Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

Maheshwar Maji

Drama Horror


2.3  

Maheshwar Maji

Drama Horror


রহস্য বাড়ি

রহস্য বাড়ি

15 mins 6.2K 15 mins 6.2K

কয়েকটা ভ্যাপসা শ্বাসবায়ু ঋতুর ঠোঁটের উপর পড়তেই তার ঘুমটা অল্প ভেঙে গেল।ঋতু বাধা দিল না। সেও যেন এই নিশ্বাস কটার আশায় দিনকয়েক ধরে অপেক্ষা করছিল।কিন্তু সমরকে বলতে পারছিল না।এই সবে টাইফয়েড থেকে রিকভার করল।শরীরটা এখনো দুর্বল আছে।

ঋতুর ঠোঁট পল্লবের সাথে সমরের উষ্ণ ঠোঁটজোড়া যত গভীরভাবে মিশে যেতে লাগল,তত ঋতু যৌন উদ্দীপনায় ছটপট করতে লাগল।

...ইস!..এই কদিনেই সমর শরীরটাই এত জোর সঞ্চয় করে ফেলেছে!

ঋতু তার ভূবুক্ষু শরীরটা পুরোপুরি সমরের দুহাতের বেষ্টনে ছেড়ে দিয়ে প্রতিক্ষণের রোমাঞ্চ সারা লোমকূপ দিয়ে আস্বাদন করতে লাগল।

সমরের গরম নিশ্বাস ধীরে,ধীরে ঋতুর ঘাড় থেকে নেমে বুক ছুঁয়ে নাভির উপর দিয়ে অনুভূতির কেন্দ্রবিন্দুতে গিয়ে আটকে গেল।

মাতাল...মাতাল।আজ সমর কী যৌনতার নেশায় মাতাল হয়ে পড়ল?

আজ একবছর হয়ে গেল এভাবে তো কোনদিন সমর একাজ করেনি?

তবে আজ কেন?

যদিও ঋতু উত্তেজনার চরম সীমায় এসে কাটা ছাগলের মত ছটপট করতে লাগল।

অপার সুখের আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠেছে ঋতু।

তবু এটা ঠিক না।ওরাল ইনফেকশনের ভয় থাকে।

ঋতু চোখ বুজেই নিজের দুহাত দিয়ে সমরকে বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করল।

কিন্তু...একি!!

তার হাত দুটো তো নড়ছে না। অবশ কেন হয়ে আছে?

মুহুর্তের মধ্যে তার সমস্ত যৌন উত্তজনা লোডশেডিং-এর মত ঝুপ করে নিভে গেল।

চোখদুটো মেলে সমরকে দেখতে চাইল।

একি?

সে চোখজোড়া মেলতে পারছে না কেন?

কে তার পেলবে এমন আঠা লাগিয়ে দিল?

রোমাঞ্চর বদলে এবার ঋতুর সারা গা ভয়ে কাঁপতে শুরু করল।

তবে...কী...তবে... কী?..তার উলঙ্গ শরীরটাকে যে লেহন করছে লালায়িত জিভ দিয়ে...সে কী পরপুরুষ?

একটু আগেই সে এই উপর্যোপরি ঢেউ-এর আনন্দে নিশ্বাস পর্যন্ত বন্ধ করে ফেলেছিল।

এখন যেন তার সেই দম জোর করে বুকের পাঁজরে আটকে পড়েছে।

চিৎকার করে উঠল,সমর...সমর।

সমর ফট করে খাটের পাশে বেড লাইটের সুইচটা অন করে দিল।

ঋতুর চেহারা দেখে আঁতকে উঠল।

সারা গা ঘামে একেবারে জবজব করছে।রাত পোশাকটা জড়ো হয়ে গলার কাছটাই পেঁচিয়ে গেছে।

বুক থেকে পা অব্দি সম্পূর্ণ নিরাভরণ।

সমর চট করে পোশাকটা ঋতুর সারা গায়ে মেলে দিয়ে তাকে দুহাত দিয়ে ঝাঁকাতে লাগল।

---কী হল?..কী হল ঋতু?..এত জোরে,জোরে চিৎকার করছিলে কেন?

সমরের ঝাঁকুনি খেয়ে ঋতু ধড়মড় করে বিছানায় ওঠে বসল।

তারপর ভয়ার্ত চাউনিতে চারিদিক তাকিয়ে দেখল।কেউ আছে কী নেই?

এইটুকু তো কামরা!

আলোয় তার প্রত্যেক কোণা ঝকঝকে দেখা যাচ্ছে।

তবু সে ওঠে দাঁড়াল।খাটের নিচটা,জানলার পাল্লাগুলো আলমারির কোণাটা ভাল করে দেখে নিল।

কোথাও কেউ নেই।

তাহলে এতক্ষণ ধরে কী সে স্বপ্ন দেখছিল?

কিন্তু স্বপ্ন বলে তো তার মনে হল না।

তারসাথে যেন সত্যি,সত্যিই সবকিছু ঘটছিল।

এবার ঋতু একটু ধাতস্ত হয়ে বিছানায় আবার বসে পড়ল।

সমর ব্যস্ত হয়ে বলে উঠল,কী হয়েছে বলবে তো?...নিশ্চয়ই কোন খারাপ স্বপ্ন দেখছিলে...তাই তো?

ঋতু বলতে গিয়েও কথাটা ঘুরিয়ে নিল।

----সত্যিই বীভৎস স্বপ্ন ছিল।

সমর এক গ্লাস জল ঋতুর দিকে বাড়িয়ে বলে উঠল,খেয়ে নাও।নতুন জায়গা তো তাই এরকম একটু,আধটু হয়।যতই হোক এটা নিজস্ব বাড়ি।বাবার অনেক দিনের স্বপ্ন ছিল। নিজের বাড়িতে থাকার।তাই রিটারমেন্টের পুরো টাকাটা দিয়ে এই ছোট্ট বাংলাটা কিনেছে।কোলকাতা থেকে একটু দূরে হল এই যা।তাছাড়া এই দামে এত সুন্দর একটা বাড়ি পাওয়া যেত না। আমারএকটা টাকাও বাবা নেয়নি।সমস্ত টাকাটা নিজেই ইনভেস্ট করেছে।বাবার সোজা উক্তি,নিজের যখন স্বপ্ন তখন নিজের টাকাতে পূরণ করাই ভাল।তোমার যখন স্বপ্নপূরণের সময় আসবে,তখন তুমি নিজের টাকায় করো।

আমার আর কী স্বপ্ন?... এখন শুধু একটাই স্বপ্ন।কখন তুমি মা হবে?আমাদের স্বপ্ন তো তাকে ঘিরেই বাড়বে ঋতু।তাই না?

ঋতু এতক্ষণ ধরে সমরের কোন কথাই ভাল করে শোনেনি।

তার মন এখনো সন্দিহান।কারণটা একমাত্র সেই জানে।

তাই সে বলে উঠল,একবার বাথরুমে যাব আমি।

সমর বলল,চল আমি সাথে যাচ্ছি।

ঋতুর সন্দেহটা এবার আরো জোরাল হয়ে উঠল,তার যোনি পথ তাহলে পিচ্ছিল কেন হল?ঠিক যেন পুরুষের বীর্য!

সাদাস্রাব নয় তো?

তা কী করে সম্ভব?...আগে তো কখনো তার এই সমস্যা ছিল না। এখন হঠাৎ করে হয় নাকি?

সাদা রঙের আঠালো পদার্থটা আঙুলে নিয়ে বার, বার পরীক্ষা করে দেখল।তার ধারণা ভুল কী করে হবে?আজ একবছর ধরে সে এই জিনিসটাকে চিনে আসছে।আজ ভুল কী করে হয়?

আর ভুল যদি নাই হবে...তাহলে এটা এল কোত্থেকে?

ঋতুর দেরি হচ্ছে দেখে সমর ডাক পাড়ল,কী করছ কী এতক্ষণ ধরে?..এসো।ঘুমবে তো নাকি?... এই সবে সাড়ে বারোটা।সকাল হতে ঢেড় বাকি।

ঋতু ঝটপট হাত ধুয়ে বাথরুম থেকে বেরিয়ে এল।

আয়নার সামনে মুখটা মুছে,হেয়ার ব্যান্ডটাই করে চুলগুলো বেঁধে খাটে বসে পড়ল।

তারপর সমরের উদ্দেশ্যে বলল,শুয়ে পড়লে যে!...যা করছিলে তা কী আর করবে না?

সমর পাশ ফিরেই উত্তর দিল,তাই তো করছি।

ঋতু এবার সমরের উপর সোহাগটুকু ওজাড় করে ঝাঁপিয়ে পড়ে বলল,সত্যি করে বলো তো...তুমি আমার সাথে একটু আগে কিছু করোনি?

----মাথা খারাপ হয়েছে তোমার?... এ যেমন,তেমন জ্বর নয় ঋতু।মারাত্মক ধরণের টায়ফয়েড।ডাক্তার যেচে বলেছেন।এখন একমাস যেন কোন পরিশ্রমের কাজ না করি।এমনকি সেক্স পর্যন্ত না।আর তাছাড়া আমি তোমার সাথে কিছু করলে তুমি জানবে না কেন?...তোমার কাছ থেকে লুকিয়ে যৌন স্বাদ কেন নিতে চাইব ঋতু?তুমি কী আমার পর কেউ?

এর উত্তর তো ঋতুরও জানা নেই। যদিও সে এটা সিওর হওয়ার জন্যই সমরকে প্রশ্নটা করে ছিল।

তাহলে তার পরীক্ষাটা কী ভুল?

ঋতু নিজেই নিজের পরাজয় স্বীকার করে বলে উঠল।হয়ত তাই।

আর কোন প্রশ্ন না করে এবার সে সমরকে জড়িয়ে শুয়ে পড়ল।

(2)

একটানা ঠক ঠক শব্দ শুনে বিপিনবাবুর ঘুমটা মাঝরাতে ভেঙে গেল।

চশ্মাটা এটে চপ্পল জোড়াটা গলিয়ে আস্তে করে কামরার ছিটকানিটা নামিয়ে ব্যালকনিতে বেরিয়ে এলেন।যতদূর সম্ভব শব্দটা মেন গেট থেকেই আসছে।

কেউ যেন ধাতব কোন দন্ড দিয়ে গেটটাকে আঘাত করছে।

গেটের কাছটাই আলোটা জ্বলছে।তবে সামনে একটা কৃষ্ণচূড়া গাছ থাকাতে একটা হাল্কা ছায়া পড়ে গেছে।

ওই ছায়ার মধ্যে কী কোন মানুষ দাঁড়িয়ে আছে?

বিপিনবাবু চশ্মাটা ভাল করে চোখে বসিয়ে আর একবার যাচাই করলেন।

মানুষের মতই তো আকৃতি!

তাহলে তার তো একটা মাথা থাকবে?

তার মাথাটা তো ঠিক বোঝা যাচ্ছে না।

সাথে,সাথেই তার মনে পড়ে গেল।চার্জার লাইটের কথাটা।

রিটারমেন্টের সময় তার এক কলিগ গিফ্ট করেছিলেন।যতদূর চোখ যায়,ঘন অন্ধকারেও সব পরিস্কার দেখা যাবে।একবার আনলেই বোঝা যায়।

পিছন ঘুরতেই ঝুপ করে সারা ঘর অন্ধকার হয়ে উঠল।

বাইরে তাকিয়ে দেখলেন।একটু পাশেয় ঘোষবাবুদের বাংলোয় আলো জ্বলছে।তারমানে লোকটাই কী কিছু করল?

বদ মতলবের ধান্দায়?

তার বুকটা একটু বেজে উঠল।

এত অন্ধকার যে দরজা কোনদিকে,জানলা কোনদিকে বোঝা যাচ্ছে না।

আন্দাজেই টেবিলের দিকে হাতড়ে যেতেই কিছু একটা পড়ে গেল।

আওয়াজ পেয়ে শিলাদেবী চেঁচিয়ে উঠলেন, কে..কে ওখানে?

বিপিনবাবু বলে উঠলেন,আমি।ভয় পেয়ো না। হঠাৎ বাড়িটার আলোগুলো নিভে গেল কেন সেটাই ভাবছি?

হাত বাড়িয়ে দেখো তো চার্জার লাইটটা নাগাল পাও কিনা?

---তুমি ওখানেই দাঁড়াও।আমি দেখছি।

শিলাদেবীও এটা,সেটা ফেলার পর কোন রকমে নাগাল পেলেন লাইটটার।

সুইচ টিপে দেখলেন চার্জ শেষ।

----একি!...চার্জ শেষ?প্লাগেই তো ভরে রেখেছিলাম।

বিপিনবাবু বিরক্তগলায় ঝাঁঝিয়ে উঠলেন,একটাও কাজ ঠিকমত করতে পার না। সুইচ দিয়েছিলে?না শুধু ভরলেই চার্জ হয়ে যাবে?কালকে প্রথম কাজ হল একটা ইনভার্টারের ব্যবস্থা করা।দেখো তো মোবাইলটা পাওয়া যায় কিনা?

তখনি একটা প্রকান্ড আর্ত চিৎকারে সারা বাড়ি কেঁপে উঠল।

বিপিনবাবু সঙ্গে, সঙ্গে পকেট থেকে মাচিশটা বের করে জ্বালালেন।তারপর মোবাইলটা খুঁজে ফ্ল্যাশ লাইট জ্বেলে দৌঁড়ে গেলেন সমরের কাছে।

ঋতুর সারা শরীর ভয়ে,আতঙ্কে কাঁপছে।চোখদুটো বিস্ফারিত হয়ে আছে।

বিপিনবাবু শক্ত গলায় বলে উঠলেন,কী হল বউমা তুমি এমন কেন করছ?

----বাবা...বাবা...আ...আ..মি...ও...ও.খানে দে...এ..খলাম।একটা মু..মু..ন্ডু হীন কঙ্কাল দাঁড়িয়ে আছে।

সমর জোর গলায় বলে উঠল,তুমি ভুল দেখেছ ঋতু।এই তো এমারজেন্সি আলোটা জ্বেলে রেখেছি।দেখাও কোথায় সেটা?...তুমি এখানে আসার পর থেকেই আতঙ্কে আছো।সেই কারণেই হয়ত এসব ভুল দেখছ।

বিপিনবাবু বলতে গিয়েও থেমে গেলেন।তিনিও কিন্তু ছায়ামূর্তীটাকে দেখেছিলেন।সেটা এই মুহূর্তে বলা ঠিক হবে না।

তাই তিনি আশ্বাস দিয়ে বলে উঠলেন,একদম ভয় পেয়ো না বউমা।আজ আমরা সবাই এখানেই ভুই বিছানা করে একসাথে শোব।

দেখি কোথা দিয়ে কী আসে?

তাতে ঋতু অনেকটা বল ফিরে পেল।

(3)

পরের দিন সকালে একজন ইলেকট্রিশিয়ান এসে লাইনের কন্ডিশন দেখে বলে উঠল,কাকু কাজটা কাকে দিয়ে করিয়ে ছিলেন?

বিপিনবাবু আফসোসের সুরে জবাব দিলেন,আরে ভাই,কাজটা কী আর আমি করিয়েছি নাকি?বাড়িটা তো প্রোমোটারের কাছে কিনেছি।কমে পেয়ে আর হাত ছাড়া করলাম না। তাছাড়া অনেকদিনের আমার স্বপ্ন ছিল ভাই।শেষ বয়সটা নিজের বাড়িতে কাটাব।একবার দেখেই বাংলোটা মনে ধরে গেছিল।তাই আর দেরি করিনি।এই তো দিন কুড়ি হল এসেছি।

এবার তুমিই বলো ভাই কী করে জানবো এসব লাইন,টাইনের কাজ কে করেছে?

---সবই তো বুঝছি কাকু।কিন্তু ব্যাপারটা ও না এলে ক্লিয়ার হবে না। উল্টো,পাল্টা কানেকশন মেরে চলে গেছে।ও ছাড়া এ লাইনে কেউ হাত দেবে না।আমি চললাম।প্রোমোটারকে ফোন লাগিয়ে ওর নাম্বারটা নিয়ে ডেকে পাঠান।ওর যখন রুগী ওই পারবে ভাল সারতে।

অনেক কষ্টে দুপুর পর্যন্ত ইলেকট্রিশিয়ানের খোঁজ পাওয়া গেল। কিছুতেই আর আসতে চায় না। শেষে প্রোমোটারের ধমকানিতে আসার জন্য রাজি হল।

বিপিনবাবু ছেলেটার মুখটা দেখেই থ বনে গেলেন।বার,বার রুমাল দিয়ে মুখের ঘাম মুছতে ব্যস্ত।বিপিনবাবু একটু হেসে বলেই ফেললেন,আরে বাবা এত ভয় কেন পাচ্ছো তুমি?...আমি কী তোমায় এনাকোন্ডা ধরতে বলছি নাকি?...তোমার হাতে বিছানো লাইন তুমি ঠিক করবে...এতে ঢোক গেলা কীসের এত হ্যাঁ?

ছেলেটা শেষবারের মত ভাল করে মুখটা মুছে নিয়ে বলে উঠল,এ বাড়িতে কারেন্ট যাওয়াটা নতুন কিছু না।প্রায় চলে যায়।যত বার ঠিক করি,তারপর দিন আবার একই অবস্থা!

আগে কেউ থাকত না। কিন্তু বাড়ির অন্যান্য কাজ করার জন্য লাইটের দরকার হত।তাই ঠিক করতে আসতাম।

আসলে লাইনটা বড় তাড়াতাড়ির মধ্যে জুড়ে ছিলাম।তাই সার্কিট কানেকশনে একটু ভুল আছে।বার,বার ওখানটাতেই ফল্ট হয়।

---তাড়াতাড়ি কেন করেছিলে?

ছেলেটা চারিদিক তাকিয়ে ফিসফিস করে বলে উঠল,আর বাড়ি পেলেন না কাকু?...একবারও ভাবলেন না,প্রোমোটার এত কম টাকায় বাড়িটা কেন দিতে চাইছেন?...ওই তো পাশেই ঘোষকাকুর বাড়িটা।একবার উনাকে জিজ্ঞাসা করলেই জানতে পারতেন এর পিছনে আসল রহস্যটা কী?

বিপিনবাবু একটু জিজ্ঞাসু চালে বলে উঠলেন,রহস্য !...সে আবার কেমন?

ছেলেটা আরো ধীর কন্ঠে বলে উঠল,এখনো অব্দি কিছুই কী টের পাননি তাহলে?

আসলে বাড়িটাই একটা প্রেতাত্মা ঘুরে বেড়ায়।একটা মুন্ডু কাটা শরীর আনাগোনা করে।আজ পর্যন্ত যত লেবার,মিস্ত্রি এখানে কাজ করেছে।সকলেই তার উপস্থিতি টের পেয়েছে।কত লোক তো নিজেদের মজুরি পর্যন্ত না নিয়ে রাতেই পালিয়েছে।

আমি নিজে কোনদিন বাড়িটায় রাতে কাজ করিনি।দিনের বেলাতে তাতেই কত রকম আওয়াজ পেতাম।আপনারা আছেন বলেই আমি এলাম।তা না হলে।আর আসতাম না। কিছুই না, শুধু সার্কিট বক্সের দুটো তার মাঝে,মাঝে নিজে থেকেই জ্বলে ওঠে।আসুন আমার সঙ্গে দেখিয়ে দিচ্ছি।পরের বার যে কাউকে ডেকে তারগুলো জুড়িয়ে নিলেই কাজ হবে।কেন যে বার,বার ওই জায়গাটা গরম হয় জানি না। আসলে এর পিছনে ওই প্রেতাত্মায় দায়ি।ও চায় না,ঘরটাই আলো জ্বলুক।অন্ধকার ঘর, ওদের পছন্দ।তাই এই সকল উপদ্রব করে।

বিপিনবাবু কথাগুলো শুনে বড় ব্যথা পেলেন।কত করে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নিজস্ব একটা সাজানো বাড়ি পেলেন।সেটাও আবার এরকম !

এত সহযে তিনি হার মানবেন না। এর শেষ তিনি দেখেই ছাড়বেন।ওই ক্ষতিকর প্রেতাত্মা জেতে না তার ভালবাসা?...বাড়িটাকে তিনি নিজের করে নিয়েছেন।ভালবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠেছে প্রতিটা দেওয়ালের সাথে।

নায্য দাম দিয়ে সরকারি কাগজের বিনিময়ে তিনি বাড়িটাকে নিজের করেছেন।এখানে একমাত্র তিনি থাকবেন।ওই প্রেতাত্মা নয়।সেই মত নিজের মানসিক শক্তিকে ভেতরে,ভেতরে বাড়িয়ে তুললেন।তাকে জিততেই হবে।

(4)

বিকেলের দিকে শিলাদেবী বাথরুমে ঢোকার মুখে দুম করে পড়ে গেলেন।

বিপিনবাবু ফোনে কথা বলছিলেন তার একজন পুরনো কলিগ বন্ধুর সাথে।ভাল একজন তান্ত্রিক সাধকের খোঁজ নিচ্ছিলেন।নাম,ফোন নাম্বার পেয়ে কলটা শেষ করতেই যাচ্ছিলেন ঠিক তখনি নিচ থেকে আওয়াজটা এলো।

সমর এখনো অফিস থেকে ফেরেনি।

বিপিনবাবু দৌঁড়ে গিয়ে দেখলেন ঋতু তার শাশুড়ির মুখে জল দিয়ে হাত পাখায় করে হাওয়া করছে।

কাজের মেয়েটা শিলাদেবীর কোমরটা মালিশ করে দিচ্ছে।

বিপিনবাবু ব্যস্তভাবে বলে উঠল,ইস!...পড়ে গেছিলে নাকি?..কতবার বলেছি সাবধানে পা ফেলবে।আমার কথা কানে নিলে তো?

শিলাদেবী হাঁপাতে,হাঁপাতে বলে উঠলেন,পড়লাম কী এমনি,এমনি?..দরজা খুলতেই উপরের দিকে চোখ চলে গেল।

একটা মাথাকাটা মৃতদেহ ঝুলছিল।

উপস্থিত সবাই আঁতকে ওঠল,অ্যাঁ!!

বিপিনবাবু দৌঁড়ে গিয়ে বাথরুমের উপরটা চেক করে এসে বললেন,কোথায় কিচ্ছু নেই।সব তোমার মনের ভুল শিলা।

ভাল করে ওঠে বসলেন শিলাদেবী,মিথ্যে নয় গো।আমি সত্যি বলছি।দেখলাম।তাই তো দৌঁড়ে বেরুতে গিয়ে জলে স্লিপ খেয়ে পড়ে গেলাম।

বিপিনবাবু সবকিছু বুঝেও না বোঝার ভান করে বলে উঠলেন,ও সব ভূত,টুত কিছু নয় শোন।আসল হল মনের জোর।তবু যখন মানতে চাইছ না।আমি কালকেই এর একটা ব্যবস্থা করছি।

আজকে রাতেও ঋতুর সাথে একি রকম কান্ড ঘটল।

রক্তের মধ্যে নেশা ধরিয়ে দিয়েছিল।মিলনের সুখে ভাসছিল যেন!

যখন চরম তৃপ্তির সীমা পার করে তার শরীরটা শান্তভাবে এলিয়ে পড়ল।ঠিক সেই মুহূর্তে মনে পড়ে গেল।সে কে?..কোথায় আছে?

আর তখনি একরাশ অপরাধবোধ তার টুটি চেপে ধরল।একি!

সে এতক্ষণ কার সঙ্গে রতিক্রিয়ায় মগ্ন ছিল?

আজ আর চেঁচাতে হল না।ওঠে বসল।শরীর জুড়ে তার কোন বসন নেই।শাড়িটা পায়ের পাতায় লেপ্টে পড়ে আছে।

বিছানার ছাদরটা অনেকখানি মিলন জলে ভিজে গেছে।

গোপন জায়গায় হাত দিয়ে বুঝল।আজো তার সাথে সেদিনের ঘটনাটাই ঘটেছে।

পাশেই শুয়ে আছে সমর।নাক ডাকছে।ঋতু লজ্জায়,অনুশোচনায় ভেঙে পড়ল।একি হচ্ছে তার সঙ্গে?

তবে কী সে অতৃপ্ত শরীরি খিদের তাড়নে বার,বার মিলনের স্বপ্ন দেখছে?

তাই যদি হবে,তাহলে পুরুষের বীর্য আসছে কোথা দিয়ে?

আজ আর সমরকে জাগাল না।এখন আলো জ্বেলেই ঘুমোই।তাই আর অন্য কিছুর ভয় নেয়।দরজা,জানলা সব ঠিক আছে।

শাড়িটা ঠিক করে ভেজা জায়গাগুলো মুছে ঋতু মন ভার করে শুয়ে পড়ল।

(5)

---ক্লিপটা দেখে যা বুঝলাম।তাতে করে এমিডিয়েটলি একবার আপনি আপনার হাজব্যান্ডকে সাথে করে নিয়ে আসুন।উনার প্রপার কাউন্সেলিং করা ভীষণ জরুরী।তবেই আমরা বুঝব,ব্যাপারটা আসলে ঠিক কী?

---কবে আসব বলুন?

---আগামীকাল বিকেল চারটের পর।একবার ফোন করে নেবেন।

---আচ্ছা সুলেখা ম্যাডাম। একটা কথা আপনাকে বলে রাখি।ভিডিওটা আমাদের পার্সন্যাল লাইফের।আপনি মধুর চেনা,জানা। ওই আপনার নাম্বারটা আমাকে দিল।তাছাড়া চিকিৎসার জন্য ক্লিপটা দেখানোর খুব দরকার ছিল।তাই শেয়ার করলাম।বুঝতেই তো পারছেন।সোশ্যাল মিডিয়ার যুগ।খেয়াল রাখবেন,কোনভাবেই যেন লিক না হয়।না হলে শুধু,শুধু টেনশন বাড়বে।

সুলেখা ম্যাডাম হেসে বলে উঠলেন,ডোন্ট ওরি।আমি বুঝি।এরকম কেস আমি প্রথম হ্যান্ডাল করছি না। এসব জিনিস আমার কাছে অনেক পুরনো।রেসপনসেবিলিটি আমিও বুঝি।এটা আমার প্রফেশন্যাল।ওকে?

----ওকে ম্যাডাম ।

আগামী পরশুদিন যোগীরাজ ভরদ্বাজ ঠাকুর আসছেন ক্যামাক্ষাপীঠ থেকে।

কোলকাতায় দুজন ভক্তের বাড়ি ঘুরেই তিনি বিপিনবাবুর বাংলোই পা রাখবেন।

তিনি এখন বেশিরভাগ সময় পশ্চিমেই কাটান।ওদিকেই তার ভক্ত সংখ্যা বেশি।তবে প্রতি অমাবস্যায় মায়ের দর্শণ করতে ক্যামাক্ষাপীঠে আসেন।সেই সময় দু,একজন ভক্তের ডাকে বাংলা হয়ে ঘুরে যান।

তার প্রচার,প্রসারটা হয়েছে পরিচিত মহলের হাত ধরে।টিভি বা খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

তিনি একজন তান্ত্রিক সাধক হলেও রসায়ণ শাস্ত্রে ডি.লিট উপাধীধারী।এটা তার প্যাশন।মনের খিদে মেটানোর তাগিদেই তান্ত্রিক বিদ্যে শেখা।

আপাতত তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যাতে সূর্য ডোবার পর বাড়িময় তেজপাতা আর লবঙ্গের ধুনো দেওয়া হয়।

তাতে করে পুরো রাতটা ভালই কাটল।আজ আর প্রেতাত্মার নতুন কোন উৎপাত লক্ষ্য করা যায়নি।

(6)

সমর প্রায় বিরক্ত হয়ে জানতে চাইল,এবার বলবে অফিস থেকে কেন আমায় ট্যাক্সি করে সাইকিয়াট্রিটের কাছে আনলে?

ঋতু একটু হেসে জবাব দিল,আজকাল আমরা দুজনেই অস্বাভাবিক সব কথাবার্তা বলছি।তাই ভাবলাম একবার কাউন্সেলিং করা দরকার ।কে কতখানি পাগল হয়েছি?না আদৌ হয়নি।এসব শুধু মনের ভ্রম?

তাই টেনে আনা।এবার চলো।তাড়াতাড়ি করে নেমে পড়ো।

সমর আবার বিরক্তির সুরে বলে উঠল,পাগল হলে সেটা তুমিই হবে।আমি না।কথাটা মিলিয়ে নিও।আমি যদি পাগল হতাম তাহলে অফিসের এত,এত কাজ সেরে উঠতে পারতাম না।পেন্ডিং পড়ে পড়ে পাহাড় জমে যেত।

---আচ্ছা দেখায় যাক।

পাঁকা চল্লিশ মিনিট পর একেবারে বিধ্বস্ত অবস্থায় সমর হল থেকে বের হল।

মুখে তার কোন ভাষা নেই।

তাই ঋতু বলে উঠল,কী হল..এত চুপচাপ কেন?..ওনারা কী মারধর করছিলেন?

সমর এবার মুখে একরাশ বিরক্তি উগরে বলে উঠল,ছিঃ কী সব নোংরা প্রশ্ন করছিলেন?দুকানে শোনায় যায় না। উত্তর দেব কীকরে?

তখনি একজন মেয়ে এসে ঋতুকে ভেতরে যাওয়ার নির্দেশ দিল।

ঋতু সমরকে বসতে বলে ভেতরে ঢুকে পড়ল।

ডঃ সুলেখা রায় গম্ভীর মুখ করে বলে উঠলেন,আপনার হাজব্যান্ড একদম নরম্যাল।কোনরকম এ্যবনরম্যাল বিহেবিয়ার আমরা কেউ লক্ষ্য করিনি। সমস্ত রকম ভাবেই ট্রাই করেছি।উনি মানসিকভাবে সুস্থ।

মনে হচ্ছে ব্যাপারটা নিয়ে এবার আলাদা করে ভাবতে হবে।দেখি কী করা যায়।আপনি এখন আসতে পারেন।দিন কয়েক পর স্যারের সাথে আলোচনা করে আপনাদের ডেকে পাঠাব।উনি এখন আমেরিকায় গেছেন।পরে ফোন করে জানাব।

আর হ্যাঁ ।একটা কথা।ক্লিপটা আপনি আপনার স্বামীকে দেখাবেন।তাতে উনার রিআক্ট কী সেটাও জানার দরকার আছে।

রাতে শোওয়ার সময় ক্লিপটা চালু করে সমরের হাতে ধরাল।

সমর পুরোটা দেখে হেসে জবাব দিল,কবেকার?কীভাবে তুলেছিলে?আমাকে বলোনি তো?

এসব ভিডিও স্মার্ট ফোনে সেভ করে রেখো না ঋতু,রিক্সি ব্যাপার!

ঋতু স্বাভাবিক কন্ঠে বলে উঠল,তিনদিন আগের।

শুনে সমর হো,হো করে হেসে উঠল,রসিকতার একটা লিমিট থাকা উচিত।

----রসিকতা নয় সমর। ডিটেল লিস্ট চেক করে দেখো।

চেক করার পর সমরের মুখটা হঠাৎ করে চেঞ্জ হয়ে গেল।

---কিন্তু এটা কী করে সম্ভব?...আমি তোমার সঙ্গে সেক্স করছি অথচ আমি তা জানতে পারব না?..এটা তো অসম্ভব ব্যাপার।

----সেইজন্যই তো আজ তোমাকে সাইকিয়াট্রিটের কাছে নিয়ে গেছিলাম।উনারা পরিস্কার জানিয়ে দিলেন।তুমি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।

---তাহলে এসব কি হচ্ছে আমার সঙ্গে?

----কথাটা তো আমিও ভাবছি।শুধু সেইরাতের কথা নয়।এর আগে তিন,চারদিন তুমি এভাবে আমার উপর চড়াও হয়েছিলে।আমি প্রথমটাই স্বপ্ন ভেবে পাশ কাটিয়ে গেছিলাম।পরে ভাবলাম।স্বপ্ন নয়।এসব সত্যিই আমার সাথে ঘটছে।তখনই বুদ্ধি করে ক্যামেরাটা রাতে অন করে কদিন ধরে ঘুমচ্ছিলাম।সেদিন ধরা পড়ল।আর পড়ল বলেই রেহায়।না হলে তো তুমি কখনো এসব ব্যাপার বিশ্বাসই করতে না।তবে চিন্তা করো না। ম্যাডাম এর একটা বিহিত করবেন।

আমি তো ভয়ে,ভয়ে ছিলাম এতদিন।আমার সাথে রোজ,রোজ এসব জিনিস কে করছে?

সারাটা রাত এসব সাত,পাঁচ ভেবেই কেটে গেল।

(7)

ভরদ্বাজ ঠাকুরের আসতে,আসতে সন্ধ্যা গড়িয়ে গেল। দুজন ভক্ত ছাড়তে এসেছিলেন।উনারা এইমাত্র বেরিয়ে গেলেন।

সমরকে আজ অফিস যেতে বন্ধই করেছিলেন বিপিনবাবু ।

ভরদ্বাজ ঠাকুর কোন সময় আসবেন ঠিক ছিল না। তিনি বাচিক করে আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন,বাড়ির সব সদস্যই যেন হাজির থাকেন।

বিপিনবাবুর আতিথেয়তায় তিনি খুশি হয়েছেন।অল্পখানি ক্ষীর আর দুটো রসগোল্লা মুখে নিয়ে ওঠে পড়লেন।বিপিনবাবু ভরদ্বাজ ঠাকুরের পিছনে যেতে,যেতে এতদিনের সমস্ত অস্বাভাবিক কার্যকলাপের বিবরণ শোনাতে শুরু করলেন।

এক জায়গায় এসে ভরদ্বাজ ঠাকুর থমকে দাঁড়ালেন।তারপর বলে উঠলেন,আপনি কী কোন কিছুর ডাক শুনতে পাচ্ছেন?

বিপিনবাবু কান খাড়া করে বলে উঠলেন,কই নাতো?

উনি হাসলেন।তারপর বলে উঠলেন,কী করে শুনবেন?এসব ডাক আমরাই শুনতে পাই।যাচায় করলাম।যদি সেটা আপনিও শুনতে পেতেন,তাহলে ভয়ের কোন কারণ ছিল না। আসলে প্রেতাত্মার চেঁচানি শুরু হয়ে গেছে।আমাকে দেখার পর থেকেই।আমি গেটে ঢোকার মুখেই বুঝতে পেরেছিলাম।বাড়িটার ভেতরে একটা শক্তিশালি অপশক্তির বাস আছে।ভয়ের কোন কারণ নেই।আমি এসে গেছি।ওকে তিনলোকের দরজায় ঝাঁটা মেরে বিদেয় করব।

মরার পর বাপু আর কেন মানুষের মধ্যে ঘোরাঘুরি করিস?

নিজেও শান্তি পাসনি মরে...আর অন্যদেরও থাকতে দিতে চাস না। এদের মত শয়তানদের শায়েস্তা করতেই আমি জন্ম নিয়েছি।

তারপর রাতের দিকে কিছু সামগ্রিকের লিস্ট তৈরি করলেন।সকাল আটটার আগেই যেন সামগ্রি এসে হাজির হয়।

তিনি সব তৈরি করে পুজোয় বসবেন।

আপাতত রাতটুকুর জন্য অল্প মন্ত্রপূত হলুদ আর সিঁদুর গুড়ো সমস্ত দরজা আর পাল্লার কোনে,কোনে দিয়ে বিছানা গ্রহণ করলেন।আগামীকাল মায়ের পুজো শেষ না হওয়া পর্যন্ত জল স্পর্শ করবেন না।

সকাল থেকেই বিপিনবাবুর তোড়জোড় শুরু হয়ে গেল।

বাড়িতে লোকজনের ভিড় বাড়তে লাগল।এতবড় একজন তান্ত্রিকের দেখা পাওয়াই ভাগ্যের ব্যাপার।

পুজো শেষ হতে একঘন্টা লাগল।

তিনি চোখ বন্ধ করে গট গট পায়ে হেঁটে গেলেন বাইরের দিকে।

ভরদ্বাজ ঠাকুরের হাব,ভাব দেখে বোঝার উপায় নেয় যে তিনি চোখ বুজে এসব করছেন।

একেই বোধ হয় বলে অনর্দৃষ্টি!

তারপর এক জায়গায় মন্ত্র উচ্চারণ করে হাতের শ্রীফলটা আকাশের দিকে ছুঁড়ে দিলেন।সেটা ভুমিতে পড়ার সাথে,সাথেই গড়িয়ে একজায় দু পাঁক ঘুরে খাঁড়াভাবে দাঁড়িয়ে গেল।

তিনি চোখ খুললেন।

তারপর বিপিনবাবুকে ডেকে আদেশ দিলেন,লোকজন এনে এই জায়গাটা এখ্খুনি খোদায় করার ব্যবস্থা করুন।বিকেল তিনটের আগেই সমাপন হওয়া চায়।মাহেন্দ্রক্ষণের মধ্যে।

এরপর ভরদ্বাজ ঠাকুর চাট্টি ফল আর রসযোগে জল খাবার সারলেন।তারপর তাকে স্নানের উদ্দেশ্যে গঙ্গা নিয়ে যাওয়া হল।

ফিরে এসে দূপুরে সম্পূর্ণ নিরামিষ পদের রান্না খেয়ে বিশ্রামে গেলেন।

ঠিক দুটোর সময় তার ডাক পড়ল।

তিনি বাইরে বেরিয়ে দেখলেন শত,শত লোকের ভিড়।সকলের চোখে একগাদা বিশ্ময় ফুটে উঠেছে।

মনে,মনে হাসলেন।

তিনি জানতেন,এমনই কিছু একটা হবে।

ছয়ফুট উচ্চতার একটা নরকঙ্কাল মাটির ভেতর থেকে বেরিয়ে এল।হাড়গুলো আলাদা হয়ে পড়েছে।সেগুলো একত্রিত করে এক জায়গায় জমা করে রাখা হল।

শুধু মাত্র মাথার খুলিটা পাওয়া গেল না।

ভরদ্বাজ ঠাকুর গম্ভীর গলায় আদেশ করলেন,বিপিনবাবু ।

---বলুন ঠাকুর।

----এই ছিল আপনার বাড়ির একমাত্র শত্রু।তাড়াতাড়ি করে লোকাল থানায় খবর পাঠান।আইন নিজের হাতে তোলাটা ঠিক হবে না।

ফোন করার আধ ঘন্টার মধ্যেয় সাইরেন বাজিয়ে পুলিশ জিপ চলে এল।তার পিছু,পিছু বিভিন্ন খবর চ্যানেলের ও.ভি ভ্যান।বিরাট একটা গমগম ব্যাপারে ছেয়ে গেল চারিদিক।

এলাকার সবাই চোখের সামনে ভরদ্বাজ ঠাকুরের তান্ত্রিক বিদ্যার জলন্ত ঝলক দেখে হাঁ হয়ে পড়েছেন।

এতবড় সাধক বোধ করি আজ অব্দি তল্লাটের কেউ দেখেননি।

ভরদ্বাজ ঠাকুরকে অনেক সাংবাদিক কথা বলার জন্য জোর করতে লাগলেন। তিনি সবিনয়ে মানা করে দিলেন।

তাই তার শুধু ছবিই প্রচার করা হচ্ছে।আর ঘটনার বিবরণ প্রতক্ষ্যদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী দেওয়া হচ্ছে।

থানার ওসি নমস্কার করে ভরদ্বাজ ঠাকুরের পা ছুঁয়ে বলে উঠলেন,ঠাকুর একবার আমার বাড়িতেও পদধূলি রাখুন।

ভরদ্বাজ ঠাকুর স্মিত হেসে বলে উঠলেন,অবশ্যই রাখব।তার আগে নিজের কর্তব্য ঠিকভাবে পালন করে দেখান দেখি।

আমি আগামীকাল বিকেল পাঁচটায় এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে রাওনা দেব।তারআগে পর্যন্ত এই কঙ্কালের সমস্ত রিপোর্ট আমার চাই।সেটা পেলে পরের বার আপনার বাড়িতেও সেবার জন্য আশ্রয় গ্রহণ করব।

---আচ্ছা ঠাকুর।চলি।দেখি নিজেকে প্রমাণ করতে পারি কিনা?

(8)

সকাল নটার মধ্যেয় জিপ হাঁকিয়ে থানার ওসি বিপিনবাবুর বাংলোয় এসে হাজির হলেন।

ভরদ্বাজ ঠাকুর সবে জপমন্ত্র শেষ করে আরাম কেদারায় পিঠ এলিয়েছেন।সেই সময় প্রণাম করে ওসি সাহেব একপাশে দাঁড়িয়ে পড়লেন।

---বলুন দারোগাবাবু কী খবর পেলেন?

----আজ থেকে প্রায় বছর পাঁচেক আগে একজন ভন্ড তান্ত্রিক মহারাজ এখান থেকে দেড় কিমি দূরে এক শ্মশানভূমির পাশে নিজের তন্ত্র,মন্ত্রের ঘাটি গেড়ে বসেছিলেন।

তিনি অনেক মেয়েছেলেকে তার লালসার শিকার বানিয়েছিলেন।

একদিন এক আদিবাসী মহিলা নাকি কোমরে কাস্তে গুঁজে ভন্ড বাবার কাছে গেছিলেন।যখনি তিনি তার উপর চড়াও হতে যান।মহিলাটি ধারালো কাস্তের ডগা দিয়ে তার ঘাড় থেকে মস্তক আলাদা করে দিয়েছিলেন।সেই কাটা মাথার ঝুটি ধরেই তিনি দৌঁড়ে থানায় আত্মসমর্পন করেছিলেন।

আদালতে কেস চলেছিল সে নিয়ে।মহিলাটির পক্ষ নিয়ে বেশিরভাগ জনতা রায় দিয়েছিলেন।তাই উনার সাজা কমে তিন বছর করা হয়েছিল।

জেল থেকে বেরুনোর পরের দিনই মহিলাটি আত্মহত্যা করে মারা যান।

তান্ত্রিকের মাথা পাওয়া গেলেও ধড়টা পুলিশ কোথাও খুঁজে পায়নি।

শোনা যায় বাবার কিছু ভক্তরা মিলে প্রমাণ লোপাট করার জন্য তার দেহটা গায়েব করে দেয়।

আজ এতদিন পর ডি.এন.এ টেষ্টের রিপোর্ট মিলিয়ে জানা গেল।এই কঙ্কালগুলো সেই ভন্ড বাবাটির।তার ধড়টাকে এখানেই পুঁতে রাখা হয়েছিল।তখন এই বাড়িটার ভীত কাটা হচ্ছিল।গর্ত খোদায় করা ছিল।শুধু মাটি চাপা দিয়ে পালায়।

ভরদ্বাজ ঠাকুর ধ্যান ভঙ্গ করে বলে উঠলেন,সেইজন্যই ভাবছিলাম ওর এত দাপট কেন?আসলে যেটুকু শক্তি সঞ্চয় করেছিল।সবটুকু নিজের ধ্বংশের জন্য।অসুর আর রাক্ষসের থেকেও এসব তান্ত্রিকরা নিচু জাতের।তাই অল্প দিনেই শেষ হয়ে যায়।অনেক ধন্যবাদ দারোগাবাবু।আপনি আমাকে জিতে নিলেন।পরের বার অবশ্যই আসবো।যোগাযোগ রাখবেন।

প্রতি নমস্কার জানিয়ে ওসি সাহেব বিদায় নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন।

সঙ্গে, সঙ্গেই যজ্ঞের সামগ্রি তৈরি করা হল।

যজ্ঞ সমাপন করে শান্তির জল সারা বাড়িময় ছিটিয়ে ভরদ্বাজ ঠাকুর সেবায় বসলেন।

সেবার শেষে অল্প মতন বিশ্রাম নিয়ে সকলকে আশির্বাদ দিতে গিয়ে সমরের দিকে তাকিয়ে চমকে উঠলেন।তারপর কাছে ডেকে জিজ্ঞাসা করলেন,এতক্ষণ কোথায় ছিলে?দেখতে পাইনি কেন?

সমর অপরাধীর সুরে বলে উঠল,ঘুম আসছিল তাই লুকিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।

----বিপিনবাবু ।

---আজ্ঞে ঠাকুর।

-----ওই খারাপ আত্মাটা এর দেহে ঢুকেছিল।যত তাড়াতাড়ি পারেন,একে একবার ক্যামাক্ষাধামে মায়ের দর্শণ করিয়ে আনুন।না হলে এর ভেতরটা দিন,দিন পাটকাঠির মত শুকিয়ে সরু হয়ে যাবে।

তোমার ছেলেকে দিয়ে আত্মাটা তার মনের বাসনা মিটিয়েছে।তার ফসল বাড়ছে আপনার বউমার গর্ভে।

কথাটা শুনে সবাই চমকে উঠল।

ঋতু তো দৌঁড়ে এসে ভরদ্বাজ ঠাকুরের পা জোড়ার কাছে হুমড়ি খেয়ে পড়ল,আপনি একদম সত্যি কথা বলেছেন ঠাকুর।

---ওঠো...ওঠো মা।চিন্তার কোন কারণ নেই।মায়ের দর্শণ সেরে এসো।সব ঠিক হয়ে যাবে।শক্তিটা ছিল প্রেতাত্মার।কিন্তু রক্তের সম্পর্ক তোমাদের দুজনের।তাই চিন্তা করো না। মা তোমাদের কল্যান করবে।বিপিনবাবু ...এবার আমায় বিদায় দিন।

গেটের কাছে গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে।সকলেই ভিড় জমিয়েছেন।ঠাকুরকে বিদায় জানানোর জন্য।তিনি সকলের উদ্দেশ্যে করজোড়ে নমস্কার জানিয়ে গাড়িতে বসে পড়লেন।সাথে বিপিনবাবুও গেলেন এয়ারপোর্ট পর্যন্ত ছাড়তে।

আজ বাড়িটাকে অনেকদিন পর সত্যিই স্বর্গের মত মনে হচ্ছে।

এতদিন যেন বাড়িটার সমস্ত উজ্বলতা কেউ ছল,কপটের দ্বারা হরণ করে বসেছিল।

লনের ধারে,ধারে কত ফুল ফুটেছে!

মালতীফুলের একরাশ তাজা সুগন্ধ এসে ঋতুর নাকে ঝাঁপটা মারল।

মনটা বড় হাল্কা হয়ে উঠল।

সমরকে উদ্দেশ্য করে হেসে বলে উঠল,তোমার স্বপ্ন যে এবার পূরণ হতে চলেছে গো।আর কী চিন্তা?

তখনি ঋতুর মোবাইলটা বেজে উঠল।ওপ্রান্তে সুলেখা ম্যাডামের কন্ঠ।

----স্যারের সাথে কথা হল।উনি বলছেন এটা একটা পাওয়ার ক্লোনের কাজ।শক্তিটা যখন তোমার স্বামীর মধ্যে ঢুকে পড়ে তখন তার নার্ভ আর ব্রেনটাকে নিজের বশে করে নেয়।অনেকটা মদ খাওয়া মাতালের মত।তোমার স্বামীর কন্ট্রোলে তখন কিছু থাকে না। তাই তিনি বুঝতেও পারেন না।শক্তিটা একটু আগে তাকে কী করিয়ে নিল?

স্যার বললেন,এসব কেস ভাল কোন তান্ত্রিক মহারাজ ভাল হ্যান্ডাল করতে পারেন।একবার চেষ্টা করে দেখতে পারো।

যদি সুফল কিছু না পাও তখন আবার আমরা চেষ্টা করবো।

ঋতু মুচকি হেসে বলে উঠল,আচ্ছা ঠিক আছে।ধন্যবাদ।

তারপরেই ফোনটা কেটে দিল।

---------সমাপ্ত------


Rate this content
Log in

More bengali story from Maheshwar Maji

Similar bengali story from Drama