রূপকথা
রূপকথা
একদিন এক দুপুর বেলায় ;
হারিয়ে যাওয়া বন্ধু পেয়ে ,
মত্ত হলাম শিশুর খেলায় ;
বৃষ্টি এল ঝমঝমিয়ে।
শুকনো পাতা ভিজল যখন;
গায়ে তার বেঘোর জ্বর ,
বৃষ্টি হেসে বলল তখন ;
যা শুকিয়ে পাতার ঘর ।
দেখেছি আমি আকাশ জুড়ে
যাচ্ছে বয়ে মেঘের ভেলা,
দেখেছি আমি চাদর মুড়ে ;
রাশি রাশি বরফ খেলা ।
বৃষ্টি এসে বললে আমায় ;
ফাঁকামাঠে একলা যে তুই !
সবাই যখন গরম জামায়
গা ঢেকেছে কাতলা ও রুই ।
লেখা পড়া জানিস যদি
লেখ না কিছু আমায় নিয়ে!
ঝড় বাদলে ভরলে নদী
কলমটা তোর যায় শুকিয়ে !
হিংসে করে আমি বলি -
যে হাতে রয় কালি-কলম ,
পেরিয়ে যায় আঁধার গলি ;
দু'চোখে তার কাব্য মলম ।
মন নয় যেন ময়নামতি,
হিরামনের হীরের ডানা,
বর্ষা রে তোর এ দুর্গতি,
মন ভেজানো আছে জানা?
রাগে থরথর বৃষ্টি কাঁপে,
ধমক দিয়ে জোর গলাতে,
নাক ডুবডুব শরীর মাপে ;
বাধা দিয়ে পথ চলাতে ।
বন্ধু অসাড় জ্বরের ঘোরে
কেমন করে কবিতা লিখি !
পাতায় পাতায় ছন্দ ভরে,
মেঘ বালিকার কাণ্ড দেখি ।
বর্ষা বলে আসব যবে
সপরিবার তোমার দ্বারে,
বৃষ্টি তখন ঠিকই র'বে,
কাজল মেঘের গগন পারে।
ভিজবে বাতাস ভিজবে মাটি,
ভিজবে বনের বৃক্ষলতা,
তোমার মনের খুঁটিনাটি
করবে যাচাই রূপের কথা ।
ঈষৎ বাঁকা অধরে তার
অস্তগামী কপট হাসি,
নীলকন্ঠের বিষের বাহার,
রূপকথাদের পূর্ণমাসি ।
জন্ম নিল পরীর দেশে;
নীল চিবুকের ছোঁয়া পেয়ে,
দুধ সাগরে উঠল ভেসে ;
চির চেনা এক ক্ষীরের মেয়ে ।
মুড়িয়ে গেল নটে গাছটি;
রূপকথা যেই হল শেষ,
ঠাকুরমার কোলের কাছটি,
নাতি পুঁতিতে জমল বেশ ।
