জীর্ণ বট পল্লব
জীর্ণ বট পল্লব
প্রাচীন এক বট বৃক্ষ তলে, বসেছিলাম একাকী নির্জনে।
দিগন্ত হল সাক্ষী, বেলা শেষের রক্তিম যবনিকা পতনে।
হরিদ্রাভ গালিচা মোড়া সরষে ক্ষেতের হাতছানি।ডুমুর গাছের শাখায়, দলছুট শালিকটা অভিমানী।মাঠ হতে ফেরে ধূলি মাখা পায়ে, শীর্ণকায় ভাগ চাষী।মনের মণিকোঠায় সযত্নে রাখা, ছোট্ট মেয়ের মুখের হাসি।
গঙ্গার ঘাটে বাঁধা, ছোট ছোট ডিঙি নৌকার সারি।আড়াল হতে ঘূৎকার রবে, চোখ মেলে রাতের শিকারী।
ফোঁটা ফোঁটা নির্যাসে নিজেকে উজাড় করে, আহত খেজুর বৃক্ষ তনু।
সাঁঝবাতি হাতে তুলসী সমীপে, গাঁয়ের বধূ হয় নতজানু।
পাতলা কুয়াশার চাদর জড়িয়ে, মৃদু বাতাস বলে ফাগুন আসন্ন।
সজনে ফুলের ঝাঁঝালো বাস, করে ভাবনাকে আচ্ছন্ন।
সহসা বাতাস দুলিয়ে দেয় ক্ষুদ্র শাখা গুলি।
দেখি এক জীর্ণ বট পল্লবের অকাল প্রয়াণ,শয্যা ময় ধুলি।
হয়তো বা তারও ছিল, কত শত মায়ার বাঁধন।
অন্তিম কালে আজ, এক মুঠো ধুলিই আপন।
একদিন সেও ছিল তরতাজা, দু চোখ উজ্জ্বল স্বপ্নময়।বৃষ্টির তালে নাচতো সে, উন্মত্ত ঝড়কেও পেত না ভয়।
প্রভাতের স্নিগ্ধ কিরণ মাখতো গায়ে, বিকেলের নরম বাতাস।
বন্ধুরা মিলে খিলখিলিয়ে, মাতিয়ে রাখত সাঁঝের আকাশ।
দূরে অশ্বত্থ গাছের ঐ নরম পাতাটির দিকে চেয়ে থাকত, হয়ত ভালোবাসা।
দুরুদুরু বুকে বলতে পারেনি কখনো, ভেবেছে দূরত্বই শ্রেয়, নৈকট্যেই নিরাশা।
হঠাৎ অকালে জাপটে ধরল মারণ রোগ, প্রতিনিয়ত আয়ুক্ষয়।
শরীর হল জীর্ণ, মন বিদীর্ণ, প্রতিটি ক্ষণে মৃত্যু ভয়।বন্ধুরা নিল মুখ ফিরিয়ে, আর প্রিয়া, সে তো স্বপনে।সূর্য কিরণে হতো দহন, মৃদু বাতাস লাগতো কনকনে।অবশেষে হাজির হল, আজকের নিস্তব্ধ নিকষ সাঁঝের বেলা।
অসহ্য দিন গোনা শেষে, এলো পাতা ঝরার পালা।
উঠে দাঁড়ালাম, হাতে তুলে নিলাম, বট পল্লবের শব।দূরের অশ্বত্থ গাছে বুঝি, শোনা যায় স্বজন হারানোর রব।
