STORYMIRROR

Nikhil Mitra Thakur

Classics

4  

Nikhil Mitra Thakur

Classics

সততার ফল

সততার ফল

3 mins
289

নরহরি করে চাকরি জমিদার বাড়ি। সে ছিল কিপটের ধাড়ি। না খেতে পেয়ে তিনটে ছেলে রেখে বৌটা অকালে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেল।

জমিদার বাড়ি থেকে চুরি করে নরহরি মোহর এক হাড়ি। মোহরের হাড়ি পুঁতে রাখে খাটের তলে মাটির নীচে। কেউ পেল না টের।

হিসাব মিলাতে গিয়ে কিছুদিন পরে নায়েব দেখে মোহর আছে এক হাড়ি কম। আটকে গেল জমিদারের দম। শুরু হলো খোঁজ কে নিয়েছে মোহর।

অকেজো সিপাই সকল ছুটেই বেড়াই শুধু এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত। ধরতে পারে না চোর।

রেগে গিয়ে জমিদার তাড়িয়ে দিল সব পুরানো কাজের লোক। নরহরির চাকরি গেল চলে। কিছুদিনের মধ্যে না খেয়ে নরহরি গেল মরে।

কোন রকমে কাঠ কয়লা চেয়ে মেগে তাকে দাহ করে এলো হার ঝিরঝিরে তিন ছেলে। বাড়ির দাওয়ায় বসে

গালে হাত দিয়ে তিন ভাই ভাবছে কি খাবে? কিভাবে তাদের খাবার জুটবে। জমিদার তো তাদের কাজ দেবেন না।

মরার আগে কিছু ঋণ করে গিয়েছিল নরহরি। নরহরি মারা যাওয়ার খবর শুনে ছুটে এসে একাদশী বৈরাগী ধরে তিন ছেলেকে। ঋণ শোধ করো,নচেৎ এই বাড়ি ঘর আমি নিয়ে নেবো।

ছোট দুই ভাই খুব চালাক। তারা দেখে এই জমিদারের কাছে কাজ পাবো না। তাই খেতে পাবো না তো ঋণ শোধ দেবো কিভাবে? তাই এই জমিদারের এলাকা ছেড়ে চলে যায়।

বড় একটু বোকা,ধর্ম ভীরু। তাই বাবার ঋণ শোধ করতে বেগার খাটে একাদশী বৈরাগীর মাঠে। কিন্তু,মাসের পর মাস,বৎসরের পর বৎসর বেগার খেটেও শোধ হয় না ঋণ।

আধ পেটা খেয়ে আর কঠোর পরিশ্রম করে বড়ো ভাই অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাই একদিন একাদশীর মাঠে বেগার খাটতে যেতে পারে নি। 

একাদশী লোক পাঠিয়ে ধরে নিয়ে গিয়ে মাঠে খাটাতে শুরু করে বড়ো ভাইকে।

সেদিন একাদশীর মেয়ে মাঠে চা জলখাবার দিতে গিয়ে দেখে বড় ভাই যুধিষ্ঠির জ্বরে কাঁপছে।

একাদশীর মেয়ে দ্রৌপদী বলে ওকে বেগার খাটতে হবে না। আমি ওর পরিবর্তে বেগার খেটে দিচ্ছি।

একাদশী পড়ে ফাপড়ে। বলে ঠিক আছে তোকে বেগার খাটতে হবে না আমি ওকে ছেড়ে দিচ্ছি।

যুধিষ্ঠির দেখে প্রতিদিন কে যেন ওর ঘরের দরজায় দুধ সাবু রেখে যায়। দুধ সাবু খেয়ে কয়েকদিনের মধ্যে সে সুস্থ হয়ে ওঠে। বুঝতে পারে এটা দ্রৌপদীর কাজ।

যুধিষ্ঠির একদিন ঘুমানোর আগে ভাবে এভাবে আর কতদিন চলবে। এবার তো আবার সেই না খেয়ে থাকতে হবে।

সেই রাতে সে স্বপ্ন দেখে, বাবা ওকে বলছে, দেখ যে খাটে তুই শুয়ে আছিস ওই খাটের নিচে দুই হাড়ি মোহর রাখা আছে। ওগুলো আমি জমিদার বাড়ি থেকে চুরি করে ওখানে পুঁতে রেখেছি।

পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে যুধিষ্ঠির খাটের নিচে খুঁড়ে দুই হাড়ি মোহর পায়। 

যুধিষ্ঠির দুই হাড়ি মোহর নিয়ে জমিদার বাড়ি যায়। আর জমিদারকে বলে এই মোহর গুলো আপনার। তাই ফেরত দিতে এলাম।

জমিদার খুশিতে আত্মহারা হয়ে পড়ে। যেগুলো পাওয়ার কোন আশা ছিল না সেগুলো এই যুবক ফিরিয়ে দিচ্ছে। তাই জমিদার এক হাড়ি মোহর ওই যুবককে দান করে দিলেন।

একহাড়ি মোহর থেকে ছয়টি মোহর একাদশী কে দিয়ে পিতৃ ঋণ শোধ করলো যুধিষ্ঠির।

এদিকে একাদশী তখন মোহরের হাড়ি পাওয়ার কথা জেনে গেছে। তাই চালাকি করে চাষে ক্ষতির কথা বলে যুধিষ্ঠিরের কাছে কয়েকটা বাগিয়ে নিতে চায়।

যুধিষ্ঠির বলে একটা শর্তে আমি মোহর দিতে পারি তোমার মেয়ে দ্রৌপদীর সাথে আমার বিয়ে দিতে হবে।

একাদশী আনন্দের সাথে রাজী হয়ে যায়।

যুধিষ্ঠির ও দ্রৌপদী বাকী মোহর ভাঙিয়ে ওখানে প্রাসাদ গড়ে সুখে বসবাস করতে থাকে।



এই বিষয়বস্তু রেট
প্রবেশ করুন

Similar bengali story from Classics