Soul Mate
Soul Mate
"Hi, আমি rj সিন্ধু... এখন বিকেল চারটে আর আমি চলে এসেছি আপনাদের কাছে আমার আপনার ভীষণ favourite show নিয়ে... যার নাম, 'এক পশলা প্রেম'..! আপনারা জানেন তাও আরেকবার বলে দি, এই show তে আপনি ফোন করে ছোট্ট করে share করে ফেলতেই পারেন আপনার দেখা বা আপনার জীবনেই ঘটা সেই অদ্ভুত প্রেমের ঘটনাটা যা কাউকে বলে উঠতে পারছেন না.. তাহলে আর দেরি না করে চটপট dial করুন, 9008585, আমাদের এই number এ.. আর চুপি চুপি বলেই ফেলুন মনের কথাটা.. কিন্তু তার আগে এই পড়ন্ত বিকেলে মন মাতানো zubeen এর গলায় শুধু আপনাদের জন্য থাকছে...", বলে চালিয়ে দেয় গানটা সিন্ধুজা...
" জানে ক্যায়া চাহে মন..."
গানটা শেষ হতে না হতেই আবার সিন্ধুজা বলে ওঠে," এখন ঘড়ি বলছে চারটে বেজে আট আর আমরা পেয়ে গেছি আমাদের আজকের প্রথম caller..
"Hello.. Good afternoon.."...
"Hello...good afternoon সিন্ধু,"
"Hi.. প্রথমেই জেনে নেবো, কে বলছো আর কোথা থেকে বলছো.."
"আমি তন্নিষ্ঠা... বেহালা থেকে... আমি তোমার show regular শোনার চেষ্টা করি and তোমাকে দেখেওছি, Maddox এ পুজোর সময় একটা শো করেছিলে তোমরা.. I was present there."
"Ooooo...", সিন্ধুজা গলায় হর্ষ নিয়ে টেনে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলে তন্নিষ্ঠা সাথে সাথে হেসে বলে ওঠে, "হ্যা.. And you look so gorgeous সিন্ধু."
"Thank you so much তন্নিষ্ঠা.. আচ্ছা তুমি বলো, তুমি কি করছো এখন.. Are you a student or doing job তন্নিষ্ঠা?"
"আমি মাস্টার্স complete করে এখন শহরের প্রথম সারির একটা নামী jewellery shop এ job করছি তিন বছর হলো.. সেখানেই দেখা একটা অদ্ভুত প্রেমের গল্প share করতে চাই আমি... বলে রাখি, It's not a love story, but a story about love.."
"Wow..quite interesting. Waiting for what তন্নিষ্ঠা.. বলে ফেলো চটপট!"...
"আজ আমার off, but ঘটনাটা কালকেই ঘটেছে jewellery shop এ.... এক দম্পতি.. ওনারা আমাদের shop এর high profile customer... নিয়ম করে আসেন আমাদের shop এ.. ধনতেরাসে, নিজেদের birthday তে, anniversary তে... এবং দেখেছি যখনই আসেন দুজনই একসাথে আসেন.. ভীষণ প্রাণোচ্ছল একটা দম্পতি.. বয়স ষাট পেরিয়ে গেছে বলেই মনে হয়..."...
"Wow,", মাঝেই আকর্ষণীয় ভঙ্গীতে ছোট করে উৎসাহ দেয় সিন্ধুজা...
" হ্যা... Specially ভদ্রলোক তার wife এর প্রতি খুব careful.. choosy ও খুব.. Wife এর জন্য গয়না কেনা থেকে শুরু করে নতুন collection এসেছে কিনা খোঁজ নেওয়া সবেতে ওনার উৎসাহই বেশি....তো যাই হোক, কাল দেখলাম mam একা এলেন... দেখে একটু অবাক হয়েছিলাম কিন্তু সাথে সাথে কিছু বলিনি... হাসিমুখেই যেমন এসে বসেন তেমনই বসলেন... ওনারা আসলেই green tea নিতেন আমি জানি তাই offer করলাম.. উনি সম্মতি দিলে green tea এলো... চা খেতে খেতেই উনি diamond earrings দেখছিলেন... আমি সেই সুযোগেই প্রশ্নটা জিজ্ঞেস করলাম - mam, sir এলেন না..? "....
" না উনি তো নেই..... স্মিত হেসে বললেন উনি ...আমিও হেসে জিজ্ঞেস করলাম- তিনি কি out of town?... উনি একইরকম সাবলীল ভাবে বললেন - না, এই দশ দিন হলো উনি মারা গেছেন.... বলেই অভ্যেস মতো earring টা কানের কাছে নিয়ে গিয়ে আয়নায় মুখ দেখতে লাগলেন...I was stunned!আমি এরপর কিছুক্ষণ আর কিছু বলার অবস্থায় ছিলাম না seriously, প্রায় এক হাত দূরে দাঁড়িয়ে থাকা আমার colleague এর দিকে তাকিয়ে দেখি ও-ও stunned, অবাক হয়ে দেখছে ভদ্রমহিলাকে... যাই হোক, উনি সত্তর হাজার টাকার earring কিনে নিয়ে গেলেন, sir এরই card use করে ভীষণ নির্বিকার ভাবে.. Purpose স্বামীর funeral... সেদিন তিনি সেই earring টা তার dress এর সাথে match করে পড়বেন... তবে কি সবটাই for show ছিলো, ভদ্রলোক সারাজীবন একটা ভ্রম নিয়ে বাঁচলেন.. এবং সেই ভ্রম নিয়ে মারাও গেলেন.. এরকম অদ্ভুত সম্পর্কের সমীকরণ আমি সত্যিই দেখিনি.... "....
সিন্ধুজাও হঠাৎ কেমন বিমর্ষ হয়ে পড়েছিলো... কিন্তু rj দের আবেগে ভেসে গেলে চলে না ও জানে, তাই ও দ্রুত নিজেকে বিষণ্নতা থেকে টেনে বের করে নিয়ে আসে নিমেষে... বলে ওঠে," thank you so much তন্নিষ্ঠা এইরকম একটা ঘটনা share করার জন্য.. সত্যিই বিরল ঘটনা...আমিও আর কিছুই বলার অবস্থায় নেই,ঠিক তন্নিষ্ঠার মতো করেই... অল্প ভারী হয়ে উঠেছে হাওয়া...তাই mood আর হাওয়া হালকা করতে এই সময়ে চলতেই পারে এই গানটা... আপনারা শুনছেন সিন্ধুর সাথে এক পশলা প্রেম, সঙ্গে থাকুন, শুনতে থাকুন 98.6 red fm....
বলেই গানটা চালিয়ে দেয় সিন্ধুজা...
বেজে ওঠে "রাধে রাধে রাধে....".... সিন্ধুজা জানে ওর show specially শোনে কম বয়সীরা..
তাদের কপালে ভাজ ফেলে ভাবাতে শেখালে শ্রোতা কমে যাবে, তার চেয়ে show এর মূল motto আনন্দ উপভোগ করানো হলে অনেকটা নিশ্চিন্তে safe zone এ থাকা যায়....সেরকমই instructions ও দেওয়া আছে ওদের, তাই সিন্ধুজা দ্রুত আবহকে হালকা আর চাঙ্গা করতে এমন গানের সাহায্য নিলো যা শ্রোতাদের ভাবনাকে ছাপিয়ে গিয়ে প্রভাবিত করে তাদের মনকে সহজেই অন্যদিকে প্রবাহিত হতে বাধ্য করতে পারে........
কিন্তু ও নিজে চুপ করে চেয়ারে বসে পড়ে.... মনে পড়ে আজই তো ওর যাওয়ার কথা বড়পাপার বাড়িতে... আজ তো বড়পাপারও শ্রাদ্ধ... বড়মেসোকে বড়পাপা বলেই ডাকে সিন্ধুজা.... মনে পড়ে শেষের কটা দিন তো বড়পাপাও.... তবে কি বড়পাপাও ভ্রম নিয়ে চলে গেলো.... ভ্রম নিয়েই হৈ হৈ করে কাটিয়ে দিলো সবার সাথে সারাটা জীবন.....
চোখ ছলছল করে ওঠে সিন্ধুজার.......
. ......................
রাত সাড়ে নটা নাগাদ বাড়ি ফেরে সিন্ধুজা....
Main door টা খুলে ভেতরে এসে দরজা বন্ধ করতেই চেনা আওয়াজটা ভেসে আসে ভেতরের নির্দিষ্ট ঘরটা থেকে,"রিন্নি এলি....?"...
"হ্যা মা... তোমরা কখন ফিরলে ওখান থেকে..? বাবা থাকলে পারতো..."... ব্যাগটা রেখে জুতো খুলতে খুলতে বলে ওঠে সিন্ধুজা.....
"না রে.. আমরা বিকেল নাগাদ ফিরেছি...".. ঘর থেকে বেরিয়ে dining cum Hall এর দিকে আসতে আসতে বলেন তিনি, "আর ওরা তো জানেই সবাই... আমারও শরীর ভালো নেই, তোর বাবারও না, এই তো এসেই সেই থেকে শুয়ে আছে... আর বলে এসেছিলাম তুই office থেকে সোজা ওখানেই যাবি... তো খেয়ে তো আসোনি নিশ্চয়ই... "...
" তুমি তো জানো মা আমি শ্রাদ্ধ বাড়ি খাই না, কারো চলে যাওয়াতে একদিকে শোক দেখানো আর এক দিকে pandal করে celebrate করাটা আমার অন্তত contradictory বলে মনে হয়.... "... শুনে উল্টো সুরটা বেশ কানে বাজে, সিন্ধুজার মা মনামি ব্যানার্জির....
" তোমার তো সবটাতেই বাড়াবাড়ি.... যাই হোক, তুই fresh হয়ে আয়... আমি দেখি তোর বাবাকে ডাকি..."...
" রান্না কি ফিরে তুমি করেছো? আজ তো চন্দনা পিসিকে আসতে বারণ করে দিয়েছিলে... "...
" না, order করে আগে থেকেই আনিয়ে রেখেছি.. আমি পারবো না... ফিরে আবার... "...
"হ্যা.. ভালোই করেছো... তুমি ready করো আমি just fresh হয়ে আসছি...".... সিন্ধুজা চলে গেলে ছোট খাটো চেহারার ছিমছাম মনামি ব্যানার্জিও চলে যান ঘরে.....
প্রায় পনেরো কুড়ি মিনিট পর ফেরে সিন্ধুজা, dining table এ মায়ের পাশে এসে বসে.... ওর বাবা Mr. ব্যানার্জিও এসে বসেছেন ওর মুখোমুখি চেয়ারটাতে....
Plate এ নিজের dish তুলে নিতে নিতে প্রথম মুখ খোলেন মনামি দেবী...." কি দেখলি.. কেমন আছে মামনি? আর টিটু আছে না চলে গেছে রে....? কি সুন্দর হয়েছে ওর মেয়েটা দেখতে... দুপুরে থাকলে দেখতে পারতি... মধুমিতা মেয়েটাকে নিয়ে চলে গেলো acting class আছে তাই..."...
কেমন একটা মৃদু বিরক্তি মিশিয়ে সিন্ধুজা বলে ওঠে, "মামনি কেমন আবার থাকবে, মারাত্মক কোনো disastrous ঘটনা না ঘটলে এক বেলার মধ্যে কোনো মানুষ পাল্টে যায় না মা...", চামচটা হাতে নিয়ে বিষাদ মাখা অল্প হাসে সিন্ধুজা..."আর আজকাল কতো কমে গেছে মানুষের সব অনুভূতিগুলো...চোখে লাগে...."... ভ্রু কুঁচকে তাকায় মনামি দেবী, Mr ব্যানার্জির চোখেও কৌতুহল ফুটে ওঠে....
ওদের মনের ভাব বুঝে সিন্ধুজা আবার বলে ওঠে, " না বললে না কি দেখলি.... তাই বলছি...আজকাল শ্রাদ্ধ বাড়ি না কোনো আনন্দ অনুষ্ঠান বাড়ি differentiate করা যায় না....সত্যি বলতে কি, আজ বড়পাপার বাড়ির পরিবেশটা ভালো লাগেনি আমার... Not a single person was taking about him.. শুনছিলাম তো, even মামনি.. তিনি তো সংসারটা করেছেন পাপার সাথে এতগুলো বছর ধরে... Still কে কি শাড়ী পড়ে এসেছে...কে নতুন কি jewellery কিনেছে, কার designটা better এসব নিয়েই...... আর মুন্নুরাও ফ্ল্যাটের installment, গাড়ির emi.. ছেলে কতটা দুষ্টু.. মেয়ে কিসে champion হয়েছে... রীতিমত গল্প হাসাহাসি চলছে... এগুলো আজ at least না করলেই পারতো না..!খুব irritating... আর আমার তো নিজেকেই অর্বাচীন মনে হচ্ছিলো, আজ ওখানে যাবো বলে ইচ্ছে করেই ওই সাদা Simple dress টা পড়ে বেরিয়েছিলাম দেখলে তো... But they all were in bright colours, gorgeous sarees... মামনিও...না আবার এতে কোনো Conservative গন্ধ খুঁজতে যেও না, i'm just simply saying then why that much show off of mourning.. "...বলে খাবারটা চামচে করে মুখে তুলে নেয় সিন্ধুজা...
মনামি দেবী খাবার খেতে খেতে একটু থামেন, প্লেটে চামচটা সামান্য নাড়াচাড়া করতে করতে আনমনে বলে ওঠেন, "না রে.. শেষের দিকে তো খুব ভুগছিলেন অঞ্জন দা.. আর সব দিদিকেই একা সামলাতে হয়েছে... সবটা... কি চেহারা হয়ে গেছিলো বলতো... মুন্নুরাও তো দিল্লীতে settled... ওরা কি করে এসে দিনের পর দিন থাকবে, that's not possible রিন্নি... এখন একটু relief পেলো দিদি সত্যি... তাই হয়তো.. "...
"মামনি স্বস্তি পেয়েছে papa চলে যাওয়াতে...?! Sounds so felonious মা...!... আর এটাকেই তোমরা সংসার করা বলো যেখানে একটা মানুষের থেকে সব benifits গুলো নিয়ে at the end of the day সে যখন অসুস্থ হয়ে পড়ে, তখন সে কবে মরে গিয়ে relief দেবে তার জন্য দিন গোনা হয়....কারণ she's stressed because of her own husband's ailment....?? দু হাতে জিজ্ঞাসু ভঙ্গী করে মায়ের দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দেয় সিন্ধুজা....
এবার কথাটা শুনে মেয়েকে একটু ঝাঝালো স্বরে বলে ওঠেন মনামি দেবী, "তুই তো এখনও সংসারটা করিসনি.. করলে বুঝতে পারতি!... আগে কখনো দেখেছিস তোর মামনিকে তোর বড়পাপার অযত্ন করতে?... দুজনে মিলে তো ভালোই কাটিয়েছে জীবনটা... অঞ্জন দার অসুখটাই একদম নষ্ট করে দিলো সব... আর তোর বড়পাপা তোর মামনির সাথে তো শেষের দিকে খুব খারাপ ব্যবহারও করতো... আর পেরে উঠেছিল না দিদি.. ফোন করে বলতো আমাকে সব... বুঝতে পারছিলাম, শেষে একেবারে তিতিবিরক্ত হয়ে নাজেহাল হয়ে গেছিলো মানুষটা..আমরা সবাই তো তাই বলাবলি করছিলাম, অঞ্জনদা গিয়ে নিজেও শান্তি পেয়েছে আর দিদিও বেঁচেছে... তাই হয়তো শোকটা কম... আগের থেকেই mentally prepared ছিলো, আর উনিও তো দিদিকে শেষের দিকে একেবারে সহ্য করতে পারছিলেন না.... "......
খাওয়া থামিয়ে যেন একটু উত্তেজিত হয়ে মায়ের ঘুরে বসে সিন্ধুজা... "কি আশ্চর্য মা....বারবার এক কথা বলছো... এটা কি করে বলছো আমি বুঝতে পারছি না, সে খারাপ ব্যবহার করলে আমাকেও করতে হবে? আমি তার কাছ থেকে একটা structural জীবন, একটা structural behaviour প্রত্যাশা করছি যেই সেগুলো পাচ্ছি না at once i'm becoming revengeful... এটাই একটা বৈবাহিক সম্পর্কের পরিভাষা তোমাদের কাছে ....? "...
" সারাটা জীবন যাকে দিয়ে দিলো তার থেকে প্রত্যাশা থাকবে না...? তার কাছেই তো সবচেয়ে বেশি প্রত্যাশা থাকে, দিদিরও ছিলো... শেষের দিকে সব উল্টেপাল্টে গেলো বলেই বোধ হয় ও অতোটা ভাঙেনি...জানিস তো তোর সবকিছুকে একটা উল্টো করে দেখা স্বভাব রিন্নি...!"....
" হ্যা দেখি কারণ সব এতো সোজা নয়, সহজে পাওয়াও যায়না.. একটা সম্পর্কে সামনের মানুষটা, সে যা খুশি করতে পারে, he's an individual after all...even if he is going to another woman, I think তাকে যেতে দেওয়া উচিৎ infact তার রাস্তা থেকে সরে যাওয়া উচিৎ... ভালোবাসাটা তো একান্ত নিজস্ব... সে আমাকে পরিবর্তে কি দিচ্ছে that hardly matters... But if you are calculating the returns then simply you are doing business... আর তুমি যেটাকে নিজের ভালোবাসা ভেবে ভুল করছো actually that's your investment, যতো বড় businesses deal ততো বড় investment আর ততো বেশি profit এর প্রত্যাশা... এখানে জীবন, ভালোবাসা, সম্পর্কের just কোনো জায়গাই নেই... আর মামনির কথা...?আমার মতো করে চলতে হবে, আমি যা চাইবো দিতে হবে সেই শর্তে তো আর ভালোবেসে বিয়েটা করেনি তখন মামনি.... আর যদি করেই থাকে তাহলে সেটাকে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা নাম দিয়ে চিৎকার করে মহান সাজার চেষ্টা কেনো, শুধু তাই নয় অসুস্থ মানুষটাকে assault করার পর এখন আবার তারই নাম করে sympathy ও কুড়োচ্ছে... Isn't it a beneficial business... Simply... "....
" এই যে এতো বড় বড় কথা বলছো...! আর তোমার বড়পাপা যে শেষে মামনিকে মারতো পর্যন্ত..! সেটা?? It's acceptable to you? Isn't it barbaric? "... আর চুপ করে থাকতে না পেরে মাঝেই বলে ওঠেন রাশভারী গম্ভীর Mr. ব্যানার্জি....
" বাবা, তোমার থেকে at least একটু rationality আশা করেছিলাম... বড়পাপা was at his last stage.. সেই সময় বিভিন্ন বিকার হওয়াটা যে খুব স্বাভাবিক একটা ব্যাপার সেটা কি মামনি জানতো না?? না তোমরা জানো না..? But মামনিও তাল মিলিয়ে একইরকম ব্যবহার করে গেছে পাপার সাথে... And She was hardly suffering like papa was...মামনি constant নিজের অন্যায়টাকে ঢাকার জন্য পাপার অসুস্থ থাকাকালীন বিকারকে ঢাল বানিয়ে গা বাঁচিয়ে চলেছে.. আর কি অদ্ভুত , you people are being so supportive to her... অথচ তাদের love marriage ছিলো.. Ridiculous...!"...কথাগুলো একটানা বলে বিদ্বেষে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে চামচে খাবার তুলে মুখে দেয় ও.....
"হ্যা.. ছিলো তো love marriage... and they were happily married... আর শোন, একটা অসুস্থ মানুষের সাথে দিনের পর দিন একটা সুস্থ মানুষ থাকলে তাই হয় যা দিদির হয়েছে...quite normal, quite natural...! "..খেতে খেতেই সাবলীল ভাবে প্রতিবাদের সুর চড়িয়ে বলে ওঠেন মনামি দেবী....
"নিজেদের বস্তাপচা ধারণাকে normality বলো না তো মা!... তোমরা আর এগোতে পারছো না বলে রাস্তা ওখানেই শেষ হয়ে যায় না... And please মা, এতো সব দেখা আর জানার পর আর happily married কথাটা বলো না... Sounds like hypocrisy at its peak... "....
"আচ্ছা, কি মুশকিল রিন্নি.. জীবনের একটা part, এত ছোট একটা part কে দেখেই কি সবটা বিচার করা চলে বলতো.... "... বেশ গাঢ় বিরক্তির সুর মিশে থাকে কথাতে....
"না..! তা কেনো... একেবারেই নয়... লোকে বলে, crisis এ লোককে বিচার করতে হয়, তখনই নাকি তাদের চেনা যায়.... but I believe বৃদ্ধ বয়সের crisis টাই genuine crisis...তখন তো চাওয়া পাওয়াটা অনেকটাই বন্ধ হয়ে যায়, সম্পর্কটা আসলে টিকে থাকলে প্রায় পুরোটাই দাঁড়িয়ে থাকে ভালোবাসার ওপর, টানের ওপর..অভ্যেসের ওপর বা কর্তব্যের ওপর বেঁচে থাকা zone কে বাদ দিয়েই বলছি... তখনই বোঝা যায় সম্পর্কটা কতোটা গভীর ছিলো সেটা নয়, যে সম্পর্কটাকে আছে ভেবে whole life carry করলাম, সেটা সত্যি জীবনে আদৌ exist করতো কিনা..... নাকি সবটাই a crass voidness only.. যেটা জীবনের একেবারে শেষ প্রান্তে এসে ধরা দেয়.... আবার অনেকের কাছে অধরাই থেকে যায়... ".....কেমন হারিয়ে যাওয়া স্বরে কথাগুলো বলে শেষ করে সিন্ধুজা.....
"তোর কথায়, তাহলে বাকি জীবনটা বুঝতে গেলে we have to grow old together? কেনো এরকম হতেও তো পারে, দূর থেকে সারা জীবন ভালোবেসে গেলো, একসাথে থাকা হলো না.... বা থাকলো না....."....
মায়ের কথা শুনে অল্প হাসে সিন্ধুজা, একইরকম হারিয়ে যাওয়া স্বরে সিন্ধুজা বলে ওঠে, " জানো মা, class eight এ তিথি mam once asked me, how much did you score on your exam? I innocently answered -I've forgotten mam...mam বলেছিলেন, ভুলে যাওয়ার মতো score করেছো তাই ভুলে গেছো... ভালোবাসাও তাই.... যারা একসাথে থাকতে পারলো না তাদের মধ্যে ভালোবাসাটা ছিলই না... ভালোবাসার সম্পর্ক তো তাকেই বলে যখন সেই মানুষটার সাথে একসাথে থাকতে ইচ্ছে করে, বাঁচতে ইচ্ছে করে... না পেরে দূরে পালিয়ে গেলে আর কি ভালোবাসা আর কি সম্পর্ক বলো... যখন একটা মানুষ তার so called ভালোবাসার মানুষটাকে কাছে পেয়ে তার সাথে থাকতে শুরু করছে, তাকে কাছ থেকে দেখতে শুরু করছে, তার দুর্বলতাগুলো একটা একটা করে সামনে এসে মনে জ্বালা ধরিয়ে দিচ্ছে বিশ্রী ভাবে,তার মধ্যেকার সবকটা অজানা খারাপ অভ্যেস এসে হাজির হচ্ছে সামনে then people so easily get miffed, they shout, try to manipulate, try to mould their partners according to their own sweet will..and So on... আর ঠিক সেই সময় ভালোবাসাটা কোথায় যায়....? ", মনামি দেবীর চোখে চোখ রেখে মৃদু স্বরে জিজ্ঞেস করে সিন্ধুজা..."now don't say মা, love fluctuates, no it doesn't..এক তো ভালোবাসা থাকে আর নয়তো থাকে না... আর যাদের একসাথে থাকার সুযোগ এলো না জীবনে, তারা একসাথে থাকার সুযোগ পেলেও সেটা celebrate করতে পারতো কি... হয়তো দশটার মধ্যে একটাও successful হতো কিনা still I'm doubtful, কিছুজন মরে বেঁচে থাকার অভিনয় করতো আর বাকিরা হয়তো সাহস করে বেরিয়ে যেতো.... ".....প্লেটের দিকে তাকিয়ে খাওয়াতে মন দেয় সিন্ধুজা...
এতক্ষণে আবার মুখ খুললেন Mr ব্যানার্জি," আর আমি যদি জিজ্ঞেস করি... Why are you being a paranoid...? কেনো মনে হচ্ছে যে এই বৃত্তে যারা রয়েছেন সবাই hypocrites, deprived আর নয়তো victims...?. why you are you being so negative about the whole relationship business...? আমি আর তোমার মাও তো একসাথেই বুড়ো হলাম... I don't have regrets, I don't have any complaint with your mother... We've been living a healthy married life for 28 years at a stretch... তুমি এটাকে কি বলবে... আমরা সুখী নই ? Happily married নই আমরা? তোমার মায়েরও তো কতো complications রয়েছে... আগের বছরেই open heart surgery সার্জারি হয়েছে.. আমি কি তার যত্ন করিনি..? এর আগেও তো তোমার মা কতো ভুগছেন, তাকে আমি কি কোণে ফেলে রেখেছি? ".....
"হ্যা can't deny.... But মাও তো তোমার সবকটা decision এ তোমাকে সঙ্গ দিয়েছে... যখন তোমার bangalore থাকাকালীন job টা চলে গেলো.. তোমার চূড়ান্ত mental stress এ তোমার পাশে থেকেছে মা firmly... আমি দেখেছি দিনের পর দিন কিভাবে সামলেছে.... Can you deny...?..."...
"আরে... Why should I deny?! She was there for me always... আর আমিও তার পাশে থেকেছি সবসময়... This is how a proper relationship works.... Relationship or love is not a stuff, it's not just a static statue যে জীবনে এনে ফেলে রাখলে বা just সাজিয়ে রাখলে... জীবনের সাথে parallely চলমান গতির নামই সম্পর্ক, ভালোবাসা.... ".....
"Exactly, বাবা.. এই point এ দাঁড়িয়েই আমার প্রশ্ন..... যদি এই গতি শেষ হয়ে যায় একটা সময়... এই দেওয়া নেওয়ার ব্যাপারটা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় তখনও কি সম্পর্কের মধ্যে ভালোবাসা বেঁচে থাকে..? নাকি শুধু একটা সূক্ষ্ম বিনিময় প্রথার ওপরেই দাঁড়িয়ে থাকে আমাদের সম্পর্ক গুলো? সেটাকেই আমরা না বুঝে ভালোবাসা বলে চালিয়ে দি সারাটাজীবন... A pure delicate business...".... কিছু বলতে পারেন না Mr ব্যানার্জি, চুপ করে মেয়ের দিকে তাকিয়ে থাকেন....
মনামি দেবীরও মুখের কাছে চামচ নিয়ে উঠে আসা হাতটা হঠাৎই থমকে থেমে যায় ....
..........................
পরদিন ছুটির পরেই বেরিয়ে সামনের রাস্তা বরাবর হেঁটে শহরের নামী দামী ক্যাফের কাচের দরজাটা ঠেলে ভেতরে ঢুকে এলো সিন্ধুজা....
"দেরি হলো তোর এতো?", একটা নির্দিষ্ট টেবিলের সামনে আসতেই প্রশ্নটা উল্টো দিক থেকে এসে যেন ঝাঁপিয়ে পড়ে ওর ওপর...
ঘড়িটা একবার দেখে সিন্ধুজা বললো, "মাত্র পনেরো মিনিট বাবু.. এইটুকু wait করার পরেও যদি কথা শোনাস, তাও এখন থেকেই... তবে তো ভাবতে হবে আবার নতুন করে..."... টেবিলের ওপর ব্যাগটা রাখে সিন্ধুজা....
শুনে যুবক তাড়াতাড়ি ওকে থামিয়ে দিয়ে একটু ব্যস্ত হয়ে বলে ওঠে, "এসেই শুরু করলি তো তোর বাজে কথা... কোনোদিন তো এতো দেরী হয় না তোর, তুই punctual তাই.."....
সিন্ধুজা বসে যুবকের চোখের দিকে তাকিয়ে হেসে বলে ওঠে, " Oh.. মানে একটুও বিরক্ত হোসনি বলছিস... হুমম বেশ ভালো কিন্তু ক্লিশে...".... নাক অল্প কুঁচকে শেষের কথাটা বলে যুবকের দিকে জরিপ করার ভঙ্গীতে তাকিয়ে আবার ছোট হাসে সিন্ধুজা......
"নারে হইনি বিরক্ত.."একটু বিদ্রুপের সুরে টেনে বলে কথাটা যুবক.... "আর তুই ঠিক যেদিকে ইশারাটা করছিস সেইরকম কিছুই নয়, আর হবেও না... আমি অন্তত মুখোশ পড়ে ভবিষ্যতের রাস্তা ঝাড় দিনা.. সেটা জানিস তুই...", কিছু না বলে বুদ্ধিদীপ্ত হাসলো সিন্ধুজা...
"কিন্তু বেশ tired দেখাচ্ছে তোকে,মুখটা শুকনো কালো লাগছে... কিছু হয়েছে কি..." হঠাৎ ছন্দটা কেটে দিয়ে একটু সচেতন স্বরে নিজেরই রাশ টেনে ফের বলে ওঠে,"না থাক বাবা.. তোকে আবার এসব বলতেও ভয় লাগে... এক্ষুনি চিৎকার করে আমার দিকে racism এর ঢিল ছুড়বি... ".... যুবক একটানা কথাগুলো বলে সোজা হয়ে বসে.....
"স্বীকার করলি,ভয় পাস তাহলে আমাকে.. "মুখের বিবর্ন ভাবটা দ্রুত কাটিয়ে মৃদু হেসে সিন্ধুজা বলে ওঠে, "আচ্ছা ছাড়... হ্যা রে, সারাটা দিন যা busy schedule ছিলো... সর্বানী দির একটা প্রজেক্ট নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম খুব... ".....
" ওরে বাবা তোর সেই সর্বানী দি.. এক কথায় একটা ভয়ঙ্কর মহিলা.. কেমন লোহার মতো মুখ আর বরফের মতো চাউনি... ঘাড় পর্যন্ত সাদা চুল, কপালে বড় লাল টিপ আর তার ওপর ওরকম ভারী গলায় অদ্ভুত অদ্ভুত সব কথা... উফ.. Horrible experience... "..... হাত মুছে tissue টার ওপর ভেতরের ভাবটা উগড়ে দেয় যুবক.. টেবিলের একদিকে প্রায় ছুড়ে ফেলে tissue টা....
"বাবা...!...তোর description শুনে মনে হচ্ছে উনি মানুষ নন, rather fear factor এর scariest episode! ",আবার হাসে সিন্ধুজা...
"একদমই তাই.... উফ বাবা কোন কুক্ষনে যে সেদিন রাজি হয়ে গেছিলাম তোদের meeting এর শেষে তোকে join করতে...এতো junior একজন colleague এর boyfriend এর সাথে প্রথম দেখা হলে যে কেউ এরকম ধরণের কথা বলে জানা ছিলো না.... Normally লোকে জিজ্ঞেস করে কি নাম, কি করো, কোথায় থাকো.... কিন্তু তোর মনে আছে উনি কি জিজ্ঞেস করেছিলেন আমাকে?... witch crafting............ ".....
....................
আড়াই বছর আগে, এই ক্যাফে তে সন্ধ্যেবেলায়...
"Witch crafting, black magic, voodooism না heritage, culture, architecture, progressive science and technology.. কি মনে হয় India কিসের আকড়..?"... বেশ কড়া ভারী গলায় অথচ মসৃণ মোলায়েম স্বরে প্রশ্ন করলেন সর্বানী ভক্ত.... চোখ দুটো ভীষণ উজ্জ্বল অথচ কী শান্ত, সারা শরীর থেকে ঠিকরে বেরোচ্ছে ব্যক্তিত্ব...
মাত্র বসতে না বসতেই এরকম প্রশ্ন শুনে বেশ ঘাবরে যায় ন্যগ্রোধ, "হ্যা...?.. ".. একটু থেমে আবার বলে ওঠে, "bo.. both... "...
" why are you working in academia.. You could have joined politics though... Quite diplomat he's.."... পাতলা গড়নের অত্যন্ত stylish মহিলাটি সিন্ধুজার দিকে ফিরে কথাটা বলতেই সিন্ধুজা ন্যগ্রোধের দিকে তাকিয়ে হাসে... তার মধ্যে মিশে থাকে সম্মতিসূচক ইঙ্গিত.....
আবার সর্বানী ভক্ত ছেলেটার দিকে তাকিয়ে বললেন, "Well both... You're politically correct... But which side do you emphasise...? নিজের নামের মানে টা জানা আছে তো.. Now let's see সেটা আদৌ সার্থক কিনা, কতটা জুড়ে বিস্তার তোমার.. যে সিন্ধুজা তোমাকে নিজের সাথে ভাসিয়ে নিয়ে চলেছে.. কারণ সিন্ধুজাতে নিজের থেকে কখনও কোনো ন্যগ্রোধের জন্ম হয় না.. প্রকৃতিবিরুদ্ধ..."...
ন্যগ্রোধ বেশ বিব্রত হলেও মনে মনে বলে উঠলো, "উফ, three's a crowd.."... আবার রাগও হলো সিন্ধুজার ওপর... ভাবলো, প্রেমিককে ডেকে নিয়ে এসে এরকম কারো সামনে without notice কেউ বসিয়ে দেয়... ভয়ঙ্কর মহিলা আর কথাগুলো স্রেফ বুলি বা বাণী তো নয় রীতিমতো torture.. এই মুহুর্তে ওর মনে হলো, অস্তিত্ব থেকে প্রেম সবই সঙ্কটে....
কোনোরকমে সিন্ধুজার উপভোগ করতে থাকা হাসি মুখটার দিকে একবার তাকিয়ে ও মহিলাকে খানিক আমতা আমতা করে বলে উঠলো, "of course, I.. I emphasise the culture, heritage, our overall progression..."...
"overall progression ধরণের terms use করাই safe and better তাতে veiled করে অনেককিছু মুখে না বলেও বলে দেওয়া যায় and also.. Also শ্রোতা কি ভাবছে তার দায়ও নিতে হয়না..." অদ্ভুত একটা রেখা ফুটে ওঠে সর্বানী ভক্তর ঠোঁটের কোণে, একটু অস্বস্তিই হয় ন্যগ্রোধের... এক দৃষ্টে তাকিয়ে খুব শান্ত স্বরে ফের প্রশ্ন করেন তিনি,"and why do you emphasise ...?"....
"কারণ...আমি একজন professor... সেইরকম পরিবেশে বড় হয়েছি আর সেরকমই শিক্ষা পেয়েছি that says We should emphasise and encourage the bright side of our country... That also says Try to innovate, renovate what we have... But don't destroy your society, your country practicing negativity... And Why should we indulge the negativity and..."...আরো বলতে যাচ্ছিলো, কিন্তু থেমে যায় ন্যগ্রোধ...
"and this very side of the same coin you have..." বলে ওঠেন সর্বানী ভক্ত... "You are a professor, your upbringing gave you these lessons and what if you were born in an orthodox family where people practice filthy politics, discriminate people in the name of race, gender, religion, cast, power, money, attainments... What if you were born in a family that indulges genocide?... And So on..then would you have indulged genocide too..?would you have celebrated negativity by glorifying that as 'call of conscience'..? family, society, circumstances, surroundings থেকে পাওয়া collective শিক্ষা after all..."ভীষণ শান্ত অথচ দৃঢ় ঠান্ডা গলায় কথাগুলো বলে একটু থেমে তাকিয়ে থাকেন খানিক প্রায় বাকরুদ্ধ হয়ে বসে থাকা ন্যগ্রোধের দিকে..." And now look dear, In this whole thing there are your fostering, your education, your value system, your pedantic views..but where is India...? And moreover where's your own rummage, own introspection...".. কিছু না বলে হা করে তাকিয়ে ছিলো ন্যগ্রোধ ওনার দিকে... মনে মনে ভাবছিলো কি অপরিসীম ক্ষমতা ওনার বাগ্মীতার, ওনার কথা বলার ধরণ, ওনার ভঙ্গিমার..... চারপাশে চলা সবকিছুকে ভুলিয়ে দিয়ে অদ্ভুত ভাবে নিজের দিকে আকৃষ্ট করে রাখতে পারে যেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা....
হঠাৎ ফোনের যান্ত্রিক শব্দে ঘোর কাটে ন্যগ্রোধের...
এতক্ষণ চুপ করে পাশে বসে সবটাই লক্ষ্য করেছিলো সিন্ধুজা, ফোনটা আসতেই সর্বানী ভক্ত ওর দিকে তাকিয়ে বলে ওঠেন, " গাড়ি চলে এসেছে... আর বসবো না বুঝলি.... সিন্ধুজা কাল timely পৌঁছে যাস..."...
সিন্ধুজা মাথা নেড়ে ছোট করে, "হ্যা.. সাবধানে ফিরো তুমি, আর ড্রাফটটা কিন্তু আমার কাছে আছে..কাল নিয়ে যাবো.." বলতেই উনি সম্মতি জানিয়ে উঠে চলে যাওয়ার আগে ন্যগ্রোধের দিকে তাকিয়ে বলে যান, "take care..".... ন্যগ্রোধ কিছু বলে ওঠার আগেই ভীষণ অভিজাত কায়দায় হেঁটে চলে যান উনি.......
.........................
ন্যগ্রোধের মুখে পুরো ঘটনার প্রায় পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ শুনে হাসে সিন্ধুজা... "বাবা.. তোর সব মনে আছে দেখছি..." টেবিলে দু হাত রেখে একটু এগিয়ে এসে বলে সিন্ধুজা...
"আর কোনোদিন ভুলবোও না... What an experience...! এই সেদিনের পর মহিলা কিছু বলেছিলো তোকে আমার কথা...?... জিজ্ঞেস করা হয়নি আর তোকে... "...
"বলেছিলো তো.. Soul mate..."...
"যাক...! Certify করেছিলেন তাহলে..."...
"কি মনে হয়... Rightly certify করেছিলেন...? "... ভ্রু সামান্য নাচিয়ে যাচাই করে নেওয়ার ভঙ্গীতে অল্প হেসে বলে ওঠে সিন্ধুজা....
" সেটা..... আমার থেকে তুই ভালো বুঝবি... অবশ্য আমার মাঝে মাঝে চিন্তা হয়, ওনার সাথে থাকতে থাকতে তুইও না আবার ওনার মতো... না মানে 'influence' বলে একটা word বাস্তবে আছে এবং সেটা বেশ effective.. সেটা মানিস তো?... "....
" মানে তোর ধারণা যদি কখনো আমার মতি গতি পাল্টে যায়... তাইতো.. আচ্ছা, তুই কি সাথে থাকবি তখনও ? যদি ধরে নে আমার মতিগতি সত্যি পাল্টে গেলো... তখনও কি ভালোবাসবি এভাবেই...? ".... মাথাটা একটু কাত করে প্রশ্নটা করে সিন্ধুজা....
" Already effect করতে শুরু করেছে বলে আমার মনে হয়... দেখ, কিরকম অদ্ভুত কথা বলেছিস...তা..... মতি গতি পাল্টে যেতে পারে বলছিস? আচ্ছা, একই প্রশ্ন যদি আমি করি? "...
".. আমি তোকে ছেড়ে দেবো, হুমম... I'll set you free...তোর মতির দিকেই গতি ঘুরিয়ে দিতে হেল্প করবো ধরে নে... তুই? ".... স্বল্প উদাসী গলায় সাবলীল ভাবে জবাব দেয় ও....
খানিকক্ষণ চুপ করে থাকে ন্যগ্রোধ..চুপসে যাওয়া কন্ঠে বলে ওঠে, " জানিনা... তোর মতো করে সহজেই তোকে অন্যকারোর দিকে ঠেলে দিতে পারবো কিনা.. তবে কষ্ট তো হবেই.. আচ্ছা তোর ছেড়ে দিতে ইচ্ছে হলো কেনো? অধিকার ফলিয়ে লড়াই করে আমাকে নিজের কাছে টেনে ধরে রাখতে ইচ্ছে করে না তোর?".... জিজ্ঞাসু চোখে প্রশ্নটা করে ন্যগ্রোধ....
"না... যে যেতে চায় তাকে আটকে রাখতে চাইবো কেনো বল... ভালোবাসাটা তো আমার... সে কাছে থাকলেও আমার, দূরে গেলেও আমার... দাম দিলেও আমার না দিলেও আমার... তার জন্য সেই মানুষটাকে নিয়ে টানাটানি করতে হবে? আর তোর যদি প্রেমিকা তোর জন্য তোর হয়ে সমস্ত বিশ্বের বিরুদ্ধে লড়াই করছে দেখে sheer entertained হতে ইচ্ছে করে then you have Hollywood Bollywood বা Netflix... Replace করে imagine করে নিবি অসুবিধে কোথায়.... ".... খুব সপ্রতিভ ভাবে একটানা বলে যায় সিন্ধুজা....
" কেনো... তোর মধ্যে সেই উত্তেজনাটা নেই কেনো বলতো...? ইচ্ছে করে না আমাকে নিজের মতো করে গড়ে... "....
স্থির চোখে ন্যগ্রোধের দিকে তাকিয়ে হাসে সিন্ধুজা, ন্যগ্রোধ তাই কথা থামিয়ে ভ্রু কুঁচকে ওর দিকে তাকালে সিন্ধুজা বলে ওঠে, " উত্তেজনা সাময়িক হয় রে... ভালোবাসা তো শান্ত যা শান্তি দেয়... দেখিস না একটা বলকে জোরে ছুড়ে দিলেও সেটা কখনো না কখনো একটা জায়গায় গিয়ে ঠিক থেমে যায়.. সব গতি সব উত্তেজনাই ওই point টা চায়, যেখানে স্থিরতা, serenity আছে... love lies in that point... আর তোকে নিজের মতো করতে চাইবো...? ".. আবার অল্প হাসে সিন্ধুজা..." কেনো are you a thing, a stuff...? আর তুই অন্যকারো মতো হতে যাবিই বা কেনো? নাকি তুই নিজেও টের পাস যে you need to be enriched by altering yourself.. যদি টের পাস তাহলে নিজেই সেই দায়িত্ব নে... Please শুধু শুধু এর মধ্যে কোনো romanticism খুঁজে বেড়াস না... সত্যি বলতো অন্য কারো ইচ্ছে মতো চলতে পারবি তুই সারাটা জীবন? Then why tricking people in the name of love....? আর তাছাড়া তোমাকে ভালোবাসি তাই পাল্টে ফেলতে চাই ব্যাপারটা sheer sugar coated exploitation.. Nothing else... "...... নিজের সোজাসাপটা কথাগুলো একটু জোর দিয়েই বলে ওঠে সিন্ধুজা...
"দেখ seriously বলছি, দিন দিন তোর মধ্যেও কেমন স্পষ্ট হয়ে একদম জীবন্ত হয়ে উঠছেন ওই মহিলা.. উফ একটা সুন্দর romantic mood নষ্ট করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট...! "....
" romantic mood এ থাকলে কি কথা হওয়া উচিৎ বলে তোর মনে হয়? Serials দেখেছিস নাকি আজকাল..? আচ্ছা এরকম কথাও তো হতে পারে..... ধর, যদি আমি অকেজো হয়ে গেলাম... মানে job ও ছেড়ে দিতে হলো এমনকি বিছানাতেও আর সঙ্গ দিতে পারলাম না.. তাও... ভালোবাসতে পারবি আমায়.. ? একইরকম বা আরো বেশি করে?.... ".. শেষের কথাগুলো একটু সময় নিয়ে থেমে থেমে উদাস স্বরে উচ্চারণ করে ও.....
বেশ নড়েচড়ে বসে ন্যগ্রোধ ভ্রু কুঁচকে সন্দেহের চোখে তাকায়... "এই তোর আজ কি হয়েছে বলতো? এসে থেকে আজেবাজে কেনো বকে যাচ্ছিস......."......
"তুই তো সবসময় খুব practical ন্যগ্রোধ, বল না... পারবি? "..... হাতের আঙুলের সাথে আনমনেই খেলতে খেলতে প্রশ্ন করে সিন্ধুজা..
" আচ্ছা, আগে একটা কথা বল... Partner মানে কি? Do you think I also nurture such primitive thoughts...? যে partner কে বিয়ে করে কাজ করাবো? না.. Monetary benefits এর জন্য বা... Come on you সিনি... "..
"... এই, এই নামে ডাকবি না তো আমায়.. কেমন একটা cynical vibe আসে... শুধু শুধু.."... সচেতন হয়ে সাথে সাথে বাধা দিয়ে ওঠে সিন্ধুজা....
" শুধু শুধু তো তুই biased হচ্ছিস, একটা নাম নিয়েও.... "..
" না ন্যগ্রোধ.. I'm being accurate and demanding only accuracy.. Just that... "...ও উত্তেজিত ভাবে মৃদু স্বরে কথাগুলো ছুড়ে দেয় ন্যগ্রোধের দিকে....
" OK.. Fine.. ", বলে একটা শ্বাস ছাড়ে ন্যগ্রোধ... একটু সময় নিয়ে relaxed হয়ে বসে ওর দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে, "দেখ, You know me... অর্ধেক লোকের ধারণাই নেই বিয়ে করে একটা মানুষকে কেনো নিয়ে আসছে সে তার নিজের জীবনে...একটা মানুষ সামাজিক দামী শিলমোহর গায়ে সেঁটে পারিবারিক সিদ্ধান্তে জীবনে এসে যোগ বিয়োগ গুণ ভাগ করে সবকিছুর সামঞ্জস্য বিধান করে দেবে magician এর মতো... তারপর যাতে একইভাবে সবটা তার ওপর দিয়ে চালিয়ে নেওয়া যায় তাই বোকা বানিয়ে রাখার জন্য বলা হবে, "সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে"..আমার সেই রমণী বা সংসার কোনোটাতেই রুচি নেই.. After all, She is not a management expert, a sex machine.. She's not a production house or a product whatever! দেখ... সে পাশে থেকে mentally জড়িয়ে থাকতে পারে না, আগলে রাখতে পারে না....?".....
" Oh তাহলে psychologically support... "... সাথে সাথে ন্যগ্রোধ ভ্রু কুঁচকে তাকালে ও বলে ওঠে, "oh.. Support বললে তো আবার ego hurt হয়...fine I withdraw my word... I meant to say.. psychologically feed করার কথা বলছিস... "....
"Why so! তা কেনো হবে শুধু... সে একটা জীবনে এসে তার ভাবধারা দিয়ে develop করে আরেকটা জীবনকে তো গড়েও তুলতে পারে আরও সুন্দর করে... মনের মতো করে....".....
বিদ্রুপের অল্প শব্দ করে বাঁকা হাসে সিন্ধুজা... "কিন্তু সে কি actually believe করে যে তার partner তার থেকে superior বা সে নিজে একটা undeveloped life lead করছিলো এতদিন? তাই এখন partner এর হাত ধরে developed হতে চায়.... মাটিতে নেমে এসে কথা বলো বাবু..... বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তো একটা এলোমেলো জীবন নিয়ে এসে হাজির হওয়া, আর বিয়ের সাথে সাথে মেয়েটার হাতে একটা ভীষণ lengthy ঘ্যানঘ্যানে project ধরিয়ে দেওয়া.... নিঃশব্দে যদিও... এলোমেলো জীবনকে ঠিক করার দায় চাপিয়ে দেওয়া তার ওপর... পরিবর্তে food, shelter, শরীর, children and..... more.. মানে তোর কথায় ভাবধারার লেনদেন.... তাইতো? ".....
"উফ.. কি বলে যাচ্ছিস? আচ্ছা, সে একটা গোটা সাজানো বাগান নিয়েও তো আসতে পারে তোর কাছে....!... "...
"আর ঝড়ে যদি ভেঙে যায় বাগানের গাছগুলো?? উপড়ে পড়ে সব গাছ? তছনছ হয়ে যায় পুরো বাগানটাই...? পারবি তাও সেই বাগানকে ঘিরে বাঁচতে? স্বপ্ন দেখতে?.. "....
"এই কি বলতে চাইছিস তুই, খুলে বলতো... What's the...? "..
"Adversities... In midst of fatal adversities, having a deceived, deprived hollow life can you still love that person...??"....
"তুই যেটা indicate করছিস.. তার মানে দাঁড়াচ্ছে, শুধু শুধু তাকে পোষা..তাইতো?"... চোখ সরু করে তাকায় সিন্ধুজা... "না তুই একটু আগেই বলছিলি না আমি practical.. তাই practically বলছি... সে কি সুন্দরী, Helen of troy এর মতো..? তাহলে সারাজীবন শুধু পোষা কেনো এমনকি আমিও ওই Dr. Faustus এর মতো জীবনের বাজি রেখে বলতে পারি, oh sweet Helen make me immortal with a kiss...".. বলতে বলতে হেসে ওঠে ন্যগ্রোধ.....
সিন্ধুজার বিস্ময় ভরা গম্ভীর মুখটা দেখে দ্রুত কোনোমতে হাসি চাপার চেষ্টা করতে করতে বলে ওঠে, " না.. না.. Sorry... I mean ভেবে দেখ... লোকে কুকুরও পোষে তার থেকে আনন্দ পাওয়ার জন্যই তো?.. আর এখানে তো একটা জলজ্যান্ত মানুষ...!"...
" সেই....."..নিস্তেজতা ছুয়ে যায় সিন্ধুজার কন্ঠস্বর.. "আচ্ছা, generalise করিস না because তুই তো আর সবাইকে ভালোবাসিস না.. তুই দাবি করিস that you love me...পারবি..? আমাকে ভালোবেসে যেতে?"...মৃদু উদাস গলায় প্রচ্ছন্ন হয়ে মিশে থাকে অদ্ভুত আকুতি....
"কি? কিচ্ছু না পেয়েও...?.."....
"কিচ্ছু না পেয়ে ভালোবাসা তো সোজা, নিজের মতো করে তাকে ভেবে নিয়ে সুখে সাগরে ডুবে কাটিয়ে দেওয়া যায় দিনের পর দিন... I'm talking about harder thing... যদি আমি তোর হয়েও তোর না থাকি, তোকে ঠকাই...তোর সামনে থেকেও যদি তোকে কিচ্ছু না দি ? monetary, mentally, physically, তোর ওই শৌখিন ভাবধারা জাতীয় যদি কিচ্ছু না দি? এসবের লেনদেন যদি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় আমার দিকে থেকে?.... যদি আমার দেওয়ার ঘরে কখনো না খুলতে পারা একটা বিশাল তালা ঝুলিয়ে দি..... তখন?? শুধুমাত্র নিজের অনুভূতির ওপর ভিত্তি করে পারবি আমার সাথে থাকতে....আমায় ভালোবেসে যেতে....? একইরকম ভাবে...? আরো বেশি করে?যেখানে নিজের অনুভূতির, ভালোবাসার তীব্রতা এতো বেশি হবে যে সেটা সামনের রক্ত মাংসের মানুষটাকে পর্যন্ত ছাপিয়ে চলে যাবে....! বল না... পারবি? সেভাবে ভালোবাসতে....?.... "....
"এ... এটা কি করে হয়...??! This is absurd....! তাহলে তুই এলি কেনো আমার জীবনে.. This is meaningless! Absolutely absurd!... I mean মানুষের সম্পর্ক একটা সুন্দর বোঝাপড়ার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে.. ভাব বিনিময়, শরীর বিনিময়.. কিছু না কিছুর বিনিময়ের ওপরেই তো একটা সম্পর্ক দাঁড়িয়ে থাকে, যখন সেই বোঝাপড়াটা নষ্ট হয়ে যায়... একটা মানুষ আরেকটা মানুষকে refuse করতে থাকে সেটা তখন আর সম্পর্ক থাকে না... সেরকম হলে I think they should get separated, কিছুই দিতে না পারলে তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে তুই কেনো তাহলে এলি জীবনে... "... একইরকম উত্তেজিত হয়ে সাথে সাথে বলে ওঠে ন্যগ্রোধ......
"ধরে নে আমি মনে অনেক প্রত্যাশা নিয়ে এসেছিলাম কিন্তু.... ".... একটু থেমে শান্ত উদাসী গলায় জবাব দেয় সিন্ধুজা....
" কিন্তু...?? "....
"the girl suddenly realised her so called soul mate doesn't love her, ভালোবাসা তো অনেক দূরের কথা... Doesn't want her even..... What if in midst of a fancy yet stormy evening , she realises her so called soul-mate wants the returns only.... ছেলেটার ইচ্ছে, তার চাহিদা, তার পাওয়া না পাওয়া এসবের মধ্যে শুধুই সে নিজে আছে mainly... মানে, যতদিন মেয়েটার থেকে কিছু পাওয়ার আছে বলে সে মনে করবে ততদিনই তার সেই মেয়েটার সাথে ভালোবাসা, বোঝাপড়া, সম্পর্ক.. As long as this beneficial business goes on smoothly, well and good... otherwise, separation.. সেটাও সেই মনে করছে... এসবের মধ্যে তো মেয়েটা কোথাও নেই, অনুভূতি নেই.. শুধুই সে নিজে অথচ নিজেকে না ভুললে যে ভালোবাসা যায় না... Love is selfless.. but he, her soul mate is not... What should she do now....... বলতো...?".....
"কি বলেছিস সিন্ধুজা, what are you talking about..? কি হয়েছে তোর...আমাকে বল... আচ্ছা...তোর favourite cold coffee order করি.. দেখবি মাথাটা ঠান্ডা হবে... এইসব ভুত মাথা থেকে নেমে যাবে...দাঁড়া".... বলে order করতেই যাচ্ছিলো ন্যগ্রোধ, থেমে যায় সিন্ধুজাকে দেখে...
ন্যগ্রোধের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ আগের মতোই সুন্দর মোলায়েম হাসে সিন্ধুজা, "আরে না না.. বোমকে গেলি নাকি.. Nothing like that.. Actually...বলছিলাম না সর্বানীদির একটা প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করছিলাম, তো she is working on a theme like this..সেটার ব্যাপারেই just দেখলাম, তোর view টা কি... "...
যেন হাফ ছেড়ে বাঁচে ন্যগ্রোধ..." একটা mini heart attack হয়ে যাচ্ছিলো এক্ষুনি....!... উফ্... ওনার choice of work ও ওনার মতোই weird..!...দেখ, তোকে আবার বলছি ওনার কথা বলার আগে আমায় please জানিয়ে দিবি.. ওনার কথা শোনার জন্য সন্ন্যাস নেওয়ার থেকেও কঠিন preparation লাগে... ভাগ্যিস! আমি তো ভাবলাম... কি হলো তোর আবার... রীতিমত.. "...
হঠাৎ মোবাইলটা হাতে নিয়ে তাতে চোখ রেখে সিন্ধুজা বলে ওঠে," আচ্ছা, শোন না, আমার হাতে আজ বেশি সময় নেই বুঝলি... উঠতে হবে বাবু .. এক গাদা কাজ করতে হবে বাড়ি ফিরে... জানিসই তো rj দের life... "....
" ওহ.. আমিও উঠি তাহলে, চল একসাথেই... "....
ন্যগ্রোধ উঠতে গেলে ওর হাতে হাত রেখে মিষ্টি হেসে বলে ওঠে সিন্ধুজা, "না না আমি চলে যাবো, আর তুই পারলে cold coffee টা খেয়ে বেরোস..You really need it now.... সর্বানীদির hangover টা কাটবে বুঝলি... চলো টাটা..."...
"হ্যা... যা বলেছিস.. ভাবছি একটা order করেই দি বুঝলি... আর তুই সাবধানে ফিরিস... I'll call you..." চোখের ইশারায় সায় দিয়ে হেসে বেরিয়ে যায় সিন্ধুজা....
সিন্ধুজা ক্যাফে থেকে বেরিয়ে আসেদ্রুত... সাথে সাথে cab টাও পেয়ে যায় ও... Cab এ উঠে ঠিক করে বসতে না বসতেই ফোনটা বেজে ওঠে ওর...
সিন্ধুজা জানে কার ফোন, মুখটা ধীরে ধীরে কঠিন হয়ে উঠলো ওর, সাথে মুখে জমা হলো মন ভাঙা কালো মেঘ, একরাশ উদাস হাওয়া এসে যেন ঝাপটা দিয়ে গেলো ওর সমস্ত মুখে...
অনীহায় ফোনটা তুলে screen এ চোখ রেখে দেখলো একবার... ন্যগ্রোধ.... একবার বাইরে তাকিয়ে ছোট দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফোনটা কেটে দিয়ে ঘোরের মধ্যে আনমনে বিড়বিড় করে বলে উঠল কথাটা.. "Where is the soul dear.."....
Option এ গিয়ে 'block' শব্দটাতে হাত ছোয়ালো সিন্ধুজা... পাশ ফিরে বাইরের দিকে তাকিয়ে একটা বড় করে শ্বাস নিয়ে চোখ বুজলো ও ... ভেসে উঠলো সেই দৃশ্যটা....
.....................
"কেমন দেখলে সর্বানী দি...? "...
"গতকাল ন্যগ্রোধকে?.."... নীরবে জ্বলজ্বল চোখে তাকিয়ে সিন্ধুজা হাসছে দেখে উনি আবার বলে উঠলেন," Soul mate...তবে ওকে একা না, তোদের দুজনকে একসাথে address করে বললাম কথাটা.."..
ভ্রু কুঁচকে কিছু বলতে যাবে সিন্ধুজা তার আগেই সর্বানী ভক্ত চেয়ারে হেলান দিয়ে বসলেন... হাতের pen টা রেখে বললেন, "মানেটা সোজা... আমি তোকে চিনি, সেই aspect থেকে বলছি.. He's standing being a mere corpus, a gross pedantic mate in the midst of your life... but where's the soul dear?.. It's badly missing until you're serving it..."....
সিন্ধুজার মুখটা নিমেষে কেমন ফ্যাকাশে হয়ে যায়....চোখের সামনে যেন আয়না তুলে ধরে ওর ভেতরটাকে নাড়িয়ে দিচ্ছে কেউ খুব বিশ্রীভাবে.... যেন পরিচিত লুকিয়ে রাখা কুৎসিত ছবিটা জোর করে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে কেউ...
সর্বানী ভক্ত বুঝতে পেরে আবার বলে ওঠেন, " Now you decide.. দেখ, mate পাওয়াটা সোজা কিন্তু soul mate পাওয়াটা কি really এতোটাই সোজা.... introspect my darling.."..... শুনে সামনের চেয়ারে বসে পড়ে অসহায়ের মতো সিন্ধুজা...
.................
চোখ মেলে তাকায় সিন্ধুজা, না আজ আর কোথাও কোনো অসহায়তা নেই....
বছরের পর বছর ধরে পুষে রাখা নিজের দুর্বলতাকে হারিয়ে জলে ভরে ওঠে সিন্ধুজার দু চোখ কিন্তু সমস্ত মুখে ছেয়ে যায় এক উজ্জ্বল দীপ্তি... একটা অদ্ভুত স্বস্তি ছড়িয়ে পড়ে ওর সারাটা মুখ জুড়ে... খুব হালকা আর relaxed লাগছে ওর......
মাথা নেড়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলে ওঠে," It took more than two and a half years to admit that my soul-mate was just a corpus mate..took too long to ask myself, where's the soul dear..... "....
বাইরের দিকে তাকিয়ে ছোট হাসি হেসে সিন্ধুজা আঙুলের এক টানে সরিয়ে দেয় গাল পর্যন্ত নেমে আসা তরল উষ্ণ ফাঁপা পিছুটান...
মনে উদ্ভাসিত হওয়া আলো মাখা আনন্দধারায় ভেসে যেতে থাকে নিশ্চিন্তে, শান্তিতে.....
সমাপ্ত

