Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

Riya Roy

Romance


1  

Riya Roy

Romance


ত্রিভুজ সম্পর্ক

ত্রিভুজ সম্পর্ক

9 mins 864 9 mins 864

এই শহরে হঠাৎ পথ চলতে চলতে দেখা হয়ে যায় নীলেশ আর তমশার। রোজ দুজনের একি পথে ছিল অফিস। যাতায়াতের পথে আলাপ আর তারপর প্রেম। দুজনেই শিক্ষিত, দুজনেই ভালো জায়গায় জব করে। তিন বছর ওদের প্রেম চলল। কখনো ইভিনিং সো, কখনো রেস্টুরেন্টে মুখোমুখি, কখনো নির্জনতায় পাশাপাশি হাতে হাত রেখে বহুক্ষণ।


ওরা ঠিক করল বিয়ে করবে। এক শুভলগ্নে সানাই এর সুরে চার হাত এক হয়ে মধুময় হলো ওদের সম্পর্ক। বিয়ের পর নীলেশ ডিসাইড করলো তার বাবার পুরানো বাড়ি ছেড়ে নতুন একটা ফ্ল্যাট কিনবে আর তমশাকে নিয়ে সেখানেই থাকবে। ফ্ল্যাট কেনার তোড়জোড় শুরু হলো, কিন্তু কিছুতেই পছন্দ আর হয়না, নীলেশের ব্যালকনি চাই তো তমশার ওপেন কিচেন, কোথাও লিভিং রুম ছোট, কোথাও পরিবেশ ঘিঞ্জি। এমনি করে গোটা একটা বছর ফ্ল্যাট খুঁজতেই কেটে গেল ওদের। ফাইনালি ওরা মনের মতো ফ্ল্যাট পেল।


ফ্ল্যাট এ শিফ্ট করার পর শুরু হলো ফ্ল্যাট সাজানোর পালা।


তমশা বললো, "ওই যে কোনটা ওখানে একটা কর্নার রেক লাগবে আর ব্লু ফ্লাওয়ার ভাস কিনতে হবে বুঝলে!"


নীলেশ বললো, "বেশ তো, আর কি কি কোথায় লাগবে একটা লিস্ট করে নিলেই তো হয়। কিছু অ্যান্টিক জিনিস কিনলে কেমন হয় বলতো?..."


দেখতে দেখতে তিন বছর কাটলো। তমশা বললো, "আচ্ছা এবার আমাদের অ্যানিভার্সারিতে ছোট্ট একটা পার্টি অ্যারেঞ্জ করলে কেমন হয়!"


নীলেশ বললো, "হ্যাঁ, তাছাড়া আমাদের এই ফ্ল্যাটা কেনার পর তো কাউকে ইনভাইট করাই হয়নি।"


ওদের অ্যানিভার্সারিতে ওদের অফিস কলিগ আর কিছু ফ্রেন্ড এলো, অসাধারণ ফ্ল্যাট সাজানোর উচ্চ প্রশংসা সেদিন পেলো ওরা। সেদিনের রাত ছিল ওদের জীবনে গোলাপের গন্ধ মাখা এক মধু রাত। 


দু দিন পর তমশা জানায়, অফিশিয়াল একটা প্রজেক্ট ওয়ার্ক আছে আর তাকে যেতে হবে ব্যাঙ্গালোরে। নীলেশ শুনেই আপসেট হয়ে বলে, "প্লিজ যেও না, তুমি ছেড়ে দাও। বলো অফিসে যে, তুমি যেতে পারবে না।"


তমশা বলে, "কি বলছো তুমি? এই প্রজেক্টটা পাওয়া আমার কাছে একটা স্বপ্নের মতো আর আমি লিড করার দায়িত্ব পেয়েছি, এটা একটা গোল্ডেন অপরচুনিটি আমার জীবনে। তাছাড়া আমি আরো বেটার পজিশনে যেতে চাই। আর এরকম একটা সুযোগ তুমি পেলে, তুমি কি যেতে না বলো?"


নীলেশ বলে উঠে, "আমি হলে তোমায় ছেড়ে কখনো যেতাম না।"


তমশা মৃদু হেসে বলে, "ছেলেমানুষের মতো কথা বলো না। আর কাজ হলেই তো চলে আসবো তাড়াতাড়ি, সারাজীবন তো আর থাকতে যাচ্ছি না।"


তমশা চলে গেল ব্যাঙ্গালোরে। ওভার টেলিফোন এ বার কথা চলতে থাকে ওদের। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে কাজের ব্যস্ততায় তমশা প্রায় কথা বলতোই না, আর এমনি ভাবে নীলেশের সাথে যোগাযোগ কমে যায়।


নীলেশের ফ্ল্যাট এ ও যে ফ্লোরে আছে সেই ফ্লোরের ওর রুমের পাশেই এক বৃদ্ধা থাকত। কিছু দিন পর বৃদ্ধার মেয়ে আভেরি এবং তার নাতি ছোট্ট টুলু থাকতে শুরু করে। রুমে ঢোকার সময় কখনও ফ্ল্যাট এর সিড়ি কখনো ফ্ল্যাট এর লিফ্ট এ নীলেশের সাথে আভেরি আর টুলুর দেখা হয়েই যেতো। একদিন লিফ্ট খারাপ ছিল আর আভেরির হাতে বাজারের ব্যাগ ওদিকে টুলু বায়না করছে তখন সে সময় নীলেশও সিঁড়ি দিয়ে উঠছিল। এসব দেখে বলে উঠল, "আভেরি বাজারের ব্যাগটা আমাকে দাও, তুমি বরং টুলুকে সামলাও।"


আভেরিও বললো, "হ্যাঁ দিনকে দিন ছেলেটা ভীষণ ঘ্যানঘ্যানে হয়ে উঠছে আর বলবেন না।"


আরেক দিন নীলেশ অফিস থেকে ফিরছিল তখন খেয়াল করলো টুলু কান্নাকাটি করছে আর আভেরি বকছে, তখন নীলেশ একটা চকলেট কিনে সঙ্গে সঙ্গে টুলুকে দিয়ে ওর কান্না ভোলানোর চেষ্টা করলো। আভেরি আরো বকলো টুলুকে। বললো, "তুমি দিন দিন অসভ্য হয়ে উঠছো।"


তখন নীলেশ বললো, "ছেড়ে দাও আর বকো না, টুলু... আমার সঙ্গে এসো তো।" 


সেদিন তখন বেশ রাত আভেরির মা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লেন, বেশ সিরিয়াস তখন আভেরি টেনসড হয়ে নীলেশের দরজায় গিয়ে নক্ করলো। আভেরি সব কিছু নীলেশকে জানালো, নীলেশ সবটা দেখে ডিসাইড করলো ওনাকে ইমিডিয়েট হসপিটাল এ নিয়ে যাবে। তারপর নীলেশ ওর গাড়িটা বার করলো আর হসপিটালে নিয়ে গেল আভেরিদের। সমস্ত ফরম্যালিটি নীলেশ করলো, আভেরির মা'র ট্রিটমেন্ট শুরু হলো।


ওয়েটিং রুমে বসে আছে আভেরি আর নীলেশ। ততখনে টুলু ঘুমিয়ে পড়েছে। এতদিন ধরে নীলেশ আভেরির দেখা হয়েছে, কথা ও হয়েছে, কিন্তু একে অপরের সম্পর্কে সে ভাবে কিছুই জানতো না। নীলেশ আজ জিজ্ঞেস করলো, "আচ্ছা আভেরি তোমার হাজব্যান্ড মানে টুলুর বাবা কোথায়?"


আভেরি জানালো, তার হাজবেন্ড ভালো লোক ছিল না। সে অনেক চেষ্টা করেছিল মানিয়ে থাকার, কিন্তু পারেনি, তাই ডির্ভোস হয়ে গেছে। আর শুধুমাত্র তার স্বামীর জন্য সেদিন চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছিল, তার বাবার খুব আপত্তি ছিল। আভেরির বাবা মারা গেলেন আর আভেরি খুব চেষ্টা করেছিল সংসারটা টিকিয়ে রাখতে, অন্তত টুলুর কথা ভেবে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারলো না সে। নীলেশ সবটা শুনে আপসেট হলো।


কথায় কথায় আভেরিও জানলো যে নীলেশের ওয়াইফ তমশা এখন ব্যাঙ্গালোরে কাজের সূত্রে। যতদিন যাচ্ছে তমশা যেন কাজ নিয়েই ব্যস্ত। তার সঙ্গে ঠিক মতো যোগাযোগ রাখে না। নীলেশ জানায়, তমশা অতিরিক্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী, আরো ওপরে উঠবে এই নেশায় ও প্রায় নীলেশের কথা ভাবেই না আজকাল। নীলেশ যে তারই জন্য অপেক্ষা করছে, তা যেন তমশা ভুলেই গেছে।


তিনদিন পর আভেরির মা হসপিটাল থেকে বাড়ি গেলেন। ওষুধ কেনা, ডাক্তারদের সাথে কথা বলা, প্রায় সব কিছুতেই নীলেশ হেল্প করলো। কিন্তু কিছুদিন পর আভেরির মা মারা গেলেন। আভেরির শোকের প্রতিটি মুহূর্তে নীলেশ তার পাশে ছিল। আভেরির রিলেটিভ, বন্ধু কেউই তেমন ছিল না। যতদিন যেতে লাগল আভেরি আর নীলেশ জড়িয়ে পড়তে লাগলো এক অজানা বন্ধনে। টুলু কোনোদিন তার বাবাকে সে ভাবে পায় নি, তাই বাবা চরিত্র তার কাছে একরকম আজানাই, কিন্তু নীলেশের তার প্রতি যে স্নেহ, তা ছিল টুলুর সবচেয়ে পছন্দের জায়গা।


একদিন টুলু খেলনা গাড়ি নিয়ে ঘরের মেঝেতে মুখে আওয়াজ করে চালাতে চালাতে বলে উঠলো, "মা, ও মা...। বাবারা কি নীলেশ আঙ্কেলের মতো হয়? নীলেশ আঙ্কেল কেন আমার বাবা হলো না, ও মা... বলো না?"


আভেরি কোনো উত্তর না দিয়ে বিছানা থেকে উঠে গেল আর জানলার গ্রিল এ হাত রেখে বহুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল।


দেখতে দেখতে প্রায় তিনটে বছর পেরিয়ে গেলো। হঠাৎ তমশা জানালো সে ফিরছে। তমশা ফিরে এলো। নীলেশকে জড়িয়ে ধরে বলে উঠলো, "তুমি খুশি হও নি?"


নীলেশ মাথা নাড়লো।


তমশা বললো, "এতদিন পরে আমি এলাম, অথচ তুমি যেন অভিমান করে আছো।"


নীলেশ বললো, "এ তোমার মনের ভুল। তুমি ফিরে এসেছো আমার খুব ভালো লাগছে।"


তমশা এক সপ্তাহের মধ্যে বুঝতে পারলো নীলেশের জীবনে এখন আভেরি আর টুলুর একটা ভূমিকা আছে। আর তাই নিয়ে শুরু হলো অশান্তি। 


একদিন তমশা বললো নীলেশকে, "আমি জাস্ট জানতে চাই ওরা কে? তুমি ওদের জন্য এত করবে কেন?"


নীলেশ বলে উঠলো, "আভেরির মা যখন অসুস্থ হয়েছিল, তখন থেকে আমি ওদের হেল্প করছি আর পাশেই তো থাকে ওরা, তাছাড়া ওদের কেউ নেই, টুলু খুব ছোট তাকে নিয়ে আভেরি একা। একজন প্রতিবেশী হিসেবে এইটুকু সাহায্য তো করতেই পারি।"


তমশা বললো, "প্রতিবেশী...? আমার তো অন্যরকমই মনে হলো। তাছাড়া আমার ওই আভেরিকে মোটেও সুবিধের মনে হয়নি। ওর চরিত্রের কোনও ঠিক নেই।"

নীলেশ ওমনি রিয়েক্ট করে বললো, "কেন বাজে কথা বলছো?"


তমশা তখন বলে উঠলো, "কেন? আভেরির নামে যেই বললাম ওমনি তোমার গায়ে লাগলো।"


এসবের মধ্যে হঠাৎ টুলু অভ্যাস মতো খোলা দরজা ঠেলে ঢুকে পড়লো আর ঢুকেই তা-কে সাজানো শোপীস নিয়ে ঘাঁটাঘাটি শুরু করলো। তমশা রেগে গিয়ে টুলুকে বকাবকি করতে লাগলো। নীলেশ বললো, "কেন বকছো ওকে? হাত দিলে কি ক্ষয়ে যাবে?"


তমশা বললো, "তুমি আমার সঙ্গে এভাবে কথা বলছো একটা বাইরের কোথাকার কে তার জন্য।"


নীলেশ তখন বললো, "তোমার কাছে ও অচেনা, কিন্তু এই তিন চারটে বছর এভাবেই ও আমার ঘরে এসেছে। আর একটা বাচ্চার সঙ্গে তুমি এ ভাবে কেন কথা বলছো?"


টুলু কাঁদতে শুরু করলো। আর এত আওয়াজে পাশের রুম থেকে আভেরিও ছুটে এল। টুলুকে নিয়ে চলে যাচ্ছে তখন তমশা আভেরিকে এক গাদা কথা শোনালো, নানা রকম অপমান করলো। আভেরি শান্ত ভাবে জানালো, নীলেশ তার অসময়ে পাশে ছিল, তার দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে ছিল। আজ তারা ভালো বন্ধু, কিন্তু সে কখনই চায় না তার জন্য নীলেশ আর তমশার মধ্যে কোনো সমস্যা হোক।


তমশা তখন বলে, "বন্ধুত্বও তো একরকম ভালোবাসা সেটা কি তুমি অস্বীকার করতে চাও?"


আভেরি বলে, "যদি বন্ধুত্বও একরকম ভালোবাসা হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে আমার কোনো আকাঙ্ক্ষা নেই।"


কিছুদিনের মধ্যেই তমশা জানালো নীলেশকে, সে আর থাকবে না।


তমশা বলে, "আমি ডির্ভোস চাই। আর আমি তোমার সাথে থাকতে চাই না।"


নীলেশ বলে উঠে, "তুমি ভুল করছো তমশা। সেদিন তুমি কাজকে বেশি প্রায়োরিটি দিয়েছিলে আরো ওপরে উঠবে বলে, আমাকে জাস্ট ভুলেই গেছিলে, ভেবে দেখো আমি কিন্তু তোমার জন্য রোজ অপেক্ষা করেছি। আর আজ একটা জেদের বসে তুমি আমার সঙ্গে এরকম একটা বিহেভ করছো।"


তমশা তখন বলে, "আমি কিন্তু ফিরে এসেছি আর তোমার কাছেই এসেছিলাম, কিন্তু এখন মনে হচ্ছে ভুল সময় এসেছি আর আমি চলে গেলে তুমি আভেরিকে নিয়ে সুখী হবে।"


তমশার চলে গেল। শেষ পর্যন্ত নীলেশের সাথে ডির্ভোসও হয়ে গেল।


জীবন বয়ে চলে তার আপন গতিতে। আর সময় কখন পেরিয়ে যায় স্রোতের টানে। দেখতে দেখতে কেটে গেল অনেকগুলো বছর.......


নীলেশ হেঁটে চলেছে সমুদ্রের পাড় ধরে সঙ্গে ছোট্ট অরিশা। ছোট্ট অরিশার হাজার একটা প্রশ্ন। ওই গাছগুলোর নাম কি? ঝিনুক কেমন দেখতে হয় আরো ও কত কি। নীলেশও উওর দিতে দিতে অরিশাকে নিয়ে এগিয়ে চলেছে।


হঠাৎ দেখা হয়ে গেল তমশার সাথে। প্রায় এক যুগ পর যেন দেখা হলো, নীলেশ স্থির হয়ে দেখলো, সেই আগের মতই স্মার্ট আর ডেসিং, বয়সের ছাপ ঠিক বোঝা যায় না তমশার চোখে মুখে। নীলেশ দেখলো তমশার সাথে আরেক ভদ্রলোক কানে মোবাইল, তমশাকে বলছে, "তুমি এগোও আমি ওদিকটায় যাচ্ছি নেটওয়ার্ক পাই কিনা।"


তমশাও নীলেশকে দেখলো আর ওর প্রশ্ন জাগলো মনে এই বাচ্চাটা কে? নীলেশ প্রথম প্রশ্ন করলো, "তুমি এখানে কবে এসেছো?"


হঠাৎ আভেরি এলো, তমশাকে ওতটা খেয়াল করেনি সে, নীলেশকে বলছে, "অরিশাকে আমায় দিন ওতো কিছুই খায়নি, আমি নিয়ে যাচ্ছি ওকে। আর আপনিও আসুন তাড়াতাড়ি।" তারপর আভেরি দেখলো তমশাকে। একটু অবাক হলো, বললো, "তুমি?" তারপর বললো, "আপনারা কথা বলুন আমি আসছি।" আভেরি চলে গেল।


তমশা জানতে চাইল ওই বাচ্চাটা কে? নীলেশ বললো, "ওটা টুলুর মেয়ে। তমশার এতক্ষনে হুস হলো, পেরিয়েছে অনেকগুলো বছর। তমশা আরো জানতে পারলো নীলেশকে সেদিন আভেরি বিয়ে করেনি। আর গতকাল ওরা সবাই এই সমুদ্রে বেড়াতে এসেছে। নীলেশও জানলো তমশার সাথে ওই ভদ্রলোক তমশার বর্তমান হাজবেন্ড। ওরা এখানে কদিন ছুটি কাটাতে এসেছে। নীলেশের সাথে ডির্ভোস এর পর তমশা একটা বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকত। আর বেশ কিছু বছর পর ওরই এখানকার অফিসে ট্রান্সফার হয়ে আসে এই ভদ্রলোক। সেখান থেকে আলাপ তারপর বিয়ে। তমশা আলাপ করায় তার হাজবেন্ড এর সঙ্গে নীলেশের। ভদ্রলোক হাত বাড়িয়ে বলে ওঠে, "হ্যালো, আমি আদিল।" 


তখন পড়ন্ত বেলার রোদ সমুদ্রের জলে রঙিন হয়ে উঠেছে। বালুকাবেলায় একা বসে আভেরি। তমশা এলো ওর পাশে বসলো আর জিঞ্জাসা করলো, "তুমি নীলেশকে কেন বিয়ে করলে না? কোনো বাধাই তো ছিল না।"


তখন আভেরি জিজ্ঞেস করলো, "তুমি ভালো আছো? শুনলাম তুমি আর তোমার হাজব্যান্ড এখানে ছুটি কাটাতে এসেছো।"


তমশা বললো, "হ্যাঁ আদিল খুবই ভালো। কিন্তু তুমি আমার প্রশ্নের উওরটা দিলে না!"


আভেরি বলে উঠলো, "বিয়ে করলে কি হতো। নীলেশের ফ্ল্যাট এর সবটাই তো তুমি সাজিয়ে ছিলে আর নীলেশের সাথে থাকতে শুরু করলে তোমার কথা তোমার স্মৃতি ঠিকই চলে আসতো। তার চেয়ে এই ভালো হলো নীলেশ আমার বিপদে আপদের বন্ধু হয়ে থেকে গেলো, বিয়ে করে আর সমস্যা বাড়াতে চাইনি।"


আভেরি জিজ্ঞাসা করলো, "এতগুলো বছর তুমি কখনো নীলেশের সাথে যোগাযোগ করোনি, তোমার কখনো ওর কথা জানতে ইচ্ছে করেনি?"


তমশা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো, "আসলে আমিই ভুল করেছিলাম, নীলেশকে সে ভাবে ঠিক সময়ই দিই নি। কেবল ক্যরিয়ার নিয়ে বেশি ভেবেছি। জানোতো, আদিল এরও অনেক বার বাইরে যাওয়ার সুযোগ এসেছিল, কিন্তু আমার জন্য যায়নি। যেটা আমি সেদিন নীলেশের জন্য করিনি।"


আরো কিছুক্ষন ওদের কথাবার্তা চললো। তারপর সন্ধ্যে নেমে এলো, আদিল তমশাকে ডাকতে এলো। তমশা চলে গেল আদিলের সাথে।


পরেরদিন ভোরের আলো, বেশ হূ হূ হাওয়া বইছে। একটা গাছের গায়ে হাত রেখে নীলেশ দূরে তাকিয়ে ছিল। সমুদ্রের ঢেউ উঠেছে নামছে, ঠিক যেন ওর জীবনের মতো। হঠৎ আভেরি এলো হাতে একটা চাদর, বললো, "নিন, চাদরটা গায়ে দিন, আপনার কিন্তু কাশিটা এখনো সারেনি।"


নীলেশ বললো, "ওহ্ এই একটু হাওয়াতে কিচ্ছু হবে না, তুমি শুধু শুধু ই....." তারপর সবে আভেরি বলতে যাচ্ছে, "জানেন তো কাল তমশা আমায় বলছিল,....," সঙ্গে সঙ্গে নীলেশ কথাটা থামিয়ে দিয়ে বললো, "আমার সঙ্গে একটু হেঁটে আসবে? আভেরি প্লিজ......"


সমুদ্রের খুব কাছ দিয়ে আভেরি নীলেশের সাথে হাঁটতে শুরু করলো, কিছুটা দূরে যাওয়ার পর নীলেশ আভেরিকে বললো, "তুমি তো চাইলেই আমাদের জীবনের এই জটিল ত্রিভুজটা ভেঙে দিতে পারতে, তাহলে হয়তো বেঁচে থাকাটা আরো সহজ হতো।"


আভেরির হাতটা ধরে নীলেশ আবার বলে উঠলো, "কেন পারলে না তুমি?"


আভেরি ছলছল চোখে তাকালো নীলেশের দিকে আর বেলাভূমিতে আছড়ে পড়ল একটা ঢেউ...।


Rate this content
Log in

More bengali story from Riya Roy

Similar bengali story from Romance