বৃষ্টিভেজা একটা দিন
বৃষ্টিভেজা একটা দিন
আজকে সকালে আমার ঘুমটা ভাঙলো "টাপুর টুপুর বৃষ্টি নূপুর জলছবির গায়ে........" গানটা রেডিও থেকে ভেসে এলো কানে আর তার সাথে জানালা দিয়ে আসা জলের ঝাপটা দিয়ে। জানলার পর্দা সরিয়ে দেখি আকাশের মুখ ভার আর তার সাথে রিমঝিম বৃষ্টি পড়ছে।
ঘুমটা ভাঙলেই আমি জানালার ধারে বসে থাকি বেশ কিছুক্ষণ, হ্যাঁ মা বলে যে বিছানাটা তাড়াতাড়ি উঠে গুছিয়ে নে তাও আমার এই অভ্যেসটা আমি কাটাতে পারিনি। ব্রাশ করে গরম গরম চা আর বিস্কুটটা নিয়ে বসলাম সেই জানালার ধারে, অন্যান্য দিনের তুলনায় আজকের দিনটা একটু আলাদা। কারণ আজকে অন্যসব দিনের মতো অফিস যাওয়ার তাড়া নেই সকালে উঠেই তাড়াহুড়ো করা প্রয়োজন নেই কারণ আজকে রবিবার আর সারা সপ্তাহ কাজের পর আজকের দিনটা শুধু শান্তি করে খাওয়া দাওয়া করা আর শুয়ে থাকা। হ্যাঁ শুধু যে খাওয়া দাওয়া করা বা শুয়ে থাকা তা কিন্তু না ঘরের কাজও করি তবে আজকে যেনো আর কিছুই করতে ভালো লাগছে না। আসলে কারণটা খুব স্পষ্ট, ব্যস্ততার মাঝে এই মেঘলা আকাশ, সোঁদা মাটির গন্ধ, বৃষ্টিতে ভেজা এইগুলোকে দেখতে অনুভব করতে ভুলে যাই।
অনেকদিন পর আবার সেই ছোটবেলার দিনগুলোতে ফিরে যেতে ইচ্ছা করছে। সেই স্কুল থেকে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে, রাস্তায় জমে থাকা জল ঘাঁটতে ঘাঁটতে বাড়ি ফেরা বন্ধুদের সাথে। বাড়ি ফিরেই সেই জামা জুতো সব ভিজে গেছে দেখে মা এর বকুনি আর মায়ের কাছে আবদার সব জামা জুতো ভিজে থাকার জন্য পরের দিন আর স্কুল যাবো না। সন্ধ্যে বেলা পাড়ার দোকান থেকে আলুর চপ বেগুনি বা মায়ের হাত এর পকোরা ব্যাপারটা অসাধারন ছিল। আর বিকেলবেলা সব বন্ধুরা মিলে আমমাখা, পেয়ারামাখা খাওয়া ছিল আর একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ। রাস্তায় জমে থাকা ওই জলে সবাই মিলে নৌকা ভাসানো আর কার নৌকো কতদূর যায় সেটার একটা প্রতিযোগিতা করা। একটু বড়ো হওয়ার পর বৃষ্টির দিনে ঘরে বসে ডায়েরি লেখা আর Sunday Suspense শোনা ছিল আমার অন্যতম প্রিয় একটা কাজ। আসলে সেই ছোটবেলার দিনগুলো আর কখনো ফিরে পাবো না তাই সেগুলোকে স্মৃতির পাতায় যত্ন করে লিখে রাখি।
এই যে এইসব লিখতে লিখতেই নাকে আসছে গরম গরম খিচুড়ি আর ডিমভাজার গন্ধ। যাই বলি, যত খাবারই খাই না কেনো এই বৃষ্টির দিনে খিচুড়ি ডিমভাজার যে combination টা সেটা সেরা।
যাইহোক আমি আমার বৃষ্টিভেজা দিনগুলো এইভাবেই কাটাই সেটা শুধু তোমাদের সকলের সাথে share করলাম।
