Click Here. Romance Combo up for Grabs to Read while it Rains!
Click Here. Romance Combo up for Grabs to Read while it Rains!

Chiranjit Saha

Classics


2.5  

Chiranjit Saha

Classics


দশমী

দশমী

2 mins 580 2 mins 580

কাজের বাড়ি থেকে পুজোয় পাওয়া নতুন শাড়িটা পরে , রক্তজবা সিঁদুরে সিঁথি রাঙিয়ে , দুর্গাবরণের থালাটা যত্নে সাজিয়ে নিল মালতী । শারদীয়াটা ওর কাছে খুব একটা মধুর নয় । প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ঢাক নিয়ে স্বামী বাদল গেছে কৃষ্ণনগর হাতারপাড়া বারোয়ারিতে , ফিরতে ফিরতে সেই দশমীর রাত । তাই গোটা পুজোটা একরকম একাকী, গৃহবন্দি দশাতেই কেটেছে মালতীর । তবে আজ দশমীতে বরণডালা হাতে পাড়ার মণ্ডপমুখী সে । রাতে স্বামীর ফেরার কথা ; মনে তাই বাড়তি আনন্দ ,হৃদয়ের জমাট বুদবুদগুলো যেন ভেসে উঠতে চাইছে !


ভক্তি ভরে মাকে প্রণাম করে মাতৃমূর্তিতে সিঁদুর ছোঁয়াতেই লাল একটা ম্যাটাডোর এসে থামল মণ্ডপের সামনে । উপস্থিত হাতারপাড়া বারোয়ারির সভাপতি উমাপদ সেন এবং সাদা কাপড়ে ঢাকা একটি নিথর দেহ । নবমীর রাতে মণ্ডপে ঢাক বাজাতে বাজাতে হঠাৎই স্ট্রোকের শিকার বাদল ঢাকি । মৃতদেহ ও ডেথ সর্টিফিকেট নিয়ে কাশিপুরে হাজির তাই উমাপদবাবু। স্বামীর মৃত্যুসংবাদ কানে যেতে না যেতেই মালতীর হাতের বরণডালা লাভা উদগিরণের মতো ছিটকে পড়ল উঠোনে । সিঁদুরে লাল হয়ে গেছে দুর্গা মূর্তি । কোনো এক অচিন কান্নার সুর বিজয়ার বিষাদকেও যেন মলিন করে দিয়েছে। বছর তিনেক আগে বাড়ির অমতেই বাদলের হাত ধরে ঘর ছেড়েছিল মালতী, কথা দিয়েছিল আজীবন পাশে থাকার । কিন্তু আজ মালতীর পাশ থেকে বাদল সরিয়ে নিল নিজেকে । সদ্য বিধবা মেয়েটি দিগ্বিদিকজ্ঞানশূন্য হয়ে হঠাৎই ঝাঁপ দিল মণ্ডপের পাশের পুকুরে ।





কাশিপুরের একমাত্র বারোয়ারি এখন ভাসানের পথে । বাদলের চিতার আগুনও দাউদাউ করে জ্বলছে । শেষকৃত্যের সমস্ত আয়োজন করে গেছেন উমাপদবাবু নিজেই । আপন মনে কি যেন বিড়বিড় করে চলেছে মালতী ! জল থেকে তুলে পাড়ার ছেলেরাই ওকে ভর্তি করে স্থানীয় হাসপাতালে । পরশু লক্ষ্মীপুজো । ডাক্তারবাবু বলেছেন, " মালতী প্রেগন্যান্ট । " গর্ভে ওর বেড়ে উঠছে বাপ-মরা এক লক্ষ্মীমাতা ।


Rate this content
Log in

More bengali story from Chiranjit Saha

Similar bengali story from Classics