একটু বিশ্রাম
একটু বিশ্রাম
প্রায় সময় ছেলেদের নিয়ে তাদের প্রিয় মানুষের একটা অভিযোগ থাকে।
“সময় দেয় না”
প্রেমের সময় ছেলেটা কোন এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ে। ক্লাস ফাঁকি দিয়ে, রাত জেগে আপনার জন্য সময় বের করে। সে সময়টা আপনার ভালো লাগে। মনে হয় তার মত করে আপনাকে নিয়ে কেউ ভাববে না।
ছেলেটা যখন আরেকটু বড় হয় আপনাদের প্রেম তখন আরো গভীর। বিয়েটা করতে হবে। ছেলেটার পড়াশোনা শেষ হয়, চাকুরীর জন্য দৌড় শুরু হয়। একটা সময় চাকুরী জোটে। ছেলেটার ব্যস্ততা বাড়ে। যতটা দরকার তার চেয়ে বেশী কাজ করতে শুরু করে সে। মাথায় ঘুরতে থাকে আপনার করা আপনাদের বিয়ের প্ল্যান। শাড়ীটা এখান থেকে কিনতে হবে, গহনাটা একটু ভারী হতে হবে। বিয়ের অনুষ্ঠানটা করতে হবে ধুমধাম করে। টাকা লাগবে তার। আরো ব্যস্ত হয়ে পড়ে ছেলেটা, আপনি ভাবেন ভালোবাসা আগের মত নাই।
বিয়ে হয়। হানিমুন হয়। ছেলেটার ব্যাংক একাউন্ট ফাঁকা। এবার ছেলেটা আর ছেলে নেই, তার একটা সংসার আছে। এর মাঝে ছেলের মা’র আবদার শুরু নাতির মুখ কবে দেখব? ছেলেটা ভাবতে থাকে - "বাচ্চা নেয়ার আগে কিছু টাকা জমাতে হবে।" কিন্তু চাকুরী দিয়ে এত কিছু সম্ভব না। নতুন আইডিয়া খুঁজতে থাকে সে। চাকুরীর পাশাপাশি আর কি করা যায়? ছেলেটার মাথায় ভাবনা চলতে থাকে, আপনি ভাবেন তার মাথায় অন্য কেঊ। ছেলেটা ছুটছে আপনাদের জন্য, আর আপনি ভাবছেন তার কাছে আপনি পুরনো হয়ে গেছেন।
বাচ্চা আসে। বাচ্চার খাবার, খেলনা, চিকিৎসা সব কিছু নতুন একটা খরচ। খরচ বেড়েছে কিন্তু চাকুরীর পাশাপাশি দাঁড় করানো ব্যবসাটা এখনো বাড়ে নি।
বাচ্চা বড় হতে থাকে, সাথে তার বাবাও। বাচ্চারও একই অভিযোগ বাবা সময় দেয় না।
যাইহোক শুরু হয় নতুন চ্যাপ্টার । ছেলেটার বাবা মা’র বড় অসুখ। বাবা মা’র ট্রিটমেন্ট করাতে গিয়ে ছেলেটাকে নিতে হয় ব্যাংক লোন। সেই লোন শোধ করতে করতে ছেলেটার জীবন থেকে কত কিছু হারিয়ে যায় সেটা আপনি কিছুটা জানেন বেশীরভাগই জানেন না।
কিন্তু আপনাদের কোন কিছুর কমতি রাখে নি। বাবা মার চিকিৎসা সেরে ছেলেটার নতুন মিশন- নিজের ছেলেকে ভালো জায়গায় পড়াতে হবে। সম্ভব হলে বিদেশী কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে।
চলতে থাকে।
ছেলেটা ছেলে থেকে বুড়ো হয়।
জানলা কিনবা বারান্দা থেকে আকাশ দেখে।
আপনাদের অভিযোগ “ সময় দেয় না”
ছেলেটা সত্যি কি সময় পেয়েছিল?
আপনাদের দেয়ার জন্য না হোক
নিজে একটু বিশ্রাম নেয়ার?
