Best summer trip for children is with a good book! Click & use coupon code SUMM100 for Rs.100 off on StoryMirror children books.
Best summer trip for children is with a good book! Click & use coupon code SUMM100 for Rs.100 off on StoryMirror children books.

Debanshu Bera

Fantasy


2  

Debanshu Bera

Fantasy


একটা রাতের বাস্তব গল্প

একটা রাতের বাস্তব গল্প

4 mins 963 4 mins 963

'আমার খুব হাটঁতে ইচ্ছে করছে। অনেক দূর পথ! রাতের আধাঁরের বুনো নিস্তব্ধতা ভেঙ্গে অসমাপ্ত সময় পর্যন্ত। '

'এত রাতে? তুমি কি পাগল?'

'সত্যি বলছি! হয়ত বা পাগলামী। কিন্তু, সত্যি। মানুষের কি মাঝেমাঝে এমন পাগলামী করতে ইচ্ছে করে না? তোমার কখনো ইচ্ছে করেনি? করে না কখনো?' 

'ওগুলো তে জেনারেলাইজড কথা। মানুষের কতকিছু করতে ইচ্ছে করতে পারে! তবে সব ইচ্ছের পেছনে কারণ থাকে। কারণ ছাড়া কোনোকিছু হয়না। পাগলামীর ও কারণ থাকে। কেউ সত্যি সত্যি পাগল বলে পাগলামী করে। কেউ কষ্টে, কেউ আনন্দে, কেউ কোনো কিছু করার না থাকলে দিশেহারা হয়ে। তবে আমি পাগলামী বলে কিছুকে বিশ্বাস করতে রাজী নই। সবকিছুরই উদ্দেশ্য থাকে। আর যেটার পেছনে উদ্দেশ্য থাকে সেটা কি পাগলামী হতে পারে? ' অনু একটানে বলে যাচ্ছিল কথাগুলো।


সত্যিই সেদিন আমার হাটঁতে ইচ্ছে করছিলো। একাকী নির্জনতায়। অনুর হাতে হাত রেখে। কথাটা কিভাবে শুরু করবো বুঝতে পারছিলাম না। তাই ভণিতা করিনি। বুঝতে পারছিলাম না ঐ মধ্য রাতে একটা মেয়েকে এভাবে কথাটা বলার প্রতিউত্তর কি হতে পারে। যার সাথে হৃদয়ের কোনো ঘনিষ্ঠতা নেই, কেবল ক্লাসের ঘনিষ্ঠতাই যে সম্পর্কের ভিত্তি। মনের মধ্যে একরকম দ্বিধা নিয়েই শুরু করলাম। তবে শুরুটা ওভাবে ছিলো না। অনেকটা অস্বস্তি নিয়ে শুরু করেছিলাম। ওপাশে ছিলো অবাক হওয়া কণ্ঠ। কিছুটা বিস্ময় এবং ভদ্রতায় জড়ানো অতি ফরমাল কথামালা। অস্বস্তির রেশটা কাটতেই ইচ্ছের কথাটা তুলেছিলাম। এপাশ থেকেই বুঝতে পারছিলাম ওপাশে অনুর বিস্ময়াবনত কন্ঠে অনেকগুলো প্রশ্নবোধক চিহ্ন। 


'আজ কি আকাশে চাঁদ উঠেছে? তোমার জানালা দিয়ে কি আকাশ দেখা যায়? আকাশে চাঁদ থাকুক আর না থাকুক, আমি হাঁটবো। তোমাকে সাথে নিয়ে। চলো না হাঁটি! প্লীজ! অনেক ইচ্ছে করছে।'


সকল দ্বিধা, সংকোচ কাটিয়ে এত রাতে ফোনটা যেহেতু দিয়েই ফেললাম ইচ্ছের কথাটা বলতে দ্বিধা করিনি। এ কেবল ইচ্ছের কথা বলা নয়। ভালোলাগার প্রথম প্রকাশ। জানিনা এমন উদ্ভট কথা দিয়ে কেউ প্রথম ভালোলাগার প্রকাশ ঘটানোর উদ্ভট চিন্তা কখনো করেছে কিনা। আমার মত উদ্ভট মানুষের পক্ষেই তা সম্ভব। 


ফোনের ওপাশে স্তব্ধতা। 

'হ্যালো! শুনতে পাচ্ছো?

'হ্যাঁ পাচ্ছি। বলো।' বেশ খানিকক্ষণ পরে অনুর শান্ত উত্তর। 

'আমি কিন্তু বলেছি হাটঁবো।'

'হ্যাঁ, বলেছো তো। আমারও এভাবে অনেক রাতে নিশুতি নির্জনতায় মাঝে মাঝে হাঁটতে ইচ্ছে করে। এটা হতেই পারে।' 

অনু সাবলীলভাবে উত্তর দেয়ার চেষ্টা করছে। বুঝতে পারছি ও কিছুটা অস্বস্তি বোধ করছে। কিন্তু এটা বুঝতে না দিয়ে পরিস্থিতি আয়ত্তে নেয়ার চেষ্টা করছে। 


অনুর সাথে এভাবে এত কাছাকাছি টাইপের কথা বলার মত কোনো সম্পর্ক আমাদের মাঝে নেই। তাই সে হয়ত ধরে নিয়েছে কোথাও কোনো গড়বড় আছে। আমি কোনোভাবে ডিস্টার্বড। অথবা অন্য কোনো সমস্যা আছে। হয়ত বোঝার চেষ্টা করছে সেটা কি। আমাদের সম্পর্কের মধ্যে পরষ্পরের প্রতি সম্মানের একটা জায়গা আছে। সেখানটায় সে আঘাত করতে চাচ্ছেনা। তাই এতটা ভদ্র, শান্ত স্বরে কথা বলছে। না হয় অনু যে ধরণের মেয়ে এই রাতদুপুরে এইসব উদ্ভট কথার জবাবে এতটা শান্ত থাকার কথা নয়। আমার স্থানে অন্য কেউ হলে হয়ত সেটা হতোনা। যা-ই হোক আমাদের সম্পর্কের সম্মানের জায়গাটা আমার জন্য বেশ কাজ দিয়ে দিলো। আমি ও সম্পর্কের মাত্রাটাকে সঠিকভাবেই কাজে লাগালাম।


'তাহলে আমার আর হাঁটা হলোনা তোমার সাথে। আমার ইচ্ছেটা অপূর্ণ রয়ে গেলো। '


'সবসময় সব ইচ্ছে পূরণ হতে হয়না । ইন ফ্যাক্ট, সব ইচ্ছে সবসময় পূরণ হয় ও না। এটাই জীবন। জীবনের স্বাভাবিকতা। তুমি খোঁজ 

নিয়ে দেখবেন ইচ্ছে পূরণ না হওয়ার গল্প নেই এমন মানুষ একটিও পাবেন না।'


'হুম! তবে আমার মত দুখী মানুষ কিংবা পোড় খাওয়া মানুষের গল্পগুলো একটু অন্যরকম হয় আর কি! বলতে পারো 'কষ্টভোলার গল্প'।'


'হাহাহাহাহা! খুব সুন্দর বললেন তো! 'কষ্টভোলার গল্প'!!" 


অনেকক্ষণ পর অনুর চিরচেনা হাসি। ওর হাসি'টা আমার জন্য খুব প্রত্যাশিত একটা কিছু। নাহ্, ওর হাসিতে কোনো মাদকতা নেই। হাসলে অনুকে পরীর মত লাগে এরকম কিছু ও নয়। ঐ হাসিতে অন্যরকম একটা শক্তি আছে। অনু হাসলে মনে হয় চারপাশের সবকিছু হাসছে। ও যখন হাসে না তখন চারপাশের সবকিছু স্তব্ধ হয়ে থাকে। ও সবকিছুকে হাসাতে পারে। 


অনুর সাথে কথা বলছি প্রায় মিনিট বিশেক হয়ে চলল। তার সাথেই কেন হাঁটতে ইচ্ছে করছে, সে-ই কেন এত রাতে হঠাৎ আমার গল্প করার মানুষ হয়ে গেলো এধরণের কোনো প্রশ্নই অনু করছে না। খুব কৌশলে কথোপকথনের গভীরতাকে সে এড়িয়ে যেতে চাইছে। এটা একদিকে ভালো। কারণ, এর অর্থ হচ্ছে এত রাতে তাকে ফোন দেয়ার উদ্দেশ্য এবং আমার ভেতরের ভালোলাগার অনুভূতিটা সে কিছুটা বুঝতে পেরেছে। তাই মূল প্রসঙ্গ থেকে পালানোর চেষ্টা। ও এতটুকু বুঝলেই হবে। এর চেয়ে বেশি কিছু এখন আমার চাওয়া নেই। 


হঠাৎ বাইরে ঝুমঝুম শব্দ। জানালার পর্দাটা সরিয়ে বাইরে তাকালাম। আচমকা একটা শীতল হাওয়া এসে পুরো শরীর কাঁপিয়ে দিলো। এই শীতের বিকেলে বৃষ্টি! বেশ লাগছে। কিন্তু, এই ভালোলাগাটার চেয়ে এতক্ষণের স্মৃতি রোমন্থন ঢেঁর ভালো ছিলো। ওটা ছিলো আমাদের কাছাকাছি আসার প্রথম কথোপকথন। স্মৃতির পাতায় অনুকে দেখতে ভালোই লাগছিলো। কতদিন অনুকে এভাবে অনুভব করা হয়ে উঠে নি! 


অনুভব গুলো কি এভাবে বুড়িয়ে যায়! সেদিনের সেই অনুভূতি কেমন প্রখর ছিলো! এমন হালকা কথোপকথনে ও কতটা প্রখর অনুভূতি ছিলো। কতটা ভালোলাগা! কতটা আবিষ্টতা! 'সেদিন' আর 'আজকের' অনুভবের পার্থক্যটা আমার নিজের কাছেই যেখানে এতটা প্রখর হয়ে উঠেছে, অনুর কাছে তো অবশ্যই। যার জীবনবোধ এতটা প্রখর। যে মুখ দেখেই জেনে যায় অনুভবের গভীরতা। যার কাছে স্পর্শহীন অনুভব স্পর্শের চেয়েও মূর্ত হয়ে উঠে কোনো কোনো সময়। তার কাছে তো অবশ্যই.....!


অনুর অভিমানী মুখটা চোখের সামনে ভেসে উঠেছে। ওই অভিমানী চোখে আমার বদলে যাওয়া চেহারাটা দেখতে পাচ্ছি স্পষ্ট।।


Rate this content
Log in

More bengali story from Debanshu Bera

Similar bengali story from Fantasy