Quotes New

Audio

Forum

Read

Contests


Write

Sign in
Wohoo!,
Dear user,
মধুসূদন দাদা (ঋতুর-কথা ১)
মধুসূদন দাদা (ঋতুর-কথা ১)
★★★★★

© Rituparna Rudra

Abstract Fantasy

4 Minutes   8.1K    37


Content Ranking

বেশ কিছুদিন আগেকার কথা , একটা অন্যরকম পরিসস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলাম আমি, আজ

ও মনে পড়লে ভারি অবাক লাগে আমার, ঠিক হিসেব মেলে না।

ছোটোবেলায় মায়ের মুখে মধুসূদন দাদার গল্প শুনতাম, শীতের দুপুরে খেয়ে নিয়ে মায়ের দুপাশে আমরা দুই ভাইবোন শুতাম, ঘুমোনোর আগে একটা গল্প বরাদ্দ। এই গল্প টা আমার বিশেষ প্রিয় ছিল। ছোট্ট একটি গরিব ছেলেকে তার স্কুল থেকে একটি অনুষ্ঠানের জন্য দই নিয়ে আসতে বলা হোল। কিন্তু কিভাবে সে নিয়ে যাবে? তারা যে বড় দরিদ্র। জঙ্গলে একা ক্রন্দনরত ছোট ছেলেটিকে ঈশ্বর স্বয়ং উদ্ধার করলেন নিজের পরিচয় দিলেন মধুসূদন দাদা আর ছেলেটিকে দিলেন একটি দইএর ভাঁড়। অনুষ্ঠানে যতই দই দেওয়া হোক এই ভাঁড়ের দই আর শেষ হোল না, ছেলেটিও তার বিপদ থেকে উদ্ধার পেল।

এই গল্প শুনে কেন জানি চোখে জল আসত। মাকে বলতাম," মা আমরা বিপদে পড়লে আমাদেরও কি এভাবেই ভগবান সাহায্য করবেন?" মা আশ্বাস দিয়ে বলতেন," নিশ্চয়।" সে বয়েসে সবই বিশ্বাস করতাম। বড় হবার পরে আমি খুব নাস্তিক হয়ে উঠলাম, ভুত ভবিষ্যৎ কিছুই মানতে চাইতাম না। জানতাম না একদিন হঠাৎ.. যাকগে খুলেই বলি।

অফিসে একটা মিটিং ছিল সেদিন, বেরোতে তাই বেশ রাত হয়েছিল, বেরিয়ে একটা ও ট্যাক্সি পেলাম না। আমি থাকি বেহালায়, কিন্তু কেউ বেহালা যেতে রাজি নয়।কি আর করা, মেট্রো ধরে টালিগঞ্জ এ নামলাম।একটু এগিয়ে অটো ছাড়ে সখেরবাজারের জন্য, লাইন দিয়ে তাই ধরব এরকমই ইচ্ছে ছিল কিন্ত, একটু এগিয়ে দেখলাম রাস্তা একেবারে ফাঁকা।অটো র লাইনে গুটি কয়েক লোক, কিন্ত অটো একটিও নেই। সেই লাইনে গিয়ে দাঁড়ালাম, সময় চলে যাছে কিন্তু অটো আসছেই না। মাঝে মাঝে এরকম হয়, কিন্তু আজ যেন খুব বাড়াবাড়ি মনে হচ্ছে। আধ ঘন্টা কেটে যাবার পর ছটফট করতে লাগলাম।রাত বাড়ছে বাস যা দু একটি এল তাতে ওঠা গেল না, বাদুড়ঝোলা বললে কমই বলা হয়, আজ কিছু একটা গন্ডগোল হয়েছে কিন্তু কি সেটা জানিনা, এমন সময় একটা অটো এল।মহা খুশিতে উঠে বসলাম, যাকগে বাবা আর চিন্তা নেই, বাড়িতেও ফোন করে নিশ্চিন্ত করলাম অটো পেয়ে গেছি, আসছি। তখন জানতাম না দুর্ভোগের আর ও বাকি ছিল।

করুনাময়ী ব্রিজ পেরিয়ে অটো টা ডানদিক ধরল, একটু এগিয়ে একটা খাল ধার, জায়গা টা ভাল না, বেশ রাত হয়ে গেছে চারদিক শুনশান্ এমন সময়ে একটা বিচ্ছিরি আওয়াজ করে অটো টা থেমে গেল, আর অটো ওলা যেন মেয়ের বিয়ের নেমন্তন্ন করতে এসেছে এমন হাসি হাসি মুখে ঘোষনা করল, অটো খারাপ হয়ে গেছে আপনারা নেমে যান। সবাই চ্যাঁচামেচি করে উঠল," মানে?এত রাতে আমরা কি করে যাব?এরকম অটো নিয়ে বেরোও কেন?" কিন্ত তাতে কিছু লাভ হোলো না। সবাই নেমে এলাম, অটো ওয়ালা একটু ঘটাং ঘটাং করতে করতে অটো টাকে নিয়ে কোথায় হাওয়া হয়ে গেল। আমার সঙ্গী যে তিনজন তারা একসাথে এসেছে, নিজেদের মধ্যে কিছু আলোচনা করে তারাও হাঁটতে শুরু করল, তাদের সঙ্গ নিতে কেন যেন তেমন ভরসা হোল না, বোকার মত দাঁড়িয়ে রইলাম। কি করব ভাবছি, ঘড়ির কাঁটা এগারোটার কাছে যাচ্ছে, খালধার টা নির্জন, জায়গাটার কোন সুনাম নেই, কোন যান বাহন নেই, কি করা উচিত আমার? হাঁটতে শুরু করব? উপায় তো কিছু নেই। খুব অসহায় ভাবে ভাবছি। এমন সময় একটা বাইক হঠাৎ যেন মাটি ফুঁড়ে এল, আর ঠিক আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে গেল। বাইক আরোহীর মাথায় হেলমেট, আস্তে করে হেলমেট খুলে এক গাল হেসে আরোহী জিজ্ঞেস করল, "আরে দিদি আপনি এত রাতে এখানে?" ভদ্রলোক আমারি বয়েসি, কস্মিন কালেও দেখেছি বলে মনে হয় না, তবুও ওই দিদি ডাকটি কি জানি কেন ভীষণ ভরসা যোগাল মনে মনে। আমি আমতা আমতা করে বললাম," এই অটো টা খারাপ হয়ে গেল, কি যে করি।" বাইকধারী হেসে বলল," আমার নাম তিমির দাশগুপ্ত, আমি আপনাকে চিনি, পৌঁছে দিচ্ছি, বাইকে উঠুন।" আমিও কিছুই আর না ভেবে তার বাইকে উঠে বসলাম। (এই কিছু না ভেবে উঠে বসাটার জন্য পরে সবার কাছেই বকুনি খেয়েছি আমি, আমার নাকি সাহস টা বড্ড বেশি, যদিও সেই পরিস্থিতি তে কি করা উচিত ছিল তাও কেউই বলতে পারেন নি।)  

পুরো পথ তিমির একটিও কথা বলল না, এমনকি আমি কোথায় থাকি তাও জিজ্ঞেস করল না। শীতলা মন্দিরের কাছ থেকে আমার বাড়ি অবধি রিক্সা পাওয়া যায়, সেই অবধি এসে দেখি একটি রিকশা দাঁড়িয়ে। বাইক থামিয়ে তিমির রিক্সাওলাকে বলল," দিদিকে সাবধানে বাড়ি অবধি নিয়ে যাও," তারপর আমাকে রিক্সাতে তুলে দিল। আমি তাকে প্রচুর ধন্যবাদ দিলাম সে কিন্তু গায়ে মাখল না বলল, "তেমন কিছুই করিনি, আপনি সাবধানে যান।" রিক্সা করে বাড়ি যেতে যেতে কি করে যে এই বিপদ থেকে উদ্ধার পেলাম সেটা ভেবে অবাক লাগল। কে এই তিমির দাশগুপ্ত? নাম টার মধ্যেই যেন একটা রহস্য আছে, আমি তো তাকে কোনদিন দেখি নি সে কিন্ত আমায় চেনে, এমন কি আমি কোথায় থাকি তাও জানে। 

এত বছর কেটে গেল তিমিরের সাথে আর কখনও দেখা হয়নি আমার, মধুসূদন দাদার মতই অন্ধকার থেকে এসে সে আবার অন্ধকারে মিশে গেছে তবুও তার কথা মনে হলেই মন ভাল হয়ে যায়।

জীবনী বিশ্বাস অলৌকিক

Rate the content


Originality
Flow
Language
Cover design

Comments

Post

Some text some message..