আহত শালিক
আহত শালিক
সমাগত বৈশাখের প্রখর দাবদাহে, দগ্ধ প্রকৃতি।
দূর হতে চাতকের আর্তনাদে, একবিন্দু বারির আকূতি।শ্রান্ত দুপুরে ঝিমিয়ে যায় গাঁয়ের জন জীবন।
বৃদ্ধেরা বসে বটতলায়, আলোচনা, বৃষ্টির আগমন।
দূরে বকুল গাছের তলে, একদল শালিক, কি যেন খুঁটে খুঁটে খায়।
দূর্গা দালানের অলিন্দে, আহত ছোট্ট শালিকটা অসহায়।দুটি ডানাতেই লেগেছে চোট, একটা পা হয়েছে ছিন্ন।ওড়ার ক্ষমতা হারিয়েছে সে, উপায় নেই, এক কোণে পড়ে থাকা ভিন্ন।
মন চায় ওড়ে যায়, বকুল তলায় সাথীদের কাছে।যন্ত্রণাময় দৃষ্টি মেলে দেখে, ঐ দলে, ওর মা এসেছে।কাছে আসে মা, ঠোঁট বুলিয়ে আদর করে মাথায়।
চোখ ফেটে জল আসে ওর, বোঝেনা আদরে নাকি ব্যাথায়।
কিছু খাবার খুঁটে এনে, মুখের কাছে রাখে, মা।
ক্ষিধে তৃষ্ণা ভুলেছে ও, যখন হারিয়েছে ওড়ার ক্ষমতা।
রুদ্ররূপী সূর্যদেব, অন্তিম চোখ রাঙানি নিক্ষেপ করে, ঢলে পড়ে অস্তাচলে।
বকুলতলা হয় শূন্য, পাখিরা সব ঘরে ফেরে দলে দলে।
মা শালিক যায় না, আরও কিছুক্ষণ হতে চায় সন্তানের রক্ষক।
ওদিকে রাতের শিকারীরা চোখ মেলে, শাণ দেয় ধারালো নখ।
অন্ধকার গাঢ় হলে ওড়ে যায় মা, পড়ে থাকে একাকী আহত সন্তান।
যন্ত্রণা ক্লিষ্ট শরীর, প্রতি মূহুর্তে ভয়, পাছে চলে যায় প্রাণ।মাটিতে ঘষে ঘষে শরীর নিয়ে যায় অন্ধকারে, বাঁচার তাগিদে, দু চোখ ভাসায় জল।
বারেবারে ওর কেঁপে ওঠে বুক, ঐ শোনা যায় অদূরে, ডাক ছাড়ে শিয়ালের দল।
ভোরের ফিকে আলো গায়ে মেখে, ভেসে আসে মা, কাছে পেতে, ব্যাথিত সন্তান।
শীতল শরীর পড়ে আছে এক কোণে, অনন্তের পথে ওড়ে গেছে, ছোট্ট আহত প্রাণ।
