Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

Himansu Chaudhuri

Tragedy


2  

Himansu Chaudhuri

Tragedy


এ মায়া প্রপঞ্চময়

এ মায়া প্রপঞ্চময়

2 mins 1.3K 2 mins 1.3K

নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোটার সামনে এসে থমকে দাঁড়ালেন জীবনপ্রভাতবাবু। পাঁচটা বাঁশ পাশাপাশি ফেলে তৈরি করা। ডানদিকে রেলিঙ, ধরার জন্য, বাঁদিক খালি। পাকা সাঁকো আছে ডানদিকে এক কিমি দূরে। এটা আগেও বহুবার পেরিয়ে গেছেন। তখন এত নড়বড়ে বোধহয় ছিলোনা। নীচে কালো নোংরা জল, কোন স্রোত আছে কিনা ঠাহর হয়না। কচুরিপানার ঠেলায় কিছুই দেখা যায়না।

ওপারে বেলের মাঠ। হাইওয়ের পাশে অনাদির চায়ের দোকান। দু'কাপ নিয়ে একঘণ্টা পার করতে না করতেই মোটরসাইকেল ফটফট করতে করতে অনন্ত আসে।

"বাবা বাড়ি চলো।"

এ'দিগরে ওইরকম বাইক একটাই । এক মাইল দূর থেকে জানান দেয়।

এবারে আসবে কি? অন্যান্যবার বেরিয়ে আসার সময়ই অনন্ত বাধা দেয়। বলে,

"বাবা যেওনা, বসো।"

বলে বৌকে মৃদু ধমক দেয়। জীবনপ্রভাত তাও রাগ দেখিয়ে বেরিয়ে আসেন। এবারে বলেছে,

"তুমি মরতে পারোনা? তিনকাল গিয়ে এককালে ঠেকেছে, এখনো এত নোলা কিসের?" 


নাতনীর দুধ রাখা ছিলো জামবাটিতে, মোটা সর পড়েছে দেখে লোভ হলো। নাতনী সর খায়না, তুলে উঠানে ফেলে দিয়ে কাককে খাওয়ায়। আশেপাশে কেউ নেই দেখে জীবনপ্রভাত সরটা তুলে সবে মুখে দিয়েছেন, কোথা থেকে জানি রে রে করে তেড়ে এলো তরলা। মুখে বাণী,

"ছ্যা ছ্যা ছ্যা!! শেষতক নাতনীর খাবার চুরি করছেন, আপনার লজ্জাও করেনা?"

বমাল ধরা পড়ে জীবনপ্রভাতও অপ্রস্তুতের একশেষ! অথচ দেখো, নষ্টই তো হচ্ছিলো জিনিসটা।


ভয় পাচ্ছেন এবারে জীবনপ্রভাত। বুক ধড়ফড় করছে। চড়া রোদ। হাঁটু কাঁপছে। সাঁকোটা যেন তার লক্ষণরেখা। পেরিয়ে গেলে আর ফিরতে পারবেন না। কাঁপতে কাঁপতে বসে পড়লেন সাঁকোর পাশে।


পিছন থেকে অনন্তর সাইলেন্সার ফাটা বাইকের ফটফট শোনা গেলো। আয় বাবা, আয়, নিয়ে যা তোর বাবাকে, আর কোনদিন এরকম করবোনা রে বাপ আমার। তোকে হাতে ধরে হাঁটা শিখিয়েছি রে বাপ আমার। নিজের মুখের খাবারটা তোর মুখে গুঁজে দিয়েছি বাপধন। আয় বাবা, বুড়ো মানুষটার উপরে রাগ করিস না বাবা। এতক্ষণে আবার পায়ে বেশ জোর পান জীবনপ্রভাত। বাইকের আওয়াজের সাথে তাল মিলিয়ে টকটক করে সাঁকো পেরোতে শুরু করেন। মাঝখান অবধি গেছেন কি যাননি, বাইকের শব্দ ঘুরে গেল বাঁদিকে কমলপুরের পানে, তারপরে ধীরে ধীরে মৃদু হতে হতে মিলিয়ে গেলো।


জীবনপ্রভাতের গায়ের জোরও মিলিয়ে গেলো তার সাথে। ল্যাগব্যাগ করতে করতে বসে পড়লেন বাঁশের সাঁকোর উপরে। তারপরে অজ্ঞান হয়ে সেখান থেকে গড়িয়ে পাঁচফুট নীচে পানাভর্তি নোংরা জলে টুপ করে ডুবে গেলেন।


Rate this content
Log in

More bengali story from Himansu Chaudhuri

Similar bengali story from Tragedy