Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

Gopa Ghosh

Romance Tragedy


5.0  

Gopa Ghosh

Romance Tragedy


তোমার জন্য

তোমার জন্য

6 mins 377 6 mins 377

বাস থেকে নেমে বাপি অবাক হয়ে গেল। সত্যি চেনাই যাচ্ছে না তার ছোট বেলার গ্রাম টা কে। প্রায় সাত বছর পর সে আবার গ্রামে ফিরল। নেমে রিক্সা করতে পারতো কিন্তু ওর হেঁটে যেতেই ইচ্ছে হলো , যেতে যেতে সেই ছোট বেলার কথা বারবার মনে পড়ে যাচ্ছিল। বংশী দের বাড়ির কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় ইচ্ছে হচ্ছিল সেই আগের মত হাঁক পেড়ে ডাকে

"এই বংশী এখনো ঘুমোচ্ছিস নাকি বাইরে আয়"

কিন্তু ওর জানাই ছিলো না বংশী এখনো ওই বাড়িতেই আছে কিনা , তাই বংশীর বাড়ি ছাড়িয়ে ও এগিয়ে গেল, এবার পিছন থেকে একটা চেনা কাঁপা কাঁপা স্বর শুনে ঘুরে দেখল ভুবন কাকু

"কাউকে খুঁজছেন ? নামটা বলুন আমি বলে দিতে পারব"

বাপি বেশ কিছুক্ষণ ভুবন কাকুর দিকে তাকিয়ে রইল, মানে ভুবন কাকুকে দেখে ওর মুখ দিয়ে কথা বেরোচ্ছিল না। এই অশীতিপর বৃদ্ধ ভুবন সামন্ত হল বাপির বাবার ছোটবেলার বন্ধু। এখন চেহারার যা অবস্থা চেনা দূর্দায়। তবে এই মানুষটাকে বাপি কখনো ভুলতে পারবে না। বাপি ছোটবেলায় কত বায়না করেছে এই কাকুর কাছে । আসলে বাপীদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ ছিল, সে তুলনায় ভুবন বাবুর অবস্থা মোটামুটি খেয়ে পড়ে চলে যেত। নিজে লেখাপড়া না জানলেও মেয়েদের লেখাপড়া শেখানয় খুব উৎসাহ ছিল ভুবন বাবুর । আর বড় মেয়ে সন্ধ্যা এতটাই মেধাবী ছিল যে স্কুলের মাস্টারমশাইরা বিনা পয়সায় ওকে পড়িয়ে দিতেন, তাছাড়া সরকার থেকে বৃত্তি ও পেত। এই বড় মেয়েকে নিয়ে ভুবন বাবুর গর্বে বুক ভরে যেত। রেজাল্ট বেরোনোর দিন সবাইকে আগে থেকেই বলে দিত

"তোরা দেখবি আমার সনু স্কুলে ফার্স্ট হবে"

আর সত্যি সত্যিই সন্ধ্যা প্রতি বার ক্লাসে প্রথম হত। তবে ভুবন বাবুর ছোট মেয়েকে নিয়ে খুবই চিন্তা ছিল। সে পড়াশোনা তো করেই না, তার উপর গ্রামের লোকেদের কাছে রোজই কিছু না কিছু ক্ষতির কথা শুনতে হতো ওনাকে। ভুবন বাবুর বউ প্রথম থেকেই বেশ রুগ্ন প্রকৃতির ছিলেন ।ঘরের কাজকর্ম বেশিরভাগটাই সন্ধ্যা আর ভুবন বাবুই করতেন। ছোটো মেয়ে ভারতী শুধু সারাদিন বাইরে ঘুরেই দিন কাটিয়ে দিত। ভুবন বাবু কিছু বলতে গেলেই সন্ধ্যা বলে উঠতো

"ছাড়ো না বাবা, ওর কি এখনো কাজ করার বয়স হয়েছে? দেখো আর একটু বড় হলে ও ঠিক ঘরের সব কাজ কর্ম শিখে নেবে"

ভুবন বাবু এতে রেগে গিয়ে বলতেন

"তুই ওই আশাতেই থাক, শুনে রাখ এই মেয়ে কোনদিন কোন কাজেই শিখতে পারবে না আমি বলে রাখলাম"

তবে এতে ভারতীর কোন হেলদোল ছিল না। এইসব কথার মধ্যেই ও ছুটে বাইরে খেলতে চলে যেত। সন্ধ্যা মুচকি হেসে বলত

"আজ তাড়াতাড়ি ফিরবি আমি তোকে অংক শেখাবো"

সন্ধ্যা জানতো ভারতীর অংকতে খুব ভয় তাই ওকে ভয় দেখানোর জন্য বার বার অংক শেখানোর কথা বলতো।

বাপি একটু এগিয়ে গিয়ে ভুবন বাবুর পায়ে হাত দিতে যেতেই উনি অবাক হয়ে প্রশ্ন করলেন

"আপনি কে আমি তো চিনতে পারছি না বাবা?"

এবার বাপি ওনার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে বললো

"কাকু আমি বাপি, তুমি চিনতে পারছ না ? আমি সনাতন মুখার্জির ছেলে, এবার বুঝেছো? তোমার সেই ছোটবেলাকার বন্ধু সনত হল আমার বাবা"

"তুই বাপি? সত্যি আমি তোকে চিনতে পারি নি কিছু মনে করিস নে বাবা"

ওদের কথা বলতে দেখে ঘরের ভেতর থেকে এক ভদ্রলোক বাইরে এসে দাঁড়ালো। বাপি এনাকে চেনে না। ভুবন বাবু সেই ভদ্রলোকের দিকে তাকিয়ে বললেন

"পল্টু একটা চেয়ার এনে দাও আর সনুকে বল যেন চা করে নিয়ে আসে"

এবার বাপির মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন

"পল্টু হল আমার বড় জামাই, সনুর বর, তুই তো অনেক বছর পর এলি, তাই চিনবি না"

বাপি দেখে ভুবন বাবুর কথা বলতে বেশ কষ্ট হচ্ছে। মাঝে মাঝে খুব জোড়ে শ্বাস নিয়ে আবার কথা বলছেন। তবু জিজ্ঞেস করে

"কাকিমা কেমন আছে?

এবার আকাশের দিকে তাকিয়ে ভুবন বাবু বলেন

"সে ঐখানে, বছর তিন হয়ে গেলো"

বাপি শেষবার যখন এসেছিল কাকিমা ওর সাথে ভালো করে কথাই বলতে পারে নি। অসুখটা খুব বেড়েছিল। তবে কলকাতার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর যে কিছুটা ভালো হয়েছিলো সে খবরটা বাপি ওদের গ্রামের প্রবীর এর কাছে পেয়েছিল। আসলে প্রবীর আর বাপি এক সাথেই স্কুলে পড়াশুনা করেছিল আর এখন অফিসও প্রায় ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে। প্রবীর কলকাতায় মেসে থেকে চাকরি করলেও মাসে একবার গ্রামের বাড়িতে আসে। বউ শম্পার উপর বাবা মায়ের ভার দিয়ে ও নিশিন্ত। শম্পা খুব সংসারী মেয়ে। প্রবীর নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে করে শম্পাকে পেয়ে।

বাপি দ্যাখে সনুদি চা নিয়ে এসে দাঁড়িয়েছে। চেনাই ভার। এই কয়েক বছরে যেনো বেশ বুড়িয়ে গেছে। সেই হাসি খুশি সনু দি একসময় বাপির মুখের হাসিটাই ছিনিয়ে নিয়েছিল। বাপির এই গ্রাম ছাড়া র একমাত্র কারণ এই ভদ্র মহিলা। কারণ সন্ধ্যা ই শুধু জানতো বাপি আর ভারতীর ভালোবাসার কথা। ও চায় নি ভারতী বাপির মত এক গরীব ঘরের ছেলেকে বিয়ে করে নিজের জীবন টা নষ্ট করে, অন্তত ওর মতে তাই। বাপি হাজার বার বুঝিয়েও কোনো ফল হয় নি। বাপি শুধু বলেছিল চাকরি পেয়ে তবেই ভারতীর বাবা মাকে কথাটা বলবে। কিন্তু সন্ধ্যা বাপির মুখের উপর সটান বলে দিয়েছিল

"তুই কি ভাবছিস, আমার সরল বোন টাকে ভুল বুঝিয়ে ওর জীবন টা নষ্ট করে দিবি? শুনে রাখ তোর মত হত দরিদ্র ছেলের সাথে কখনোই বাবা ভারতীর বিয়ে দেবে না, খবরদার আমার বাবাকে কিছু বলবি না, মায়ের অসুখ নিয়ে ওনার রাতের ঘুম চলে গেছে, আর তুই এসব জানালে হয় তো আর বেঁচেই থাকবে না"

বাপি এই শেষের কথাটা শুনে আর কোনো কথা বলে নি। নিজের মনে প্রতিজ্ঞা করে ছিলো যদি জীবনে কোনোদিন সনুদির কথা মত ধনী হতে পারে তবেই আবার ওদের বাড়ি আসবে, নইলে সারা জীবন বিয়ে না করেই থাকবে। ভারতী খুব কান্নাকাটি করেছিল বাপি শহরে যাওয়ার সময় কারণ বাপি ওর বাবা মাকেও সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিল। ভারতী বুঝেছিল সনুদী র করা অপমান টা বাপিকে সারাদিন কুরে কুরে খাচ্ছিল। তাই ও শুধু চোখের জলেই বাপিকে বিদায় দিয়েছিল, একবারের জন্য বলে নি ফিরে আসার কথা। তবে বাপির কাছে ভারতী অবশ্যই একটা প্রমিজ করেছিল। বলেছিল

"তুমি না এলেও আমি শুধু তোমারই থাকবো, আমি শুধু তোমার জন্য"

এরপরের যুদ্ধটা বাপির খুব কঠিন ছিলো। নানা জায়গায় চাকরির জন্য পাগলের মত চেষ্টা, কারণ পুঁজি টাকা হু হু করে শেষ হলে যাচ্ছিল। কিন্তু পরিশ্রমের ফল ভগবান বাপিকে দিয়েছিলেন। রাজ্য সরকারের এক সংস্থায় চাকরি হলো। এর মধ্যেই কেটে গেছে অনেক সময়। ভারতীর কথা ওর হৃদয়ে গাঁথা। বাবা মা বিয়ের জন্য বললেও ও যে কোনো ভাবে এড়িয়ে যায়। তবে প্রবিরের থেকে মাঝে মাঝে ভারতী কেমন আছে জানতে চায়। ভেবেছিল আর বিয়ে থা করবে না কিন্তু প্রবীরের মুখে ভারতীর অসুখের কথা শুনে ও আর স্থির থাকতে পারলো না।

সন্ধ্যা পরে বুঝেছিল বাপি সত্যিই ভালোবেসেছিলো ভারতী কে, ওর এতটা খারাপ ব্যবহার করা উচিত হয় নি। কিন্তু সেটা বলার জন্য বাপিকে সামনে পায় নি। এখন আর দেরি না করে বাপিকে ইশারায় ঘরে আসতে বলে।

"দ্যাখ বাপি আমি তোকে অনেক খারাপ কথা বলেছি, আমাকে ক্ষমা করে দিস পারলে, জানিস ভারতীর জীবন টা আমার জন্যই নষ্ট হলো"

বলেই বাপির হাত টা ধরে হাউ হাউ করে কাঁদতে থাকে সন্ধ্যা।

"আমি ওকে নিয়ে যেতে এসেছি সনু দি, তোমরা যদি রাজি থাকো তো মন্দিরে বিয়ের পর আমি ওকে কলকাতায় নিয়ে যাবো"

বাপি জানে কেনো সন্ধ্যা কাঁদছে। ও জানে ভারতীর ক্যান্সার ধরা পড়েছে, ডাক্তারের মতে বড়ো জোর তিন মাস সময় আছে।

ভারতী বিছানায় যেনো মিশে গেছে। তাও রুগ্ন মুখে হাসি ফুটলো বাপিকে দেখে

"এত দিন পর আসার সময় হলো, এবার তো আমাকে চলে যেতে হবে"

বাপি চোখের জলকে আর বাঁধ মানতে পারলো না। ভারতীর হাত টা ধরে কেঁদে ফেলল। ভারতী একদৃষ্টে চেয়ে রইলো তার ভালোবাসার মানুষটার দিকে।

"তুমি ঠিক সুস্থ হয়ে যাবে ভারতী, আজ আমি তোমায় বিয়ে করে আমার কলকাতার বাড়ি নিয়ে যাবো"

শুকনো মুখে যেনো হাসি ফুটলো

"কি যে বলো, আমাকে বিয়ে করে তোমার কষ্ট বাড়বে, তুমি অন্য বিয়ে করে সংসার কারো, আমি ওপর থেকে ঠিক দেখবো, দেখো"

"আমার নিজের কাছে করা প্রমিস টা কি আমি ভুলতে পারি? তোমাকে ছাড়া আর কাউকে আমি জীবনে আনতে পারবো না"

এবার ভারতী বাপির হাত টা চেপে ধরে বলে

"আমি শুধু তোমার জন্য"



Rate this content
Log in

More bengali story from Gopa Ghosh

Similar bengali story from Romance