শুধু রেখে দিলে আমার মোটা গুঁড়ি টুকু। আমার খাদ্য সংস্থানের উপায় একে বারে বন্ধ করে দিলে।আর অন্যদিকে মাটির তলায়, মাটিকে আঁকড়ে ধরে থাকা আমার শক্ত শিকড়গুলোকে নিজেদের ইচ্ছা মতো ছন্নছাড়া করে কেটে উপড়ে দিলে, এতে আমরা যে কতটা কষ্ট হল, সে তোমরা বুঝলে না। আর আমার যে আহত শিকড়গুলো কাটতে তোমাদের শক্তি হার মানল, সেই শিকড়গুলোর সাথে তোমরা বেঁধে দিলে তোমাদের নতুন টেকনোলজির কেবল্ এর বিভিন্ন হাই ভোল্টেজ কারেন্ট পাশ হওয়া তার। আমার আহত অর্ধমৃত শরীরের বিভিন্ন অংশে কারেন্টের ধাক্কা আমাকে আরো...আরো যন্ত্রণায় অস্থির করে তুলল। কেন! .....কেন, আমাকে এতো কষ্ট দিচ্ছ?....আমি তো তোমাদের সন্তানতুল্য ভেবে ভালোবেসেছি, তোমাদের বাঁচানোর জন্য নিজে দুষিত কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহন করে তোমাদের বিশুদ্ধ অক্সিজেন দিয়েছি, তোমাদের খাদ্য যুগিয়েছি। আর তোমরা আমাকে এভাবে কষ্ট দিচ্ছো.....তোমরা কি তোমাদের মা কে এই ভাবে কষ্ট দাও?...আর আমাকে মেরেই যখন ফেলবে তখন সম্পূর্ণ শিকড়সহ উপড়ে ফেলে দিলে না কেন?....হয়তো এতোটা কষ্ট পেতাম না, মৃত্যুর ঘুমটা একটু শান্তিতে ঘুমাতাম। কিন্তু দিলে না তোমরা...

   কিন্তু একি করছো তোমরা, আমার ছোট ছোট নতুন জন্ম নেওয়া সন্তানদের কেটে উপড়ে দিচ্ছ। কিন্তু কেন? ওরাতো সবে জন্মাচ্ছে, তোমাদেরই জন্য.... তোমাদের এবং এই সুন্দর পৃথিবীকে রক্ষা করার জন্য।

তোমরা এখনও বুঝতে পারছো না আমাদের গুরুত্ব, টেকনোলজির উন্নতি আর টাকার লোভে তোমরা আমাদের নয়......নিজেই নিজেদের ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছ।

  কিন্তু তোমাদের কোনো অধিকার নেই আমাদের শেষ করার, এই পৃথিবী শুধু তোমাদের একার নয়.....এটা আমাদেরও। তাই তোমরা শুধুমাত্র টেকনোলজি দোহাই দিয়ে আমাদের এই পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে পারো না। 

    আমি ফিরে আসবো......তোমাদেরকে ঠিক তোমাদের ভাষায় বোঝাতে...... আমাদের এই বিনাদোষে কষ্ট দায়ী মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে।

এই টেকনোলজিই তোমাদের একদিন শেষ করে দেবে।..."


           কুড়ি বছর পর, আমি সেন্ট লরেন্স কলেজের একজন ছাত্রী, নাম এন্ডোমিডা। জন্ম থেকেই আমার একটা বিশেষ ক্ষমতা আছে, যেটা হল আমি কোনো কিছুকে একবার শুধুমাত্র স্পর্শ করেই সেটার সাথে অতীতে ঘটে যাওয়া ঘটনার কিছু অংশ চোখের সামনে দেখতে পায়। আমার এই ক্ষমতার কথা শুধু ইরিকা, এথেন আর জন্ আমার এই তিনজন বন্ধু জানে।

   

       আজ কলেজে ঢোকার পর থেকেই দেখছি, আজ সবাই একটু বেশিই চুপচাপ, কেমন যেন একটু খটকা লাগলো। ব্যাপারটা জানার জন্য এথেনকে ফোন করলাম, ও কাছেই কোথাও ছিল এগিয়ে এল। কথাটা ওকে জিজ্ঞাসা করতেই ও বলল যে কোনো এক ফেমাস্ গায়ক, মিঃ ল্যাভেন্স, তার কোনো গানের ভিডিও রিলিজ করেছেন, আর যেটার ফুল ভিডিও ডাউনলোড করতে হলে কম্পিউটার বা ল্যাপটপ থেকে ডাউনলোড করতে হবে তার পর ফোনে ট্রান্সফার করে হেডফোনে শুনতে হবে। আর যারা এই গানের ফুল ভিডিও ডাউনলোড করবে তারা গানটা শোনার জন্য একটা করে ওই কোম্পানির নিউ টেকনোলজি যুক্ত হেডফোন ফ্রি পাবে।... এই বিষয়ে কথা বলছিলাম আর তখনই আমাদের পাশ দিয়ে জন্ দৌড়ে কম্পিউটার রুমের দিকে গেল, আমরা জিজ্ঞাসা করায় বলল, কলেজের কম্পিউটার থেকে মিঃ ল্যাভেন্সের ফুল ভিডিওসহ গানটা ডাউনলোড করবে।    


        এরপর আমরা ক্লাসের দিকে যেতেই দেখলাম ইরিকা ওর ল্যাপটপটা নিয়ে ঠোকাঠুকি করছে আর ওর পাশেই ওর ফোনটা ভেঙে পড়ে আছে। আমরা জিজ্ঞাসাজনক দৃষ্টি নিয়ে ওর কাছে যেতেই বলল," এন্ডোমিডা, দেখ না... মিঃ ল্যাভেন্সের ভিডিওটা ডাউনলোড করতে করতেই, ভাইরাস এফেক্টেড দেখিয়ে ল্যাপটপটা সাট্ ডাউন হয়ে গেল আর অন্ হচ্ছে না ফোনটারও সেম অবস্থা।" 

  আমি বললাম," ল্যাপটপটা আমাকে দে। আমি ঠিক করে দেব।" ইরিকা আমাকে ওর ল্যাপটপটা দিয়ে চলে গেল। ওর কোথায় একটা পার্টির ইনভাইট আছে তাই।


        অগত্যা আমরা, সামনেই থাকা ওয়েটিং চেয়ারগুলোয় গিয়ে বসলাম, ঠিক স্টাফ রুমের সামনে।আমি ল্যাপটপটাকে চেক করতে করতে, এথেনের সঙ্গে কথা বলছিলাম, হঠাত দেখি এথেন আমার কথার কোনো উত্তর দিচ্ছে না,শুধু 'হু হু' করেই চলেছে। বিরক্ত হয়ে ওর দিকে তাকালাম,দেখি ও আমাদের সামনের চেয়ারে বসে থাকা একটা মেয়েকে অদ্ভুত ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। আমারও মেয়েটাকে দেখে কেমন যেন একটা লাগলো, কারণ,মেয়েটা কানে হেডফোন লাগিয়ে বসে আছে, কিন্তু কোনো রকম মুভমেন্ট করছে না...মানে মানুষ শ্বাস-প্রশ্বাস নিলেও যে শারীরিক মুভমেন্ট হয় সেটাও হচ্ছে না, এমনকি চোখের পাতা না ফেলে একদৃষ্টে চেয়ে আছে, ঠিক যেন কাঠের পতুলের মতো। 

  কিন্তু মেয়েটা কে ? একে আগে তো কখনো কলেজে দেখিনি,সম্ভবত নিউ অ্যাডমিশনের জন্য এসেছে।হ্যা, ঠিক তাই। স্টাফ রুমের ভিতর থেকে একটা মেয়ের নাম অ্যানাউন্স করছে,সম্ভবত ওই মেয়েটিকেই ডাকছে।কিন্তু তবুও মেয়েটির কোনো রেসপন্স নেই,ভাবলাম কানে হেডফোন থাকার জন্য হয়তো শুনতে পাচ্ছে না,তাই আমি ওর সাথে কথা বলার চেষ্টা করলাম কিন্তু সেই একই রকম।এবার আমি একটু বিরক্ত হয়ে মেয়েটির কান থেকে একটা হেডফোন খুলতে গেলাম...কিন্তু একি?...হেডফোনটা কান থেকে টেনে খুলতেই কানের ভিতর থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করল শুরু কারেন্টের তার আর সেটার সাথে জড়িত সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম গাছের শিকড় আর সবুজ রঙের জেলির মতো আঁঠালো পদার্থ।আর ওটার একটা প্রান্ত হেডফোনটার সাথেই যুক্ত। ওটা দেখেই আমার মাথাটা কেমন গুলিয়ে উঠল....আর মেয়েটা এক ঝটকায় আমার হাত থেকে হেডফোনটা কেড়ে নিয়ে উঠে দাঁড়াল এবং পুনরায় নিজের কানে গুঁজে নিল এবং এগিয়ে গিয়ে স্টাফ রুমে ঢুকে পড়ল।


        কিন্তু আমি তখনও বুঝতে পারছিলাম না যে এইমাত্র কি ঘটল...আমি ওখানেই ধপ করে বসে পড়লাম।অন্যদিকে এথেন আমার অবস্থা দেখে আমার পাশে এসে বসল এবং মাথামুন্ডু বকবক করতে লাগলো।কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর বললাম," কিছু একটা ভয়ংকর ঘটতে চলেছে ....যেটা মানুষের প্রচন্ড ক্ষতি করবে....,আমাদের কিছু একটা করতে হবে ....। এথেন, তুই বাড়ি যা এবং আমার বায়ো-কেমিক্যালের যে বইটা তোর কাছে আছে ওটা নিয়ে তুই খুব তাড়াতাড়ি আমাদের বাড়িতে চলে আসবি।আমিও বাড়ি যাচ্ছি।" আমার কথাগুলো শুনে এথেন বাড়ি চলে গেল।আর আমিও ইরিকার ল্যাপটপটা নিয়ে কলেজ থেকে বের হয়ে গেলাম।


        আমার রুমের পাশে একটা ছোট্ট ল্যাবরেটরি বানিয়ে রেখেছি। বাড়ি পৌঁছে, ল্যাবে ঢুকেই ইরিকার ল্যাপটপের স্ক্রু গুলো খুলতে লাগলাম,মাথার মধ্যে প্রচন্ড টেনশন কাজ করছে, কি যে ঘটতে চলেছে কিছুই বঝতে পারছি না।এর মধ্যেই এথেন বইটা নিয়ে আমার ল্যাবে ঢুকলো।আর ততক্ষণে আমি ইরিকার ল্যাপটপের উল্টো দিকের স্ক্রু গুলো খুলে ফেলেছি, এবার ঢাকনাটা খুলতেই চমকে উঠলাম, দেখি সেই সবুজ রঙের জেলির মতো আঁঠালো পদার্থটা ল্যাপটপের ভিতরের তার গুলোর সাথে লেগে রয়েছে আর কোনো কোনো তারের সাথে সূক্ষ্ম শিকড় জড়িয়ে আছে।আর এই জন্য ওই ল্যাপটপের তার গুলো কেমন যেন নড়েচড়ে উঠছে, ঠিক যেন এক একটা জীবন্ত কীট।এগুলো দেখে এথেন থতমত খেয়ে গেল। আমি মাথাটা একটু শান্ত করে, এথেনকে আলমারি থেকে মাইক্রোস্কোপটা দিতে বললাম, এথেন মাইক্রোস্কোপটা আমার সামনে টেবিলে রাখল। তারপর আমি একটা কাঠি দিয়ে খুব সাবধানে কিছুটা ওই জেলির মতো পদার্থ তুলে নিয়ে একটা কাঁচের স্লাইডে রেখে, স্লাইডটা মাইক্রোস্কোপের নীচে রাখলাম। এবং মাইক্রোস্কোপ দিয়ে ওই সবুজ পদার্থটা পর্যবেক্ষণ করতে লাগলাম।এবং দেখে বুঝলাম যে ওটা কোনো গাছের কোশ ভেঙে বের হওয়া এক্টোপ্লাজম আর এন্ডোপ্লাজমের মিশ্রন যেটা নিজেই একটা জীবে পরিনত হয়েছে এবং যেটার সাথে গাছের পাতার সবুজ ক্লোরোফিলও মিশে আছে। কিন্তু এটা কিভাবে হল? বা এটা এই রকম ভাবে ল্যাপটপের মধ্যে কিভাবে এল...এর কারণটা বুঝতে পারলাম না। এরপর হঠাত এথেন ইরিকার কথা বলতেই মনে পড়ল, ইরিকা ওর ল্যাপটপে মিঃ ল্যাভেন্সের ভিডিও গান ডাউনলোড করছিল আর তার পরেই ল্যাপটপটা ভাইরাস এফেক্টেড দেখিয়ে বন্ধ হয়ে গেছে। আমি এথেনকে বললাম," এই সব কিছুর জন্য দায়ী ওই মিঃ ল্যাভেন্সের ভিডিও গানের সফটওয়্যার ফাইলটা। ওই ভিডিও গানের মধ্যে দিয়ে ল্যাপটপ বা কম্পিউটারে ভাইরাস প্রবেশ করছে আর যেটা মানুষেরও ক্ষতি করছে। কিন্তু একটা ভিডিও গান ডাউনলোডের মাধ্যমে ল্যাপটপের মধ্যে, গাছের শিকড় আর ওই সবুজ জেলির মতো পদার্থ কি করে আসছে? সেটাই বুঝতে পারছিনা..... আর যে হেডফোনটা, কলেজের ওই অদ্ভুত রকমের নতুন মেয়েটির কানে লাগানো ছিল সেটা থেকেও ওই একই রকমের জীবন্ত শিকড় আর সবুজ জেলির মতো পদার্থ বেরিয়ে আসছিল। আর তখন আমি দেখেছিলাম ওই হেডফোনটার গায়ে মিঃ ল্যাভেন্সের কোম্পানির স্টিকার লাগানো আছে। তার মানে ওই জীবন্ত সবুজ পদার্থ গুলো মিঃ ল্যাভেন্সের গানের মাধ্যমে, ল্যাপটপ বা কম্পিউটারে প্রবেশ করছে আর তার পর হেডফোনের মাধ্যমে প্রবেশ করছে মানুষের শরীরে।"

  এথেন বলল," কিন্তু এই সবুজ জেলির মতো পদার্থটাতো কোনো অনলাইন ভাইরাস নয় যেটা কোনো সফটওয়্যারে লোড হয়ে যাবে!..."

  আমি বললাম," সেটাই তো! তাহলে কি ওই পদার্থগুলোকে কেউ কন্ট্রোল করছে... কিন্তু....... ,ও মাই গড!.... জন্ তো কলেজের কম্পিউটার রুমে গিয়েছিল ওই ভিডিও টা ডাউনলোড করবে বলে.....আর ওখানে তো অনেকগুলো কম্পিউটার আছে আর সবগুলোই তো একটা কেবল্ তারের মাধ্যমে যুক্ত।.... আর ওখানে ওই জীবন্ত সবুজ পদার্থগুলো কি ভয়ংকর রূপ ধারণ করবে তার ধারনা করা যায় না। এথেন, আমাদের এখুনি কলেজে পৌঁছাতে হবে নাহলে জন্ কে এই ভয়ানক বিপদ থেকে বাঁচাতে পারবো না।...." 

  এথেনও আমার সাথে সহমত হল এবং বলল," আমাদের আর দেরি করা যাবে না।...তাড়াতাড়ি চল। কিন্তু ইরিকাকে এই বিষয়ে জানাতে হবে... আর হ্যা, ইরিকার কাছেও তো ওই কোম্পানির হেডফোন আছে।..." 

আমি বললাম," আই হোপ্ , ইরিকা ওই হেডফোনটা ব্যাবহার করেনি। তুই নীচে গিয়ে গাড়ি স্টার্ট কর, আমি ইরিকাকে ফোন করছি...." এথেন চলে গেল।


আর আমি ইরিকাকে ফোন করে ওই হেডফোনটা ব্যাবহার করতে নিষেধ করলাম আর এখুনি কলেজে আসার জন্যে বললাম। আর ও কারন জিজ্ঞেস করায় বললাম," খুব সাবধানে আসবি আর এই টুকুই জেনে রাখ, আমরা কোনো ভয়ংকর বিপদের সাথে লড়তে যাচ্ছি।"বলে ফোনটা কেটে দিলাম। আর যাওয়ার আগে কি যেন একটা মনে করে, আগাছা উদ্ভিদ নাশক একরকমের খুব শক্তিশালী পদার্থ, যেটা আমিই আমার ল্যাবরেটরিতে বানিয়ে ছিলাম একটা বিশেষ কাজের জন্য, সেটাকে একটা বড়ো স্প্রে বোতলে ভরে নিলাম। আর আমার কাছে থাকা একটা ভাইরাস প্রোটেকশন যুক্ত সিকিওরড্ মিনি ল্যাপটপ আর এথেন নিয়ে আসা আমার বায়ো কেমিক্যালের বইটাও সঙ্গে নিয়ে গাড়িতে উঠলাম।


       আমি আর এথেন কলেজের গেটের কাছে পৌঁছালাম কিন্তু এই সব টেনশন্ এর মধ্যে এটা খেয়াল হয়নি যে, এখন বিকাল পেরিয়ে সন্ধ্যা হয়ে গেছে আর কলেজের গেটও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তাহলে কলেজে ঢুকবো কিকরে?....কলেজ কর্তৃপক্ষকে ব্যাপারটা বোঝাতে বোঝাতে রাত্রি পার হয়ে যাবে আর যদিও সংক্ষিপ্ত ভাবে জানায় তাহলে, ভালোভাবে না বুঝেই ইয়ং জেনারেশন আর বেচারা ইন্টারনেটের দোষ দিয়ে বসে থাকবে ....আর এই সবের জন্য ওই আক্রান্ত নতুন মেয়েটি আর জন্ এর মতো আরো অনেক স্টুডেন্ট এই নতুন ভাইরাসের কবলে পড়ে মারা যাবে...আর আমরা সব কিছু জেনেও ওদের বাঁচাতে পারবো না ......তাই অগত্যা আমাদের পাঁচিল টপকে কলেজের ভিতরে ঢুকতে হল আগত বিপদের কারণ জানার জন্য।


   কিন্তু কলেজের করিডরের দিকে যেতেই এক ভয়ানক গোঙানির মতো শব্দ হতে লাগল... এই রকম কিছু আমরা আশা করি নি...আমরা প্রথমে কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে ভয়ে সিটিয়ে গেলাম......জিনিসটা কি সেটা জানার জন্য মনে কিছুটা সাহস সঞ্চয় করে সামনে এগিয়ে যেতে লাগলাম...... কিন্তু যতই এগিয়ে যেতে থাকলাম ততই ওই শব্দটা ভয়ানক থেকে আরো ভয়ংকর তীক্ষ্ণতর হয়ে উঠেছে.......

  আমাদের হৃৎপিণ্ডের গতি বাহাত্তর থেকে বেড়ে দুশো ছুঁয় ছুঁয় অবস্থা আর এথেনের অবস্থা আরো শোচনীয়....ঘেমে ওর এমন অবস্থা যে দেখে মনে হচ্ছে এখনই যেন নদীতে স্নান করে এসেছে। এদিকে আর পা এগোচ্ছে না, মনে হচ্ছে মাটির সাথে আটকে যাচ্ছে .......তবুও ঘরের মধ্যে জন্ আর অন্যদের এই বিপদ থেকে উদ্ধার করতেই এগিয়ে চলেছি। হঠাৎই একটা খুব জোরালো সবুজ আলো চোখে এসে পড়ে চোখ ঝলসে গেল একটা আর্তনাদ করে যন্ত্রণায় চোখ বন্ধ করে ফেললাম। এরই মধ্যে এথেন হাত বাড়িয়ে কিছু একটা আমরা হাতে দিল। হাতে নিতেই বুঝলাম ওটা এথেনের বানানো উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন আলো থেকে, সংবেদনশীল চোখকে বাচানোর জন্য চশমা। যেটা যেকোন রঙের আলোকরশ্মিকে চোখের সহ্য শক্তির অনুপাতে এনে দিতে পারে। সম্ভবত এথেন আমার থেকে কিছুটা দুরত্বে ছিল তাই ওই সবুজ রশ্মির প্রভার ওর উপরে তেমন ভাবে পড়েনি। তাই ও আমার অবস্থাটা বুঝে সাহায্য করতে পেরেছে। 


   যাইহোক্ ওই চশমা আমরা দুজনেই পড়ে নিয়ে আরো সামনে এগোতে থাকলাম আর ওই সবুজ আলোকরশ্মির উৎস খুঁজতে লাগলাম। এর মধ্যে এথেন বলল," সবুজ আলো সম্ভবত ওখান থেকেই আসছে।" বলে একটা নির্দিষ্ট দিকে আঙুল নির্দেশ করল। ওর কথা শুনে আমিও ওদিকে তাকালাম এবং বললাম," ওটাতো কম্পিউটার রুম.... তাহলে, আলোটা ওখান থেকেই আসছে..। চল তাহলে ওখানেই গিয়ে দেখি আসল ব্যাপারটা কি? ....."


    ওই সবুজ আলোকরশ্মির মধ্যে দিয়ে এগিয়ে গেলাম কম্পিউটার রুমের দিকে এবং রুমে প্রবেশ করলাম। তারপর যা দেখলাম তা অবাক করে দেওয়া দৃশ্যের সীমা অতিক্রম করে গিয়েছিল। আমরা দেখলাম," কম্পিউটার রুমের প্রত্যেকটা কম্পিউটার একসাথে অন্ হয়ে আছে এবং প্রতিটা কম্পিউটারের মনিটর থেকে ওই জোড়ালো তীক্ষ্ণ সবুজ আলো বেরিয়ে আসছে আর রুমটার সমগ্র দেওয়ালটাকে গাছের শিকড়, কারেন্টের কেবল্ এর তার আর ওই সবুজ আঁঠালো জেলির মতো পদার্থ একসাথে মিলে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে নিয়েছে আর সাথে সাথে ওই শিকড়গুলো রকম অদ্ভুত গোঙানির মতো আওয়াজ করছে ..... মনে হচ্ছে সবমিলিয়ে যেন এক ভয়ংকর প্রানী।


     অন্যদিকে, তাকিয়ে দেখি রুমের কোনের দিকে একটা কম্পিউটারের সামনে সেই নতুন মেয়েটি,সেই একই ভাবে হেডফোনটা লাগিয়ে বসে আছে, ওর সামনের কম্পিউটারটাই সেই মিঃ ল্যাভেন্সের ভিডিও গানটা ডাউনলোড চলছে। সম্ভবত জন্ ই ডাউনলোড করতে দিয়ে গেছে। মেয়েটার কাছে একটু এগিয়ে যেতেই চমকে উঠলাম, দেখি মেয়েটার মাথা, কান, মুখ ও শরীরের বিভিন্ন অংশ ফুঁড়ে গাছের শিকড় আর কারেন্টের তার বেরিয়ে এসেছে। তবুও মেয়েটা কাঠ হয়ে বসে রয়েছে। আমি এগিয়ে গিয়ে মেয়েটার কাঁধে হাত দিতেই এক অদ্ভুত দৃশ্য আমার চোখে ভেসে উঠল আর আমি চমকে কিছুটা পিছিয়ে এলাম। 

  এথেন জিজ্ঞাসা করল," এন্ড্রোমিডা, কি হল? আবার কোনো দৃশ্য দেখতে পেলি নাকি?....."

    আমি কিছুটা ঢোক গিলে বললাম," হ্যা। আমি আমার সেই অদ্ভুত ক্ষমতা বলে আবার একটা অতীত দৃশ্য দর্শন করলাম।.... আমি দৃশ্যে একটা পুরানো, অনের বড়ো, মোটা গুড়ি যুক্ত গাছ দেখলাম, সে প্রচন্ড রেগে আছে, সম্ভবত মানুষেরা তাঁর সাথে অনেক বড়ো অন্যায় করেছে।" 

  আমার কথা শুনে এথেন বলল," কিন্তু কোথায় আছে সেই গাছ? তুই জায়গাটা দেখেছিস?" 

 আমি বললাম," হ্যা, আমি দেখেছি এবং আমরা সবাই ওই জায়গাটা চিনি....আমাদের কলেজের পিছনের জায়গাটা....যেটা আমাদের কম্পিউটার রুমের ঠিক পিছন দিকেই পড়ে। কিন্তু সেখানে তো কোনো বড়ো গাছ নেই তাহলে কিভাবে সম্ভব?......" বলেই আমি আমার মিনি ল্যাপটপটা খুলে ওই গাছটার সম্পর্কে তথ্য খুঁজতে লাগলাম। 

  এথেন বলল," এখন এই নতুন মেয়েটিকে নিয়ে কি করবো?.....একে হসপিটালে নিয়ে যাবো না কি গাছ কাটার লোকের কাছে নিয়ে যাব না কারেন্টের তার গুলো কাটার জন্য কারেন্টের কারখানায় নিয়ে যাবো?...."

 আমি বললাম," ওকে এখন কোথাও নিয়ে যেতে হবে না। আর ওই কম্পিউটারগুলোতেও হাত দিস না। ওই গাছটার সম্পর্কে অনেক কিছুই জানতে পেরেছি....তুই এটা দেখ...।"

 ইন্টারনেটে, কুড়ি বছর আগের ওই বড়ো গাছটা কাটা থেকে শুরু করে ওর শিকড়ের সাথে নতুন টেকনোলজি ইন্টারনেটের কেবল্ এর তার জড়িয়ে দেওয়ার সমস্ত ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া আছে। 


       আমি এথেনকে বললাম," চল এথেন, আমরা কলেজের পিছন দিকে গাছটা ঠিক কোন জায়গায় আছে দেখি, এছাড়া এই রহস্যের সমাধান করতে পারবো না।" বলে আমরা ওই রুম থেকে বেরিয়ে কলেজের পিছনের দিকটায় গিয়ে গাছটা খুজতে শুরু করি এবং দেখি একটু কোনের দিক ঘেষে একটা পাতাহীন শাখা-প্রশাখা হীন একটা গাছের মোটা গুঁড়ি দাঁড়িয়ে আছে আর যার শিকড়গুলোর কিছু কিছু অংশ কারেন্টের তারে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে মাটির ওপরে উঠে এসেছে, এছাড়াও কিছু মোটা শিকড় জড়িয়েও হাই ভোল্টেজ কারেন্টও পাশ হচ্ছে। ওই অবস্থায় গাছটার যে কতটা কষ্ট হচ্ছে তা কল্পনাও করা যায়না। গাছটার জায়গায় যদি আমি থাকতাম তাহলে যতটা যন্ত্রণা আর কষ্ট পেতাম তার চেয়েও বহু গুণ বেশি কষ্ট ওই মাতৃসম গাছটা পাচ্ছে বা বছরের পর বছর ধরে পেয়ে আসছে..... তার অনুমানও এই কিছু মানুষের মত নগন্য প্রানীরা করতে পারবে না। এগুলো ভাবতে ভাবতে আমার চোখ থেকে দু-ফোঁটা অশ্রু ঝরে পড়ল। 

 আমি নিজেকে সামলে নিয়ে এথেনকে বললাম," আমি এই বিপদ থেকে মুক্তির উপায় পেয়ে গেছি। তুই কলেজের ভিতরে গিয়ে কারেন্টের মেন্ সুইচটা অফ্ করে দিয়ে, স্টোর রুমে থেকে গাছ কাটার কিছু সরঞ্জাম নিয়ে আয়।" এথেন চলে গেল।


     কিছুক্ষন পর, মেন্ সুইচ অফ্ করে, এথেন এল গাছ কাটার কিছু সরঞ্জাম নিয়ে আর আমরা দুজনেই গাছের শিকড় আর ওই কারেন্টের তার গুলোকে কেটে আলাদা করতে লাগলাম। কম্পিউটার রুমের জানালা দিয়ে কতকগুলো মোটা শিকড় তড়তড় করে ঢুকে যাচ্ছে যেন কোনো অক্টোপাসের পা। সম্ভবত ওই গুলোই সব কিছু করছে এই গাছের নির্দেশে। ওই গুলোকে কাটতে শুরু করলাম।

   

    এর মধ্যেই ইরিকা আমাদের খুঁজতে খুঁজতে এখানে চলে এসেছে, ও এসবের কারণ জিজ্ঞাসা করায় ওকে সংক্ষেপে সব বললাম এবং জন্ কোথাই জানতে চাইলাম। ইরিকা বলল," আমি যখন কলেজে ঢুকে তোদের খুঁজছিলাম তখন জন্ ওই ডাউনলোড করতে দেওয়া ভিডিওটা নিতে কম্পিউটার রুমের দিকে গেছে।" শুনেই আমাদের একমুহুর্তের জন্য হাত-পা ঠান্ডা হয়ে এল। আমি আর এথেন চিৎকার করে ছুটলাম কম্পিউটার রুমের দিকে জন্ কে বাঁচাতে, হাতে থাকা গাছ কাটা সরঞ্জাম নিয়ে। পিছনে পিছনে ইরিকাও ছুটল।


    রুমের কাছাকাছি যেতেই বুঝলাম, মেন্ সুইচ অফ্ করার পরেও, কম্পিউটারসহ ওই সবুজ আলো...কোনোটাই বন্ধ হয়নি বরং অবস্থা আরো ভয়ংকর হয়ে উঠেছে, আরো কাছে যেতেই ওই রাক্ষস হয়ে ওঠা গাছের শিকড়গুলো আমাদের তেড়ে এল....আর আমরা ওগুলোকে হাতে থাকা সরঞ্জাম দিয়ে কেটে বাধা দিতে দিতে কম্পিউটার রুমে ঢুকলাম। কিন্তু ঢুকতেই ওই নতুন মেয়েটা ওর হেডফোনসহ ওই শিকড় ছিঁড়ে ফেলে, ভয় পেয়ে দৌড়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেল। কয়েকটা শিকড় আর তারগুলো কাটার ফলে হয়তো মেয়েটার সেন্স ফিরে এসেছে।.....তার পর আমরা সামনের দিকে তাকিয়ে ভয় পেয়ে অনেকটা পিছিয়ে এলাম। দেখি, গাছের ওই মোটা শিকড়গুলো, কারেন্টের কেবল্ তার আর ওই এন্ডোপ্লাজম-এক্টোপ্লাজম আর ক্লোরোফিল সম্মন্ধিত সবুজ রঙের জেলির মতো আঁঠালো পদার্থটা এক সাথে মিলে, জন্ কে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে নিয়েছে.. জন্ এর চোখ বন্ধ হয়ে গেছে ...সূক্ষ্ম শিকড়গুলো ওই সবুজ পদার্থটা জন্ এর শরীরের ফুটো করে, ইনজেক্ট করছে। আর জন্ আর্তনাদ করে উঠছে...... ওর শরীর ধীরে ধীরে সবুজ হয়ে উঠছে।......আর আমরা নিরুপায় হয়ে নিজের বন্ধুকে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যেতে দেখছি.....আমরা একটু এগিয়ে কিছু করতে গেলেই অন্য শিকড়গুলো তেড়ে আসছে আমাদের দিকে.....। 

    কিছুক্ষনের মধ্যে ওই অবস্থাতেই জন্ চোখ খুলল.....জন্ এর চোখ সম্পূর্ণ সবুজ হয়ে গেছে.... হঠাৎই এক অদ্ভুত গলার আওয়াজে জন্ বলতে শুরু করল," আমি তোদের বন্ধু জন্ কে মাধ্যম বানিয়ে কথা বলছি.....আর ওকে শুষে খাচ্ছি... আমি সেই কুড়ি বছর পুরনো মাতৃসম বৃহৎ গাছ। সেই কুড়ি বছর আগে তোদের মতোই মানুষেরা টেকনোলজি উন্নতির জন্যে আমাকে যন্ত্রণা দিয়ে কেটে ফেলেছে.....আর যখন কেটেই ফেলল তখন সম্পূর্ণ উপড়ে না ফেলেই জরাজীর্ণ অবস্থায় নতুন টেকনোলজির কারেন্টের তার জুড়ে আরো কষ্ট দিয়ে চলল....আমার থেকে জন্ম নেওয়া আমার ছোট ছোট সন্তানের, আমার চোখের সামনেই উপড়ে দিল। আমরা কথা বলতে পারি না....প্রতিবাদ করতে পারি না তাই তোরা মানুষরা কখনও আমাদের কষ্ট বুঝিস নি আর বুঝবিও না। তাই আমি যন্ত্রণায় দুঃখে কষ্টে কাতর হয়ে সেই দিনই প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, আমি এই টেকনোলজিকে হাতিয়ার করে, প্রত্যেকটা মানুষকে কঠোর যন্ত্রণা দিয়ে মেরে....মানব সভ্যতার ধ্বংস করবো। আর আজ তা সম্ভব হয়েছে....আর তা সম্ভব হয়েছে তোদের ভিডিও গান ডাউনলোডের নেশার জন্য......হাঃ হাঃ হাঃ...."


  এই সব শুনতে শুনতে নীচের দিক থেকে কিছু একটা আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করল, তাকিয়ে দেখি একটা শিকড় জন্ এর শরীর থেকে রক্ত শুষে নিয়ে কম্পিউটারের তারগুলোর ভিতরে প্রবেশ করছে। তারমানে ওই গাছ আমাদের নিজের কথার জালে ফাঁসিয়ে, একসাথে মেরে ফেলতে চাইছে। আর একমুহুর্ত সময় নষ্ট করা যাবে না। আমি এথেনকে ইশারা করে সামনে এগিয়ে আসতে বলে, গাছটার অজান্তে নিজে কিছুটা পিছনে চলে গেলাম এবং আমার মিনি ল্যাপটপ থেকে ট্রি-ভাইরাস সিকিউরিটি ট্রান্সফার অন্ করে, কাছে থাকা একটা কম্পিউটার রি-স্টার্ট করে ডি-কোডিং করতে শুরু করলাম এবং ডি-কোডিং কমপ্লিট হতেই ওই কম্পিউটার থেকে তারের মাধ্যমে একটা নীল রঙের আলোক রশ্মি ছড়িয়ে গেল প্রত্যেকটা তারের মধ্যে দিয়ে.......আর আমি চিৎকার করে ওই গাছের উদ্দেশ্য বললাম," কুড়ি বছর আগে কিছু শয়তান মানুষ তোমার মতো মাতৃসম গাছকে বিনাদোষে কষ্ট দিয়েছিল এটা সত্যি, তারা অনেক বড়ো ভুল করেছিল।

   কিন্তু কুড়ি বছর পর, সেই প্রতিশোধ নেবার জন্য এই নির্দোষ মানুষগুলোকে কষ্ট দিয়ে মারছো কেন?.....তুমিও সেই একই ভুল করছো, ওই লোভী লোকগুলোর মত। তুমি আমাদের মাতৃসম গাছ, তাই মা কখনও শাস্তি দিলে তার দোষী সন্তানের দেয় কিন্তু কখনোই নিজের নির্দোষ সন্তানদের শাস্তি দেয় না। তুমি যদি তোমাকে কষ্ট দেওয়ার জন্য প্রতিশোধ নিতেই চেয়েছিলে তাহলে কেন সেই সময়েই দুঃখ না করে, ওই শয়তান লোভী লোকগুলোকে মেরে ফেলো নি?...তাহলেই তোমার প্রতিশোধ সম্পূর্ণ হত।......কিন্তু, সেটা তুমি করোনি।....আমরা মানছি যে তোমার সাথে অনেক বড়ো অন্যায় হয়েছে.....তার জন্য তোমার দুঃখে আমরাও মন থেকে কষ্ট পেয়েছি। কিন্তু, আমরাও বিনা দোষে তোমার দেওয়া শাস্তি গ্রহন করতে পারবো না তাই এটা আমাদের করতেই হল....।" বলেই আমার মিনি ল্যাপটপ থেকে ট্রান্সফার হয়ে আসা ট্রি-ভাইরাস সিকিউরিটির সুইচটা কম্পিউটারে অন্ করে দিলাম। আর সবুজ পদার্থটা ওই এন্ট্রি-ভাইরাসের নীল আলোর ধাক্কাটা সহ্য করতে পারল না আর সঙ্গে সঙ্গেই ওই সবুজ পদার্থটা সবুজ তরলে পরিনত হয়ে ওই তারগুলো থেকে বেরিয়ে মাটিতে পড়ে মোটা শিকড়গুলোর দিকে যেতে লাগলো। কিন্তু এটা হতে দেওয়া যাবে না তাহলেই ওরা কম্পিউটারগুলো থেকে চার্জ সঞ্চয় করে আরো শক্তিশালী হয়ে আমাদের আক্রমণ করবে। তাই আমার কাছে থাকা সেই আগাছা নাশক রাসায়নিক পদার্থটা, স্প্রে-বোতলসহ নিয়ে সামনের দিকে লাফিয়ে পড়লাম আর যতটা জোরে সম্ভব ওই চলন্ত সবুজ তরলের উপর ওই রাসায়নিকটা স্প্রে করতে থাকলাম আর কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই সব সবুজ পদার্থের তরলগুলো নিস্তেজ হয়ে কালো হয়ে যেতে শুরু করল। 


      শক্তি শেষ হয়ে যাওয়ার ফলে, গাছটাও আর্তনাদ করতে শুরু করল.....এবং জন্ এর মধ্যে দিয়ে কাঁদতে শুরু করল আর বলতে লাগল," আমি সত্যিই অনেক ভুল করে ফেলেছি এন্ড্রোমিডা, আমায় ক্ষমা কর তুই ....আর বাকিরাও আমায় ক্ষমা করে দাও..... মুক্তি না পাওয়ার যন্ত্রণায়, কষ্টে.....আমি প্রতিশোধের নেশায় স্বার্থপর হয়ে,নির্দোষ আর দোষীর মধ্যে পার্থক্য করতে ভুলে গিয়েছিলাম......আর ভুলে গিয়েছিলাম আমি একজন মা ..........যে নির্দোষদের আমি মারতে যাচ্ছি তারা আমার ছায়ায় লালিত পালিত হয়েছে। আমি পারলাম না দোষীদের শাস্তি দিতে..... কিন্তু এই লোভী মানুষেরা টাকার লোভে, টেকনোলজির উন্নতি ঘটাতে অনেক অনেক গাছ কেটে বনভূমি ধ্বংস করছে তারপর সেই টেকনোলজির দূর-ব্যাবহার করে আরো দুষন ঘটিয়ে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে। এইসব করে এরা তোমাদের মতো নির্দোষদেরও মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। একদিন কোনো গাছ থাকবে না....আর কোনো গাছ আমার মতো করে প্রতিশোধ নিতেও আসবে না....কিন্তু তোমরা গাছের অনুপস্থিতিতে অক্সিজেনের অভাবে, খাদ্যের অভাবে মারা যাবে....মানবসহ সমগ্র প্রানীজগতে ধ্বংস ঘটবে।...আর তখন অজান্তেই আমাদের মতো সমস্ত গাছদের যন্ত্রণার চরমতম প্রতিশোধ সম্পূর্ণ হবে। এর জন্য শুধু মাত্র মানুষেরাই দায়ী থাকবে।যদি পারো এইসবকে আটকাও .......।"

  "আর যদি মনে করো, আমার সাথে অনেক অন্যায় হয়েছে....আমার যন্ত্রণায় তোমরা কষ্ট পেয়েছ....তাহলে তোমাদের এই গাছ মাকে মাটি থেকে সম্পূর্ণ শিকড়সহ উপড়ে ফেলে এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দাও.... আর পারলে তারপর আমার একটা অংশকে মাটিতে পুঁতে জল দিও....দেখবে আমি আবার আমার ডালপালা মেলে জেগে উঠবো ...... আমার ছায়ায় তোমরা আবার লালিত পালিত হবে..... পরিবেশ দূষণের এই ভয়ানক বিপদ থেকে আমি তোমাদের রক্ষা করবো।" 

  এবার আমরা সমস্বরে বললাম," তোমার যন্ত্রণা থেকে আমরা তোমাকে মুক্ত করবো গাছমাতা এবং নতুন করে তোমায় রোপন করবো।"

   আমাদের কথা শুনে গাছ খুব খুশি হল আর তারপরেই ওই জন্ কে জড়ানো শিকড়গুলো ধীরে ধীরে আলগা হয়ে জন্ কে ছেড়ে দিল এবং রুমের জানালা দিয়ে নিজের জায়গায় ফিরে যেতে লাগল।

 অন্যদিকে, এথেন আর ইরিকা তাড়াতাড়ি এগিয়ে গিয়ে জন্ কে ধরে ফেলল। জন্ এর অবস্থা খুব খারাপ.... ওকে এখুনি হসপিটালে নিয়ে যেতে হবে।

  কিন্তু এখনো ও কিছুটা সবুজ হয়ে আছে তাই ওই আগাছানাশকটা জন্ এর শরীরের সবুজ হয়ে থাকা অংশগুলোতে স্প্রে করলাম আর ধীরে ধীরে ওই সবুজ পদার্থটা কালো হয়ে ওর শরীরের রোমকূপ দিয়ে বেরিয়ে আসতে থাকল। কিছুক্ষণ পর জন্ চোখ খুলল ...কিন্তু ও এখনও পুরোপুরি সুস্থ নয় তাই ওকে হসপিটালে নিয়ে যাওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ালাম আর আমরা সবাই মিলে ওকে ধরে নিয়ে রুমের বাইরে এলাম। কিন্তু সামনেই দেখি কিছুটা দূরে ওই নতুন মেয়েটিও অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে, সম্ভবত মেয়েটি দৌড়ে গিয়েও আর যেতে পারে নি। যাইহোক, আমরা দুজনকেই সঙ্গে নিয়েই হসপিটালে গেলাম।


     পরদিন খুব সকালে আমি, এথেন আর ইরিকা কলেজে চলে এসেছি..... কেউ কলেজে আসার আগে কম্পিউটার রুমটাকে ঠিকঠাক করতে হবে তারপর গাছটার জন্য অনেক কাজ আছে।

জন্ আর ওই নতুন মেয়েটা দুজনেই সুস্থ আছে, কিন্তু ওরা কিছু দিন হসপিটালে থাকবে রেস্টের জন্য। আর হ্যা, এই সব ঘটনার পর ওই নতুন মেয়েটিও আমাদের বন্ধু হয়ে গেছে, ওর নাম রাহিনা। এইসবের মধ্যে আমাদের প্রায় সব কাজ কমপ্লিট, কয়েকজন গাছ কাটার লোকজন দিয়ে সম্পূর্ণ গাছটাও উপড়ে ফেলেছি। কুড়ি বছর পুরনো গাছমাতাকে তার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে পেরেছি। 

  কিন্তু এখনও আমাদের একটা কাজ বাকি আছে ওই গাছমাতাকে সসম্মানে আমাদের কলেজে রোপন করা। আর সেই কাজটাও আমরা শুরু করে দিয়েছি....


      আমরা আমাদের কলেজের একদম মাঝখানে গাছমাতাকে সসম্মানে রোপন করেছি....যাতে গাছমাতার ইচ্ছা অনুযায়ী, তাঁর ছায়ায় যেন, আমাদের মত তাঁর সমস্ত সন্তান লালিত পালিত হয়। এরপর আমরা সবাই মিলে গাছে জল দিচ্ছি তখনই আমাদের প্রিন্সিপাল স্যার কলেজে ঢুকলেন এবং আমাদের উদ্দেশ্য মন্তব্য করলেন," এই ইয়ং জেনারেশনের ছেলেমেয়েগুলো শেষ পর্যন্ত মোবাইল, ল্যাপটপ আর ইন্টারনেট ছেড়ে দিয়ে গাছ লাগাচ্ছে। মনে হচ্ছে সত্যিই এরা অনেক উন্নতি করবে।" বলতে বলতে প্রিন্সিপাল স্যার নিজের রুমের দিকে চলে গেলেন। আর আমরা ওই ছোট্ট নতুন রোপিত গাছমাতার অংশকে স্পর্শ করে নিজেদের মধ্যে আনন্দে, গর্বের হাসি হেসে উঠলাম।।


...... সমাপ্ত ......



Rate this content
Log in

More bengali story from Suravi Roy

Similar bengali story from Abstract