Unlock solutions to your love life challenges, from choosing the right partner to navigating deception and loneliness, with the book "Lust Love & Liberation ". Click here to get your copy!
Unlock solutions to your love life challenges, from choosing the right partner to navigating deception and loneliness, with the book "Lust Love & Liberation ". Click here to get your copy!

Ananya Podder

Tragedy Classics Others

3  

Ananya Podder

Tragedy Classics Others

অকালবোধন ##শরৎকাল

অকালবোধন ##শরৎকাল

3 mins
596


ও মেয়ে, তোর নাম কি?

তোর বাড়ি কোথায়?? 

আমি?? .... আমি সতী গো ;


আমার বাড়ি ওই যে হেথায় |

এই গহন রাতে, একলা পথে,

চললি কোথা, কোন পানে?


ওই যে, ওই শ্মশান মাঝে যাই গো |

নেশার ঘোরে ভিরমি গেছে মিনসে স্বামী,

মস্ত বড়ো ওই বটের থানে |

জানিস না কি?? কুকুর শৃগাল

কত কিছুই ঘুরছে হেথা চারিধারে |


যদি ধরে জাপটে তোরে !

কি করবি তখন ওরে ?

কুকুর শৃগাল পশুর জাতি, 

জাপটে ধরে, সাধ্য কি ?


মানসী বুকে মানব পশুই

বসায় যে তার দাঁত কপাটি |

এত কিছু জানিস !!!.. তবু

ভয় লাগে না ওই প্রাণে ?


গরিব ঘরেই মরণ বাঁচন |

ভয় পেয়ে যাব কোন স্থানে?

এমন সময় চারটে নর,

খাবলে ধরে সতীর শরীর |

লালসার আগুন ঝরায়,

তৈরী করে ক্ষত গভীর !!

আমি এক বৃদ্ধ মানুষ,

সবটা দেখেও চুপ হয়ে রই ;


আমার ঘরেও বাড়ন্ত জুঁই ----

প্রতিবাদী হই, সাধ্য কই?? 

নীরব সতী, সবটা সয়ে,

নিশ্চুপেতে যায় চলে |


ভস্মীভূত হচ্ছে যেন ---

সব, আজ তার চোখের জলে|


কদিন বাদে দূর্গা পুজো,

পাড়ায় কত কলরব, কত হইচই |


আমার চোখ শুধু সতীরে খোঁজে,

কিন্তু তার দেখা পাই কই?

মনটা আরও বিষিয়ে ওঠে,

যখন দেখি ওই দানব আবার

পাড়ার পূজার হর্তা - কর্তা - বিধাতা !


নারীর শরীর ছিঁড়ে খায় যারা,

নারীর আব্রু লুটে নেয় যারা,

তারাই নাকি পূজা কমিটির কর্তা !


একদিন গেছিলাম মণ্ডপে,

মাকে প্রণাম করতে ;

পারিনি ---- পালিয়ে এসেছি |

মায়ের চেহারায় যে সতীরে দেখেছি ----

দেখেছি, তার চোখে আগুন জ্বলতে |


চারদিন ধরে ঘরে বসে কেঁদেছি,

আর ক্ষমা চেয়েছি সতীর কাছে |

মাটির সতীরে পূজা করি,

আর মানবী সতীরে ঠেলি পিছে !


শত ধিক্কার, এমন মনুষ্যত্বকে !

কিন্তু আবার দুর্বল হয়ে যাই,

যখন জুঁই এসে দাঁড়ায় সম্মুখে |

বিসর্জনের দিন ----


মনটা সত্যিই বেদনায় ভরে আছে |

আজ যদি পাই সতীর দেখা,

তবে ক্ষমা চাইবো তার কাছে |


দূর্গার পায়ে যে অসুর আসীন,

সে তো বিদ্ধ, সে তো মৃত |

কিন্তু সমাজের এই অসুর ----

তারা আজও যে জাগ্রত !


তাদের যে মৃত্যু নাই,

নাই কোনো ভয়,

নাই কোনো ডর ;


তাই তো সতীরা নিশ্চুপে কাঁদে,

ভেঙে যায় তাদের সুখের ঘর |

উঠে পড়ি, এই বুড়ো হাড়ে

শক্তি করি সঞ্চয় |


আজ অবসান হোক অন্যায়ের,

ঘুঁচে যাক সমাজের অবক্ষয় |

হাতের কাস্তেটা নিয়ে ছুটে যাই মণ্ডপে |


দেখি, দাঁড়িয়ে আছে চার নরাসুর

মায়ের সমীপে |

প্রতিমার সামনে দাঁড়িয়ে

চার নারী খাদক |


আর বিসর্জনের হেতু বাজনদার

বাজায় তার বাদক |

মাকে প্রণাম করে শুধাই,

মা, এ অসুরের কি মৃত্যু নাই?


শুধু কি মরণ হবে সতীরই লজ্জার?

তবে কেন মা বেশ ধরে আছো

অসুর বিনাশকারী রণসজ্জার?

মা নিশ্চুপ, মুখে হাসি |


কিন্তু মায়ের চোখে এখনও আগুনের তেজ,

এখনও মা যেন ক্রুদ্ধ ;

কিন্তু হঠাৎ করে যা ঘটে গেল,

আমি তাতে পুরো বাকরুদ্ধ !


দেখি, বিশালাকার প্রতিমা হুড়মুড়িয়ে

ভেঙে পড়েছে ওই চার অসুরের ঘাড়ে, 

মায়ের ত্রিশূল, খাঁড়া সব বিদ্ধ করেছে ;

মা বধ করতে চেয়েছে যারে |


বিসর্জনের হেতু প্রতিমাকে যেই না দিয়েছে টান|

মৃন্ময়ী সতী জেগে উঠে দেখো,

রেখেছে মানসী সতীর মান |


চার নরাসূরের উপরে দূর্গা

ঝাঁপিয়ে এমন পড়ে !

প্রাণহীন হয়ে রক্ত ঝরায়

নিশ্চুপ ওই ধড়ে |


তাকিয়ে দেখি ----

মায়ের মুখে সতীর প্রতিফলন !

ক্রুদ্ধ সতী শান্ত হয়েছে,

করেছে অসুর নিধন |


সব সতীরই মাঝে যে মা,

তোমার দূর্গা রূপ !

তোমার মাঝেই সকল সতী

ঘুমোচ্ছে নিশ্চুপ |


যেদিন সতী জাগবে আবার,

মেলবে ত্রিনয়ন ; 

সেদিনও তো হবে জেনো মা,

তোমার অকালবোধন |


Rate this content
Log in

Similar bengali poem from Tragedy